সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে প্রাণ গেল তিনজনের, নিখোঁজ ১

ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৭

নরসিংদীর শিবপুরে বেড়াতে এসে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দল নদীতে দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৩৮), কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের শান্তা (১৬) এবং নরসিংদীর শিবপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়ার ছেলে সৌরভ। এ মর্মান্তিক ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা জুয়েলের ছেলে শান্ত (২৪) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন ওবায়দুল্লাহ, শান্তা ও শান্ত। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামলে অসাবধানতাবশত তিনজন একসঙ্গে স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় তাঁদের বাঁচাতে সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিলে তিনিও নিখোঁজ হন। সঙ্গে থাকা স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর পাঠানো হয়। প্রথম দিন শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সন্ধান না পেয়ে উদ্ধারকাজ সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীতে শনিবার সকালে ভৈরব থেকে আসা বিশেষ ডুবুরি দল পুনরায় শীতলক্ষ্যা নদীতে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একে একে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ইসলাম খান উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার সকালে ডুবুরিরা নদী থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।’


নির্বাচিত

মাদারীপুর হাসপাতালে ৯ কোটি টাকার ই-টেন্ডার হ্যাক, ওষুধ সংকটের শঙ্কা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. ফায়েজুল কবীর, মাদারীপুর

মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুই দফায় হ্যাকিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কেনা আটকে যাওয়ায় হাসপাতালে ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদারীপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কেনার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করেন জেলা সিভিল সার্জন। কিন্তু দরপত্র আহ্বানের পরপরই ই-টেন্ডারের ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে প্রথম দফার টেন্ডার বাতিল করে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবারও ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় দফাতেও একইভাবে অনলাইন দরপত্র প্রক্রিয়া হ্যাক করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশ নিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার পেছনে প্রভাবশালী কোনো মহলের স্বার্থ থাকতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কাজটি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে হাসপাতালের প্রয়োজন মেটানো হয়েছিল। ওই সময়ের বরাদ্দে কেনা সামগ্রীর সরবরাহ জুনেই শেষ হয়েছে। নতুন অর্থবছরের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, এ বছরের টেন্ডার প্রক্রিয়া কারিগরি ত্রুটির কারণে সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় আগামী দিনে ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আবু নাঈমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, টেন্ডার হ্যাকিংয়ের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. খলিলুজ্জামান জানান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদীন কমল ১৫ দিনের ছুটিতে রয়েছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। হ্যাকিংয়ের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানেন না। সিভিল সার্জন ছুটি শেষে ফিরলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।

প্রায় ৯ কোটি টাকার এই ক্রয়প্রক্রিয়া দুই দফায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত দায়ীদের শনাক্ত করা যায়নি। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় হাসপাতালটিতে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নির্বাচিত

রাউজানে ৩২ লাখ টাকার সেতু অকেজো, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটিপাড়া গ্রামে ৩২ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু প্রায় ১০ বছরেও স্থানীয় মানুষের কাজে আসেনি। নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ভেঙে খালে বিলীন হওয়া এবং সেতুর গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় এটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে জোয়ার ও বৃষ্টির সময় চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকুটিপাড়া খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা। তবে নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ও খালের পাড়ের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তাঁদের ভাষ্য, জোয়ার-ভাটার পানি ও বৃষ্টির কারণে খালের এক পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে জলাশয়ে বিলীন হয়ে গেছে। অন্য পাশে সেতুর গোড়া থেকে মাটি সরে সড়কটি নিচু হয়ে পড়েছে। ফলে সেতু থাকলেও নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ নেই। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খালের পাড়ে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে যাতায়াতের পথের পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়িও হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক মিলন কান্তি দাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। জোয়ার কিংবা বৃষ্টি হলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ জানায়, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে তারা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পানিতে ডুবে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল দাশ ও মো. নাছির বলেন, খালের পাড়ে বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিনিয়ত বসতভিটা ও যাতায়াতের পথ খালের গর্ভে চলে যাচ্ছে। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং বসতবাড়ি রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহেদুল করিম বাব্পী বলেন, তিনি সেতুসহ সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। চলাচলের অনুপযোগী সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মজুমদার বলেন, সেতুটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় নির্মিত হওয়ায় এ বিষয়ে তাঁদের সরাসরি কিছু করার নেই। সড়কটির বর্তমান অবস্থায় সংস্কারকাজ করা সম্ভব নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কার করলে পরবর্তী সময়ে সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল কান্তি চাকমা বলেন, সেতুটি প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত হওয়ায় বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাঁদের বর্তমানে মাটি কাটা বা মাটি ভরাটের কোনো প্রকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটি সচল করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ, খালের পাড়ে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও কমবে।


নির্বাচিত

ডুমুরিয়ায় ৫০০ টাকার ওলকচুতে কৃষকের আয় ১০ হাজার টাকা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

খুলনার ডুমুরিয়ায় মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে স্থানীয় জাতের ওলকচু চাষ করে ৪০০ কেজি ফলন পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। মাত্র ৫০০ টাকা খরচে উৎপাদিত এসব ওলকচু বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার টাকা। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়ায় খুশি এই কৃষক। তাঁর এ সাফল্য কম জমিতে কন্দজাতীয় ফসল চাষের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

উপজেলার ৯ নম্বর সাহস ইউনিয়নের ছোটবন্দ গ্রামের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল এবার মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে ওলকচুর আবাদ করেন। এতে তিনি স্থানীয় জাতের ৫০টি কচুর চারা রোপণ করেন। যথাযথ পরিচর্যার পর এসব গাছ থেকে প্রায় ৪০০ কেজি ওলকচু উৎপাদন হয়।

কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, ওলকচু চাষে তাঁর মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা। উৎপাদিত কচু প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে বিক্রি করে মোট ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। অল্প জমিতে সামান্য বিনিয়োগে এমন ফলন পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।

তবে বাজারে ওলকচুর দাম আরও কিছুটা বেশি হলে আয় বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর অনুকূলে থাকলে কৃষকের লাভ আরও বাড়ানো সম্ভব।

কৃষি বিভাগের মতে, ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া কন্দজাতীয় ফসল চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা, পরিমিত খরচ ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলে স্বল্প জমিতেও ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া কন্দজাতীয় ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের লাভজনক ও কম খরচে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে।

তিনি বলেন, মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল প্রমাণ করেছেন, সঠিক পরিচর্যা ও পরিমিত খরচে সামান্য জমিতেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগী কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের এই সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ওলকচুসহ বিভিন্ন কন্দজাতীয় ফসল চাষে আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব কৃষকের জমি কম এবং চাষাবাদের জন্য পুঁজি সীমিত, তাঁদের জন্য স্বল্প খরচে লাভজনক ফসল নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।

তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া গেলে এ ধরনের চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও কৃষকদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ডুমুরিয়া অঞ্চলে কন্দজাতীয় ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।


নির্বাচিত

মাগুরায় পুকুরের পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা সদরের মোল্লাপাড়া এলাকায় পুকুরের পানিতে পড়ে দুই শিশুর করুন মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন, সদরের মোল্লাপাড়া এলাকার ইমন বিশ্বাসের ছেলে হুজাইফা ( ৯), আরেকজন একই এলাকার অন্তর বিশ্বাসের ছেলে ঈসা আলী (১০) । সম্পর্কে তারা দুজন চাচাতো ভাই। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সদরের মোল্লাপাড়া বালিয়ার মাঠ এলাকার একটি পুকুরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

হুজাইফার মা শরিফা বেগম বলেন, দুপুরে দুই ভাই শহরের মোল্লাপাড়া বালিয়ার মাঠ এলাকায় খেলতে যায়। সেখানে পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে তাদের দুজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের ডাক্তার রশিদ বিশ্বাস। তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনা মাগুরা সদর থানার ওসি, ফারুক আহমেদ বলেন, পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঘটনাটি শুনেছি। মরদহ দুটি মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

‘শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব নগর দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বস্তিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম।

মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আজাদ হোসেন বেলাল, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বাবুল, লেখক সিদ্দিকুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, গ্রিন কোয়ালিশনের যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য জ্যোতি সরকার, ইমতি জামিল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, নগরকে সুন্দর ও পুনরুজ্জীবিত করতে যারা নিরন্তর পরিশ্রম করেন, তাদের বস্তিবাসী হিসেবে অবহেলা না করে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার ও আবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানকার অনেক মানুষ এখনো নগরসুবিধা থেকে বঞ্চিত। নগরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বস্তিবাসীর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে আরও সুন্দর, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে এখনই ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। শহরে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি সমন্বিত নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।


নির্বাচিত

ভাঙা ঘরে বসেই ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবন, ২১ বছরেও মেলেনি স্বীকৃতি

 * প্রক্ল দেখলেন জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমানুল্লাহ আসিফ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর)

কোনো আধুনিক গবেষণাগার নেই, নেই উন্নত যন্ত্রপাতি কিংবা বড় কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। আছে শুধু কৃষির প্রতি গভীর অনুরাগ, নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর ব্যর্থতার পর আবারও শুরু করার অদম্য মানসিকতা। গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা ৫৫ বছর বয়সী সেন্টু কুমার হাজং উদ্ভাবন করেছেন ২৫ টি দেশী ধানের জাত। এসএসসি পাসের পর অর্থাভাবে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারলেও নতুন কিছু করার আগ্রহ থেমে থাকেনি তার। সেই আগ্রহ থেকেই দেশি ধানের জাত সংরক্ষণ ও নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজে হাতেখড়ি।

সেন্টু কুমার হাজং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোলঘেঁষা শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামের অতি সাধারণ পরিবারের একজন কৃষক। বড় ডিগ্রি অর্জন না করলেও ২১ বছরের নিজস্ব গবেষণায় ২৫ টি ধানের জাত উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন তিনি। এছাড়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও প্রায় দুই শতাধিক ধানের জাত। নিজের মাত্র ১২ কাঠা জমিতে তৈরি করেছেন ৪৪০টি পরীক্ষামূলক প্লট। বছরের বিভিন্ন সময়ে সেখানে চলছে নানা জাতের ধান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তার উদ্ভাবিত ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এলাকার অনেক কৃষক। তবে এসব জাতের সরকারি স্বীকৃতি এখনো মেলেনি। এমনকি বীজ প্রত্যয়ন বোর্ডের প্রত্যয়ন না পাওয়ায় তার আবিষ্কৃত বীজধান প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না।

সুত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে স্থানীয় একটি এনজিওর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেন সেন্টু হাজং। এরপর ধানের জাত নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেন। ধানের জাত উদ্ভাবনে তিনি ব্যবহার করেন ব্রিডিং বা সংকরায়ণ পদ্ধতি। একটি নতুন জাত তৈরি করে সেটি যাচাই করতে তার সময় লেগেছে সাত থেকে আট বছর। সফলতার পর থেকেই তার নিজ নামেই বাজারে চলছে এসব ধান। তার প্রথম সফল উদ্ভাবন ‘সেন্টু শাইল’ ধান। দীর্ঘ সাত বছরের চেষ্টার পর এই জাতটি উদ্ভাবন করেন। এরপর আবিষ্কার করেন ‘সেন্টু পাইজাম’ ধান। সেন্টু পাইজাম ধানটি এলকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চলতি আমন মৌসুমে শতশত কৃষক সেন্টু পাইজাম ও সেন্টু শাইল ধান আবাদ করেছেন।

ফলন ভালো হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ধানের ভালো চাহিদা রয়েছে। এরপর থেকে আরও নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সেন্টু। যা সেন্টু- ১ থেকে সেন্টু- ২৫ পর্যন্ত তার নামেই রয়েছে। তবে এরমধ্যে উদ্ভাবিত সেন্টু শাইল, পাঁচ ধরনের সেন্টু পাইজাম, তিন ধরণের চিনি শাইল ও তুলশিমালা অন্যতম। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সেন্টু হাজংয়ের দীর্ঘদিনের এই গবেষণার বিষয়ে অবগত রয়েছেন। তবে এতদিনেও তার কাছে কোনো সরকারি প্রণোদনা বা বিশেষ সহায়তা পৌঁছায়নি।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সেন্টু হাজংয়ের এই ব্যতিক্রমী কৃষি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় তিনি সেন্টুর উদ্ভাবনী উদ্যোগ, কৃষি অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবিত ধানের বিভিন্ন জাত সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সঙ্গে ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সেন্টু হাজং শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন নয়, হারিয়ে যেতে বসা দেশি ধানের জাত সংরক্ষণেও কাজ করছেন। তিনি এরই মধ্যে বগি, হালই, গোলাপী, মালঞ্চি, ময়নাগিড়ি, মালসিরা, অনামিয়া, পারিজাত, আপচি, কাইশাবিন্নি, মারাক্কাবিন্নি, শংবিন্নি, দুধবিন্নি, বিরই, চাপাল ও খাসিয়াবিন্নিসহ বিভিন্ন দেশি জাতের ধান প্রতিবছর নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছেন। বর্তমানে ঢেপা, চাপাল, পুরাবিন্নি ও নেদরাবিন্নিসহ বিভিন্ন জাত নিয়ে পরীক্ষা করছেন তিনি। এসব ধান চাষে তিনি গোবর ও নিজস্বভাবে তৈরি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেন।

কৃষক সেন্টু হাজং বলেন, দেশি ধানের অনেক জাতই এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। অথচ এসব ধানের আলাদা স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব জাতের ধানে পোকার আক্রমণও তুলনামূলক কম। তাই দেশি ধানের জাতগুলো আমি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি এখনো কোনো সরকারি স্বীকৃতি পাইনি। এছাড়া আমার কোনো পরীক্ষাগার কিংবা ল্যাবও নেই এমন কি আবিষ্কৃত বীজ ধানের প্রত্যয়নও পাইনি। আমি আমার ভাঙা ঘরে থেকেই এসব নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, সরকারিভাবে যদি আমাকে একটি ল্যাব বানিয়ে দেয়, তাহলে বীজধান আবিষ্কারের অনেক কিছু সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে আমার।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, কৃষক সেন্টু হাজং দেশি জাতের ধান আবিষ্কার করে একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। আমরা তাকে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকমের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।


নির্বাচিত

ফেনীতে মাকে বটির দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল মেয়ে

ঘটনাস্থল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় অভিযুক্ত মেয়ে রানুকে আটক করা হয়
অভিযুক্ত মেয়ে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী জেলা প্রতিনিধি

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে রানু আক্তারের ধারালো বটির কোপে সেতারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা মা নিহত হয়েছেন।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ডেউলিয়া গ্রামের বড় বাড়ির হোসেন মিয়ার ঘরে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর ও নির্মম এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ও অভিযুক্ত মেয়ে রানু আক্তারকে (৪২) আটক করে। নিহত সেতারা বেগম ওই গ্রামের হোসেন মিয়ার স্ত্রী ও অভিযুক্ত রানু আক্তার তাদের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন ধরে রানু আক্তার অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি তার স্বামীকেও মারধর করেন। এ ঘটনার পর পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং মানসিক চিকিৎসাসহ বিভিন্ন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রবিবার রাতে হঠাৎ রানু ঘরের অন্যদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ধারালো বটি দিয়ে তার মা সেতারা বেগমকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে রানু বটি হাতে নিয়ে ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াতে থাকেন ও দরজা ভেতর থেকে আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পুলিশ বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় অভিযুক্ত মেয়ে রানুকে আটক করা হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, মানসিক অসুস্থ মেয়ের হাতে মা খুন হয়েছেন। মেয়ে রানু আক্তার পূর্বের থেকে মানসিক অসুস্থ ছিল। কিছুদিন পূর্বে তিনি স্ট্রোক করেন। মানসিক অসুস্থতার কারনে তার স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। চিকিৎসার জন্য তাকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা ছিল। রানু তার স্বামীর বাড়িতে ভালোই ছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বটিসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানালেও বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

গ্যাস সংকটে ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুরের সারিষাবাড়ীতে অবস্থিত ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় সার উৎপাদন আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার ভোর থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

সার কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ১৭শ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানা গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ আট মাস বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে শুরু হয় উৎপাদন। এরপর ৭ অক্টোবর কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলে সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বয়লার প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে ১৬ দিন পর গত ২৩ অক্টোবর আবারও উৎপাদনে ফিরে কারখানাটি। কিন্তু উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংকটে আবারও বন্ধ হয়ে গেল যমুনা সার কারখানা। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।

যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক জানান, নিরবিচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদামত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় আজ ভোর ৫টা থেকে কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু হবে।

গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। পরে গ্যসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারো যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় কারখানায় বিভিন্ন যান্ত্রিক ও কারগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে করে উৎপাদনের কাঙ্খিত লক্ষমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়।

যমুনা সার কারখানা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯শ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ও কারখানাটি সচল থাকলে প্রতি মাসে প্রায় দুইশ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকলে অন্যান্য খরচ ছাড়াও শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ থাকলে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সার সংকট দেখা দিতে পারে। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।


নির্বাচিত

পাঙাশের ৪০ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি

# বাকৃবির গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য # ত্রিশালের সব নমুনা পুকুরের পলিতে মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২৫টি বাণিজ্যিক মাছের পুকুরের তলদেশের পলি এবং চাষের মাছের পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। দেশের বাণিজ্যিক মাছ চাষের পুকুরেও শনাক্ত হয়েছে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে ত্রিশালের ২৫টি খামার থেকে পুকুরের তলদেশের পলি এবং ৬ প্রজাতির মোট ১৫০টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রজাতিগুলো হলো রুই, কাতলা, পাঙাশ, মৃগেল, কমন কার্প ও সরপুঁটি। প্রতিটি প্রজাতি থেকে ২৫টি করে মাছ নিয়ে রাসায়নিক ও অণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণ করা হয়।

বিশ্লেষণে ১৫০টি মাছের পরিপাকতন্ত্রে মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। গড়ে প্রতি মাছে ০.৬০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। প্রজাতিভেদে সরপুঁটিতে গড়ে সবচেয়ে বেশি ১.২০টি কণা পাওয়া গেছে। রুই ও কালিবাউশে গড়ে ০.৬৮টি করে।

শতকরা হারে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে পাঙাশ মাছে, ৪০ শতাংশ। রুই মাছে ৩৬ শতাংশ, কাতলা ও মৃগেলে ২০ শতাংশ করে এবং কমন কার্প ও সরপুঁটিতে ১৬ শতাংশ হারে পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া পরীক্ষা করা ২৫টি পুকুরের প্রতিটির তলদেশের পলিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। প্রতি কেজি পলিতে গড়ে ১১.০৪টি কণা শনাক্ত হয়েছে। পলিউশন লোড ইনডেক্স (পিএলআই) অনুযায়ী দূষণের মাত্রা ১ থেকে ৪.৫ পর্যন্ত, যা কয়েকটি নমুনায় অত্যন্ত উচ্চ।

গবেষণায় দেখা গেছে, পুকুরের তলদেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের হার ৫২ শতাংশ। মধ্যস্তরে ৩৫ শতাংশ এবং উপরিভাগে ১৩ শতাংশ। মাছের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ এবং তৃণভোজী মাছের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ।

গবেষকদের বিশ্লেষণে মাছের খাদ্যের প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্যাকেজিং, মাছ ধরার নাইলন ও পলিয়েস্টারের জাল, পুকুরের পাড়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ত্রিপল এবং সেচকাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপের ক্ষয়কে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খান বলেন, ‘এই গবেষণায় আমরা মাছের পরিপাকতন্ত্র পরীক্ষা করেছি। মানুষের খাওয়ার উপযোগী মাছের পেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমার পরিমাণ সরাসরি পরিমাপ করা হয়নি। ফলে এসব মাছ খাওয়ার মাধ্যমে মানবদেহে কতটা প্রবেশ করতে পারে তা এই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যৎ গবেষণায় মাছের পেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং ভারী ধাতুর সঙ্গে এর সম্মিলিত প্রভাব পরীক্ষা করা জরুরি।’ পাশাপাশি খামারে প্লাস্টিকসামগ্রীর যথাযথ পুনর্ব্যবহার, পুকুরে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।


নির্বাচিত

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে নারীকে ধর্ষণ, চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে চালক ও সহকারীসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াস এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বাসের চালক মো. আলতাফ (২৫)। তিনি দিনাজপুরের চিরির বন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে। অপর দুই দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন চালকের সহকারী মো. রাব্বি (২১) এবং বাসের কন্ট্রাকটর সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)। রাব্বি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। সাগর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজারের চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে।

দণ্ডিত তিনজনকেই ২ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারী কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই নারী গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠে। পথে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য যাত্রীরা নেমে যায়। পরে চলন্ত বাসে ওই নারীকে তারা পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় ভয় দেখিয়ে ওই নারী যাত্রীর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাই করে নেয়। পরে বাস নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চক্কর দিতে থাকে।

পর দিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামায়। এ সময় ধর্ষণের শিকার নারী ওই এলাকায় টহলে থাকা হাইওয়ে পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বলেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ বাসসহ দণ্ডিতদের টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

ওই দিনই টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় দেন। পরে আসামিদের টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়।


নির্বাচিত

তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ, আত্মহত্যার হুমকি ২৪ পরিবারের

# জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি # প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা করে সংবাদ সম্মেলন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগের প্রতিবাদে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ২৪টি কৃষক পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ করা হলে পরিবারগুলো একমাত্র জীবিকার উৎস হারিয়ে ভূমিহীন ও অসহায় হয়ে পড়বে। তাই নিজেদের ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বিকল্প জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলো। রোববার বুড়িচং প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন হরিপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা নিজেদের জমি রক্ষা ও পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ রবিউল হাসান। এ সময় নেহারা খাতুন, আলমগীর হোসেন, ফরিদ মিয়াসহ হরিপুর গ্রামের আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে একটি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের লক্ষ্যে যে জমিগুলো অধিগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ তিন ফসলি জমি। এসব জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করে এলাকার বহু দরিদ্র ও অসহায় পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষিকাজের সঙ্গে তাদের সংসারের আয়-রোজগার, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সরাসরি জড়িত।

কৃষকদের দাবি, প্রস্তাবিত জমিগুলো তাদের কাছে শুধু কৃষিজমি নয়, বরং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জমির মালিকদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাদের কেউ অটোচালক, কেউ রিকশাচালক কিংবা সাধারণ পেশার সঙ্গে যুক্ত।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের কারণে ২৪টি পরিবার সম্পূর্ণ ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমি হারালে তাদের কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাবে, কমে যাবে আয়ের সুযোগ। এতে পরিবারগুলোর খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর সামনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

কৃষক পরিবারগুলোর দাবি, হরিপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে এলাকায় থাকা পতিত ও অনাবাদি জমি বিবেচনা করা যেতে পারে। তাদের ভাষ্য, এসব বিকল্প জমি ব্যবহার করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তাদের অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অসহায় কৃষক পরিবারগুলোকে ভূমিহীন করার উদ্দেশ্যে এসব জমি নির্বাচন করেছে।

এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বুড়িচং প্রেসক্লাব বরাবর স্মারকলিপি দেন।


নির্বাচিত

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পুর্নবাসনও করা হবে: রাসিক প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, রাজশাহী মহানগরীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। নাগরিকদের স্বাচ্ছ্যন্দে ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিতকরণে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ভদ্রা, মহিলা কলেজ রোড ও মেডিকেলের সামনের একাংশে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর,জিরোপয়েন্ট,সোনাদিঘি মোড়, রেলগেট, গণকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলে রয়েছে। এসব ফুটপাত দখলমুক্ত করতে যা যা করা প্রয়োজন তাই করবো। দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পর্যায়ক্রমে পুর্নবাসন করা হবে।

ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে রোববার রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারস্থ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন সিটি করপোরেশনের মার্কেটের সাহেব বাজার কাঁচাবাজার, মাছপট্টি, মাংসপট্টি, কসাইখানা এবং উক্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বিভিন্ন পরিত্যক্ত দোকান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

পরিদর্শন শেষে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহী মহানগরীকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করতে চাই। মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর একজন কর্মী হয়ে আমিও কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। রাজশাহী মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই।

রাসিক প্রশাসক আরো বলেন, সাহেব বাজার কাঁচাবাজার ও মাছপট্টির দ্বিতীয় তলায় ৮৯টি দোকান অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব দোকান ও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে সেগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পরিদর্শনকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজু, রাজস্ব কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন খোকন এবং উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজবাড়ীতে ড্রাগন চাষে সাফল্য দিন দিন বাড়ছে নতুন উদ্যোক্তা

# দিনে সংগ্রহ হচ্ছে ২ হাজার কেজি ড্রাগন ফল
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাজী আব্দুল কুদ্দুস, রাজবাড়ী

রঙিন ফলের সমারোহে এখন মুখরিত রাজবাড়ীর মাটি। জেলার কৃষি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে অত্যন্ত লাভজনক বিদেশি ফল ‘ড্রাগন’। কম খরচে অধিক মুনাফা অর্জিত হওয়ায় এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাজবাড়ীতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলের আবাদ।

​জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামেই গড়ে উঠেছে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগান। প্রায় দুই একর জমির ওপর বিস্তৃত এই বিশাল বাগানে বর্তমানে শোভা পাচ্ছে প্রায় চার হাজার ড্রাগন গাছ। প্রতিটি গাছে লাল ও গোলাপি রঙের পাকা ড্রাগনের ঝুলন্ত দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়।

বাগান মালিক ও কর্মচারীদের মতে, প্রতিটি গাছে গড়ে ১০ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত ফল ধরেছে। বর্তমানে ভরা মৌসুমে বাগানটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ মণ (২,০০০ কেজি) তাজা ড্রাগন ফল সংগ্রহ করা হচ্ছে।

​বর্তমানে স্থানীয় পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। কেবল স্থানীয় চাহিদার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই এই বাগান। রাজবাড়ীর রসালো, মিষ্টি ও সুস্বাদু ড্রাগন ফল এখন সরবরাহ হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর, কুষ্টিয়া এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় পাইকারি বাজারে। তাজা ও রাসায়নিকমুক্ত ফল কিনতে স্থানীয় ক্রেতা ও পাইকাররা এখন প্রতিদিন বাগান প্রাঙ্গণেই ভিড় জমাচ্ছেন।

বাগানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও ফলন সম্পর্কে বাগানের ম্যানেজার জমাদি উল আলম বলেন, ‘এখানকার মাটির উর্বরতা ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা প্রথম থেকেই নিয়ম মেনে সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক সময়ে সেচ প্রদান এবং আধুনিক উপায়ে গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করেছি। নিয়মিত যত্ন ও কঠোর তদারকির ফলেই এবার গাছে আশাতীত ফলন এসেছে। প্রতিটি গাছে যেভাবে ফল ধরেছে, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা কেবল ফলনের পরিমাণের দিকেই নজর দিচ্ছি না, বরং রাসায়নিকের অপব্যবহার রোধ করে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও মানসম্মত ড্রাগন ফল উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের হাতে পুষ্টিকর ও নিরাপদ ফল পৌঁছে দেওয়া।’

বাগান থেকে সরাসরি ড্রাগন ফল কিনতে আসা বাজিতপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাজার থেকে ফল কিনলে অনেক সময় বাসি বা কেমিক্যালযুক্ত হওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু এই বাগানে এসে একদম গাছ থেকে নিজেদের সামনে তাজা ও রক্তিম ড্রাগন পেড়ে কিনতে পারছি—এই অনুভূতিটাই দারুণ! এখানকার ফলগুলো বেশ বড়, মিষ্টি ও রসালো। পরিবারের পুষ্টির কথা চিন্তা করে বাগান থেকেই সরাসরি ফল কিনতে এসেছি।’

ফরিদপুর থেকে আসা ফলের পাইকারি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজবাড়ীর এই বাগানের ড্রাগন ফলের সাইজ ও গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার। বাজারে এই এলাকার ড্রাগন ফলের চাহিদা খুব বেশি। গ্রাহকরা রাজবাড়ীর মিষ্টি ড্রাগন ফল বেশ পছন্দ করছেন। তাই আমি নিয়মিত এখান থেকেই পাইকারি দরে ফল কিনে ফরিদপুরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করি। বাগান থেকে ফ্রেশ ফল পাওয়ায় আমাদের বিক্রিও খুব ভালো হয়।’

​রাজবাড়ী সদর শহর থেকে পরিবার নিয়ে বাগানে আসা দর্শনার্থী ও ক্রেতা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বাগানজুড়ে সারিবদ্ধ গাছে ঝুলন্ত ড্রাগন ফল দেখতে দারুণ লাগে, যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য! বাচ্চারা খুব আনন্দের সাথে বাগানে ঘুরে লাল-গোলাপি ফলগুলো দেখছে। আমরা যেমন ছুটির দিনে ঘুরে আনন্দ পেলাম, তেমনই কোনো ভেজাল ছাড়া গাছপাকা পুষ্টিকর ফল কিনে ঘরে ফিরছি।’

​কৃষকদের এই অভাবনীয় সাফল্যে সার্বক্ষণিক ছায়া হয়ে পাশে রয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করছেন এবং উদ্যোক্তাদের গাছের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও আধুনিক পরিচর্যার নানা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাক খান বলেন, ‘ড্রাগন চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সুষম সার ব্যবহার এবং রোগবালাই প্রতিরোধে সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছি। সঠিক পরামর্শের ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছেন।’

​কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নিয়মিত তদারকি প্রদান করায় রাজবাড়ী জেলা খুব দ্রুত ড্রাগন উৎপাদনে একটি ‘মডেল জেলা’য় পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান। তিনি জানান, উদ্যোক্তাদের সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন উদ্যোক্তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন চাষে এগিয়ে আসেন।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় রাজবাড়ীর এই ড্রাগন বিপ্লব কেবল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীই করছে না, বরং সমগ্র জেলার কৃষি অর্থনীতিতে যুক্ত করছে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় মাত্রা।


নির্বাচিত

banner close