যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, দায়িত্বভার গ্রহনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তা সাত মাসের মধ্যেই জনগণের সামনে দৃশ্যমান । আজ যখন জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ধাবিত হচ্ছি তখন বিরোধী দল সংসদে সমর্থন দেয়ার কথা বললেও বাইরে তাদের ভিন্ন রূপ দেখা যায়। মূলত মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকায় যে চরিত্র ছিল সংসদের বাইরে এসে তারা তা ফুঁটিয়ে তুলে। তারা মুখে বলে এক অন্তরে আরেক।
তিনি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাক স্বাধীনতার নামে বিরোধী মহল বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য যারা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে গুপ্তভাবে সহযোগিতা করছে তারাই আবার বলছে দেশের অস্তিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী। অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি বিএনপি'র উপর দায় চাপাতে চাচ্ছে। এর চেয়ে বড় মিথ্যাচার আর কি হতে পারে। মূলত জামায়াতে ইসলাম তাদের আচার আচরণে গুপ্ত হিসেবে জনগনের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। জনগণের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে না পেরে তারা এখন ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে।
নাসিরনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম, এ হান্নান। এতে জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, অর্থ মন্ত্রণালয়েরর সাবেক অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দিন প্রমূখ। পরে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজসহ ১২৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
জামালপুরের ইসলামপুরে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ মঞ্জুয়ারা বেগমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ইসলামপুর উপজেলার চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিনধরা ব্রিজে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে নিহত মঞ্জুয়ারা বেগমের মা রিনা বেগম, ছোট বোন আঞ্জুয়ারা বেগম, স্থানীয় হাফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম মোল্লা, বিল্লাল মাস্টার, রাশেদুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বক্তারা বলেন, ‘ইসলামপুর উপজেলার চর পুটিমারি ইউনিয়নের ৪নং চরের বাসিন্দা সুজন ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম দম্পতির তিন জন সন্তান রয়েছে। কয়েক বছর আগে তাদের ছোট সন্তানকে ১২ দিন বয়সে মঞ্জুয়ারার দেবর লুৎফর পালক নেয়।
পরবর্তীতে লুৎফর তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আবার নতুন করে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই লুৎফরের নতুন স্ত্রী পালক সন্তানকে নির্যাতন শুরু করে।
শিশুসন্তানকে নির্যাতন করায় তার গর্ভধারিণী মা মঞ্জুয়ারা বেগম ক্ষুব্ধ হন এবং বাধা দেন। এতে করে মঞ্জুয়ারার সাথে তার স্বামী সুজন ও দেবর লুৎফরের কলহ সৃষ্টি হয়। কলহের জেরে গৃহবধূ মঞ্জুয়ারাকে চলতি বছরের গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়।
হত্যার ঘটনায় স্বামী সুজন ও দেবর লুৎফর, লোকমান, হামিদুর রহমান মলিন, আব্দুর রাজ্জাকসহ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট থেকে পণ্যবাহী ট্রাকে করে কৌশলে ঢাকায় পাচারের চেষ্টাকালে মৌলভীবাজারে বিদেশি মদের একটি বড় চালান জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চালক ও সহকারীর সিটের পেছনে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৮০ বোতল বিদেশি মদসহ দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটিও।
বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর গোলচত্বর এলাকায় মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে সকাল (৩২) এবং একই উপজেলার ইটাগাছা এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩০)।
জানা গেছে, সীমান্ত এলাকা হয়ে আসা বিদেশি মদের একটি চালান ট্রাকযোগে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মহাসড়কে সতর্ক অবস্থান নেন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে ভোররাতে শেরপুর গোলচত্বরে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক সংকেত দিয়ে থামানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে চালক ও সহকারীর বসার সিটের ঠিক পেছনে বিশেষ কৌশলে লুকানো চারটি চটের বস্তা নজরে আসে পুলিশের। পরে বস্তাগুলো খুলে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের মোট ৮০ বোতল বিদেশি হুইস্কি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে ৪৬ বোতল রয়্যাল স্ট্যাগ ডিলাক্স, ১৮ বোতল এসি ব্ল্যাক পিউর গ্রেইন ডিলাক্স এবং ১৬ বোতল আইকনআইকিউ হোয়াইট ফাইনেস্ট ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন হুইস্কি।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে সীমান্ত এলাকা থেকে সংগ্রহ করা এই মদের চালানটি বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশে রাজধানীতে নিয়ে যাচ্ছিল।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক দিয়ে মাদক পাচারের এ অপতৎপরতা হাতেনাতে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সরকারি সড়ক নির্মাণকাজে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করায় বাধা দিতে গিয়ে এলজিইডির কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার ও স্থানীয় এলাকাবাসীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার এজাহার নামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে নিম্নমানের ইট জব্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, বোদা উপজেলার ৫ নম্বর বড়শশী ইউনিয়নের মহিষবাথান-ভাউলাগঞ্জ ভায়া নায়েকপাড়া মোড় পর্যন্ত ৭৪৭ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার জন্য কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ভাই বোন ট্রেডার্স’। তবে কাজটি সাব-ঠিকাদার হিসেবে বাস্তবায়ন করছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার ‘মেসার্স দুলাল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শাহীনুর ইসলাম শাহীন (৩৩)।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কের দুই পাশে এজিংয়ের কাজে নিম্নমানের ও কথিত ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের খবর পান এলজিইডির কর্মকর্তারা। পরে বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান ও সার্ভেয়ার মো. হযরত আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ পরিদর্শনকালে একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম শাহীন। পরে তার সঙ্গে থাকা দলবল এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও দুর্ব্যবহার করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলজিইডির কর্মকর্তারা বোদা থানা-পুলিশকে খবর দেন। তবে সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম শাহীনকে পুলিশ আটক করে এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ ঘটনায় বোদা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. হযরত আলী বাদী হয়ে বোদা থানায় মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নি.) তপন কুমার রায় ঘটনাস্থলের পাশের মো. মিনারুল ইসলামের বাড়ির খোলা জায়গা থেকে রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা ১০০ পিস নিম্নমানের ইট জব্দ করেন। জব্দ করা ইটের গায়ে ‘MMR2’ লেখা রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘নিম্নমানের ইট দিয়ে এজিংয়ের কাজ করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে এর আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সতর্ক করার পরও তারা তা না মেনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’
এলজিইডি পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সরকারি কাজে বাধা, অর্থ অপচয়, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও সদর ও রুহিয়া উপজেলার ২ হাজার ১৩৭ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে।
এর মধ্যে সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া ব্লকের ৯৬৫ জন এবং রুহিয়া উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কুজিশহর ব্লকের ১ হাজার ১৭২ জন কৃষক এ সহায়তা পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফেনী থেকে ৭৭টি উপজেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ের নারগুন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপকারভোগী কৃষকেরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার এ কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত কৃষকরা এ সহায়তার আওতায় আসবেন।’
কৃষি উপকরণ কেনা ও উৎপাদন ব্যয়ের কিছুটা চাপ কমাতে এ সহায়তা কৃষকদের কাজে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শীতের শুরুতেই ঝাঁকে ঝাঁকে খাবারের সন্ধানে, চলনবিলে ছুটে আসছে পরিযায়ী পাখিসহ দেশীয় নানা প্রজাতির পাখি। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠছে চলনবিলসহ আশপাশের এলাকাগুলো। এ সুযোগে সৌখিন ও পেশাদার শিকারিরা বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে এসব পাখি নিধন শুরু করছে।
এদিকে নানা প্রজাতির পাখি শিকার করে প্রকাশ্যেই বিক্রি করছে স্থানীয় হাট-বাজারে। তবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাখি নিধন বন্ধে কাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে পাখি শিকার বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পাটগাড়ি পাড়া এলাকার খাল, বিল, নালা ও জলাশয়গুলোতে কমছে পানি। জেগে উঠছে খেত। পাওয়া যাচ্ছে ছোট-বড় মাছ। বিলে বোনা আমন ধানও রয়েছে। এসব মাছ ও ধান খাওয়ার লোভেই নানা প্রজাতির পরিযায়ী ও দেশীয় প্রজাতির পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে এ অঞ্চলে। কিন্তু বিষটোপ, জাল ও ফাঁদ পেতে নির্বিচারে পাখি শিকার করছে শিকা
রিরা। এতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পাখি নিধনে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পাট গাড়ি পাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, নয়ন হোসেন, সাগর আহমেদসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, ফসলের জমিতে পানি দেওয়ার সময় মাটির নিচে থেকে উঠে আসা পোকামাকড়সহ খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সাদা বক, শালিক, চড়ুই, ডাহুক, চ্যাগাসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি। এ সময় একশ্রেণির পাখি শিকারিরা পতঙ্গের ভেতরে বিষাক্ত কীটনাশক ঢুকিয়ে ছেড়ে দেয়। সেই পোকাগুলো খেয়ে পাখি মারা যাওয়ার আগে পাখিগুলো ধরে কাছে রাখা ব্লেড, ছুরি দিয়ে জবাই করছে তারা।
তারা আরও বলেন, ‘চলনবিলের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির মধ্যে বড় বাঁশের সঙ্গে আকাশের দিকে উঁচু করে বড় ধরনের জাল পেতে রাখা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পাখিদের তাড়া করলেই পাখিগুলো উড়তে গিয়ে জালে আটকা পড়ে। এই সুযোগে শিকারিরা পাখি ধরে ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখছে। পরে সময়মতো পাখিগুলোকে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করছে।’
স্থানীয়রা সূত্রে জানা গেছে, রাতচোড়া, টোগা, বালিহাঁস, পানকৈড়, পারিযায়ী পাখিসহ দেশীয় প্রজাতির অনেক পাখি। আর বর্তমানে চলনবিলের বিভিন্ন গ্রামে প্রতি এক জোড়া ভাড়ই বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা, প্রতি জোড়া বালিহাঁস ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টোগা প্রতি জোড়া ৯০ থেকে ১১০ টাকা, রাতচোরা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা প্রতি জোড়া, বক প্রতি জোড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে চলনবিল অধ্যষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমহর, ভাংগুড়া এলাকায় পাখি শিকার বন্ধে নিয়মিত কাজ করছে ‘চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের জোরালো কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বন্ধ করা যাচ্ছে না এসব পাখি শিকার।
চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চলনবিল এলাকায় ২০২০ সাল থেকে আমরা পাখি শিকারি বন্ধে কাজ করছি। আমরা মূলত পাখি শিকারিদের নিষেধ ও পাখি অবমুক্ত করে থাকি। এতে পাখি শিকারিরা ততটা ভয় পায় না। কয়েক বছরে প্রায় দুই হাজার শিকার করা পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছি। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে একটু নজর দিলে কেউ আর অবাধে পাখি শিকার করতে পারবে না।’
দ্য বার্ডস সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘চলনবিল অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবীরা পাখি রক্ষায় কাজ করছেন। তারা শিকার করা পাখি অবমুক্ত করলেও তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতার অভাব ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের অভাবে এ বিলে স্থায়ীভাবে পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
চলনবিলে অবাধে পাখি নিধনের বিষয়ে মুঠোফোনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পাখি নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। খাদ্য ও নিরাপত্তার জন্য পরিযায়ী ও দেশীয় পাখি চলনবিলে আসে। এসব পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশকে রক্ষা করে।’
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ‘পাখি শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে কেউ যদি পাখি শিকার করে এবং পাখি হাট-বাজারে বিক্রি করে।’ এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী,পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা অপরাধ। এ অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। তবে পাখি শিকারের তথ্য পেলে অভিযান পরিচালনা করে পাখি শিকার বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. নিয়ামুর রহমান।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। তার বিনিময়ে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে তা অতি নগণ্য। মানুষের জীবনের মূল্য মাত্র ৫ লাখ টাকা হতে পারে না। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা অঙ্গহানি কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে যে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে- তা ক্ষতের মধ্যে সামান্য প্রলেপ দেওয়া মাত্র।’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্বজনদের হাতে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন।
বিআরটিএ জানায়, কুমিল্লা জেলায় বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। ২৭টি পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১ কোটি ২১ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আলম, আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা লিটন কুমার দে, মোটরযান পরিদর্শক মো. তাজুল ইসলামসহ বিআরটিএর অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা অঙ্গহানি কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। একজন মানুষের জীবনের দাম পাঁচ লাখ টাকা নয়। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের এই দুঃসময়ে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
অনুষ্ঠান শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহযোগিতার চেক তুলে দেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় তিন শিক্ষকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষকেরা হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন—অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নুর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সিন্ডিকেটের সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বাসসকে বলেন, সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সেখানে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আবু সাঈদ নিহতের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থায়ী বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর করা হবে।
এর আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটকের সামনে পুলিশের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আবু সাঈদের মৃত্যুর পর রংপুরে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। পরে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তৎকালীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে।
আবু সাঈদ হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এবার তিন শিক্ষকসহ ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়ন ২০২৬ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মচারীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিক্ষাবোর্ড ভবনের নিচ তলায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সৈয়দ মওদুদ উল করিম বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ সুইটের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইলিয়াস আহমেদ বলেন শিক্ষা বোর্ডের সেবার মান বৃদ্ধি ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ইউনিয়নের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দসহ সকল কর্মচারীকে দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃব্য দেন সচিব নুর মো. আব্দুর রাজ্জাক, পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বোরহান উদ্দিন ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সৈয়দ মওদুদ উল করিম বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ সুইট এছাড়া বক্তব্য দেন সহকারী পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, সেকশন অফিসার মোতাহার হোসেন, উচ্চমান সহকারী সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, নিম্নমান সহকারী গোলাম রব্বানী।
শপথ বাক্য অনুষ্ঠনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং ইউনিয়নের সকল সদস্যবৃন্দ। শিক্ষাবোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করান দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইলিয়াস আহমেদ।
নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা হলেন, সভাপতি সৈয়দ মওদুদ উল করিম বাবু সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সাধারণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ সুইট সহ সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ মো. সায়েম। অর্থ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী। সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম আলী। ক্রিয়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুর রফিক অনুষ্ঠানে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউনিয়নের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা জেলা শহরের যুগিরঘোলে জেলা জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদলের কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের রেখে যাওয়া জঞ্জাল ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনার চেষ্টা করছি। গণতান্ত্রিক চর্চাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি মহল এবং আওয়ামী লীগের দোসররা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা সতর্ক রয়েছেন। আমরা চাই পুলিশ বাহিনী অতীতের মতো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত না হয়ে প্রকৃত অর্থে জনগণের বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব পালন করুক। সে লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে একই দিন দুপুরে ভোলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত পৃথক এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সারাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবকদের জন্য ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেছেন, “একজন রোগীও যেন হাসপাতাল থেকে ওষুধ ছাড়া খালি হাতে ফিরে না যান।” সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল হচ্ছে সাধারণ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। তাই হাসপাতালে আসা কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ কিংবা সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম জিয়াউল বারী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান, ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহাম্মদ এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি হাসপাতালের সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। উপস্থিত সদস্যরা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ার বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও সরকারের তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা সুকুমার রায় চাকরিজীবনে সর্বসাকুল্যে বেতন-ভাতা পেয়েছেন প্রায় এক কোটি টাকা। ২০১৭ সালে অবসর গ্রহণের পর পেনশন বাবদ পান প্রায় ৮০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট বৈধ আয় দুই কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ অবসরের পর তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমি এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো।
এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু সোনালী ব্যাংকেই তার নামে জমা রয়েছে ৫১ কোটি টাকার আমানত। এছাড়া তার নামে এক কোটি ২২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ঢাকার পল্টন ও ফরিদপুর সদরে একাধিক ফ্ল্যাট এবং বোয়ালমারী উপজেলায় অন্তত ২৫০ শতাংশ জমি রয়েছে।
তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে থাকাকালে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি (ওএমএস) প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এই সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে সুকুমার রায় ক্ষিপ্ত হয়ে দাবি করেন, তার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে এবং এতে কারোর কিছু বলার নেই।
অস্বাভাবিক এই ধনসম্পদের বিস্তার কেবল সুকুমার রায়ের নিজের নামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিস্তার ঘটেছে তার স্ত্রী, সন্তান এবং পিতার নামেও। নিজেকে গৃহিণী দাবি করা তার স্ত্রী বনশ্রী বোসের নামে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর, আইএফআইসি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট, ৫৫ লাখ টাকার বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র এবং ফরিদপুরে একটি বাড়ি রয়েছে।
এমনকি চাকরিজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েও সেই তথ্যের কোনো বৈধ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সুকুমার রায়ের ইঞ্জিনিয়ার ছেলে সৌমেন রায়ের ব্যাংকেও লাখ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে এবং কৃষিজীবী বাবার নামে কেনা হয়েছে বিপুল পরিমাণ জমি, যার অর্থদাতার তালিকায় সুকুমার রায়ের নাম রয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের কোনো সম্পদের বিবরণই তাদের কারও আয়কর নথিতে (ট্যাক্স ফাইল) উল্লেখ নেই।
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই কর্মকর্তার প্রভাব এবং দুর্নীতি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কর্মজীবনে প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী মতের কর্মকর্তাদের হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি করতেন।
সার্বিক বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, গণমাধ্যমের সূত্র ধরে এই বিপুল অবৈধ সম্পদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে অতিদ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলেছে, কর ফাইলে অপ্রদর্শিত এই বিপুল সম্পদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধাপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুতই শুরু করা হবে।
কাঁচা দুধের তৈরি মহিষের টক দই। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতিসহ বাংলাদেশের সামাজিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় এর অবস্থান শীর্ষে থাকলেও বর্তমানে কমছে এর সরবরাহ। জেলার বাইরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুনাম রয়েছে সুস্বাদু এই দইয়ের।
পুরো জেলার দইয়ের বড় অংশ উৎপাদন হয় উপকূলীয় অঞ্চল কমলনগর ও রামগতি থেকে। কিন্তু মহিষের বাথান কমে যাওয়া ও চরাঞ্চলে মানুষের বসবাস বৃদ্ধিসহ বাণিজ্যিক ছোঁয়া না থাকায় দইয়ের উৎপাদন কমছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে পারলে এ অঞ্চলে উৎপাদিত মহিষের দইয়ের বিপ্লব ঘটত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রামগতি বাজারের দই বিক্রেতা নুরুজ্জামান প্রায় ৩২ বছর এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে দই বাধ্যতামূলক। খাবারের শেষ মুহূর্তে ওয়ানটাইম কাপে ২৫০ গ্রাম দই থাকবে। অনেকেই পাতিল হিসেবেও আমাদের অর্ডার করেন। এসব অনুষ্ঠানে গরুর দই অর্ডার খুব কম পাওয়া যায়। দুধের দামের সঙ্গে দইয়ের দাম কমবেশি হয়।
চাকরিজীবী ইয়াকুব আলী ও ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ জানান, সুযোগ পেলেই তারা মহিষের দই খাওয়ার জন্য লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ছুটে যান। শুধু নিজেরাই নন, বাড়ির জন্যও দই সঙ্গে করে নিয়ে আসেন তারা।
দুধ বিক্রেতা মনির মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহিষের দুধের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। কিন্তু আগের তুলনায় এখন মহিষের সংখ্যা অনেক কম। মহিষ পালনে মানুষ এখন কম আগ্রহ দেখাচ্ছে। যত বেশি মহিষ পালন হবে, দুধও তত বেশি উৎপাদিত হবে।
বাথানের মালিক রামগতি উপজেলার শাখাওয়াত মিয়া জানান, চরাঞ্চলে মানুষের বসবাস বেড়েছে। এ ছাড়া চাষাবাদও বেড়েছে। এতে মহিষের চারণভূমি কমেছে। এ জন্য অনেকেই মহিষ পালন ছেড়ে দিচ্ছেন।
কয়েকজন দই বিক্রেতার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানায়, দিনে প্রায় ৫-৬ টনের মতো দই বিক্রি হয়। ২০০-২৫০ টাকা কেজি দরে দিনে কমপক্ষে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার দই বিক্রি করে থাকেন দোকানিরা। এতে বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকার দই বিক্রি হয় এই দুই উপজেলাতেই। আগে এর পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
জানা যায়, জেলার পশ্চিম ও দক্ষিণের মেঘনা নদীর দ্বীপ চরগুলোতে মহিষের বাথান (চারণভূমি) থেকে এ দুধ আসে। বিশেষ করে রামগতি উপজেলা বয়ারচর, চর গজারিয়া, চরআবদুল্লাহ ও কমলনগর উপজেলার চর শামছুদ্দিনসহ বিভিন্ন চর এলাকার বাথান থেকে দুধ সংগ্রহ করা হয়।
দই তৈরির বিষয়ে বাথান মালিকরা জানান, চর থেকে দুধ আনার পর কাঁচা দুধ সরাসরি ১ থেকে ২ কেজি ধারণকৃত এক ধরনের পাত্রে ঢালা হয়। পাত্রগুলোকে টালি বলা হয়। টালিতে কাঁচা দুধ রাখার ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর দুধ জমে দধি হয়। প্রতি লিটার দুধে ৯৫০ গ্রাম দধি হয়। এ দধি ফ্রিজিং ছাড়া এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। দধি বসানোর টালিগুলো পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুর থেকে আনা হয়। বর্তমানে সাইজ ভেদে প্রতিটি টালির দাম ১৬ থেকে ২০ টাকা।
কমলনগর ও রামগতি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, দুই উপজেলার চরাঞ্চলেই মহিষের উৎপাদন বেশি। কমলনগর ও রামগতি মেঘনা নদীর কয়েকটি দ্বীপে মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১২ হাজার মহিষ পালন করা হলেও বর্তমানে চাষাবাদ অনেকটা কমে গেছে। রামগতি উপজেলার কয়েকটি চরে সাড়ে ৬ হাজার ও কমলনগরে ৫ হাজারের মতো মহিষ পালন করা হয়।
রামগতি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত মহিষ পালনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এ অঞ্চলটি গরু ও মহিষ পালনের উপযুক্ত স্থান। এখানে বিশাল বিশাল চর রয়েছে। গরু ও মহিষ চাষিদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা সব সময় থাকবে।
কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, আগের তুলনায় এ উপজেলায় মহিষের চাষ অনেকটা কমে গেছে। সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে পারলে মহিষ চাষে বিপ্লব ঘটত।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে নীলফামারী জেলার পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জেলা পুলিশ, নীলফামারীর আয়োজনে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন।
সভায় পুলিশ সুপার বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ সতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা ও মতামত শোনা হয়। পুলিশ সুপার বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় দুর্গাপূজার আগে, পূজা চলাকালীন এবং পূজা-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম-সেবা (নীলফামারী সার্কেল), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ওহিদুন্নবী (সৈয়দপুর সার্কেল), জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভার পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।