নিরাপদ রংপুর গড়ার লক্ষ্যে নাগরিকরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অপরাধী ও অপরাধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিতে ‘সেভ রংপুর’নামে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইটটির (অ্যাপস) উদ্বোধন করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সেভ রংপুর এর প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কোর্ডিনেটর আল মামুন বলেন, রংপুরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলা। অপরাধ সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা পরিচয় প্রকাশের বিষয়টি সামনে আনতে চান না। তাই তাদের জন্যই ‘সেভ রংপুর’ প্ল্যাটফর্মে পরিচয় গোপন রেখে তথ্য জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
নাগরিকদের দেওয়া তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছে যাবে, যা অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা করবে।
অ্যাপস-ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে মাদক, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে তথ্য দেয়ার সুযোগ থাকবে। তিনি আরও বলেন, সেভ রংপুরকে যারা এগিয়ে নিতে চান, তারা সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। এই প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর ও এগিয়ে নিতে তথ্যভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি চাইলে নিজের পরিচয় গোপন রেখে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিতে পারবেন। অনেকেই বাড়ির আশপাশে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি কিংবা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানলেও প্রশাসনের কাছে সরাসরি যেতে পারেন না। আবার অনেকের ধারণা, তথ্য দিলে সাক্ষী হতে হবে কিংবা পরবর্তীতে নানা ধরনের জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এসব কারণে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে আগ্রহী হন না। তাদের কথা বিবেচনা করেই এই ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে। এখানে আপনি যে তথ্য দেবেন, তা গোপন রাখা হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিরাপদ শহর শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অপরাধের তথ্য জানান এবং সচেতন ভূমিকা পালন করেন, তাহলে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রংপুর গড়ে তোলা আরও সহজ হবে।
এসময় রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জোবায়ের ইসলামসহ বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ককে হকারমুক্ত ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হকারমুক্ত ঘোষিত ওই সড়কগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনে যান ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ বসলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। তারা নিজেরাও স্বেচ্ছায় এসব মূল সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা নগরবাসীকে ফুটপাত ও সড়কে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে চাই।’
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, কেবলমাত্র রমনা ভবনসংলগ্ন পূর্বপাশের ফুটপাতে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা রেখে নির্ধারিত জায়গায় নিয়মানুযায়ী নিবন্ধিত নির্দিষ্টসংখ্যক হকার বসতে পারবেন। নির্ধারিত স্থান, সময়, সংখ্যা ও নিবন্ধনের বাইরে যত্রতত্র হকার বসে জনভোগান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’
হকারদের নিবন্ধন ফি কমানোর দাবির বিষয়ে প্রশাসক বলেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনামা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় উপস্থিত থেকে পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মূল সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্জ্য এখন কোনো সংকট নয়, এটি এখন বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে শলুয়ায় নির্মিত বর্জ্য রিসাইকিং প্লান্টটি চালু হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন দিক উন্মোচিত হবে। কিন্তু এটি পরিচালনার দায়িত্ব প্রাইভেট সেক্টরে ছেড়ে দিলে তারা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবে কি না, তাও ভেবে দেখতে হবে। না পারলে এটা কীভাবে পরিচালনা করা সম্ভব তার জন্য কর্মকর্তা পর্যায়ে আরও সভা আহ্বানের নির্দেশ দেন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশনে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার পেশাদারত্ব জোরদারকরণ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় বাংলাদেশ নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় কেসিসি ও এসএনভি যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। গত ১৮ জুলাই কেসিসি ও এসএনভির মধ্যে অনুষ্ঠিত কৌশলগত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং পেশাদারত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মাঠপর্যায়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজে কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে পাইলট কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘তাহলেই ৩১টি ওয়ার্ডে আমাদের কী ধরনের ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন তার সঠিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। একমুখী কাজ থেকে বের হয়ে সম্মিলিতভাবে ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বহুমুখী কাজ করতে পারলে সফল হওয়া সম্ভব হবে বলে কর্মশালায় প্রশাসক উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ নগরভিত্তিক পানিচক্রের টেকসই রূপান্তর’ প্রকল্পটি খুলনাসহ ৪টি সিটি করপোরেশন ও ৮টি পৌরসভায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্যানিটেশন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন ও সংশ্লিষ্ট নগর পরিসেবার নিরাপত্তা, অন্তর্ভুক্তি ও স্থায়িত্ব উন্নয়নের মাধ্যমে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নত করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। কর্মশালায় প্রাথমিক উৎস থেকে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ সেবার পেশাদারত্বকরণের আওতায় সেবাদানকারীদের শর্তযুক্ত অনুমতিপত্র লাইসেন্স প্রদান এবং কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন, কেসিসি কর্তৃক নির্ধারিত ও অনুমোদিত সার্ভিস চার্জ ট্যারিফ কাঠামো অনুসারে নাগরিকদের নিকট থেকে সেবা মূল্য নিশ্চিতকরণ, প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ সেবায় নিয়োজিত সকল ভ্যান গাড়িকে কেসিসির নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সেবার আওতাবহির্ভূত এলাকা, সড়ক ও পরিবার চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে সমগ্র মহানগরকে ধাপে ধাপে শতভাগ প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া আলোচ্য বিষয়গুলো বাস্তবায়নে ওয়ার্ড পর্যায়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কঞ্জারভেন্সি বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরাসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কঞ্জারভেন্সি বিভাগরে কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। সঞ্চালনা করেন এসএনভির কাস্টার কো-অর্ডিনেটর উজ্জ্বল কুমার দাস।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি সড়কের জায়গা দখল করে বাড়ির দেওয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৫ নম্বর বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহমুদাবাদ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারিয়ার পাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন সাহেবানি সড়কে এ নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নকশায় সড়কটির প্রস্থ ২৪ ফুট হলেও বিভিন্ন স্থানে সড়কটি সংকুচিত করে দখলদাররা বাড়িঘর ও দেওয়াল নির্মাণ করে যাচ্ছেন। ফলে সড়কের বড় একটি অংশ বেদখল হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে দীর্ঘদিনের সামাজিক বিরোধ।
এ ঘটনায় স্থানীয় যুবক মো. ইব্রাহিম সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের তীর স্থানীয় ব্যবসায়ী মৃত এরশাদ উল্যা সেরাংয়ের ছেলে জানে আলম বাবুলের দিকে।
অভিযোগকারী বলেন, সড়ক দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহারিয়ার পাড়া জামে মসজিদের উত্তর পাশে ভাড়াঘর নির্মাণের পাশাপাশি সড়কসংলগ্ন এলাকায় দেওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। সড়কের জায়গা ব্যবহার করে বাড়ি নির্মাণের পর গাইডওয়াল তৈরির সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাহেবানি সড়কটি সরকারি নকশা অনুযায়ী ২৪ ফুট প্রশস্ত। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন স্থানে সড়কটির প্রস্থ কমে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের জায়গা ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আলমগীর বাদশাহ বলেন, সরকারি সড়ক দখল উচ্ছেদ করা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী চাপের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে প্রশাসনের উচিত দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করা। সরকারি নকশা, ডিজিটাল জরিপ ও বাস্তব সীমানা মিলিয়ে সড়কটি মেপে দখল চিহ্নিত করা গেলে দীর্ঘদিনের বিরোধেরও অবসান হবে। আর ভোগান্তি নিস্তার পাবে এলাকাবাসী।
তবে আলম বাবুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার ক্রয় করা জায়গার ওপর বাড়ি ও দেওয়াল নির্মাণ করছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে এসে আমার জায়গা পরিমাপ করে দিয়েছেন। আমি আমার জায়গাতেই দেওয়াল নির্মাণ করছি।
সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ড. শেখ শরিফুল আলম।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক লিখিত পত্রে ড. শেখ শরিফুল আলম জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগ দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, চ্যান্সেলরের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৪ সালেল জুন পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ৩০ জুন থেকে চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ড. শেখ শরিফুল আলম।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারকালে ২টি ট্রাক ভর্তি ইউরিয়া সারসহ ২ পাচারকারীকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানাধীন বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাটিয়ারি কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় মিয়ানমারে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশে ট্রাক থেকে কার্গো বোটে স্থানান্তরকালে প্রায় ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৬০০ বস্তা (৩০ হাজার কেজি) ইউরিয়া সার ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাকসহ ২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, জব্দকৃত সার, পাচার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন মানবসম্পদ সুস্মিতা সাহা) এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইমতিয়াজ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীত, অভিনয়, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করে। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
মাগুরার শালিখা উপজেলায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১১০০টি চিতল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য অভয়াশ্রমে এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়।
Biodiversity for Resilient Livelihoods (BRL) in the Modified Ganges Delta of Bangladesh প্রকল্পের আওতায় এবং সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা, বাংলাদেশের অর্থায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাস্তবায়নে ছিল সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)। কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা ছিল উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর শালিখা, মাগুরা।
কর্মসূচির আওতায় কানুদার খাল অভয়াশ্রম, ফটকি নদীর চুকিনগর এবং ভাটোয়াইল গ্রামের নিকটবর্তী মৎস্য অভয়াশ্রমে ১০ থেকে ১১ ইঞ্চি আকারের মোট ১১০০টি চিতল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক উৎসে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সমাজিক অবস্থার প্রভূত উন্নয়ন করা করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা মৎস্য অফিসার সাধন চন্দ্র সরকার, সিএনআরএস ফিল্ড ম্যানেজার সরোয়ার হোসেন, শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হাসান চৌধুরী, উপজেলা মৎস্য অফিসার ওমর সানি এবং সাইট অফিসার শরিফুল ইসলাম।
এছাড়া মঘি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফখরুদ্দিন মন্ডল, আড়পড়া চুকিনগরের সদস্য প্রদীপ মণ্ডল, রাজীব মন্ডল, আরাফাত বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইলেকট্রিক মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ সংশ্লিষ্টরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। জেলার ১৮ থানায় পুলিশের রাতভর বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়েছে ৬২৪ জনকে। তাদের মধ্যে ৪৫১ কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর দাউদকান্দিতে আটক কিশোরদের ছাড়িয়ে নিতে একদল কিশোর-তরুণ থানায় ঢুকে ১৭ জনকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় থানায় চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বখাটেদের আড্ডাস্থল, অপরাধপ্রবণ এলাকা ও সন্দেহজনক স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে আটক ৬২৪ জনের মধ্যে ৪৫১ কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, মোবাইল কোর্ট, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের পূর্বের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাং ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।
দাউদকান্দিতে থানায় ঢুকে ১৭ জনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের মধ্যেই দাউদকান্দি মডেল থানায় ঘটে আরেক ঘটনা। বুধবার সন্ধ্যায় থানার উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে অর্ধশত কিশোর ও তরুণকে আটক করা হয়।
পরে একদল কিশোর-তরুণ থানায় ঢুকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় থানার চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বহিরাগতদের আচরণ ছিল ভয়াবহ। তারা স্লোগান দিতে দিতে থানায় ঢুকে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যায়।
তবে থানায় হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম। এর মধ্যেই থানার ভেতরে হামলা ও ভাঙচুরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নয় মাসে ১০৪ হত্যাকাণ্ডঃ
কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের পাশাপাশি কুমিল্লায় সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতিও উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের নয় মাসে জেলায় ১০৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে ১১টির বেশি হত্যাকাণ্ড।
হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ছিনতাই, চুরি, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। পুলিশ ও বিভিন্ন মামলার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
একদিনে অপরাধী হয়নি তারা :
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণরা একদিনে অপরাধী হয়ে ওঠেনি। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তুহিন, ফাহাদসহ তিনজনও একদিনে অপরাধে জড়ায়নি। দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণ তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবারের অসচেতনতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতাও অপরাধ সংঘটনের একটি কারণ। অপরাধ সংঘটনের পর তৎপরতার চেয়ে অপরাধ যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আগে থেকেই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
বদরুল হুদা জেনু আরও বলেন, গত দুই বছরে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বেপরোয়া জীবনের যে প্রতিফলন দেখা গেছে, তা উদ্বেগজনক। এখনও সময় ফুরিয়ে যায়নি। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধের সংকট দূর করতেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আটক করেও ঠেকানো যাচ্ছে না অপরাধ :
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, গত কয়েক মাসে কিশোর গ্যাংয়ের বিপুলসংখ্যক সদস্যকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের অনেকেই কারাগার থেকে বের হয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনেককে মা-বাবা মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে তালিকা তৈরি করে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, পরিবারকে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনীতিবিদদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দুই হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের জন্য একজন পুলিশ সদস্য দিয়ে কিশোর গ্যাংসহ কোনো অপরাধ সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, সমাজ, রাজনীতিবিদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
টেকসই রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব কাঠের সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'চায়না ন্যাশনাল হেভি মেশিনারি কর্পোরেশন' (সিএইচএমসি)-এর মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গত বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ড. নুরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
বিএফআইডিসি-এর পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং সিএইচএমসি-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মি. চেং টিংইউ (Mr. Cheng Tingyu)। এতে উপস্থিত ছিলেন মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও যুগ্মসচিব, বিএফআইডিসি মিজু জাহান আরা, পরিচালক (উৎপাদন ও বাণিজ্য) ও যুগ্মসচিব মোঃ হাফিজুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও যুগ্মসচিব সালেহীন তানভীর গাজী, মহাব্যবস্থাপক (রাবার) ও উপসচিব বিবেক সরকার, মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও উপসচিব মিজু নাহিদা বারিক, সচিব ও উপসচিব মিজ মাহমুদা জেসমিন, ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ কে এম হুমায়ূন কবির, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মিজ ফৌজিয়া জাফরীন, ব্যবস্থাপক (হিসাব) এছাড়া চায়না ন্যাশনাল হেভি মেশিনারি কর্পোরেশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাবার কাঠ অত্যন্ত শক্ত, টেকসই ও উন্নতমানের। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের ফলে দেশে রাবার কাঠের বহুমুখী ব্যবহার ও মানসম্পন্ন আসবাবপত্র উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
হাসপাতালের বেডই যেন তার ঘরবাড়ি। স্বজন বলতে কেউ নেই, নেই স্ত্রী-সন্তান, নেই বাবা-মাও। অসুস্থ শরীর নিয়ে বছরের পর বছর নাটোরের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই পড়ে আছেন প্রায় ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ। কখনো রোগীদের দেওয়া খাবার, কখনো নার্সদের মমতাই হয়ে ওঠে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। আপনজনহীন এই বৃদ্ধের জীবনের গল্প যেন হাসপাতালের দেয়ালে আটকে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি বেড। সেখানেই শুয়ে আছেন বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ। বয়সে ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। ঠিকমতো দাঁড়াতে কিংবা হাঁটতেও পারেন না। তবে হাসপাতালের এই বেডটি তার কাছে শুধু চিকিৎসার জায়গা নয় এটাই এখন তার ঘরবাড়ি।
জানা যায়, নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের হাসপুকুরিয়া গ্রামের মৃত মেসের আলী সরদারের ছেলে আব্দুল মজিদ। জীবনের শুরুটাই ছিল স্বজন হারানোর বেদনায়। মাত্র তিন বছর বয়সে হারান বাবাকে। তার কয়েক বছর পরে হারিয়েছেন মাকেও। বয়স যখন প্রায় ২৫, তখন বিয়ে করেন নুরজাহান বেগমকে। কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে মাত্র দেড় বছর পরই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর আর সংসার করা হয়নি। সন্তানও নেই তার। জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন মজিদ।
সিংড়া দমদমা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৭ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরিও করেন। কিন্তু তিন বছর মেয়াদ শেষে সেই চাকরিও আর থাকেনি। এরপর জীবনের সঙ্গে শুরু হয় তার এক দীর্ঘ লড়াই। স্বজন হারিয়েছেন, হারিয়েছেন সংসার। এমনকি নিজের বসতভিটাটুকুও আর নেই তার।
আব্দুল মজিদ জানান, আমার যতটুকু বসতভিটা ছিল, মামারা সেটাও লিখে নিয়েছে। এখন আর কেউ আমার খোঁজ নেয় না। হাসপাতালই এখন আমার ঠিকানা। হাসপাতালের নার্স, ডাক্তারের সেবায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন তারা আমাকে যথেষ্ট সেবা প্রদান করে।
নিজের বলতে কেউ না থাকায় অসুস্থ হলেই ছুটে আসেন সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। একবার, দু’বার নয় বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালেই কাটছে তার দিন-রাত। এখানেই বেঁধেছে তার নিজের ছোট্ট সংসার, রয়েছে তার ব্যাক্তিগত ফ্যান, কাথা,কম্বল, বালিশ গ্যাস দেওয়ার জন্য রয়েছে নেবুলাইজার মেশিন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরাই এখন তার পরিচিত মানুষ। কেউ কথা বলেন, কেউ খোঁজ নেন, আবার কেউ নিজের খাবার থেকেও ভাগ দেন এই নিঃস্ব বৃদ্ধকে। রোগীরাই নন হাসপাতালের নার্সদের কাছেও মজিদ যেন পরিবারের একজন।
বছরের পর বছর একই হাসপাতালে থাকায় নার্স ও ডাক্তারদের সঙ্গে তৈরি হয়েছে তার এক অন্যরকম সম্পর্ক। চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসেরও খোঁজ রাখেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার সখিনা খাতুন ও নার্স শরফুন্নেসা জানান, উনি অনেকদিন থেকে হাসপাতালে থাকেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে উনার খোঁজখবর ও চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি। উনি অনেক বৃদ্ধ মানুষ, হাঁটতেও পারেন না। রাউন্ডে গেলে বলেন ছোট মাছ বা অন্য কোনো তরকারি হলে তৃপ্তি করে ভাত খেতে পারতেন। তাই মাঝে মাঝে আমরা বাড়ি থেকে উনার জন্য খাবার নিয়ে আসি। এতে আমাদেরও তৃপ্তি হয়। এভাবেই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স আর ভর্তি রোগীদের মমতায় কোনোরকমে কেটে যাচ্ছে মজিদের জীবন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুজাহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, তিনি বছরের প্রায় ১১ মাস অসুস্থ থাকেন। উনাকে দেখার মতো কেউ নেই। ফলে উনি সারাবছরই হাসপাতালে থাকেন। আমরা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখি। এ বিষয়ে আমাদের কর্তৃপক্ষও অবগত রয়েছে। সার্বক্ষণিক আমরা তার খোঁজ খবর রাখি।
সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক কর্মকর্তা ডা: জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা তার সার্বক্ষনিক খবর রাখি। তার পরীক্ষা নিরীক্ষার সকল টেষ্ট আমরা বিনামূল্যে করে দেই। তার বয়স হয়েছে, সুস্থ হওয়ার আশা নেই। আগে প্রতি মাসে ভর্তি হতো। গত দেড় বছর যাবত সে স্থায়ী ভাবে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার তো থাকার মত অন্য কোনো জায়গা নাই। তাই আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, আব্দুল মজিদ চাইলে সরকারি সহায়তায় তার জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তার বিষয়টি আমরা মানবিকভাবে দেখছি। তিনি যদি সরকারি সহায়তা নিতে চান, তাহলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে তার জন্য সরকারি ব্যবস্থায় বসবাসের সুযোগ বা উপযুক্ত সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আব্দুল মজিদের চাওয়া খুব বেশি নয় একটু আশ্রয়, দু’বেলা খাবার আর আপনজনের মতো একটু মমতা। যে মানুষটি একসময় পড়াশোনা করেছেন, চাকরি করেছেন, সংসার করার স্বপ্ন দেখেছেন আজ সেই মানুষটির জীবনে নেই নিজের বলতে একটি ঘরও। জীবনের শেষ দিনগুলো এভাবেই কেটে দিচ্ছেন তিনি। এজন্য অকপটে স্বীকার করলেন বৃদ্ধাশ্রমে যাবার কোনো ইচ্ছে তার নাই। জীবনের শেষ নি: শ্বাস এখানেই যেনো তার হয়।
এ বছরের বর্ষায় টানা ভারী বর্ষণ ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় রাউজান উপজেলার কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির আবাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় উপজেলার ১ হাজার ১৫০ জন কৃষক সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে কৃষি খাতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়। এতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। টানা জলাবদ্ধতায় মাঠেই পচে নষ্ট হয়ে যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বড় অংশ। ফসল হারিয়ে এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বহু কৃষক।
বন্যা-পরবর্তী সময়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উপজেলায় ২৮০ হেক্টর আউশ ধানের মধ্যে ১৪৩ হেক্টর জমি বন্যাকবলিত হয়। এর মধ্যে ৯৩ হেক্টর জমির আউশ ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে ১৮০ জন কৃষকের ৩০৮ মেট্রিক টন ধান বিনষ্ট হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া উপজেলার ২২৩ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে ১১২ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর মধ্যে ৯৪ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়ায় ৪৬০টি কৃষক পরিবার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ লাখ ৪ হাজার টাকা। গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির আবাদেও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার ৪৩৫ হেক্টর জমির মধ্যে ১৭৩ হেক্টর দুর্যোগের কবলে পড়ে এবং ১২৭ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ৫১০ জন কৃষকের ২ কোটি ১৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তা ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পেঁপে, আদা, হলুদ, মরিচ, বেগুন, বরবটি ও কলাসহ নানা জাতের মৌসুমি ফসলও বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে। উপজেলার ছিটিয়াপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. শুক্কুর বলেন, "কৃষিজমির ফসলের ওপরই আমাদের পুরো সংসার চলত। বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। সরকার সাহায্য না করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।” ডাবুয়া এলাকার কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে জানান, মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ।
দ্রুত সরকারি প্রণোদনা না পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুম কবির জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যেই প্রণোদনার লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ২০৯ জনে দাঁড়াল।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে ৩ জন করে মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ডেঙ্গুতে একজন করে আরও ২ জন মারা গেছেন।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি (৩৭১ জন) ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন ছাড়াও খুলনা বিভাগে ২৮৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯৪, বরিশাল বিভাগে ১৬৪, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১, রাজশাহী বিভাগে ১৩০, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৮, রংপুর বিভাগে ৭৩ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১০০ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ৪ জন ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।