বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সারাদেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

রাজশাহীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৭

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদ্‌যাপন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;

নওগাঁ প্রতিনিধি: ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’এই স্লোগানকে সামনে রেখে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নওগাঁয় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের নওজোয়ান মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন কেড়ির মোড় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা ও আলোচানা সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর ই আলম মিঠু ও শফিউল আজম ভিপি রানা, খাইরুল আলম গোল্ডেন, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি দেওয়ান মোস্তাক আহম্মেদ রাজা, পৌর বিএনপি সভাপতি ডা. মিজানুর রহমানসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

পাবনা প্রতিনিধি: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভেদ-বিশৃঙ্খলা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনায় এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (এমপি) বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়; এটি এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক। জনগণের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দলীয় পতাকা ও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রাটি বের হয়।

এসময় সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ও বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এড. নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোসেন বখত চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটে কালাইয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির পায়রা অবমুক্ত এবং দোয়া-মোনাজাতের পর বৃক্ষরোপণের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কালাই বাসস্ট্যান্ড চত্বরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গভীরভাবে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন মো. আব্দুল বারী। তিনি দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও দেশ গঠনে দলের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন।

এসময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ফকির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম, পৌর বিএনপির আব্বায়ক সোহেল তালুকদার ও যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল আলিম, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৭টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও দিনব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার দল। আমাদের প্রিয় মা, মাটি ও মানুষের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে নেতৃত্ব দিয়ে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়ে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন।

কর্মসূচিতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত আসনের এমপি মাহমুদা হাবিবা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বনশিল্প উন্নয়ন করপোশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার, মহিলাদল নেত্রী রোকসানা পারভিন টুকটুকি, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক প্রমুখ।

পিরোজপুর প্রতিনিধি: ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎​মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রোজপুর শহরের জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক পথসভায় মিলিত হয়।

‎পিরোজপুর ​জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমতের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

‎​সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এলিজা জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলুসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

‎​বগুড়া প্রতিনিধি : নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বগুড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্ত, খাবার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে জেলা বিএনপি। এদিন সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরু হয়।

সকালে মহানগরের নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সামাজিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় শাখারিয়া ডাঙা এলাকার একটি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এরপর বাদ জোহর বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা: ‎‎ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

‎‎প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে উপজেলা সড়কে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। পরে সমাবেশে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

‎‎সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপি সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেছে।

‎‎পরে আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।‎

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর: ফরিদপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা বিএনপির আয়োজনে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে র্যালিটি ফরিদপুর পৌরসভার সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ.এফ.এম. কাইয়ুম জঙ্গির সভাপতিত্বে র্যালী ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

এ সময় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে. কিবরিয়া স্বপন, জেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এ.বি সিদ্দিকী মিতুল, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কে.এম জাফর, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

‎‎হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায়, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, সহসভাপতি প্রভাষক আলা উদ্দীন আলা, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শেখ শহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিকী, নুরুজ্জামান চৌধুরী, সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সামসুল আলম বুলবুল, আব্দুল হালিম অটল, যুবনেতা মেহেদী হাসান হিমেল ও ছাত্রনেতা আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

নাজমুল আলম, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় হতে

বিএনপির সব অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীকে নিয়ে বিরাট র‌্যালি ও শোভা যাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন চত্বরে এসে শেষ হয়। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যুগ্ম আহবায়ক রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ মো. আজিজুর রহমান, চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক উপজেলা বিএনপির আহবায়ক, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু যুগ্ম আহবায়ক নুর আলম খান হিরো, যুগ্ম আহবায়ক মনজুরুল ইসলাম মন্জু ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী প্রমুখ।

দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন প্লেকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মুহু মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মিথিলের নগরীতে পরিণত হয় আরিচাঘাট টার্মিনাল এলাকা।

র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন মানিকগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জাতীয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্র শেষে আরিচা ঘাট এলাকায় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি'র কমিটির সদস্য সত্যেন কান্ত পন্ডিত ভজন, উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু বেপারী, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী মিজানুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক আক্তার হোসেন, জেলা যুবদলের সদস্য মোসলেম উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল,শিবালয় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী ও যুগ্ম আহবায়ক ফরিদুর রহমান ফরিদ প্রমুখ।

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে ও গড়কান্দা এলাকায় পৃথকভাবে এই আয়োজন করা হয়।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস আলী দেওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী।

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নুরুল আমীন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান লিটন, এম.এ রায়হান, আমিনুল ইসলাম জিন্নাহ, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান, শহর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম তালুকদার রিপন প্রমুখ।

সোনারগাঁ ( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে উৎসাহ উদ্দীপনায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা ও বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালী বের করা হয়। সোনারগাঁ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিব, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক রুমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাহিম প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালীটি মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করেন।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: বাবা খাবেন, বাবার ব্যবসা করবেন, আর বিএনপি করবেন; তা হবে না। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে বিএনপি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষাউপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু, পৌরসভা বিএনপির সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান গিয়াস, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান ভুট্টো, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার জুলহাস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন কফিল, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন প্রমুখসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নাটোর-৩, সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।

অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী আজগর খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোর-৩ সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম রেজা মোল্লা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শের আলী সবুজ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা ও পিয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল করিম বিশ্বাস, শহীদ সরকার মঙ্গল, প্রফেসর আতাউল, খন্দকার লস্কর, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, জিয়ারুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান আজমল হক, সাবেক কৃষকদল নেতা হারুন অর রশিদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


দুই দিনে দুই খুন, খুলনায় চরমপন্থি আতঙ্ক

* দুটি হত্যাকাণ্ডই টার্গেট কিলিং: এসপি  
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

একসময় চরমপন্থিদের রক্তাক্ত তৎপরতায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। সেই পুরোনো আতঙ্কই যেন নতুন করে ফিরে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে খুলনায়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাশাপাশি দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে দুজনকে। রোববার (৪ অক্টোবর) দিঘলিয়ায় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণি করিম ওরফে নাসিম (৫৫) এবং সোমবার (৫ অক্টোবর) রূপসার দুর্জনীমহল গ্রামে বাস শ্রমিক আক্তার ঢালী (৫৮) নিহত হন। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে দুটি ঘটনাকেই ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ফরমাইশখানা এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে একটি দোকানে চা পান করার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নাসিম। হত্যার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকদের চেহারা স্পষ্ট দেখা গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এতে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে নাসিমের স্ত্রী মোসাম্মাৎ সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফরমাইশখানা এলাকায় ভৈরব নদকেন্দ্রিক জ্বালানি তেল পাচার চক্রের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নাসিমের বিরোধ ছিল। স্থানীয় একটি গ্রুপের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্ব ছিল। এ দুটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। কয়েক দিন আগে ‘ঠাণ্ডা পীর’ নামে পরিচিত এক শীর্ষ চরমপন্থির ছেলের সঙ্গে নাসিমের বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর মধ্যেই সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর রূপসার দুর্জনীমহল শহীদের মোড় এলাকায় ঢালী বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন বাস শ্রমিক আক্তার ঢালী। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ১৫ আগস্ট আক্তারের বড় ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার বাদী ছিলেন আক্তার। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় জিডি করেন আক্তার। সেখানে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

জিডিতে আক্তার উল্লেখ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর সেনের বাজারে কর্মরত অবস্থায় মুনজিল শেখ, মোরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যাসহ কয়েকজন তাকে একপাশে ডেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয় এবং হত্যার ভয় দেখায়। জিডিতে তিনি আরও বলেন, তার ছেলের হত্যা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে চাপ দিচ্ছে এবং জানমালের ক্ষতির হুমকি দিচ্ছে। তিনি নিরাপত্তার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

এসপি বলেন, আপাতত এই হুমকির বিষয়টিকেই সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। এটিও ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খুলনায় বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন পেশাদার কিলারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে; তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিহত আক্তারের ছোট ভাই দিনমজুর আতাউল ঢালী বলেন, তার ভাই রূপসার সেনের বাজারে বাসের কলারম্যান ছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। ভাইপো জয় হত্যা মামলার বাদী হওয়ার কারণেই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। ঘটনার সময় এলাকায় লোডশেডিং না থাকলেও গুলি করার সময় বাড়ির ভেতর ও বাইরের লাইট বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারের মধ্যেই তাকে হত্যা করা হয়। এখন তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে রূপসা ও দিঘলিয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে নিষিদ্ধ চরমপন্থিদের নতুন করে উত্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, একসময় রূপসা-দিঘলিয়ায় ‘লাল পতাকা’, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) ও পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ)সহ বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের দৌরাত্ম্য ছিল। পারস্পরিক বিরোধে প্রায় প্রতিদিনই হত্যাকাণ্ড ঘটত। সেই পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছে।


ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, অক্টোবর-নভেম্বরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ ঝুঁকির আভাস

মশার ওষুধ বা কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ছবি।
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় জনমনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শয্যা না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন অসংখ্য রোগী। এই পরিস্থিতির মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেবল মশার ওষুধ বা কীটনাশক ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা প্রজননস্থল ধ্বংস, হটস্পটভিত্তিক লার্ভিসাইডিং এবং দেশব্যাপী একযোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করার ওপর তাগিদ দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মশার ঘনত্ব বিবেচনায় অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অতি-ঝুঁকিপূর্ণ রূপ নিতে পারে। অন্যান্য বছর নভেম্বরে রোগী কমলেও এবার সেই সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোর কাজের তাগিদ থাকলেও এডিস মশার মূল প্রজননস্থল লক্ষ্য করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। তাই এডিস ইজিপ্টাই ও অ্যালবোপিকটাস মশার ডিম পাড়ার জায়গা ধ্বংস করে এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ওষুধ ছিটানো না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন তাদের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রতি শনিবার 'ক্লিনিং ডে' পালন, চিরুনি অভিযান এবং এডিস মশার ১২ দিনব্যাপী লার্ভা জরিপ ২০২৬ পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন জানান, প্রতি শনিবার বিশেষ মশক নিধন অভিযানের পাশাপাশি বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখার বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, পূর্ববর্তী আশঙ্কা ও বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সবার সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বরের বাড়তি ঝুঁকি এড়াতে মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


বদরখালীতে তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা, তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে আক্তার মাঝি, তানভীর ও রুকন উদ্দিন নামে তিন নিরীহ মানুষকে রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলে বুধবার সকালে চকরিয়া আদালত চত্বর ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে ওই তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তিনজনের মধ্যে রুকন উদ্দিন একজন ভ্যানচালক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, আক্তার আহমদও প্রতিবন্ধী এবং তানভীর বদরখালী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে রুকন উদ্দিনের তিন শিশুকন্যাও উপস্থিত ছিল। তারা তাদের বাবাকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির দাবি জানায়।

বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির পরিচালক অধ্যাপক বিএম কায়সার বলেন, ‘এ ধরনের লোকজনকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হলে পুরো বদরখালীবাসী লজ্জিত হয়।’ তিনি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সমিতির পরিচালক জিয়া উদ্দিন এবং এমইউপি এছাম উদ্দিন বলেন, ‘একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রুকন উদ্দিন, প্রতিবন্ধী আক্তার আহমদ ও কলেজছাত্র তানভীরকে জড়িয়ে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’

এদিকে বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়া লটারি ঘোনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজেম উদ্দিন ও সম্পাদক মনজুর আলম তাদের সদস্যদের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করা ‘কালু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা বুলবুল সিকদার এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহেশখালী কোস্ট গার্ডের একটি ইউনিট বদরখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আটক তিনজনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।


শ্রীমঙ্গলে ১৭৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ নজর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এবার ১৭৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং বিসর্জনস্থলে নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গল থানার উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। থানার হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কমিটির নেতারা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন। সভা সঞ্চালনা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) বাবলু কুমার পাল।


সভায় পূজামণ্ডপগুলোর প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে পূজা উদযাপনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’ কোনো মণ্ডপে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি মন্দির কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।


সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ, পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি অজয় কুমার দেব, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দাস রিংকু, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক বিশ্বনাথ দাস চৌধুরী ছোটন, শিক্ষক কল্যাণ দেব ও উপজেলা পূজা ফ্রন্টের সদস্য সচিব বসন্ত গোয়ালাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


রাউজানে ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দেওয়ালে ফাটল, ভাঙা পিলার, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ এই ভবনেই প্রতিদিন চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। চট্টগ্রামের রাউজানের ৪১নং সুলতানপুর প্রসন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।

১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯২ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৬ বছর। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভবনের দেওয়াল ও পিলারের এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটজন নারী শিক্ষকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভবনেই পাঠদান করছে।

বিদ্যালয়ে নেই মানসম্মত ওয়াশব্লক। পুরোনো ওয়াশব্লক ব্যবহার করেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন সারতে হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বিদ্যালয়ের পরিবেশগত সমস্যাও রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হয় স্বাভাবিক পাঠদান।

শিক্ষার্থী জয়ন্তী বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবন অনেক পুরোনো। দেওয়ালে ফাটল ও পিলারের ক্ষতি দেখে মাঝেমধ্যে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে যায়। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবনে ক্লাস করতে চাই। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’

প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবনটি বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি পিলার। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


কৃষি উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

# হুইপ রকিবুল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেছেন, ‘খুলনা অঞ্চলের এবং দেশের উন্নয়নে কৃষি উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সৃজনশীল কৃষি উদ্যোক্তারা মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে অবদান রাখতে পারেন। আগামীতে উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষিপণ্য একটি বৃহৎ খাতে পরিণত হবে।’

তিনি গতাকল বুধবার বিকালে কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসন ও সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল, কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিমসহ কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।


রূপগঞ্জের বিলে কচুরিপানা, ভরাটে ধ্বংস দেশি মাছের ‘আঁতুড়ঘর’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২২
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

কচুরিপানায় ঢাকা রূপগঞ্জের খাল বিল। পুকুরগুলোতে সারা বছর পানি থাকত, সেই পানিতে ঘুরে বেড়াত বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলাসহ দেশি নানা প্রজাতির মাছ। আবাসন কোম্পানি বালি ফেলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র খাল বিল পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলেছে। রূপগঞ্জের মাছের সুখ্যাতি ছিল মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, মাদারটেক, বাসাবো, নন্দীপাড়া, ডেমড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলোতে।

সরেজমিনে উপজেলার নগরপাড়া বিলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বিল কচুরিপানায় ঢাকা। একসময় বিলটি ছিল দেশি মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল। রূপগঞ্জের মাছ ছড়িয়ে পড়ত বিস্তীর্ণ এলাকায়। একই সঙ্গে এটি ছিল জেলেদের জীবিকার অন্যতম উৎস। দখল ও ভরাটে সেই জলাধার হারিয়ে গেছে। নদী শুকালেও এসব বিলে পানি থাকত।

আগরপাড়ার বাসিন্দা ছমিরুন খাতুনের (৬৫) স্মৃতিতেও ভেসে আছে সেসব দিন। তিনি বলেন, ‘আশপাশের মানুষ বিলের পানি ব্যবহার করতেন।’ ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পানিতে এসে পূজা করতেন।

স্থানীয় আবুল হোসেন (৬৫) ও সঞ্জিবন সরকার (৬৬) বলেন, ‘খাল-বিলগুলোতে এখন বালু আর কচুরিপানার বিস্তার। পানির সেই গভীরতা নেই, নেই মাছের ঝাঁক ও জেলেদের ব্যস্ততা।’

বিলের ওপর বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। ফুরিয়েছে মাছ, ফুরিয়েছে আয়। একসময় জেলেরা মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাতেন জানিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান (৫৭) বলেন, ‘ভরাট আর দখলে দেশি প্রজাতির মাছও আর আগের মতো দেখা যায় না।’

মশুরী এলাকায় বসবাস করে কয়েকটি জেলে পরিবার। তাদের একজন মানিক সরকার (৫০)। একসময় মাছ ছিল তাদের আয়-রোজগারের বড় উৎস। তিনি বলেন, ‘নদীর পশ্চিম পাশে বালু ফেলে সব ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানিও নেই, মাছও নেই, জেলেদের সেই আয়ও নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি বিল হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি জলাধার হারিয়ে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে হারিয়েছে দেশি মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল, জেলেদের জীবিকার একটি উৎস এবং এলাকার পুরোনো সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। বিল ও জলাভূমি রক্ষা করা গেলে জীববৈচিত্র্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মৃধার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খাল-বিল ভরাট করে ফেললে তো মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবেই। মাছের উৎপাদন কমে যাবে। জেলেদের আয় রোজগার কমে যাবে। মৎসজীবীরা বেকার হবে। জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একসময় রূপগঞ্জ থেকে দেশি জাতের মাছ হারিয়েই যাবে।’


রাজধানীতে ভেজাল ঔষধ তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ঔষধ এবং ঔষধ তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি-এর একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গ্রেপ্তাররা হলো আব্দুল্লা আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬)।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, হাইজিন ওয়াশ, সাবান, পাউডার, ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঔষধ এবং বিভিন্ন ধরণের প্যাকেজিং সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ঔষধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি সিলিন্ডার, একটি ফুয়েল লাগানোর মেশিন, দুইটি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, ১০ কেজি ফুয়েল (পলিথিন), ছয়টি ক্যাপসুল ভরার যন্ত্রাংশ এবং দুইটি লেভেল লাগানোর সাঁচ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি সিরাপ ও লিকুইড পণ্যও রয়েছে।


ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরাই লক্ষ্য

ছবি: তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ আজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় তেজগাঁওস্থ বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

দেশীয় সিএমএসএমই শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মানসম্পন্ন পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলা আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের কারিগরদের জন্মগত যে মেধা ও দক্ষতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তারা নজরকাড়া পণ্য তৈরি করছেন। গার্মেন্টস বা অন্যান্য চাকরির চেয়ে কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যাতে আরও ভালো করতে পারেন, সেজন্য বিসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।

তিনি বলেন, শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে প্রচারও প্রয়োজন। প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে কুটির শিল্পের বাজার অনেক সম্প্রসারিত হবে।

দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের আধুনিক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের কদর এখনো কমেনি। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ভিড়ে মানুষ আবার প্রকৃতি ও সনাতন পদ্ধতির সুস্থ-সুন্দর জীবনযাত্রার দিকে ফিরছে। এসব পণ্য একদিকে সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে সমাজের অবহেলিত নারীসমাজ ঘরে বসে এসব কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন এবং পরিবার ও সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিসিকের হাত ধরেই দেশের সিএমএসএমই খাত এগিয়ে চলেছে। বিসিক প্রশিক্ষণ প্রদান থেকে শুরু করে উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে নানা ধরনের কাজ করছে। বিসিক উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে তাদের পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচারের লক্ষ্যে বিসিক প্রতি মাসে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বাজার সম্প্রসারণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিসিক কাজ করছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি সরকারের ‘একটি গ্রাম-একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও বিসিক কাজ করে যাচ্ছে।

দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে মোট ৬০টি স্টলে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২০টি বস্ত্রজাত, ৮টি পাটজাত, ৬টি গহনা, ৫টি খাদ্য ও খাদ্যজাত, ৩টি চামড়াজাত, ৩টি মধু, ৪টি গৃহসজ্জা এবং ২টি বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের স্টল রয়েছে। এ ছাড়া মেলায় ৭টি স্টলে জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও রাজশাহী সিল্কসহ বিভিন্ন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

মেলায় বিসিক নকশা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও অংশগ্রহণ করছেন। দর্শনার্থীদের বিসিকের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে বিসিক তথ্যকেন্দ্র ও নকশা কেন্দ্রের পৃথক স্টলও স্থাপন করা হয়েছে।


প্রধান শিক্ষকের সব শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য সুপারিশ

জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সকল শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একইসাথে প্রাথমিক শিক্ষা লেভেলে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবা, এমপির সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আব্দুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী ও মাহফুজা হান্নান অংশগ্রহণ করেন।

কমিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলমান ফিডিং কার্যক্রমে সঠিক কোয়ালিটি ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সুপারিশ করে। একই সাথে কমিটি ফিডিং কার্যক্রমে কোয়ালিটি নিশ্চিত না হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করে।

বৈঠকে কমিটি বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত বাজেট যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়ে সুপারিশ করে।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সাথে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট-এর ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরে খাতওয়ারী বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা এবং খাতওয়ারী বাজেট ও ব্যয় বিভাজন নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বৈঠকে।

কমিটির সদস্যরা উপস্থাপিত বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে দেশের সকল শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশ করে। এ ছাড়া বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে কমিটির সকল সদস্যকে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরজমিনে পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রবীণদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা নবীনদের কাজে লাগাতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে দেশের নবীন প্রজন্মের কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কর্মজীবন থেকে অবসরে যাওয়ার অর্থ কোনোভাবেই সমাজে একজন মানুষের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ কথা বলেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মানুষের আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে প্রবীণদের বিষয়ে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৯ বছর বয়সে এবং অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আরও কিছুটা বেশি বয়সে অবসরের সুযোগ রয়েছে। একজন কর্মঠ মানুষকে হঠাৎ করে কর্মজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলে এর নেতিবাচক প্রভাব তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়তে পারে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজ পর্যন্ত যিনি নিয়মিত অফিস করেছেন, আগামীকাল থেকে তাকে বলা হচ্ছে আর অফিসে আসার প্রয়োজন নেই—এই পরিবর্তনটি একজন কর্মক্ষম মানুষের জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে কঠিন। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘প্রবীণদের মধ্যে এমন অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা বর্তমান প্রজন্ম ইচ্ছা করলেও অর্জন করতে পারবে না।’ মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম চাইলেও মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়টিতে ফিরে যেতে পারবে না। যারা সেই সময়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রবীণদের সুস্থতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, পরামর্শ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু রাজধানীর একটি বা কয়েকটি কেন্দ্রে প্রবীণসেবা সীমাবদ্ধ না রেখে তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশের ৬৪টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ন্যূনতম মানসম্পন্ন প্রবীণসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। বিপুলসংখ্যক প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু একটি সংগঠন বা একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রবীণদের প্রতি তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রবীণদের কাছ থেকে পাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ সরকারের নীতি ও কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে পারে।’ তাদের চিন্তা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন তিনি।

এর আগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের র‌্যালিতে অংশ নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রবীণ সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। প্রতিপাদ্যের আলোকে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়।


আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে মহাপরিচালকের বিশেষ ক্লাস

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সদ্য যোগদানকৃত ২৫ জন সিনিয়র অফিসার অংশ নেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সদ্য যোগদানকৃত সিনিয়র অফিসারদের চলমান বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে বিশেষ ক্লাস নিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের অপস কনফারেন্স রুমে শুরু হয় এ বিশেষ ক্লাস। ৯০ মিনিটব্যাপী এ সেশন দুপুর ১টায় শেষ হয়। এতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সদ্য যোগদানকৃত ২৫ জন সিনিয়র অফিসার অংশ নেন।

বিশেষ ক্লাসে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা, ব্যাংকিংসেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

এ সময় গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে যথাসময়ে ঋণ বিতরণ, দক্ষতার সঙ্গে ঋণ আদায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাংকিংসেবার পরিধি সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে ব্যাংকিং সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন।

ক্লাসের শেষ পর্যায়ে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মহাপরিচালক ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের সেবার মানোন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দক্ষ, সৎ ও জনবান্ধব ব্যাংকার তৈরির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক ব্যাংকিংসেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয় এ বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশন।


যাত্রা শুরু করল বিজিবির ‘ছোট আগলা’ সীমান্ত চৌকি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

সীমান্তে নজরদারি ও অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বিজিবির ‘ছোট আগলা’ সীমান্ত চৌকি উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির নতুন এই সীমান্ত চৌকির (টিওবি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন।

রামু ব্যাটালিয়নের (৩০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তবর্তী ছোট আগলা এলাকায় নতুন এই চৌকি নির্মাণ করা হয়। আগে সীমান্ত থেকে বিদ্যমান বিওপিগুলোর দূরত্ব বেশি থাকায় নজরদারি চালনা চ্যালেঞ্জিং ছিল। নতুন টিওবি স্থাপনের ফলে সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে বলে বিজিবি জানায়।

বিজিবির দাবি, এই স্থাপনা থেকে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধসহ সীমান্তে নজরদারি আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। উদ্বোধনকালে রিজিয়ন কমান্ডার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার-উল-আলম, কক্সবাজার রিজিয়নের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া, রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী এবং সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


banner close