স্লিভলেস টপ পরা এক তরুণীকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্জিয়া আক্তার শিলার জামিন স্থগিত করেছে চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার (২২ আগস্ট) চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে শুনানির ২৯ আগস্ট আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১৬ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার মার্জিয়াকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। সেদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতি প্রশ্ন রেখে আদালত বলেছিলেন, সভ্য দেশে এমন পোশাক পরে রেলস্টেশনে যাওয়া যায় কি না?
রাষ্ট্রপক্ষ পরে মার্জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। গতকাল চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম। মার্জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জহুরুল ইসলাম ও মো. কামাল হোসেন।
নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে গত ১৮ মে সকালে ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন দুই তরুণ ও এক তরুণী। মেয়েটির পরনে ছিল জিন্স ও টপস। এ সময় স্টেশনে অবস্থানরত এক নারী ওই তরুণীকে হেনস্তা করেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও কয়েকজন। ওই তরুণী দৌড়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে স্টেশন মাস্টারের মধ্যস্থতায় দুই বন্ধুসহ ওই তরুণীকে ঢাকাগামী ট্রেনে উঠিয়ে দেয়া হয়।
ঘটনাটির একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে নরসিংদী রেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মার্জিয়াকে ৩০ মে শিবপুরের মুনছেপের চর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় গরিব, অসহায় ও দুঃস্থ শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক বিগ্রেডের আওতাধীন ৩০ বীর খাগড়াছড়ি সদর জোন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে জোন সদরে থেকে টহলকারী টিম ঈদ সামগ্রী নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা সদরের শাল বাগান, আদর্শপাড়া, দয়ানগর, গরু গাড়ি টিলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকার অসহায়, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও বিধবাসহ শতাধিক মানুষের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
খাগড়াছড়ি সদর জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ খাদেমুল ইসলামের নির্দেশে সদর উপজেলার দারিদ্র্য পরিবারগুলোকে চিহ্নত করে শতাধিক মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
সেনাবাহিনীর পক্ষে থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে। তিনি আরো জানান, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সবাইকে ছাপিয়ে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে জোড় আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপি নেতা মোঃ রুহুল আমিন শরীফ। রবিবার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এতে বরগুনা বাদে বরিশাল বিভাগের পাঁচটি জেলাই নতুন প্রশাসক পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ইতোপূর্বে বরগুনায় যাদের নাম আলোচনায় ছিল, বর্তমানে তাদের সম্ভাবনা কম। যদি তাদের মধ্যে কেউকে প্রশাসক করা হতো, তাহলে প্রথম পর্বের তালিকায় আসতো। যেহেতু সেটা হযনি, তাই নতুন কাউকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে এমনটাই ভবছেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে শিল্পপতি মোঃ রুহুল আমিন শরীফের নাম। গত দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে বিষয়টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোঃ রুহুল আমিন শরীফের বাড়ি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ছিলেন বামনা উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য। বরগুনার বিএনপিতে একজন সৎ ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি বামনায় দলের একজন নির্ভরযোগ্য কান্ডারী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাসহ সবধরনের সহযোগিতা করেছেন তিনি। বিশেষকরে ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আস্থার পাত্র তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি মাইক্রোটেক্স ডিজাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রিটেক্স ফ্যাশন ও ক্রিয়েটি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান, প্লাটিনাম ফ্যাশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বিজিএমইএ'র সদস্য এবং বিজিবিএ'র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতি ও ব্যবসার পাশাপাশি নির্বাচনেও তার রয়েছে ব্যাপক দক্ষতা। তিনি বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম মণির নির্বাচন পরিচলনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময়ে তিনি নূরুল ইসলাম মণির একান্ত সচিব ছিলেন এবং বর্তমানে তার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাকে নিয়েই জোড় গুঞ্জন চলছে। বিশেষভাবে তার সততা ও গ্রহনযোগ্যতা এক্ষেত্রে তাকে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ রুহুল আমিন শরীফ বলেন, আমি সারা জীবন বিএনপির জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছি। দলের কঠিন সময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি। কিন্তু কখনও কিছু চাইনি। তবে দলের প্রয়োজনে যেকোনও দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছি।
উল্লেখ্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক মাস্টার, সদস্য সচিব এসএম হুমায়ূন হাসান শাহিন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এজেডএম সালেহ ফারুক অন্যতম।
ঈদ সামনে রেখে যমুনা সেতুতে গাড়ি পারাপারের চাপ বেড়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) থেকে সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা ।
রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত এ সেতু দিয়ে গাড়ি পারাপার করেছে ৩৫ হাজার ৬৫৮টি।
জানা গেছে, প্রতি ঈদেই যমুনা সেতুতে গাড়ি পারাপারে চাপ বাড়ে এবং টোল আদায় হয়ে থাকে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে।
এতে পূর্ব পাড় থেকে ১ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার ৫৫০ টাকা এবং পশ্চিম পাড় থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। পূর্ব পাড়ে গাড়ি পার হয়েছে ২০ হাজার ৭৫টি এবং পশ্চিম পাড়ে গাড়ি পার হয়েছে ১৫ হাজার ৫৮৩টি।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদ উপলক্ষে গাড়ি পারাপারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। আগামী দুই দিন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভোটারদের আঙুলের কালির দাগ শুকানোর আগেই নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনও এক মাসও হয়নি। ভোটারদের আঙুলের কালির দাগ এখনও শুকায়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনের সময় দেওয়া পাঁচটি প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ইমামদের ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। আজকের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সরকারের আরেকটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলো।
গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল হবে, সরকার তত বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের পরপরই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কৃষি বিপ্লব এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কর্মসূচি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন এবং ভূ-পৃষ্ঠের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের পার্থক্য হলো-তারেক রহমান যা বলেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরিশাল জেলার নবাগত পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান, বিএডিসি বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চঞ্চল কুমার মিস্ত্রী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব এবং বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী সাহেদ আহম্মেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ, গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মো. আনছার উদ্দিন, জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সোমবার সকাল ১১টায় তিনি সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ শাহ আলমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন।
দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সাবেক প্রশাসক শাহ আলম নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি তার দায়িত্ব পালনের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেন নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “আমার প্রথম কাজ হবে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা। পাশাপাশি আগামীকাল থেকেই যানজট নিরসন এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারে মাঠে নামব। আশা করি কুমিল্লাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে এটি তৃতীয়বারের মতো প্রশাসক পরিবর্তন হলো।
দেশব্যাপী ‘খাল খনন কর্মসূচি ২০২৬’-এর উদ্বোধন করতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৈয়দপুর থেকে সড়ক পথে কর্মসূচিস্থল দিনাজপুর যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন।
এ উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়ক পথে কর্মসূচিস্থলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে গতকাল পাঠানো সফরসূচি অনুযায়ী, ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানেই আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসভা শেষে বিকেলে জেলার শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে শায়িত তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পোঁছান। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসযোগে তিনি সৈয়দপুর শহর হয়ে দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলার খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।
সৈয়দপুর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রধানমনন্ত্রীর আগমন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে।
এলপিজি ও নিত্যপণ্যের ওপর ভ্যাট কমানো এবং দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি নেই। খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দাম, ডিলারদের কারসাজি এবং আইন বাস্তবায়নে গাফিলতির কারণে ভোক্তারা সুফল পাচ্ছেন না। এলপিজি সিলিন্ডারসহ অনেক পণ্যে সরকার ভ্যাট কমালেও বাজারে দাম চড়া।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর থেকে ভ্যাট কমানো হলেও সাধারণ ক্রেতারা এর সুফল পাচ্ছেন না। ভেড়ামারায় এখনো বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সেই দাম মানা হচ্ছে না। অনেক দোকানিরা পরিবহন খরচ বা সরবরাহে সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। এতে মাসের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
কাঠের পুলের বাসিন্দা রবিউল বলেন, সিলিন্ডার আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। কিনতে গেলে তো কম দামে পাই না। দুদিন আগেও ১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। শুধু শুনি দাম কমেছে, কিন্তু কিনতে গেলেই বেশি দাম রাখে।
কাচারি পাড়ার বাসিন্দা নুরজাজান বেগম বলেন, সরকারি রেটের চাইতে বেশি দাম দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এগুলো দেখার কি কেউ নেই? এমনিতেই সংসারে খরচ বেশি, তারপরও সিলিন্ডার কিনতে হয় বেশি দামে।
গ্যাসের ওপর ভ্যাট হ্রাসবাজার স্থিতিশীল এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি রাখতে সরকার এলপি গ্যাসের ওপর সামগ্রিক ভ্যাট হ্রাস করে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।এতে বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রযোজ্য ছিল এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) পরিশোধ করতে হতো।শিল্পকারখানা ও গৃহস্থলি- উভয় ক্ষেত্রেই এলপিজিকে একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে জনস্বার্থে কর কাঠামো যৌক্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এলপিজির আমদানি পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এটা কার্যকর থাকবে।
এই পুনর্বিন্যাসের ফলে আমদানির পর স্থানীয় উৎপাদন ও বিতরণ পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর আর কোনো ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার ভ্যাট আরোপের পরিবর্তে এখন কেবল আমদানি পর্যায়েই একবার কর আদায় করা হবে।
এনবিআর জানিয়েছিল, প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগের কাঠামোর তুলনায় ভোক্তাদের ওপর সামগ্রিক ভ্যাটের চাপ প্রায় ২০ শতাংশ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বাড়তি দাম দিয়েই ভোক্তাদের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ পণ্য সরবরাহ এবং প্রতারণামুক্ত বাজার ব্যবস্থার দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান প্রদর্শন করেন।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে ভেজাল, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভোক্তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হলে বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। তাই যেকোনো অনিয়ম বা প্রতারণার ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
নিখোঁজের এক দিন পর প্রতিবেশীর নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে আবদুর রহমান (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চর-মরজাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুর রহমান মরজাল ইউনিয়নের চর মরজাল গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শক্কুর আলীর ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে আবদুর রহমান মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মজা খাওয়ার জন্য দোকানে যায়। এরপর থেকে আবদুর রহমানকে আর খুজে পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। রোববার সকাল ১০টার দিকে প্রতিবেশী ইদ্রিস মিয়া তার নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে পানি দিতে গেলে সেখানে আবদুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি আশপাশের লোকজন ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের জানান। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহত আবদুর রহমানের মা বলেন, রোববার সকালে প্রতিবেশীর ছাদে আমার ছেলে আবদুর রহমানের মরদেহ পাই। আমাদের কোনো শত্রু নেই। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। রায়পুরা থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। মরদেহের সুরতাল রিপোর্টের কাজ চলছে। শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। আর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেছেন, একটি যুগসন্ধিক্ষণে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জাতীয় সংসদকে সব রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদ্য নির্বাচিত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এ কথা বলেন। পরে সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
কায়সার কামাল আরও বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন হয় না। যখন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থাকবে, তখন ‘রোল অব ল’ অর্থাৎ আইনের শাসন কায়েম হবে। আর যখন আইনের শাসন কায়েম হবে, তখন মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।
নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রফিক মুহাম্মদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক আব্দুল বারী ড্যানিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজন ও সাংবাদিকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থায়। আন্তর্জাতিক শিপিং থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ পণ্যবাহী যানবাহনে সবক্ষেত্রেই ব্যয় (ফ্রেইট খরচ) বেড়ে গেছে। নিত্যপণ্য বাড়তি দাম দিয়ে কেনার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
শিপিং কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে বড় অঙ্কের ‘বাঙ্কার সারচার্জ’ (জ্বালানি খরচ বাবদ বাড়তি ফি) আরোপ করেছে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কনটেইনার প্রতি বাঙ্কার সারচার্জ ছিল ৭০০ থেকে ৭৫০ ডলার। এখন তা বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর বাইরে ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম (যুদ্ধকালীন ঝুঁকি প্রিমিয়াম) আছে।
অর্থাৎ চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপে কনটেইনারপ্রতি মূল ভাড়া (বেজ ফ্রেট) বর্তমানে ১ হাজার ১ হাজার ২০০ ডলারের মতো। এর সাথে ৩ হাজার ৫০০ ডলারের বাঙ্কার সারচার্জ যুক্ত হওয়ায় এখন আমদানিকারক বা রপ্তানিকারকের কনটেইনারপ্রতি মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ডলার।
চাপ কেবল আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অভ্যন্তরেও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া গত পরশু ১৫-১৬ হাজার টাকা থাকলেও গতকাল তা একলাফে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে আমদানিপণ্য খালাসকারী লাইটারেজ জাহাজগুলোও যাওয়া-আসার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
ট্রাক মালিকরাও একই ধরনের জ্বালানি সংকটের কথা জানিয়ে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়েও বেশি দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা—যার চূড়ান্ত প্রভাব গিয়ে পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর। ভারী যানবাহনের জন্য এই সংকটের মূলে রয়েছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেলের তীব্র ঘাটতি।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার বলেন, দূরপাল্লার চালকদের জন্য পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
তোফাজ্জল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একবার যাওয়া-আসার জন্য একটি ট্রাকের ১৪০ থেকে ১৬০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। অথচ চালকরা পাম্প থেকে পাচ্ছেন মাত্র ২০ থেকে ৫০ লিটার তেল। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে আমরা বাধ্য হয়েই ১২০ টাকা লিটার দরে কালোবাজার থেকে তেল কিনছি, যেখানে পাম্পে সরকারি দাম ১০০ টাকা।’ এই কালোবাজারি রুখতে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানান তিনি।
ডিজেল সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শিল্প থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রী—সবকিছুরই পরিবহন খরচ অনেকটা বেড়ে গেছে।
লালমনিরহাটের নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী হামিদুল রহমান তুষার জানান, রুটভেদে ট্রাক ভাড়া এ ধাক্কায় ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগে নারায়ণগঞ্জ বা ঢাকা থেকে ছোট ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৩-১৪ হাজার টাকা। এখন তা ১৭-১৮ টাকায় ঠেকেছে।
রাঙামাটির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কষ্ট লাঘবে উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের উদ্যোগে শনিবার (১৪ মার্চ) থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কার্যক্রমের প্রথম দিনে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক-সংলগ্ন সদর উপজেলার সাপছড়ি যৌথ খামার ফুরমোন এলাকায় প্রায় ৫ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি সদর উপজেলা, কাউখালী উপজেলা এবং নানিয়ারচর উপজেলা এলাকাতেও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি ঝরনা ও ছড়ার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার চরম পানির সংকটে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় অনেক পরিবারকে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করতে হয়। ইতোমধ্যে অনেক পাহাড়ি ঝরনা ও ছড়ার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।
তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমাতে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের উদ্যোগে বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ শুরু করা হয়েছে।