রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার হতে এসে শওকত নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শওকত পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা পরিচয়ে ভোটার হওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান। এ সময় তিনি নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাঁর পরিচয় ও কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শওকত জানান, তিনি কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। টেকনাফের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি পীরগঞ্জে আসেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে পীরগঞ্জের নাগরিক বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিলেন। পরে পীরগঞ্জে এসে ওই ব্যক্তি তাঁকে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে চলে যান।
শওকতের ভাষ্য অনুযায়ী, চলে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি তাঁর মোবাইল ফোন থেকে নিজের ব্যবহৃত নম্বরও মুছে দেন। ফলে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় বা ঠিকানা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
এদিকে পাঁচগাছি ইউনিয়নের নামে তৈরি করা কাগজপত্রের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মন্ডল বলেন, শওকত যে কাগজপত্র দেখিয়েছেন, সেগুলো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি। এসব কাগজে তাঁর স্বাক্ষর ও ইউনিয়নের সিল জাল করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজার রহমান বলেন, শওকতকে দেখে প্রথম থেকেই তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল। পরে কথাবার্তায় সন্দেহ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে তাঁকে জাতীয় সংগীত বলতে বলা হলে তিনি তা বলতে পারেননি। এতে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। জিজ্ঞাসাবাদেও তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন অফিস থেকে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বের কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে শওকতকে ভোটার বানানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় ও কাগজপত্র জালিয়াতির বিষয়টি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহে্র দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘাগুটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি আঙিনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া হয়েছে। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর দোয়া মাহফিলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মিলাদ ও দোয়া পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।
উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি, নাট্যকার অধ্যাপক আবু মহম্মদ রইস, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর একেএম মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল করিম বেপারী, জেলা বিএনপি নেতা আফজাল হোসাইন, বিএনপির সিনিয়র নেতা এম এ হাসেম চৌধুরী, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি অস্ত্র নয়, জনগণ। তাঁর দাবি, অতীতে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসন এবং শেখ হাসিনার সরকারের ক্ষেত্রেও জনগণের সমর্থনের বিষয়টি ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়াম হলরুমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফয়জুল করীম বলেন, ‘বর্তমানে এ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণ, অস্ত্র নয়।’ তিনি বলেন, ব্রিটিশদের কাছে অস্ত্র থাকলেও জনগণ ছিল না, তাই তারা ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। পাকিস্তানের কাছেও অস্ত্র ছিল, কিন্তু জনগণ ছিল না। একইভাবে শেখ হাসিনার কাছেও অস্ত্র ছিল, কিন্তু জনগণ ছিল না বলে তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের জনগণের কাছে গিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে ফয়জুল করীম বলেন, জনশক্তি বাড়াতে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীদের প্রত্যেককে জনগণের কাছে যেতে হবে। যারা দ্বীনের কাজ করবেন, তাঁদেরও মানুষের কাছে গিয়ে দাওয়াতি কাজ করতে হবে।
ফয়জুল করীম আরও বলেন, গত নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ‘ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স’ স্লোগান সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যা কিছু করে, সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করে।
ইসলামের নামে যারা অনৈসলামিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, দেশের মানুষ একসময় তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে গিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা সম্ভব।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি এস এম মাঈনুদ্দীন জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মী সম্মেলন ও নবগঠিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) প্রভাষক হাফেজ মাওলানা মো. আলমগীর হোসাইন তালুকদার। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি ইয়াকুব সাঈদ।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা শাখার সভাপতি মুফতি গোলাম মাওলা ভূঁইয়া, জামিয়া সাওতুল হেরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি জহিরুল ইসলাম, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি এইচ এম হুজাইফা, দক্ষিণ জেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি আলহাজ্ব হাদিউল ইসলাম এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুল করিম রসুলপুরীসহ দলের নেতারা।
পরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
শরণখোলায় বলেশ্বর নদীতে গরুকে কুমির টেনে নেওয়ার সময় মানুষের সাথে কুমিরের লড়াই হয়েছে। লড়াইয়ে পরাস্ত কুমির গরুটিকে ছেড়ে পানির নীচে চলে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রাম সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর চরে গতকাল সোমবার দুপুরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগী গ্রামের পুতুল বেগমের গৃহপালিত একটি গরু বলেশ্বর নদীর চরে ঘাস খেতে যান। নদীতে জোয়ার এলে গরুটি সাতরে ছোট খাল পার হওয়ার সময় আকষ্মিক একটি কুমির গরুটির পিছন দিকে কামড়ে ধরে নদীর দিকে টেনে নিতে থাকে। এ সময় গরুটির আর্তচিৎকারে ঘটনাস্থলের অদুরে নদীতে মাছ ধরারত জেলেরা ঘটনাটি দেখে দ্রুত এগিয়ে আসে। জেলেরা গরুটির গলায় দড়ি পেচিয়ে কিনারের দিকে টানতে থাকে। অনেকক্ষণ মানুষ আর কুমিরের টানাটানিতে অবশেষে কুমির গরুটি ছেড়ে দিয়ে পানির নীচে ডুব দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
গরুর মালিক হতদরিদ্র নারী পুতুল বেগম বলেন, কুমিরের আক্রমণে তার গরু গুরুতর জখম হয়েছে। উঠে দাড়াতে পারছেনা। স্থানীয় পশু চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন কি হয় বলা যাচ্ছেনা। এই গরুটি তার একমাত্র সম্বল বলে জানালেন পুতুল বেগম।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ আন্তজেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে অষ্টগ্রাম থানা-পুলিশ। গত রোববার বিকেলে উপজেলার ইকুরদিয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
সোমবার বিকেলে অষ্টগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোবাবর বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অষ্টগ্রাম থানা-পুলিশের একটি দল ইকুরদিয়া ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের চার সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
এরা হলেন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার দফত্তর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে মিলন হোসেন (২৮) এবং একই এলাকার আ. করিমের ছেলে মো. শামীম (৩৪); অপর দুই জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার পদুয়োলা গ্রামের মৃত ইলিয়াস মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (৩২) এবং একই থানার লাখাঁড়িপাড়া গ্রামের মো. আমিন মিয়ার ছেলে মো. জাকারিয়া (১৯)। এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
নাটোরে আঙুল বিচ্ছিন্ন হওয়া আহত শিশু বায়েজিদ বিন মাহমুদের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার। গতকাল সোমবার সকালে তিনি শহরের বড় হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় শিশুটির বাড়িতে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে নেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার রাতে বড় হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলনের পরিবার এবং তাদের ভাড়াটিয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল হোসেনের পরিবার পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করে। সেখানে কনস্টেবলের ৪ বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে মিলনের ৭ বছর বয়সি ছেলে বায়েজিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে কনস্টেবল শাকিল বায়েজিদকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ। সেখানে স্ত্রী নাছরিন সুলতানার সহযোগিতায় খাটের পায়ার ওপর শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল রেখে ধারালো বটি দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শাকিল ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান।
পরে বায়েজিদকে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী নাছরিন সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, ‘জেলা প্রশাসক তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নেওয়ায় সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও তিনি ও তার স্ত্রী সান্ত্বনা পেয়েছেন।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অসুস্থ শিশুটির খোঁজখবর নিতে তার বাসায় যাওয়া হয়েছে। শিশুটির পাশে দাঁড়ানো, তাকে সাহস ও ভালোবাসা দেওয়া সবার দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন সবসময় বায়েজিদ ও তার পরিবারের পাশে থাকবে।’
মাদারীপুরের কালিকিনি উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। সোমবার উপজেলার পাইলট গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে এবং ‘বিডিক্লিন’ কালকিনির সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়।
কর্মসূচি পালন করা হয়। ‘শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক মন পরিচ্ছন্নতায় সুন্দর হোক শিক্ষাঙ্গন’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়, বাড়ি-ঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে তিনি ছাত্র-শিক্ষকসহ উপস্থিত সবাইকে দিকনির্দেশনা দেন।
অভিযানে প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উপস্থিত সকলেই সমন্বিতভাবে বিদ্যালয়টির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার অভিযানে অংশ নিয়ে জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়ে সবাইকে সচেতন করে ‘এই শহর এই দেশ আমার এবং তা’ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও আমার’—এ বার্তায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিদ্যালয়, বাড়িঘর, অফিস-আদালত, পলিথিন প্যাক, নালা-নর্দমা, ডাবের খোসা, টায়ার, ফুলের টব ও যোখানে পানি জমে এডিশ মশার জন্ম হতে পারে এমন পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। এ ছাড়া কর্মসূচি থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দেশের সমুদ্রবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে বাড়ছে স্থানীয়ভাবে উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ নির্মাণের সুযোগও। এরই ধারাবাহিকতায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (কেএসওয়াই)। দেশীয় প্রযুক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা ও জনবল ব্যবহার করে নির্মিত এ টাগবোট দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতার পাশাপাশি পায়রা বন্দরের সামুদ্রিক কার্যক্রমে নতুন সক্ষমতা যোগ করবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা শিপইয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে টাগবোটটির লঞ্চিং করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. আব্দুল লতিফ। এ সময় কেএসওয়াই, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি টাগবোট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় টাগবোট হিসেবে ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের Navnautic Private Limited-এর নকশায় এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে নির্মিত টাগবোটটিতে আধুনিক Z-Drive Propulsion System ব্যবহার করা হয়েছে।
৩৭ মিটার দীর্ঘ টাগবোটটির ডিসপ্লেসমেন্ট ১ হাজার ১০০ টন এবং ড্রাফট ৫ মিটার। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৮ মাইল। আধুনিক এই প্রযুক্তির ফলে বন্দরে বড় জাহাজের বার্থিং, আনবার্থিং, টোয়িং এবং দিক পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
অর্থনীতির দিক থেকে এর গুরুত্ব শুধু একটি টাগবোট নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরের জাহাজ পরিচালনায় নিজস্ব সক্ষমতা বাড়লে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনের কার্যক্রম আরও নির্বিঘ্ন করার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় শিপইয়ার্ডে এ ধরনের উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা বাড়লে ভবিষ্যতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জাহাজের চাহিদার একটি অংশ দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে পূরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
টাগবোটটির বহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতাও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমের পাশাপাশি এতে রেসকিউ অপারেশন, আন্ডারওয়াটার সার্ভে, স্যালভেজ কার্যক্রম, প্রতিকূল আবহাওয়ায় সমুদ্রে চলাচল এবং পাইলট পরিবহনের সুবিধা রয়েছে। ফলে শুধু নিয়মিত বন্দর পরিচালনা নয়, জরুরি ও বিশেষায়িত সামুদ্রিক কার্যক্রমেও এটি ব্যবহার করা যাবে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ৮০০টির বেশি নতুন জাহাজ নির্মাণ এবং ২ হাজার ৫০০টির বেশি জাহাজ মেরামতের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে আরও জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর জাহাজ নির্মাণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বন্দর ও নৌপরিবহন অবকাঠামোর সম্প্রসারণের সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো গেলে এর অর্থনৈতিক সুফল বহুমুখী হতে পারে। এতে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি জ্ঞানের বিকাশ এবং দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়বে।
পায়রা বন্দরের জন্য ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ তাই শুধু একটি জাহাজ সংযোজনের ঘটনা নয়; বরং দেশের বন্দর সক্ষমতা ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের পারস্পরিক বিকাশের একটি দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর জাহাজ নির্মাণের পরিধি বাড়াতে পারলে দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে স্থানীয় শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে ও থানার ওসি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় এ সভা হয়।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাহ আলম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন আশরাফী, অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়াজ হাসান বাবু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহীন, অষ্টগ্রাম হোসেনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. নূরুল আবছার, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তৌহিদ মিয়া, পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুরমা আক্তার ও কাস্তুল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অষ্টগ্রাম বড় বাজারের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, মাদক ও জুয়া নির্মূলের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও দর্শনা সীমান্তে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চোরাচালানি মালামাল ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬ বিজিবি)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন দামুড়হুদা-দর্শনা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। মালামালের বাজারমূল্য ১২ লাখ ৪১ হাজার ১০০ টাকা।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দর্শনা, মুন্সীপুর, আইসিপি এবং ফুলবাড়ী সীমান্ত চৌকির বিজিবি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে জব্দ মালামালের মধ্যে রয়েছে ১৯ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০০ পিস ভারতীয় ক্রিম, ৩ বক্স ভারতীয় চিকিৎসাসামগ্রী, ২টি ভারতীয় শাড়ি, ৩৪৮ পিস ভারতীয় প্রসাধন সামগ্রী, ৯ দশমিক ৯ কেজি পারদ এবং ১টি মোটরসাইকেল।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্তকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির এ ধরনের পেশাদার ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ব্যক্ত করেন।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মোহাম্মদ রাজ মাহমুদের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তার স্বামী ইসমাইল সাগর মিয়ার (৪২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ বায় ঘোষণা করেন। আসামি ইসমাইল সাগর মিয়া মামলার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল সাগর মিয়া বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত এপিপি মনসুর আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বাজিতপুর উপজেলার সরারচর এলাকার নয়াহাটি গ্রামের মৃত তোফাচাঁদের কন্যা ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ইসমাইল সাগর মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীকে অত্যাচার, নির্যাতন ও মারধর করে আসছিলেন।
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঝর্ণা আক্তার তার দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে মায়ের বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার নিলখী নয়াহাটে চলে আসেন। সেখানে তিনি মাকে স্বামীর নির্যাতনের বিষয়টি জানান। পরদিন ১২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইসমাইল সাগর মিয়া অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। একপর্যায়ে ইসমাইল সাগর মিয়া কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণা আক্তারের বুকে উপুর্যপরি ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঝর্ণা আক্তারকে তার স্বজনরা ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও দুজনের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৪ মে বাজিতপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ইসমাইল সাগর মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিংয়ের মাধ্যমে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে কোন জমি কৃষি, আবাসন, শিল্প বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও কৃষিজমি সুরক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নীলফামারীতে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং বিষয়ে জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ কর্মশালা হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্পের যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
কর্মশালায় বলা হয়, মৌজা ও প্লটের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের পাশাপাশি ভূমির ব্যবহার অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করা হবে। এতে ভূমির বর্তমান ব্যবহার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে কোনো এলাকায় আবাসিক, শিল্প বা কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও এসব তথ্য কাজে লাগবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে দেশের কৃষিজমি, জলাভূমি ও অন্যান্য ভূমির ওপর চাপ বাড়ছে। পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনা না থাকলে কৃষিজমি কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরি এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের ঝুঁকি থাকে। ডিজিটাল জোনিংয়ের মাধ্যমে ভূমির শ্রেণি ও ব্যবহার সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করা সহজ হবে।’
সাধারণ মানুষের জন্যও এর সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো জমি কেনাবেচা বা উন্নয়নকাজের আগে ওই জমির অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা সহজ হবে। ভূমিসংক্রান্ত সরকারি সেবায় একই তথ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে তথ্যের অসামঞ্জস্য কমার পাশাপাশি নাগরিকদের ভোগান্তিও কমতে পারে।
এ ছাড়া কৃষিজমি সংরক্ষণ, জলাভূমি রক্ষা, শিল্পাঞ্চল নির্ধারণ, আবাসিক এলাকার পরিকল্পনা এবং সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ডিজিটাল ভূমি তথ্য ব্যবহার করা যাবে। দুর্যোগপ্রবণ ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করেও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বি প্রধান, সহসভাপতি আনোয়ারুল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাহ, তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সভাপতি তাসনিম ফৌজিয়া ওপেলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালীতে অটোচালক মো. জাকারিয়া শরীফ (২৮) হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইয়াবা দেওয়ার কথা বলে নেওয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জাকারিয়াকে হত্যা করা হয়। পরে তার অটোর তিনটি ব্যাটারি চুরি করে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালীর সাইফুল ইসলাম (২৯), মামুন হাওলাদার (২৯) ও মহিপুরের শুক্কুর আকন (৪৫)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল ও মামুন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত এবং শুক্কুর চোরাই ব্যাটারি কিনেছিলেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে মুচিরপোল স্ট্যান্ড থেকে অটো নিয়ে বের হওয়ার পর জাকারিয়া আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে জৈনকাঠী ইউনিয়নের শৌলা খেয়াঘাটসংলগ্ন লোহালিয়া নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে তাকে ক্যাবল বা চিকন তার দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাইফুল ও মামুনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর থেকে সাইফুল, পটুয়াখালী সদর থেকে মামুন এবং মহিপুর থেকে শুক্কুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, সাইফুলের সঙ্গে জাকারিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুল ও মামুন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাইফুল জাকারিয়াকে জৈনকাঠী খেয়াঘাটে নিয়ে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্যাবল দিয়ে জাকারিয়ার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন সাইফুল এবং মামুন তার পা চেপে ধরেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পরে জাকারিয়ার অটো থেকে তিনটি ব্যাটারি খুলে শুক্কুরের কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে পুলিশ জানায়। অভিযান চালিয়ে অটো ও চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত চলছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’