সারা দেশে বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
এর মধ্যে ফেনীতে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুজন ও আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুয়েত থেকে ছুটিতে স্বামী বেলায়েত হোসেনের বাড়ি ফেরার খবর পেয়ে তাকে আনতে সপরিবারে ঢাকা বিমানবন্দরে যান স্ত্রীসহ স্বজনরা। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে তাদের মাইক্রোবাসটি। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকায় পৌঁছলে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সড়কের বাইরে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলে চালক ইমাম হোসেন (২৫) নিহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে বেলায়েতের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫) মারা যান।
আহতরা হলেন কুয়েতফেরত বেলায়েত হোসেন (৪৫), সাবের হোসেন (১৪), সাব্বির হোসেন (১০), ফাহমিদা আক্তার (২২) শরিফ উদ্দিন (৩০) ও লিমন হোসেন (৮)। তাদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে কুড়িগ্রামে দুটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের ত্রিমোহনী বাজার এলাকায় উলিপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অমর পরিবহন ঘন কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোচালিত রিকশাসহ পথচারীকে চাপা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই মিশুকের যাত্রী ও পথচারী নিহত হন। এরা হলেন কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের আব্দুল হান্নান (৪৫) এবং একই উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের বিপ্লব মিয়া (৪০)।
অন্যদিকে জয়পুরহাটে মোটরসাইকেল ও ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেছে এক কলেজছাত্রের। দুপুর দেড়টায় জয়পুরহাট পৌর শহর এলাকার সিমেন্ট প্রকল্পের ১নং গেটে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভটভটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন সানজিদ হোসেন আলিফ (২০)। জয়পুরহাট পৌর শহরের শান্তিনগর এলাকার আল আমিন হোসেনের ছেলে তিনি। আলিফ মঙ্গলবাড়ী এমএম ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
একইভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ভটভটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী মাধবপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সোহেল রানা (২৮) নিহত হন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পীরগঞ্জের জাবরহাট ইউনিয়নের চন্দুরিয়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পীরগঞ্জ থানার পরিদর্শক এসআই মুকুল কুমার রায় জানান, সকালে ঘন কুয়াশার কারণে দুই বাহনের কেউ কাউকে স্পষ্ট দেখতে না পাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ট্রেনের ধাক্কায় উত্তম কুমার (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ডিএস তেল পাম এলাকার উত্তর হলদিবাড়ী এলাকায় রেললাইন দিয়ে হাঁটতে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত উত্তম কুমার উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের উত্তর হলদিবাড়ী গ্রামের বাড্ডু সাধুর ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার উথলী ফার্মগেটের কাছে রেললাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে ছিটকে পড়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উথলী ফার্মগেট অতিক্রম করার সময় লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে দূরে ছিটকে পড়ে।
ওই সময় দায়িত্বরত গেইটম্যান অচিন্ত্য সাহা জানান, বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। তারা দ্রুতই এসে মেরামত করবে।
খবর পেয়ে মোবারকগঞ্জ প্রকৌশলী বিভাগ থেকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি দল দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় ঘটনাস্থলে এসে রেললাইনের মেরামত কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় গেইটম্যান মনিস কুমার শর্মা বলেন, সকাল পৌনে ১০ টার সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন অতিক্রম করার পর রেল লাইনের কিছু অংশ ভেঙে দূরে চলে যায়। ট্রেন লাইনের ৬ ইঞ্চি অংশ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ইজিবাইকের ধাক্কায় তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মুবিন (৯) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কালাদহ ইউনিয়নের আয়েশার মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই শিশু কালাদহ গ্রামের বড়িল পাড়া এলাকার হায়দার আলীর ছেলে এবং স্থানীয় ক্বওমী মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।
প্রতিবেশী শিমুল সরকার জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাড়ির পাশেই কেশরগঞ্জ টু পাটিরা সড়কে বাই সাইকেল চালানো শিখছিলেন শিশু মুবিন। হঠাৎ করে কেশরগঞ্জগামী একটি ইজিবাইকের সাথে দুর্ঘটনা শিকার হয়। এ সময় শিশুটির মাথার ওপর দিয়ে ইজিবাইকের চাকা উঠে পড়লে শিশুটি মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় (ইউডি) অপমৃত্যু থানায় মামলা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু বৃহস্পতিবার রাতেই উদ্বেগনাশক বা দুশ্চিন্তা কমানোর ২০টি ট্যাবলেট একসঙ্গে খেয়ে অসুস্থ হয়ে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। তিনি জানান, মেঘমল্লার বসু আপাতত রিকভার করছেন এবং অবস্থার তুলনায় ক্রিটিক্যাল। এর আগে তার বড় ধরনের একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।
মেঘমল্লার বসুর প্রেসক্রিপশনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রেসক্রিপশনে পুলিশ কেস লেখা রয়েছে। তিনি ব্রোমাজেপাম গ্রুপের উদ্বেগনাশক ২০টি ট্যাবলেট সেবন করেন এবং তার পেট পরিস্কার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান করা দায়িত্ব উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব পালন করার জন্য একশতভাগ চেষ্টা করব। উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে তাদেরকে সাথে সাথে আইনের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা হবে। তাদের বিরুদ্ধে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধর্মমন্ত্রী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লার মুরাদনগরে তার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবার পর তিনি এই প্রথম কুমিল্লায় তার নিজের সংসদীয় আসনে এসেছেন এবং তার নেতাকর্মীদের এবং ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
রমজানে নিত্য পণ্যের দাম বাড়বে না এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেছেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের রাখার জন্য। আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষ যেন কোন কষ্ট না পড়ে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী খুবই সচেতন। আমার বিশ্বাস দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না।
বিগত সময়গুলোতে হজের ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সকলে কাজ করে যাব যেন মানুষ সকল সুবিধা ভোগ করতে পারে। তারা যেন এটা বলে যে আল্লাহর রহমতে আমরা অতীতের চেয়ে ভালো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। অবশ্যই অবশ্যই করব।
ভারত উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত কবিয়াল চারণ কবি বিজয় সরকার শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ছিল এই বিখ্যাত কবির জন্মদিন। বেচে থাকলে তার বয়স হতো ৮২ বছর। ১০০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নবকৃঞ্চ অধিকারী মা হিমালয় দেবী।
বিজয় সরকার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। মতান্তরে মেট্রিক। সংসার জীবনে তার দুই স্ত্রীর ছিলেন। তাদের নাম ছিল বীণাপানি অধিকারী ও প্রমোদা অধিকারী। দুই ছেলে কাজল অধিকারী ও বাদল অধিকারী। তারা ভারতের কেউটিয়ায় বসবাস করেন।
প্রখ্যাত এই চারণকবি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক ছিলেন। আসরের প্রয়োজনে তিনি মঞ্চে বসেই গান রচনাসহ সুর সংযোজন করে গাইতেন। অবিস্মরণীয় প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পীর প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী। নিজের লেখা গানের কথা, সুর এবং অসাধারণ ঢংয়ে গান পরিবেশনের জন্য তাকে সরকার উপাধি দেওয়া হয়। তবে গ্রামবাংলার কৃষকসহ আমজনতার কাছে তিনি পাগল বিজয় বলে সমধিক পরিচিত।
মরমী এই শিল্পী বার্ধাক্যজনিত কারণে ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতে মারা যান। পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়। চারণকবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আকরাম উদ্দীন শাহীদ বলেন, কবির জন্মদিন উপলেক্ষে কবির সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিজয়গীতি পরিবেশন, স্মরণসভাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার কৃষক পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। যার মাধ্যমে দেশের সর্বাধিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা অঞ্চলের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য এবং কৃষি মন্তণালয়ের আওতাধীন দপ্তর /সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে বর্তমান সরকার দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, কৃষি উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কারণ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি আরো বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়ন হলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে, আর সেই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিও স্থায়ীভাবে মজবুত হবে।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের মাঝে মাটির স্বাস্থ্য, পিএইচ মাত্রা, সার ব্যবহারের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মাটির সঠিক পিএইচ মাত্রা নিশ্চিত করা গেলে সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত একজন কৃষক। কৃষির বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত পূর্বে পৃথকভাবে পরিচালিত হওয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের সর্বশেষ নীতিগত দিকনির্দেশনার অংশ।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের মেয়াদ নির্দষ্ট সময় পর্যন্ত হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকেন। তাই টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে এবং এর ফলে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং গোমতী নদী থেকে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করা তার অগ্রাধিকার। গোমতী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে। অবৈধভাবে এক ফোঁটা মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ভোগান্তির পর নতুন সেতু নির্মাণ হওয়াই জনমণে একটু স্বস্তি ফিরে এসেছিলো। তবে সে আশার গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছে সংযোগ সড়ক না থাকা। সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো কাজেই আসছে না মেহেরপুরের সাড়ে ৭ কোটি টাকার সেতু। ফলে দুর্ভোগ কাটছে না স্থানীয়দের।
এ কারণে মেহেরপুর ও দৌলতপুর দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষকে ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সেতুর আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর তারা সেতু পেয়েছেন ঠিকই,তবে তাতে ভোগান্তি কমেনি।
তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে দুর্ভোগ কমছে না এলাকার মানুষের। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বলছে, জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে সংযোগ সড়কের কাজ।
গাংনী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া ও কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মধুগাড়ি গ্রামের মধ্যবর্তী মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ৭৫ মিটার গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৯ টাকা।
তবে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা আরো বলছেন, বিগত তিন বছর ধরে নির্মাণ হওয়া সেতুটি পড়ে আছে। যদিও দৌলতপুর অংশে নামমাত্র সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেও তা অনেকটা ভেঙে গেছে। এ জন্য সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। পণ্য পরিবহনে ঘুরতে হয় অনেক পথ।
এলজিইডি বলছে, আগে স্থানীয় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলাম সংযোগ সড়কের জন্য বিনামূল্যে তাদের জমি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাণের পরে অভ্যন্তির কিছু সমস্যায় বেঁকে বসেছেন। এখন তারা জমির বর্তমান বাজারমূল্য বেশি দাবি করায় বন্ধ হয়ে গেছে সংযোগ সড়কের কাজ।
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর সাথে আলোচনা চলছে বলে জানান এই প্রকৌশলী।
সেতুর পাশে থাকা জমি মালিকদের কথা বলে জানাগেছে,এই সেতুর পাশে থাকা জমির যে বতর্মান বাজার মূল্য চলছে। সেই ন্যায্য দাম না পাওয়াই তারা জমি অধিগ্রহণ করতে দেননি। তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও জমি নেয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা রনি আহমেদ বলেন, মাথাভাঙা নদীর সেতু থেকে নেমে যাওয়ার কোনো সড়ক নেই। তবে তাদের দিকের সংযোগ সড়ক বেশ আগেই হয়ে গেছে। একপাশের সংযোগ সড়ক আছে, আরেক পাশের নেই। বিধাই সেতুটির কাজও নেই।
আরেক ভুক্তভোগী সন্ধ্যা খাতুন বলেন, গাংনী উপজেলায় আমার বিয়ে হয়েছে। সেহেতু ওই উপজেলায় বসবাস করি। মায়ের বাড়ি বছরে একবার দুবার আসি। সেতু হওয়ার আগে নৌকায় আসতেন। তবে এখন সেতু হওয়ায় উল্টো বিপদে পড়েছেন। সেতুর উঁচুতে ভ্যান উঠতে পারে না। তাই এদিকে আসার সময় আট মাইল ঘুরে আসতে হয়। দশ থেকে পনের মিনিটের পথ, অথচ আসতে সময় লাগল এক ঘণ্টার বেশি।
গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলম হুসাইন দৈনিক বাংলাকে বলেন, মাথাভাঙা নদীর উপরে নির্মিত এই সেতুটি দুই জেলার মানুষকে এক করেছে। এক সময় এই দুই অঞ্চলের মানুষ নৌকা ও বাশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপার হতো। এই সেতুটি এঅঞ্চলের মানুষের দির্ঘদিন অপেক্ষার ফল। অথচ সংযোগ সড়ক না থাকাই অপেক্ষার অবসান ঘটছে না। এমন অবস্থা বতর্মানে চলাচলের একেবারে অনউপযোগি হয়ে পড়ে আছে। এটির খুব দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকুনজ্জামান বলেন, গাংনী উপজেলাধীন বেতবাড়িয়া মধুগাড়ি মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ৭৫ মিটারের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করতে পারি নাই। এ বিষয়ে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর সদর-২ (রাজৈর-মাদারীপুর) সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ম বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী মিয়ার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় করল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, মাদারীপুর জেলা শাখা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত সহসভাপতি ও মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি কে, এম তোফাজ্জেল হোসেন সান্টু খান, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব মাসুদসহ অন্যান্য নেতারা ও পরিবহন ব্যবসায়ী সাধারণ বাস মালিকরা। সাক্ষাতকালে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করে মাদারীপুরের আইনশৃঙ্খলা সহ অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবহন সেক্টরে সাবেক সরকারের রেখে যাওয়া অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা দূর করে এই সেবাখাতকে শৃঙ্খলাপূর্ণ, নিরপাদ, চাঁদাবাজমুক্ত ও গণমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া জেলার সড়ক পরিবহন খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জেলার মানোন্নেনয়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে আগ্রহী। নেতারা আশা প্রকাশ করেন, নব-নির্বাচিত এমপির সার্বিক সহযোগিতায় মাদারীপুর জেলার সড়ক পরিবহন খাত আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল হবে।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নওগাঁয় সুলভ মূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টায় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সাংসদ জাহিদুল ইসলাম ধলু। শহরের পার-নওগাঁ প্রাণিসম্পদ চত্বরে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
রমজানের দুদিন আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ঊর্ধ্বগতি। দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। চাহিদামতো পণ্য কিনতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। খোলা বাজারে ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা হালি এবং দুধ প্রায় ১০০ টাকা লিটার। এছাড়া সবধরণের মুরগিতে প্রকারভেদে ২০-৪০ টাকা বেড়েছে। দাম বেড়ে পোল্ট্রি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি। সবজিতেও বেড়েছে কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। তবে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে চালু হওয়ায় সুলভ মুল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি কার্যক্রম নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য অনেকটা সুবিধা হবে।
শহরের পার-নওগাঁর রিকশাচালক আফসার আলী বলেন- রোজার আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সবধরণের জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও দুধ ৫০-৬০ টাকা লিটার বিক্রি হতো। এখন তা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম তুলনামূলক কম মনে হচ্ছে। তারপরও প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে বাজার তুলনায় একটু কম দামে ২ হালি ডিম কিনতে পারলাম। এটা দিয়ে দুদিন চলে যাবে। অন্তত রমজান মাসে যদি সবধরণের পণ্যের দাম কম থাকতো তাহলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুবিধা হতো।
নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান বলেন- রমজানের প্রথম দিন ২০০ লিটার দুধ ও ১ হাজার ৫০০ পিচ ডিম বিক্রি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দিন বিক্রি শুরু হলো। প্রান্তিক পর্যায়ে নিম্নবৃত্ত একজন ক্রেতা সুলভ মূল্যে দুই হালি ডিম ২৮ টাকা ও ১ লিটার দুধ ৭০ টাকায় কিনতে পারবেন। আগামী ২৫ শে রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে জেলা প্রাণিসম্পদ চত্বরে ২০০ লিটার দুধ ও ১ হাজার ৫০০ পিচ ডিম বিক্রি করা হবে। এছাড়াও আজ শনিবার থেকে সপ্তাহে দুদিন সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি করা হবে। যেসব খামারি রয়েছে তারা মূলত দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহ করবেন। পর্যায়ক্রমে পুরো জেলায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সাংসদ জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন- তৃনমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ে জনগোষ্ঠীর আমিষের ঘাটতি রয়েছে। সুলভ মূল্যে পাওয়া পণ্য তাদের জন্য অনেকটা সহজ হবে এবং তাদের জন্য আমিষের চাহিদা পূরণ হবে। গ্রাম পর্যায়ে চালু করা উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান। এ সময় বক্তব্য রাখেন- নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পাল ও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম। পরে প্রধান অতিথি দুধ ও ডিম বিক্রির কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ ও দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথমবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। সুত্রমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। প্রথমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সরকারি সফরে তথ্যমন্ত্রী বরিশাল শহর ও নিজ নির্বাচিত এলাকায় সফরে আসেন।
জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে গৌরনদীর উদ্দেশ্যে সড়ক পথে যাত্রা শুরু করেন। রাত দশটায় গৌরনদী উপজেলার প্রবেশদ্বার ভুরঘাটা বাসষ্ট্যান্ডে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা প্রদান করেন। রাত ১২ টা ১ মিনিটে তথ্যমন্ত্রী গৌরনদীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে রাত সাড়ে বারোটায় বরিশাল সার্কিট হাউজে রাত্রীযাপন করেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় মহান শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনায় সভায় তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। আগামীকাল রবিবার বেলা এগারটায় গৌরনদী অডিটোরিয়ামে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান এবং দুপুর বারোটায় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছরেও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার ৫টি কলেজের মধ্যে ২টিতেই শহীদ মিনার নেই। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্রও প্রায় একই। ফলে ওইসব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষ দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করার নির্দেশনা থাকলেও গোয়ালন্দ উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য দিবস পালন থেকে অনেকটা বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, গোয়ালন্দে ২৫টি কলেজ ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার এবং প্রাথমিক ৫১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯টিতে নেই শহীদ মিনার। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয় গোয়ালন্দ বাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবসহ অন্যান্য স্থানে।
এ বিষয়ে অভিভাবক, স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা জানান, এটা খুব দুঃখজনক। স্কুল, কলেজগুলোতে শহীদ মিনার না থাকার পেছনে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে, এখানে অর্থের সংকট কোনো বিষয় না।
গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় এখন পর্যন্ত আমরা শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারিনি। যার কারণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা, বিজয় দিবসসহ বছরের বিশেষ দিবস পালনে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গোয়ালন্দ বাজার অথবা উপজেলা পরিষদ চত্বরে যেতে হয়।’
গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আ. কাদের শেখ বলেন, ‘অর্থ সংকটে সৃষ্টিলগ্ন থেকে শহীদ মিনার নির্মাণ সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় এখানে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। উপজেলা প্রশাসন থেকে কিছুদিন আগে বাজেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হবে এবং যাতে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মিত হয় আমার থেকে জোরালোভাবে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত দাস বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমরা প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতে দ্রুততার সাথে শহীদ মিনার হয় সে চেষ্টা করে যাব। আশা করি আগামী বছরের আগেই সব সম্পন্ন হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পালনের প্রস্তুতিমূলক সভায় আলোচনা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি রয়েছে যার কারণে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় প্রয়োজনে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কোনো বরাদ্দ পেলে ধীরে ধীরে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।’
পটুয়াখালীর বাউফলে ময়লা পানির পাইপকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জাহানারা বেগম (৬০) ও তার ছেলে অলিউর রহমান (৩২) আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুরাইনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার আলম ব্যাপারীর বাড়ি থেকে বের হওয়া একটি ময়লা পানির পাইপ পাশের কৃষি জমির দিকে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে অলিউর রহমানের চাষকৃত মুগডালের ক্ষেতে পানি গিয়ে ফসলের ক্ষতি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অলিউর রহমান পাইপটি ভেঙে ফেলেন।
এ ঘটনার জের ধরে আলম ব্যাপারীর নেতৃত্বে রুম্মান, আলাউদ্দিন ব্যাপারী ও নাজমা বেগম হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় জাহানারা বেগমের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং অলিউর রহমানও আহত হন।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দেন।
তবে অভিযুক্ত আলম ব্যাপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বাড়িতে তারা হামলা চালিয়েছে। আমি বাধা দিলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাদের নিজেদের আঘাতেই জাহানারা আহত হন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাতাসে ভাসছে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে আমের মুকুল। মৌমাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই কুহুতানে মাতাল করতে আবারও এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। ছোট-বড় আম গাছে ফুটতে শুরু করেছে নতুন মুকুল। মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। যে ঘ্রানে মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।
আবহমান গ্রামবাংলায় সাধারণত আগাম জানান দেয় তার আগমনী বার্তা। তেমনি ঋতুরাজ বসন্ত কমলগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় আম গাছে আমের মুকুল জানান দিচ্ছে মধু মাসের আগমনী বার্তার।
কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, থানার পাশে, বাড়ির আঙ্গিনায়, পুকুরপারে রাস্তার কিনারে সর্বত্রই আম গাছগুলো তার মুকুল নিয়ে হলুদ রঙ ধারণ করতে চলেছে। ধীরে-ধীরে আমের মুকুলে ছেয়ে যাচ্ছে গাছের প্রতিটি ডাল। সৌন্দর্য বাড়তে শুরু করেছে প্রকৃতির।
স্থানীয়রা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে বসন্তের আগেই আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে মাঘ মাস শেষ। ফাল্গুন মাসের শুরুতে প্রতিটি গাছে পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটতে শুরু হয়েছে। তারা আরও জানান, এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ না হলেও স্থানীয়রা বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে বিভিন্ন প্রকার চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করে থাকেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, আমের মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। কুয়াশার কারণে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। তবে আমের মুকুল আগে পরে যে আবহাওয়া প্রয়োজন তা এখনো বিরাজমান রয়েছে। এবার আবহাওয়ার কারণে আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে। ভালোভাবে পরিচর্যা করা হলে ফলন ভালো হবে।
কমলগঞ্জ পৌর শহরের তানিম হাসান বলেন, ‘ফাল্গুন মাসের প্রথম দিকে আম গাছে আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। এবার আমের মুকুল অন্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি ফুটেছে। বৃষ্টির জন্য অনেক মুকুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’
ভানুগাছ বাজারের সালমা বেগম বলেন, ‘অন্যবারের চেয়ে কিছুটা আগে এসেছে মুকুল। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়েন্ত কুমার রায় জানান, ‘এবার গরমের আগেই চলে এসেছে গাছে মুকুল। কিছু কিছু গাছে মাথা ফাটছে। আবার কিছু কিছু গাছে মুকুল এসেছে। কমলগঞ্জের আমের নির্ধারিত কোন বাগান নাই। যাই আছে ব্যক্তিগত। যদি কেউ বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ করার আগ্রহী থাকে, তাকে উপজেলা কৃষি অফিস সুপরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’