শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩

দেড় বছরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন মহাদেবপুরের ১০৫৭ জন

* অসহায়দের ভরসা ডা. রাহিদুজ্জামানের ফাউন্ডেশন
ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৫

মাসের নির্দিষ্ট একটি দিন। সকাল থেকেই নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সারতা সারাশন বাজারে মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে, কেউ এসেছেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায়। কারও প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা, কেউ আবার এসেছেন মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে। বয়সে কেউ প্রবীণ, কেউ মধ্যবয়সি, আবার কারও কোলে শিশু।

সাধারণ একটি বাজার হলেও সেদিন সেখানে তৈরি হয় ভিন্ন এক পরিবেশ। অসহায় মানুষের মুখে প্রত্যাশা, আর সেবাদানকারীদের ব্যস্ততায় ফুটে ওঠে মানবিকতার এক অন্যরকম চিত্র। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক ও খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। আর এসব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন চিকিৎসক ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানা।

পেশাগত জীবনে তিনি ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) বিভাগের চিকিৎসক। কিন্তু নিজ এলাকার মানুষের কাছে তার আরেকটি পরিচয় তিনি একজন মানবিক চিকিৎসক, যিনি পেশার বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। প্রায় দেড় বছর ধরে নিয়মিতভাবে নিজ এলাকা মহাদেবপুরের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তিনি।

নিজের দাদা-দাদির স্মৃতিকে ধরে রাখতে তাদের নামে কাশেম আলী সরদার-জয়নুর বিবি বহুমুখী কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানা। সেই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই শুরু হয় নিয়মিত সেবামূলক কার্যক্রম।

প্রায় ৬০ জনের অধিক সদস্যের একটি টিম নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম। শুরু থেকেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, অসচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে সহায়তা এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। ফাউন্ডেশনের মূলমন্ত্রও সেবার দর্শনকে স্পষ্ট করে ‘মানুষের পাশে, মানবতার বিকাশে, সৃষ্টির সেবায়, স্রষ্টার সন্তুষ্টি।’

এই সেবার পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। মাসের নির্দিষ্ট দিনে এলাকায় মাইকিং করে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার কথা জানানো হয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকেও অসহায় মানুষ এসে হাজির হন সেবাকেন্দ্রে।

সম্প্রতি সরেজমিনে সারতা সারাশন বাজারে ফাউন্ডেশনের সেবামূলক কার্যক্রমে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সি মানুষের উপস্থিতি। কেউ চিকিৎসকের সামনে বসে নিজের অসুস্থতার কথা বলছেন। কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার কেউ নিজের পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরছেন।

শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সহায়তার ধরনও নির্ধারণ করা হচ্ছে। কোনো পরিবার আর্থিক সংকটে থাকলে দেওয়া হচ্ছে অর্থ সহায়তা। কারও প্রয়োজন হলে খাদ্য সহায়তাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে সেখানে যেন তৈরি হয়েছে মানুষের প্রয়োজনের কথা বলার একটি জায়গা।

সারতা গ্রামের ইতি আরা বেগমের কথাই ধরা যাক। সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। স্বামী-সন্তান দিনমজুর। মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে। কিন্তু মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই পরিবারের। এই দুশ্চিন্তা নিয়েই তিনি এসেছিলেন ডা. রাহিদুজ্জামানের কাছে। চিকিৎসা নিতে নয়, এসেছিলেন আর্থিক সহায়তার প্রত্যাশায়।

ইতি আরা বেগম বলেন, ‘আমরা খুবই অসহায় একটা পরিবার। আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাই। স্বামী-সন্তান দিনমজুর। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। তাই ডা. রাহিদুজ্জামানের কাছে এসেছি। তিনি আমাদের যথেষ্ট আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন। তার এমন মহৎ কাজের জন্য দোয়া করি।’ ইতি আরা বেগমের মতো অনেক পরিবারের কাছেই এই সহায়তা হয়তো বড় কোনো অঙ্ক নয়, কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে সেটিই হয়ে ওঠে বড় ভরসা।

স্থানীয় সারতা পশ্চিম পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ওয়াজেদ আলীও ডা. রাহিদুজ্জামানের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেড় বছরের এই পথচলায় প্রান্তিক পর্যায়ের ১ হাজার ৫৭ জন মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। চলতি মাসেও মহাদেবপুরে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার। এতে বিভিন্ন বয়সি শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান। একই সঙ্গে ১০টি অসচ্ছল পরিবারকে দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে অসচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে সহায়তা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা।

ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, অসচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, মসজিদ-মাদ্রাসায় আর্থিক সহায়তা প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পথচলার দেড় বছরে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছি ১ হাজার ৫৭ জনকে।’

আরও বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই চিকিৎসক। আল্লাহর রহমতে পারিবারিকভাবে স্বচ্ছল আমরা। মানুষের সেবা করে বাকি জীবনটা পার করতে চাই।’

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বলেন, ‘কাশেম আলী সরদার-জয়নুর বিবি বহুমুখী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. এস এম রাহিদুজ্জামান রানার এমন উদ্যোগ অনেকের জন্য অনুকরণীয় হবে বলে আশা করছি।’


নির্বাচিত

পঞ্চগড়ে এলএসটিডি প্রকল্পের ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ পরিদর্শন করলেন প্রতিনিধি দল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত প্রযুক্তি গ্রাম ও কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার গবেষণা অনুসন্ধানী মোহাম্মদ শফিকুল আলম।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অতিথিরা এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে বাস্তবায়িত পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করেন।

পরবর্তীতে প্রযুক্তি গ্রামের আওতায় এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল মতিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখার গবেষণা অনুসন্ধানী মোহাম্মদ শফিকুল আলম, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৪নং কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তোফায়েল প্রধান, ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান মোঃ মাসুদ রানা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল মতিন কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থাপনা অনুসরণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপসচিব মোঃ মনিরুজ্জামান কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন পঞ্চগড় অঞ্চলের কৃষি-জলবায়ু, মাটি ও স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের সমস্যাভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও চাহিদাকে গবেষণা পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

কাজিম মাস্টারের বাগান দেখে ফলচাষে উদ্বুদ্ধ তরুণরা

* বাড়ির আঙিনায় শতাধিক ফলের সমাহার
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

কাজিম উদ্দিন মাস্টার। আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গ্রামে পরিচিত। শিক্ষকতার পাশাপাশি সে এখন সফল ফলচাষি। বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন দেশী বিদেশী বাহারি ফলের সমরোহ। ফল গাছের নতুন নতুন জাত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করাই তাঁর নেশা। তাঁর বাড়ির আঙিনা যেনো ‘কৃষির জার্মপ্লাজম’।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁর ফল বাগান মাঝে মধ্যে পরিদর্শনে আসেন ও গবেষণা করেন। নিজেকে সুস্থ্য রাখতে সৃজনশীল চিন্তায় তিনি বাড়ির আঙিনায় ফুল ও ফলের বাগান গড়ে তোলেন। বাগানে শতাধিক দেশী-বিদেশী ফলদ গাছের সবুজ আবরনে সেজেছে পরিপূর্ণ নৈপুণ্যতায়। গ্রামের ভিতরে এ যেনো এক ব্যতিক্রমী ফলের উদ্যান।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের পাহার অনন্তপুর গ্রামে মো. কাজিম উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি। বাড়ির আঙিনায় তার ফুল ও ফলের বাগানের নাম ‘মাস্টার বাড়ি মিশ্র ফল বাগান’। বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. কাজিম উদ্দিন। ২০০০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় চলে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয় হেলও বিষন্নতায় ভোগছিলেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে তিনি প্রথমে বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত ১৭ শতাংশ জমিতে বাগান করে ফুল ও ফলের সাথে নিবীড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশী বিদেশী ফল গাছের চারা সংগ্রহ করে রোপন করতে থাকেন বাগানে। বাড়ির আঙিনায় শখের ফল বাগানে সাফল্যতায় তিনে বাড়ির আশপাশে প্রায় ৫ একর জমিতে গড়ে তোলেছের বাণিজ্যিক ভাবে মাল্টা, লেবু ও বারি জাতের কাঠালসহ বিভিন্ন ফলের বাগান। গ্রামের মানুষের কাছে এখন কাজিম উদ্দিন মাস্টার শিক্ষকের পাশাপাশি ‘আর্দশ কৃষক’ হিসেবে বেশ পরিচিত।

২০২১ সালে বাড়ির আঙিনায় মাল্টা গাছের বাগান করার মাধ্যমে তার ফলগাছে প্রেম হয়ে উঠে। এরপর থেকে শুরু। বর্তমানে তার বাড়ির আঙিনায় ফল বাগানে রয়েছে থাইল্যান্ডের বারমাসি আঠা বিহীন কাঁঠাল, অষ্ট্রোলিয়ার বারমাসি হলুদ মাল্টা, সাদা জাম,রামবুটান, মিষ্টি তেতুল, সৌদি খেজুর, রুবি লঙ্গান, ভ্যালেজ, মুন্ড্রপ, গ্রীন লং ডিক্সন,দাসোনিয়া, মার্সেল ফোর্স, চয়ন, কারডিনাল, আল ফনস, দোবস্কি, বাই কুনুর আঙ্গুর, আনার- ই শাহী, বিদেশী থার্টি ওয়ান, ট্রান্সফিগারেশনসহ ৩০ এর অধিক জাতের আঙ্গুর, চেঙ্মাই, মিয়াজাকি, কিউজাকি, কিংঅফ চাকাপাত, বারি ৪, আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা, ব্যানেনা, কাটিমনসহ ২০ এর অধিক জাতের আম রয়েছে।

এছাড়াও এভকাডো, কাট বাদাম, শরিফা, অস্ট্রেলিয়ান মাল্টা, মিশরীয় মাল্টা, বারি-১, ভিয়েতনামি১২ মাসি মাল্টা, করমচা, বারোমাসি কদবেল, বারোমাসি আমড়া, মিশরিয় আনার, পাকিস্তানি আনার রয়েছে। ফিলিপাইনি লাল ও কালো আখ, চেরি ফলের গাছও রয়েছে। এছাড়াও বাড়ির পাশে বাণিজ্যিক ভাবে ১ একর জমিতে কলম্বো ও সিডলেস লেবু, প্রায় ৩ একর জমিতে মাল্টা ও ১৫ শতক জমিতে ভিয়েতনামি ও বারি ৪ জাতের কাঠাল বাগান গড়ে তুলেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাকাসড়কের পাশে পাহাড়ি লাল মাটিতে সুন্দর একটি টিনসেট বাড়ি। বাড়িটির নাম মাস্টারবাড়ি। কাজিমুদ্দিন মাস্টারের বাড়ি গ্রামের যে কাউকে বললেই দেখিয়ে দেয়। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন।

রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মির্জা মো. মিনহাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, কাজিম উদ্দিন মাস্টার একজন আদর্শ শিক্ষকই নয়, আদর্শ ফলচাষি। তিনি আত্মীয় স্বজনদের উপহার হিসেবে ফল ও ফলের চারা উপহার দেয়। তার পরামর্শে অনেকে বাণিজ্যিক ফলের বাগান করেছেন। বাড়ির আঙিনায় তার বাগনটি যেন এক ফলের উদ্যান।

মো. কাজিম উদ্দিন মাস্টারের ভাষ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় চলে গিয়েছিলাম। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হওয়ার পরও বিষন্নতায় ভোগছিলাম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে পরামর্শে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে বাড়ির আঙিনায় ফুল ও ফলের বাগান করে নিজেই পরিচর্যা করি।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছেন, কাজিম উদ্দিন মাস্টার একজন শিক্ষিত সৌখিন কৃষক। কৃষির প্রতি তার অনেক আগ্রহ। নতুন ধরণের জাত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন। তার বাড়ির আঙিনা যেন ‘কৃষির জার্মপ্লাজম’।


নির্বাচিত

ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কাজ করতে করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা ধর্ম বর্ণের উর্দ্ধে এক সাথে থাকবো এবং দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবো। এজন্য আপনাদের (হিন্দু ধর্মাবলম্বী) সবাইকে আমার প্রয়োজন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি নাটমন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের একে অপরের পাশে থেকে একটি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আমরা কোন অন্যায় মেনে নিবনা এবং কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবনা। শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে একটা হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর শক্তি ও অনুপ্রেরণা।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আপনার সকলের ভালোবাসায় ও সহযোগীতায় সংসদে যেতে পেরেছি এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছি। আপনাদের ভালোবাসার কাছে আমি ঋণী। কাজের মাধ্যমে আমার সেই ঋণের বোঝা কমাতে চাই। আমরা মানিকগঞ্জে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মিলন মেলার মতো বসবাস করছি। সবাইকে এই মিলন মেলা ধরে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশী। আমাদের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের যে ঐক্য আছে, শক্ত হাতে সেটা ধরে রাখতে হবে। যাতে কোন অশুভ শক্তি আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে।

এসময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি তাপস পাল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রনব শিকদার দুলাল, সহ-সভাপতি অর্নিবান পাল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কালিপদ ঘোষ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি রঞ্জিত দে ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ সরকার।

এরপর শহরের শহীদ রফিক সড়কে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বনার্ঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং শোভাযাত্রা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।


নির্বাচিত

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর এলাকার হাউজিং মাঠে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফী ইথেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশকে সবুজায়নের লক্ষ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বৃক্ষের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পরে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ : কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, এ দেশে বসবাসরত সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকারের অংশীদার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। শুক্রবার সকালে কুমিল্লায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ধর্মের মূল চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যায় বা অশুভ শক্তিকে সমর্থন করে না। মানবকল্যাণ, ন্যায় এবং শান্তিপূণ সহাবস্থানই সব ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা। তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাজের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই রাষ্ট্র প্রকৃত উন্নতির দেখা পাবে। মন্ত্রী বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের পূর্বসূরিরা আমাদের জন্য একটি সুন্দর দেশ রেখে গেছেন। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।”

মন্ত্রী আরও বিশ্বাস করেন যে, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সবসময় ন্যায় ও কল্যাণের পক্ষেই অবস্থান করে। এই সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। তাই তিনি অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটি, কুমিল্লার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার। অনুষ্ঠানে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিকতা শেষে কৃষিমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।


নির্বাচিত

ফেনীতে কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী জেলা প্রতিনিধি

ফেনীর মুহুরীগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ইউনিক পরিবহনের বাসের ধাক্কায় চালক হেলপারসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই আবু নোমান জানান, চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি কাভার্ড ভ্যান বিকল হয়ে পড়ে। পরে একটি লং ভেহিক্যালের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানটি বেঁধে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাস কাভার্ড ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই কাভার্ড ভ্যানের চালক ও হেলপার এবং ইউনিক বাসের চালক নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

আহত একজনকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজারেরও বেশি শিশু

ফাইল ছবি, দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা তারা নিজেরাই পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ শিশুদের এই সংখ্যা মোট জিডির প্রায় ১৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এ বিবৃতি দেয়।

পুলিশ বলছে, শুধু নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ করা হলে শিশু নিখোঁজের পুরো চিত্র সামনে আসে না। কারণ, নিখোঁজ হওয়ার পর কতজন উদ্ধার হয়েছে, কতজন পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে এবং কতজন এখনো নিখোঁজ—এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে পরবর্তী পরিস্থিতির তথ্য না থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

পুলিশের যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৬৮ শিশু।

অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের নিখোঁজের ঘটনা অনেক বেশি। এ বয়সি শিশুদের নিখোঁজের ঘটনায় সাত মাসে ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা তারা পরিবারের কাছে ফিরেছে। এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৯৭০ জনের।

ছোটদের হারিয়ে যাওয়ার কারণ ভিন্ন: পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়সভেদে শিশু নিখোঁজের কারণেও পার্থক্য রয়েছে। শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশুরা সাধারণত নিজের সিদ্ধান্তে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার চেয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হারিয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ হারানো তাদের নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ। অনেক ছোট শিশু পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর বলতে পারে না। ফলে কোনো কারণে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তাদের খুঁজে বের করতে সময় লাগে। আবার একা বাড়ি ফেরার সময় পথ ভুল করে অন্যত্র চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এ ছাড়া জনবহুল এলাকা, বাজার, মেলা, পার্ক কিংবা ভ্রমণস্থলে শিশুদের ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলেও তারা হারিয়ে যেতে পারে। এসব ঘটনায় অনেক শিশুকে পরে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজের পেছনে অভিমান: ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের নিখোঁজের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বয়সি শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণ কাজ করে।

অভিমান, পড়ালেখার চাপ, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব তাদের বাড়ি ছাড়ার অন্যতম কারণ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য বা বকাঝকার পর অনেক কিশোর-কিশোরী অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তারা পরিচিতজন, বন্ধু বা অন্য কারও সঙ্গে অবস্থান করে।

পুলিশ জানিয়েছে, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জা বা ভয়ের কারণেও কেউ কেউ পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকে। আবার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টাও কিছু ক্ষেত্রে নিখোঁজের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোর এমন একটি সময় যখন সন্তানদের মধ্যে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। একই সময়ে পরিবার ও সন্তানের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি, অতিরিক্ত শাসন, পড়াশোনার চাপ কিংবা বন্ধুমহলের প্রভাব তাদের আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে কোনো সমস্যা তৈরি হলে অনেক কিশোর-কিশোরী পরিবারের সঙ্গে আলোচনা না করে হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু: পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে ২ হাজার ৩৮ শিশুর এখনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজদের মধ্যে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি ৬৮ শিশু এবং ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৯৭০ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। অর্থাৎ এখনো সন্ধান না পাওয়া শিশুদের বড় অংশই কিশোর-কিশোরী।

পুলিশ বলছে, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত থানায় জিডি করা এবং শিশুটির ছবি, পোশাক, শারীরিক বর্ণনা, মোবাইল নম্বর, বন্ধু বা পরিচিতজনের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম সহজ হয়।

অনলাইন জিডিতে বাড়ছে নিখোঁজের তথ্য: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি চালু হওয়ার পর নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন থানায় সরাসরি যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও জিডি করার সুযোগ থাকায় নিখোঁজের তথ্য পুলিশের কাছে দ্রুত পৌঁছাচ্ছে।

পুলিশের পরিসংখ্যানেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। ২০২৩ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৪১৪টিতে। তবে ২০২৫ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি বেড়ে ২২ হাজার ৫৫০টিতে পৌঁছায়।

পুলিশের মতে, অনলাইন জিডির সুযোগ চালু হওয়ায় আগে যেসব ঘটনা থানায় নথিভুক্ত হতো না, সেগুলোরও অনেকগুলো এখন পুলিশের তথ্যভান্ডারে যুক্ত হচ্ছে। ফলে জিডির সংখ্যা বাড়ার একটি কারণ হিসেবে অনলাইন সেবার সম্প্রসারণকেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

সচেতনতার ওপর জোর: শিশু নিখোঁজের ঘটনা কমাতে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজেরও ভূমিকা রয়েছে। ছোট শিশুদের বাইরে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা, জনবহুল স্থানে অভিভাবকের সরাসরি নজরদারি রাখা এবং শিশুদের পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা ও জরুরি যোগাযোগ নম্বর শেখানো জরুরি।

অন্যদিকে, কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে শুধু শাসন নয়, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনা, বন্ধু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে তারা যাতে পরিবারের সঙ্গে সহজে কথা বলতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কোনো বিষয়ে অভিমান বা পারিবারিক বিরোধ তৈরি হলে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াও প্রয়োজন।

পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, নিখোঁজ শিশুদের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসে। তবে এখনো দুই হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান না পাওয়া উদ্বেগের বিষয়। তাই শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দেরি না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।


নির্বাচিত

জয়পুরহাটে মাদকসহ স্ত্রী ও জুয়ায় স্বামী গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ স্ত্রীকে ও অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় স্বামীর কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জয়পুরহাট পৌরসভার পূর্ব ধানমন্ডি এলাকার রিনা আক্তার (২১) ও তার স্বামী মো. পাপ্পু (৩৫)। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে পূর্ব ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও অনলাইন জুয়াবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি দল। এ সময় পাপ্পুর বসতবাড়ির সামনে থেকে মাদক বিক্রির অভিযোগে রিনা আক্তারকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১০১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে একই অভিযানে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে রিনা আক্তারের স্বামী পাপ্পুকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে ডিবির এসআই মো. শাখাওয়াত হোসেন, এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, এএসআই মো. সাজেদুর রহমান, এএসআই মো. আসাদুজ্জামান, এএসআই মো. সোহেল রানা ও কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম এবং পারভেজ অংশ নেন।

জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের বিরুদ্ধে পৃথক আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।


নির্বাচিত

রাজশাহীতে পরিবেশবান্ধব গ্রীন বিল্ডিং এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন রাসিক প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি , রাজশাহী ব্যুরো

বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স এন্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পের আওতায় গ্রীন বিল্ডিং এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদ জিয়া শিশু পার্ক এর সামনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন প্রধান অতিথি হিসেবে গ্রীন বিল্ডিং এর ফলক উন্মেচন করে নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। ৩ হাজার ৭৫.৪২ বর্গফুট আয়তনে এ গ্রীন বিল্ডিংটি নির্মিত হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সোনাদিঘী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ক্বারী মোঃ মামুনুর রশীদ।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়নে এ ভবনটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩শ ৪৪টাকা। ৫ তলা ফাউন্ডেশনে ২য় তলা বিশিষ্ট গ্রীন বিল্ডিং এর নিচতলায় দোকান ঘর থাকবে। ২য় তলায় হলরুম/কমিউনিটি স্পেস ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার থাকবে।

প্রকৌশল বিভাগ হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, পরিবেশ বান্ধব হলোব্লক দিয়ে এ বিল্ডিংটি নির্মিত হবে। নিজস্ব সোলার প্যানেল ব্যবহৃত উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা হবে। উত্তরাঞ্চলে এটিই প্রথম বিল্ডিং। এ বিল্ডিংটিতে বিশেষায়িত গ্লাস ব্যবহৃত করা হবে যা তাপরোধী। বিল্ডিংটির রুফটফে তাপরোধী রংঙের কোটিং ব্যবহৃত হবে। যা বিল্ডিংটিকে শীতল রাখতে সহায়তা করবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য টয়লেট ও লিফটের ব্যবস্থা রাখা হবে। এই ভবনের সম্মুখ অংশে ভার্টিক্যাল গার্ডেনিং করা হবে। যা বিল্ডিংটিকে পরিবেশ বান্ধব রাখতে সহায়তা করবে।

উদ্বোধনকালে রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মোঃ মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী পরিকল্পনা জসীম উদ্দিন আরজু,

নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইট, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহেদুজ্জামান জীবন, শাহ মখদুম থানা বিএনপির সদস্য সচিব নাসিম খান, ১৭নং পূর্ব ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহের আলী, ১৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ বাবু, যুবনেতা তৌফিক আব্দুল্লাহ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জামালপুরে ধর্মঘটের ৯ ঘণ্টা পর বাস চলাচল স্বাভাবিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর জেলা প্রশাসনের সাথে টানা ২ ঘণ্টা বৈঠকের পর জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পরে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে জামালপুর থেকে সারাদেশের সাথে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।

জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাতে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সাথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ৪ জনের মৃত্যু হয় এ সময় আহত হয় অন্তত ১৬ জন। এ ছাড়া জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে রাজিব পরিবহনের বেপোরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার প্রশাসনকে অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় রাজিব পরিবহনের রোড পারমিট বাতিল ও বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঢাকা ও জামালপুরগামী রাজিব পরিবহনের দুটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। পরে নান্দিনা পূর্ববাজার খেলার মাঠে নিয়ে বাস দুটিতে ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার পর ওই সড়কে রাজিব পরিবহনের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে জামালপুর বাস পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন জামালপুর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

এ ব্যাপারে জামালপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও বাস চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে ১১টি দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, যুবকের যাবজ্জীবন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার বরুড়ায় ধর্ষণের পর ৯ বছরের শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুকে হত্যার ঘটনায় আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে (২২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী।

দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ভাউকসার ইউনিয়নের গজারীয়া পূর্ব কলনীপাড়া গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে। শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমু একই গ্রামের মনজুমা বেগমের মেয়ে।

জানা গেছে, ইমু স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। পরীক্ষা শেষে সে পাশের গ্রামের খালার বাড়ি পূর্ব গজারিয়াতে বেড়াতে আসে। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকেল থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশী জসিমকে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে, পাশের বাঁশঝাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী বলেন, শিশু ইমুকে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানের বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় জসিম। এ সময় তাকে ধর্ষণের পর শিশু ইমু এ ঘটনা সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখালে জসিম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখেন। পরে বরুড়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করলে জসিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’

শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুর মা মনজুমা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে জসিম নিষ্ঠুরভাবে দম বন্ধ করিয়ে হত্যা করেছে। ইমু আমার দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছিল। আমার কলিজার ধনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আমরা আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি। সে আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করেছে আমিও তার মৃত্যু চাই। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করব।


নির্বাচিত

পিরোজপুরে বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম শেখের নিঃশর্ত মুক্তি ও সাজানো মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ​বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কদমতলা বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি, সহযোগী সংগঠন ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

​কদমতলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস শেখের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে স্থানীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য প্রদান করেন।

​বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য মো. রিয়াজ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, আবদুল ছালাম শেখ একজন ত্যাগী নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এই সাজানো মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তি দেওয়া না হলে আমরা রাজপথে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।

​বিএনপি নেতা মো. ফারুক শেখ বলেন, আমরা বহু ত্যাগ স্বীকার করে আজকের অবস্থানে এসেছি। কিন্তু জামায়াতের কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে আজ আমাদের ত্যাগী নেতা আবদুস ছালাম শেখকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এই মিথ্যা নাটক বন্ধ করে তাকে মুক্তি দিন।

​মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালিকিন তপন, কদমতলা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল শেখ, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহিদ শেখ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মোল্লা, কদমতলা বাজার কমিটির সভাপতি মহসিন মোল্লা এবং নারী প্রতিনিধি সুমি আক্তার।

​মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।


নির্বাচিত

banner close