বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;
নওগাঁ প্রতিনিধি: ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’এই স্লোগানকে সামনে রেখে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নওগাঁয় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের নওজোয়ান মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন কেড়ির মোড় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা ও আলোচানা সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর ই আলম মিঠু ও শফিউল আজম ভিপি রানা, খাইরুল আলম গোল্ডেন, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি দেওয়ান মোস্তাক আহম্মেদ রাজা, পৌর বিএনপি সভাপতি ডা. মিজানুর রহমানসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
পাবনা প্রতিনিধি: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভেদ-বিশৃঙ্খলা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনায় এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (এমপি) বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়; এটি এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক। জনগণের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দলীয় পতাকা ও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রাটি বের হয়।
এসময় সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ও বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এড. নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোসেন বখত চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটে কালাইয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির পায়রা অবমুক্ত এবং দোয়া-মোনাজাতের পর বৃক্ষরোপণের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কালাই বাসস্ট্যান্ড চত্বরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গভীরভাবে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন মো. আব্দুল বারী। তিনি দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও দেশ গঠনে দলের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।
এসময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম, পৌর বিএনপির আব্বায়ক সোহেল তালুকদার ও যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল আলিম, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৭টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও দিনব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার দল। আমাদের প্রিয় মা, মাটি ও মানুষের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে নেতৃত্ব দিয়ে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়ে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন।
কর্মসূচিতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত আসনের এমপি মাহমুদা হাবিবা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বনশিল্প উন্নয়ন করপোশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার, মহিলাদল নেত্রী রোকসানা পারভিন টুকটুকি, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক প্রমুখ।
পিরোজপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রোজপুর শহরের জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক পথসভায় মিলিত হয়।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমতের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলুসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
বগুড়া প্রতিনিধি : নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বগুড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্ত, খাবার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে জেলা বিএনপি। এদিন সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরু হয়।
সকালে মহানগরের নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় শাখারিয়া ডাঙা এলাকার একটি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর বাদ জোহর বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে উপজেলা সড়কে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। পরে সমাবেশে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপি সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেছে।
পরে আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর: ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা বিএনপির আয়োজনে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে র্যালিটি ফরিদপুর পৌরসভার সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ.এফ.এম. কাইয়ুম জঙ্গির সভাপতিত্বে র্যালী ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
এ সময় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে. কিবরিয়া স্বপন, জেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এ.বি সিদ্দিকী মিতুল, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কে.এম জাফর, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায়, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, সহসভাপতি প্রভাষক আলা উদ্দীন আলা, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শেখ শহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, নুরুজ্জামান চৌধুরী, সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সামসুল আলম বুলবুল, আব্দুল হালিম অটল, যুবনেতা মেহেদী হাসান হিমেল ও ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
নাজমুল আলম, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় হতে
বিএনপির সব অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীকে নিয়ে বিরাট র্যালি ও শোভা যাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন চত্বরে এসে শেষ হয়। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যুগ্ম আহবায়ক রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ মো. আজিজুর রহমান, চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক উপজেলা বিএনপির আহবায়ক, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু যুগ্ম আহবায়ক নুর আলম খান হিরো, যুগ্ম আহবায়ক মনজুরুল ইসলাম মন্জু ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী প্রমুখ।
দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য র্যালিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন প্লেকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মুহু মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মিথিলের নগরীতে পরিণত হয় আরিচাঘাট টার্মিনাল এলাকা।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন মানিকগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জাতীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্র শেষে আরিচা ঘাট এলাকায় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র কমিটির সদস্য সত্যেন কান্ত পন্ডিত ভজন, উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু বেপারী, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী মিজানুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক আক্তার হোসেন, জেলা যুবদলের সদস্য মোসলেম উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল,শিবালয় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী ও যুগ্ম আহবায়ক ফরিদুর রহমান ফরিদ প্রমুখ।
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে ও গড়কান্দা এলাকায় পৃথকভাবে এই আয়োজন করা হয়।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস আলী দেওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী।
উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নুরুল আমীন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান লিটন, এম.এ রায়হান, আমিনুল ইসলাম জিন্নাহ, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান, শহর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম তালুকদার রিপন প্রমুখ।
সোনারগাঁ ( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে উৎসাহ উদ্দীপনায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা ও বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালী বের করা হয়। সোনারগাঁ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিব, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক রুমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাহিম প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালীটি মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করেন।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: বাবা খাবেন, বাবার ব্যবসা করবেন, আর বিএনপি করবেন; তা হবে না। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে বিএনপি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষাউপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু, পৌরসভা বিএনপির সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান গিয়াস, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান ভুট্টো, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার জুলহাস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন কফিল, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন প্রমুখসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নাটোর-৩, সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আজগর খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোর-৩ সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম রেজা মোল্লা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শের আলী সবুজ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা ও পিয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল করিম বিশ্বাস, শহীদ সরকার মঙ্গল, প্রফেসর আতাউল, খন্দকার লস্কর, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, জিয়ারুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান আজমল হক, সাবেক কৃষকদল নেতা হারুন অর রশিদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় আবারও বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে লেকে পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, লেকের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়া ও ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বেড়ে ১০৬.০১ ফুট এমএসএল-এ পৌঁছালে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট প্রতিটি ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়। পরে পানির উচ্চতা পরিস্থিতি বিবেচনায় জলকপাটের খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়েছিল। একপর্যায়ে প্রতিটি গেট ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা হয় এবং এতে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হয়েছিল।
পানি কমে আসায় পরবর্তীতে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ সকাল থেকে জলকপাটগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে স্থির হলে গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণসীনা ১০৯ ফুট এমএসএল। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ জমে উঠেছে। আগামীকাল শনিবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এই দুই প্যানেলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনে ‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’ এবং ‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ তাদের ইশতেহার ও প্যানেল প্রকাশ করেন।
‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদের ১৪ দফা
বেলা সাড়ে ১১টায় ‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’ (মোল্লা খায়রুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন পরিষদ)-এর সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতৃবৃন্দ তাদের ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোল্লা খায়রুল ইসলাম বলেন, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ক্রীড়া সংগঠক এবং সাবেক ক্রীড়াবিদদের সমন্বয়ে এই প্যানেল গঠন করা হয়েছে। খুলনাকে খেলাধুলার নগরী তথা ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনে উপস্থাপিত ১৪ দফা ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারগুলো হলো- খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের পূর্ণাঙ্গ রূপদান এবং বন্ধ থাকা খেলাধুলা পুনরায় চালুকরণ, লীগের নামে সাময়িক টুর্নামেন্ট না করে পূর্ণাঙ্গ লীগ আয়োজন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহায়তায় ও নিজস্ব অর্থায়নে তরুণ খেলোয়াড় তৈরির নিয়মিত প্রশিক্ষণ করা।
এছাড়া জেলা স্টেডিয়ামে আধুনিক সুইমিংপুল ও জিম নির্মাণ, স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও নিয়মিত প্রমিলা ক্রিকেট লীগ চালু করা এবং জেলা স্টেডিয়ামকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলা ও সার্কিট হাউস মাঠসহ জেলার অন্যান্য মাঠকে খেলার উপযোগী করা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ২২২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ২৬ জনের পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ৪ জন সহ-সভাপতি, ১ জন সাধারণ সম্পাদক, ১ জন অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, ২ জন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ১ জন কোষাধ্যক্ষ এবং ১৩ জন নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন (যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ জন সংরক্ষিত সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন)।
প্যানেলের মূল প্রার্থী তালিকায় আছেন- সহ-সভাপতি: এস. এম মোয়াজ্জেম রশীদী দোজা, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, মো. জুলফিকার আলী খান, শাহ আসিফ হোসেন (রিংকু), সাধারণ সম্পাদক: মোল্লা খায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক: শেখ হেমায়েত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আলহাজ্জ বেলাল হোসেন, কে. এম আশরাফুল আলম (নান্নু) এবং কোষাধ্যক্ষ হাসান জহীর মুকুল।
‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ এদিকে বেলা সাড়ে ১২টায় ‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ মনোনীত ‘রেজভী-ফয়েজ-মামুন-জাহাঙ্গীর-পিলু-আবুল’ প্যানেলের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সততা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও খুলনা বিভাগীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক প্রধান কোচ ইমতিয়াজ হোসেন পিলু বলেন, খুলনার ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার, মাঠের সংকট ও অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং সাধারণ ক্লাবগুলোর অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই ১২ জনের এই শক্তিশালী প্যানেল গঠিত হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে ক্রীড়াঙ্গনের নানা অনিয়ম তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসভিত্তিক লবি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে খুলনার ক্রীড়াঙ্গন স্থবির হয়ে পড়েছে। নিয়মিত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ না হওয়ায় নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে না।
সর্বশেষ ২০২১ সালে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ আয়োজিত হলেও এরপর থেকে তা বন্ধ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনেও ভোটারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া এবং স্বল্পসংখ্যক ক্লাবের হাতে ভোট নিয়ন্ত্রিত থাকার বিষয়টিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নির্বাচনে প্যানেলটির মূল প্রার্থীরা হলেন: সহ-সভাপতি (৪ জন): মো. হাসান মেহেদী রেজভী, মজিবর রহমান ফয়েজ, শরীফ মো. বদরুজ্জামান (মামুন), ও শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন। সাধারণ সম্পাদক: ইমতিয়াজ হোসেন পিলু, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক: মো. আবুল হোসেন আবুল, যুগ্ম-সম্পাদক: মো. খাইরুল আহসান (মানিক), কোষাধ্যক্ষ: মোহাম্মদ আলী, নির্বাহী সদস্য মিলজার হোসেন, এস এম আজাদ হোসেন জুয়েল, মো. জোবায়ের ইসলাম এবং মনিরুজ্জামান মহাসীন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোটাররা যাতে স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন এবং বুথের ভেতরে কোনো প্রার্থী প্রবেশ না করেন, সেই পরিবেশ সুনিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
রান্নাঘরে তেলাপোকার অবাধ বিচরণ। ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের পাশে বাসি মাংস ও খিচুড়ি। খাবারে অননুমোদিত ক্ষতিকর রং। সংরক্ষণ করা হচ্ছে দুর্গন্ধযুক্ত ও পচা পানি। বাইরে থেকে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক রেস্টুরেন্ট- ভেতরে গেলেই মিলছে এমন ভয়াবহ চিত্র। চট্টগ্রাম নগরের হোটেল-রেস্টুরেন্টে গত দুই বছর ধরে অভিযান চালিয়েও একই ধরনের অনিয়ম পাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবারেও নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে তিন রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্র্যান্ড তাজমহল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অননুমোদিত ক্ষতিকর রংমিশ্রিত কাশ্মীরি মরিচ, দুর্গন্ধযুক্ত রং, পচা পানি এবং বাসি মাংস ও খিচুড়ি। এসব খাবার কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে একই ফ্রিজে রাখার অভিযোগে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করে অধিদপ্তর।
একই অভিযানে আলিফ রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে তেলাপোকার বিচরণ এবং কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে বাসি খাবার সংরক্ষণের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ক্যাফে আরমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকেও একই ধরনের অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বাসি খাবার কিংবা ক্ষতিকর রং-কেমিক্যালের ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়ম ধরা পড়লেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চলবে, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে।’
চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, মানবাধিকার সংগঠক, লেখক ও কলামিস্ট অ্যাডভোকেট এ. এম. জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘শুধু জরিমানা করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে না। একই অপরাধ বারবার হলে শাস্তি বাড়াতে হবে। আইনের প্রয়োগ ও সরকারি নজরদারির দুর্বলতার সুযোগেই অনিয়মকারীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। জরিমানাকে ব্যবসার খরচে পরিণত না করে পুনরাবৃত্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এদিকে ভোক্তা অধিকারের তথ্য বলছে, গত দুই বছরে অনিয়মের ধরন প্রায় একই। কোথাও বাসি খাবার ফ্রিজে রেখে বিক্রি, কোথাও কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার সংরক্ষণ, কোথাও পোকামাকড়ের উপদ্রব। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, পোড়া তেল, অননুমোদিত কেমিক্যাল কিংবা খাবারে ক্ষতিকর রং। ২০২৪ সালের অক্টোবরেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে একাধিক রেস্টুরেন্টে বাসি খাবার, নোংরা রান্নাঘর ও অননুমোদিত কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ ধরা পড়ে। জামালখানের একটি রেস্টুরেন্টে ফ্রিজে বাসি ভাত, গ্রিল ও রান্না করা মাংস রাখার অভিযোগে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কাপ্তাই সড়কের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযানে পাওয়া যায় বাসি গ্রিল, মেয়াদোত্তীর্ণ দধি, পোকাযুক্ত খাবার, পোড়া তেল, নোংরা মসলা ও অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর। সেখানেও গুনতে হয় জরিমানা।
আরও জানা যায়, গত ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানেও হোটেল-রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে উঠে আসে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র। স্টেশন রোড এলাকায় অভিযানে একাধিক প্রতিষ্ঠানে পচা ডিম, তেলাপোকার উপদ্রব ও অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর পাওয়ার কথা জানায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বহদ্দারহাটে অভিযানে ধরা পড়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ। জিইসি মোড় এলাকায় কয়েকটি রেস্টুরেন্টে বাসি মাছ-মাংস বিক্রি এবং খাবারে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে বড় অঙ্কের জরিমানাও করা হয়।
২০২৬ সালেও থামেনি অনিয়ম:
জানুয়ারিতে স্টেডিয়াম ও সিআরবি এলাকায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। সেখানে অননুমোদিত কেমিক্যাল ব্যবহার এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। মে মাসে আগ্রাবাদ ও মোহরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে জরিমানা করা হয়।
আগস্টে জামালখানে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য রান্না ও উৎপাদনের অভিযোগে। একই মাসে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না, প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ দই, বাসি গ্রিল ও রান্না করা মাংস ফ্রিজে রাখার অভিযোগ ধরা পড়ে। এরপর বৃহস্পতিবার দেওয়ানহাটে আবারও বাসি খাবার, কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার রাখা, ক্ষতিকর রং, পচা পানি ও তেলাপোকার উপস্থিতি ধরা পড়ল।
অভিযান বাড়ছে, অপরাধও ফিরছে:
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের প্রকাশিত তথ্যেও তদারকির বড় পরিসর স্পষ্ট। বিভিন্ন অর্থবছরে বিভাগজুড়ে হাজার হাজার অভিযান চালানো হয়েছে এবং বিপুল অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল জরিমানার পরও যদি বাসি খাবার, নোংরা রান্নাঘর, ক্ষতিকর রং ও অননুমোদিত কেমিক্যালের ব্যবহার বন্ধ না হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে- শুধু অর্থদণ্ড দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব? কারণ জরিমানা হচ্ছে ভোক্তার খাবারে অনিয়ম ধরা পড়ার পর। কিন্তু তার আগে কত মানুষ সেই খাবার খেয়ে ফেলছেন, তার হিসাব নেই।
অন্যদিকে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলছেন, ‘সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবারের অভিযান শেষে উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহও ভবিষ্যতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন।
বাইরে থেকেও দেখলে মনে হবে, সাধারণ মাছ ধরার নৌকা। নৌকায় থাকা দুজনও জেলের বেশে। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার পর নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে শেষ পর্যন্ত সেই কৌশলও ধরা পড়ে গেল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চোখে।
কক্সবাজারের টেকনাফে এমন অভিনব কৌশলে পাচারের সময় প্রায় ৪২ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত নৌকাটিও জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকার জয়ঘর দাশ ও মো. হোসাইন।
বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হ্নীলা সীমান্তের স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এর আগে বড় একটি ইয়াবার চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করে বিজিবি। শুধু সাধারণ টহল নয়, চালানটির গতিবিধি শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। বিশেষ দল কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার পর একটি নৌকার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাদের আটক করা হয়। কিন্তু নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে কোনো ইয়াবা পাওয়া যায়নি। এতে আরও সন্দেহ বাড়ে বিজিবির।
নৌকাটি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে চোখে পড়ে অস্বাভাবিক দৃশ্য। নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে ভাসছিল কয়েকটি বস্তা। সেগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে ইয়াবার বিশাল চালান।
বিজিবি জানায়, বস্তাগুলোর ভেতরে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ইয়াবাগুলো ১৪০টি কার্টনে রাখা ছিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ১৪ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট। বিজিবির হিসাবে এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ কোটি টাকা।
রাতের পথ বন্ধ, দিনের আলোয় নতুন কৌশল: বিজিবির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সীমান্তে রাতের বেলায় মাদকপাচারের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার হওয়ায় পাচারকারীরা কৌশল বদলেছে। এবার দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে নৌকা ব্যবহার করে চালানটি পাচারের চেষ্টা করা হয়। আর সবচেয়ে বড় কৌশল ছিল ইয়াবা নৌকার ভেতরে না রাখা। পাচারকারীরা ধারণা করেছিল, নৌকার ভেতর তল্লাশি করেও যদি কিছু না পাওয়া যায়, তাহলে তারা সহজেই পার পেয়ে যাবে। সে কারণে ইয়াবাভর্তি বস্তাগুলো নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে সেই কৌশলও ব্যর্থ হয়।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বড় একটি ইয়াবার চালান বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনার ফলেই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।’
ধারাবাহিক অভিযানে বড় সাফল্য: শুধু এই চালান নয়, সাম্প্রতিক সময়েও টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা পাচারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর হ্নীলা সীমান্তের অবরাং এলাকায় পৃথক দুটি চালান পাচারের চেষ্টা করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত ওই অভিযানে দুজনকে আটক করা হয় এবং তিন লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে। একই সময়ে আটক করা হয়েছে ২৪৩ জনকে।
কক্সবাজার রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার উল-আলম জানান, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সীমান্ত এলাকায় অত্যাধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করলেও তাদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
বিজিবির কর্মকর্তারা বলেন, ‘সীমান্তে তাদের অভিযান শুধু ইয়াবা আটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ পাচার ঠেকাতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
কক্সবাজারের টেকনাফে জেলের ছদ্মবেশে নৌকায় অভিনব কৌশলে পাচারের সময় প্রায় ৪২ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্তের সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত একটি নৌকাও জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬৪ বিজিবি অধিনায়কের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় হ্নীলা সীমান্ত ফাঁড়ির একটি বিশেষ দল সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। পরে একটি নৌকার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি সদস্যরা সেটিকে থামার সংকেত দেন।
এ সময় নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন। প্রাথমিকভাবে নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে কোনো ইয়াবা পাওয়া যায়নি। পরে সন্দেহের কারণে নৌকাটি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
একপর্যায়ে নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে ভাসমান কয়েকটি বস্তা দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। পরে বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালিয়ে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ১৪০টি কার্টনে রাখা ১৪ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে একটি বড় ইয়াবার চালান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ও টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়।
তিনি বলেন, চোরাকারবারিরা রাতের আঁধারে পাচারে সুবিধা করতে না পেরে দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে নৌকায় করে ইয়াবার চালানটি পাচারের চেষ্টা করে। নৌকার ভেতরে ইয়াবা না রেখে দড়ির সাহায্যে বস্তাগুলো নৌকার সঙ্গে বেঁধে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয়েছিল।
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর হ্নীলা সীমান্তের অবরাং এলাকা দিয়ে পৃথক দুটি ইয়াবার চালান পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই সময় প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক এবং তিন লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রায় এক কোটি ৪৩ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ এবং ২৪৩ জন আসামিকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
জহিরুল ইসলাম বলেন, বিজিবির সদর দপ্তরের দিকনির্দেশনায় মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও সার পাচার রোধেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও চলবে।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নেত্রকোনায় সাদিয়া ইসলাম (২৩) নামের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে দায়ের করা প্রতারণা মামলায় বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার সাদিয়া ইসলাম জেলা শহরের কুড়পাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়েরের তথ্যমতে, সাদিয়া জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া আক্তার বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেন। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের কুড়পাড় এলাকায় নতুন করে অর্থ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ওই রাতেই পৌর শহরের বলাইগুয়া এলাকার ভুক্তভোগী সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে সাদিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী প্রিয়া আক্তার বলেন, ‘আমিসহ পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে আমাকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেবেন বলে জানান সাদিয়া। ওইদিন বিকালে আরেক মহিলার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিতে আসলে স্থানীয় লোকজন তারে আটক করে। তিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আমি এর বিচার পেতে মামলা করেছি।’
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিয়া আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাদিয়া কুরপাড় এলাকার বাসিন্দা, প্রিয়া আক্তার, সুমি আক্তার, ইতি আক্তারসহ পাঁচজনের কাছ থেকে ফ্যামেলি কার্ড দেবেন বলে ৩০০০ টাকা করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন।’
তিনি আরও জানান, ‘প্রতারণার মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া আক্তার কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।’
মেঘনার বিশাল বুক চিরে দূর থেকে ভেসে আসত গম্ভীর সিটির শব্দ। সেই শব্দ শোনামাত্রই ভৈরব বা কুলিয়ারচর ঘাটে অপেক্ষারত শত শত মানুষের মুখে ফুটে উঠত স্বস্তির হাসি। বর্ষার অথৈ জলরাশি কিংবা শুষ্ক মৌসুমের শান্ত নদী সব মৌসুমেই হাওর ও ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনরেখা ছিল সুবিশাল সব দোতলা লঞ্চ। এই লঞ্চগুলো কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর যন্ত্র ছিল না, এগুলো ছিল দূর-দূরান্তের বিশাল জলরাশির বুকে ভাসমান এক একটি উৎসব।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ হয়ে অষ্টগ্রাম, চাতলপাড় হয়ে হবিগঞ্জের সাচনা ও মার্কুলী, কুলিয়ারচর থেকে অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন পর্যন্ত জালের মতো ছড়িয়ে ছিল এই নদীপথের সাম্রাজ্য। ঘড়ির কাঁটা ধরে নির্দিষ্ট সময় পরপর ঘাটে এসে ভেড়া এসব রাজকীয় বাহনই ছিল হাওরবাসীর একমাত্র নিরাপদ ও বিলাসবহুল আশ্রয়।
লঞ্চের ডেভে বা কেবিনে ওঠার পর দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি যেন নিমেষেই উধাও হয়ে যেত। ডেকে বসে একদল যাত্রীর তাস খেলা, অন্যপাশে জমে ওঠা ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালির আড্ডা, কিংবা ছোট ক্যাফেটেরিয়া থেকে ভেসে আসা গরম চায়ের সুবাস—সব মিলিয়ে নদীপথের প্রতিটি প্রহর ছিল পরম আরামদায়ক ও আনন্দময়। অলস বিকেলে নদীর হিমেল হাওয়ায় হেলান দিয়ে রূপসী বাংলার জলজ রূপ দেখার যে রোমাঞ্চ, তার স্বাদ অন্য কোনো বাহনে মিলত না।
তবে সময়ের আবর্তে ভাটি বাংলার যাতায়াত ব্যবস্থায় এসেছে অভাবনীয় বিপ্লব। দৃষ্টিনন্দন 'অল-ওয়েদার' সড়ক, বিশাল সব সেতু আর সাবমার্সিবল রোডের স্পর্শে হাওরের বুকজুড়ে এখন দ্রুতগতির জয়জয়কার। সিএনজি, মোটরবাইক আর স্পিডবোটের তীব্র গতির দাপটে ঢাকা পড়ে গেছে শতবছরের ধীরগতির রোমাঞ্চ। যে ঘাটগুলোতে একসময় মানুষের কলরবে তিল ধারণের জায়গা থাকত না, সেখানে এখন শ্মশানের নীরবতা।
ভৈরব-মার্কুলি লাইনের লঞ্চ মাস্টার আনিসুল ইসলাম জানান "বর্ষায় অল্প কিছু যাত্রী মিললেও শুষ্ক মৌসুমে লঞ্চ একদম খালি থাকে। আয়-ব্যয়ের হিসাব না মেলায় নদীপথে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা এখন অসম্ভব।"
যাত্রী ও মালামাল পরিবহন তলানিতে ঠেকায় তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন মালিকেরা। ভৈরব লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান হেলিম জানান, জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি ও যাত্রী সংকটে এই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এসব রুটে নামে মাত্র ১৫টি লঞ্চ টিকে থাকলেও, লোকসান এড়াতে মালিকরা তা স্টাফদের কাছে স্বল্প ভাড়ায় বুঝিয়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন।
হাওরের প্রবীণ মানুষদের চোখে এখন শুধুই জলছাপ আর স্মৃতি চারণ। তাদের মতে, লঞ্চের খোলা ডেকে বসে নদী আর আকাশের সীমানা মেশার দৃশ্য দেখা কিংবা ঢেউয়ের ছন্দে হারিয়ে যাওয়ার সেই দিনগুলো আজ কেবলই রূপকথার গল্প। সড়কপথের আধুনিকতায় জীবনের গতি বেড়েছে সত্যি, তবে তার বিনিময়ে বিলুপ্তির অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের আত্মাস্বরূপ এই ঐতিহ্যবাহী লঞ্চ সংস্কৃতি।
"মরিয়া উঠুক শিক্ষার আলো, দূর হোক সব অন্ধকার"—এই প্রতিপাদ্য ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার আনিচুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া, অষ্টগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ চন্দ্র দাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সমাজে শিক্ষার বিস্তার এবং সাক্ষরতার হার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জীবননগরে বদ্ধ ঘর থেকে রবিউল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে উপজেলার উথলী বাজারপাড়া (রেলস্টেশন সংলগ্ন) থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রবিউল ইসলাম উথলী গ্রামের বাজারপাড়ার সালাম মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, দিনভর প্রচন্ড দুর্গন্ধ পেতে থাকে উথলী বাজারের ব্যবসায়ীরা। পরে তারা ধারণা করেন এটি কোনো লাশের দুর্গন্ধ। সেই ধারণা থেকে সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৯৯৯-এ কল করেন উথলী বাজারের এক ব্যবসায়ী। কল পেয়ে রাত ১২টার দিকে জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল এসে বদ্ধ ঘর থেকে রবিউল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেন। রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে উথলী বাজারপাড়ায় বসবাস করতেন। তিনি বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও সম্প্রতি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন স্ত্রী-সন্তান ও মাকে। একাকী থাকাকালীন কোনো এক সময় তিনি নিজেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে বদ্ধ ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে আমরা ভেতরে একটি মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরবর্তীতে দরজা খুলে ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। লাশের বেশিরভাগ অংশ পচে-গলে গেছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমরা নিশ্চিত নয়, তবে ধারনা করছি সপ্তাহখানেক আগে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের একটি ভ্রমণ বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৪টার দিকে মহাসড়ের উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা সবাই শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। তারা সবাই বার্ষিক ভ্রমণে বরিশাল থেকে কক্সবাজারে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ভ্রমণ বাতিল করে ফেরত গিয়েছেন।
আহতরা হলেন, যাওয়াত, ফেরদৌস, কৌশি, মিরাজ, মুরসালিন, ইমন মৃধা, আরিফ, শফিকুল ইসলাম, মালিহা মেহনাজ, রায়হান, সাজিয়া, তাসপিয়া, আরিফুল ইসলাম, সামিউল, রাজর্ষি, তাসনীম, হুমায়রা, মিলা, নিসা ও তানজিনা। এদের মধ্যে ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর উদ্দিন বাহার বলেন, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌুছে আহতদের উদ্ধার করি। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে মোট ৪০ জন ছাত্র ছিল। তাদের মধ্যে আহত হয় ২০জন। ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মমতাময়ী মা ফরিদা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাসভবনে ফরিদা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যু সময় তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি চার ছেলে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মরহুমার বড় ছেলে এবং রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল। মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ১৫ বছর বয়সে বাবা হারিয়েছি, সেই সময় থেকে মা-ই আমাদের অভিভাবক ছিলেন। আমরা চার ভাই এখানে উপস্থিত আছি। উনার জন্যই আমরা চার ভাই একসঙ্গে আছি।
তিনি হজ পালন করেছেন। ওমরাহও করেছেন। মহান আল্লাহ উনার জীবনের গুনাহর খাতা মাফ করে যে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
মায়ের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল বলেন, যেখানেই থাকতাম, প্রতিদিন মায়ের কাছে হাজিরা দিতাম। তিনি আমাকে আদর দিতেন, চুমু দিতেন। আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই। আমার মায়ের কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে মাফ করে দেবেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যেন আমার মাকে মাফ করে বেহেশত নসিব করেন, সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। মায়ের সব পাওনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মরহুমার দৌহিত্র, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তরের প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল, মরহুমার ছেলে ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর খাঁন রতন, মরহুমার দৌহিত্র ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুলসহ পরিবারের সদস্যরা।
ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপ ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান। জানাজা এবং দাফনেও শরিক হন অনেকেই। এ সময় মরহুমার বড় ছেলে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তারা। একইসঙ্গে ফরিদা বেগমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। তা ছাড়া ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোক প্রকাশ করেছে।
ফরিদা বেগমের জানাজায় শরিক হয়ে সমবেদনা জানান দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, স্থপতি রফিক আজম, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অভিনেতা নাদের চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। জানাজায় রূপায়ণ গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলের মমতাময়ী মা ফরিদা বেগম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১২ টার দিকে বার্ধ্যক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড হাসপাতাল) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি চার ছেলে, পুত্রবধু ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রবিবার বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। শোকবার্তায় তারা মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। মামলা দিয়ে পরে শিশুটিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশু ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পূর্ব পোমকাড়া মুকবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অভিযুক্ত কিশোরও ঐ পোমকাড়া গ্রামের একই বাড়ির বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মোবাইলে ছবি দেখানোর কথা বলে বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে শিশুটিকে পূর্ব পোমকাড়া এলাকার একটি মসজিদের ছাদে নিয়ে যায় ওই কিশোর। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকারের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর শিশুটির মা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করা হয়।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন দৈনিক বাংলা ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজ কে বলেন, অভিযান চালিয়ে জড়িত ১৪ বছর বয়সী শিশুকে আটক করে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠায়। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এবিষয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় জনগণ ক্ষেপে বিচারের দাবি করে প্রশাসনের কাছে, অভিযুক্তের বাড়ি ঘর থেকে নির্মুল করতে বিক্ষোভ করে।পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনার স্থান পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখে।এবিষয়ে সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন জানান অপরাধী দের ছাড় নেই যে অন্যায় করবে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।