গাজীপুরের ডেগেরচালার ফকির মার্কেট এলাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার ভেতরে আটকে পড়ে ধোঁয়ায় অন্তত ৭০ জন অসুস্থ ব্যাক্তিকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট কাজ করছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী বলেন, সাততলা ওই কারখানার তিনতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়ায় এ পর্যন্ত ৭০ জনকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আশপাশে পুকুর বা পানির কোনো উৎস না থাকা এবং কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি আরও জানান, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে।
আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ও রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটিসহ মোট ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।
চলনবিলে শিকারিদের ফাঁদে পড়া অর্ধশতাধিক বক পাখি অবমুক্ত করেছে পরিবেশকর্মীরা। শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার আগমুরশন, বামিহাল, কাকিয়ান, পূর্বভেংড়ী বিলের বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা ফাঁদ থেকে পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে ধানের জমিতে পাখি শিকারিরা কলা-খেজুরের পাতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষ ফাঁদ দিয়ে বক পাখি শিকারে মেতে উঠেছে। স্থানীয়দের কাছে এমন খবর পেয়ে বিলে যায় পরিবেশকর্মীরা।
এ সময় তিন পাখি শিকারিসহ অর্ধশতাধিক বক পাখি উদ্ধার করা হয়। ধ্বংস করা হয় পাখি ধরার দশটি ফাঁদ। পরে তিন পাখি শিকারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম তাদের প্রত্যেককে একদিনের জেল ও দুই হাজার টাকা জড়িমানা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান শিমুলসহ অন্যান্যরা।
ময়মনসিংহে বাস চাপায় নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৭ যাত্রীর গ্রামের বাড়ি জামালপুরে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে জামালপুর সদর উপজেলায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে গত শুক্রবার মধ্য রাতে নিহতদের মরদেহ জামালপুরে তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে নিহত মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০) ও তার মা রাশিদা বেগমের (৭০) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই ইউনিয়নের গোড়ারকান্দা গ্রামে নিহত মোফাজ্জল হোসেন লেবুর মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা মর্জিনা বেগম (২৫) ও মর্জিনা বেগমের শিশুসন্তান মিনানের (৫) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
একই দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজিচালক সুজন আলীর (৪৪) মরদেহ গত শুক্রবার রাতে বাড়িতে আনা হলে রাতেই তার জানাজা গোবিন্দবাড়ি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের প্রত্যেকের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এদিকে সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামে আক্রাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগমের (৩৯) জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু। জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সিএনজিতে ও পরে সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সাথে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন ও সিএনজিচালকসহ মোট সাতজন নিহত হন।
পরে ঘাতক বাসটির চালক বাসটিকে ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো জামালপুরে আনা হয়। এই দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকা-জামালপুর রুটে রাজীব পরিবহনের সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কুমিল্লায় কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ‘RAW’ ও ‘Crime Setup’-এর চার শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ‘RAW’ গ্যাংয়ের মূলহোতা ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০) এবং ‘Crime Setup’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) ও রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, রতনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ ৯টি মামলা রয়েছে। সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান। অন্যদিকে সাব্বির ও নবীর বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাং, মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ১০ দিন ধরে কুমিল্লাজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে। এ সময় সন্দেহজনক দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়া কিশোরদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমের নির্দেশনায় চলমান এ অভিযানের অংশ হিসেবে ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে এবং কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২৪ ও ২০২৫-এর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্মানী, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মানী, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান এবং মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মানিত অভিভাবকরা।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য তাদের অনুপ্রাণিত করা হয়।
একদিকে সবুজে মোড়া তিন ফসলি জমি, অন্যদিকে সেই জমির বুক চিরে ফসল ফলানোর জমিতে বসানো হয়েছে ড্রেজার। কোথাও মাটি কাটার চিহ্ন, কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। ড্রেজারের পাইপ চলে গেছে কৃষিজমির ভেতর দিয়ে। কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম বাঙ্গরা ইউনিয়নের কুড়াখাল এলাকায় প্রায় ছয় একর কৃষিজমি থেকে চার বছর ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, এ কাজে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। উত্তোলিত মাটি পাইপের মাধ্যমে পাশের কাগাতুয়া গ্রামের কৃষিজমিতে নিয়ে ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানায় লিখিত অভিযোগের পর সরেজমিনে নায়েবকে পাঠানো হয়েছে। ড্রেজারটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দেওয়া অভিযোগে পশ্চিম বাঙ্গরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়াখাল এলাকার জমির মালিক আখতারুজ্জামান অভিযোগ করেন, আবু তাহের নামের এক ব্যক্তি ড্রেজার বসিয়ে কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন করছেন। অভিযোগে খতিয়ান নম্বর ৪৯২ এবং দাগ নম্বর ২০৮৫, ২০৮৬, ২০৮৭, ২০৮৮ ও ২১০৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কাটার কারণে আশপাশের জমির পাড় ধসে পড়তে পারে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি বর্ষায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে অভিযোগে ঠিক কতটুকু জমি থেকে কত গভীরতায় মাটি কাটা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিমাপ উল্লেখ নেই। ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সরেজমিন পরিমাপ এবং ভূমি রেকর্ড যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১২ আগস্ট বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন আখতারুজ্জামান, কিবরিয়া সরকার, আবদুল হাকিম ও মো. হামিদ মিয়া। অভিযোগে বলা হয়, কুড়াখাল গ্রামের ফসলি জমি থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে আবু তাহেরকে ড্রেজারের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও কয়েকজনের নামের পাশাপাশি অজ্ঞাত সাত থেকে আটজনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন ফসলি কৃষিজমির মধ্যে একটি ড্রেজার স্থাপন করে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজারের পাইপ দিয়ে উত্তোলিত মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাইপের মাধ্যমে এসব মাটি কাগাতুয়া এলাকায় নিয়ে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাটি উত্তোলনের ফলে কৃষিজমির একটি অংশ গভীর জলাশয়ের মতো হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুড়াখাল ও কুরুন্ডি মৌজার মধ্যবর্তী বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন চলছে। তাঁদের প্রশ্ন, কৃষিজমির এত কাছে দীর্ঘ সময় ধরে মাটি কাটার অনুমতি রয়েছে কি না এবং থাকলে সেই অনুমোদনের শর্তগুলো কী। স্থানীয়দের দাবি, কুড়াখাল এলাকার মৃত হানিফ খাঁর ছেলে আবু তাহের সেখানে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ও বালু উত্তোলন করছেন। এতে আশপাশের তিন ফসলি জমির স্বাভাবিক গঠন, উর্বরতা ও ভবিষ্যৎ চাষাবাদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করবে এবং কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়লে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
তবে ড্রেজিংয়ের অনুমোদন নেই স্থানীয়দের এমন দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত আবু তাহেরের কাছ থেকেও অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো কাগজ পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭ক ধারায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে মাটি বা বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রেও কৃষিজমির উর্বরতা ও উপরিভাগের উর্বর মাটি সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ড্রেজিংয়ের ফলে পার্শ্ববর্তী জমির ক্ষতি বা ধসে পড়ার আশঙ্কার বিষয়টিও বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু বলেন, গত পাঁচ বছরে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ফসলি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৬১ হেক্টর থেকে কমে ২৩ হাজার ৯১৪ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ফসলি জমি কমেছে ১৪৭ হেক্টর।
তিনি বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত থাকলে মাটির গুণগত মান ও উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিজমি ও এর উর্বর উপরিভাগের মাটি সংরক্ষণে নজরদারি জরুরি।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুড়াখাল এলাকায় নতুন করে ড্রেজার চালুর বিষয়টি আমার জানা নেই। সেখানে ড্রেজিং কার্যক্রম চলার তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন বলেন, কুড়াখাল এলাকায় ড্রেজার স্থাপনের বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে স্থানীয় নায়েবকে পাঠানো হয়েছে। ড্রেজারটি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এরপরও সেখানে ড্রেজার চালিয়ে মাটি উত্তোলন করা হলে বিষয়টি আর ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।
স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমির ক্ষতি হয়ে থাকলে তা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
দিল্লির শাসন বা ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, ‘যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, বাংলার মাটিতে তাদের কোনো স্থান হবে না।’ শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে গোপনে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং দেশের ভেতর থেকে ক্ষতি করেছে। ১৯৯৬ সালের ষড়যন্ত্রের মতো তারা আগামী ডিসেম্বরেও একই ধরনের চক্রান্তের পরিকল্পনা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘গত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতন চালিয়েছে এবং দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে, তাদের অপকর্মের কথা ভুলে গেলে চলবে না।’ দলের ভেতরে কোনো ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা তাজউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ নুরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, ওলামা দল রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক হাফেজ মোহাম্মদ আবেদ হাসান মুন্না, সদস্য সচিব হাফেজ ফরহাদুল ইসলাম পরাগ, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনিসহ ওলামা দল রাজশাহী জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
খুলনা নগরীর বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্সে ‘মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড্ডয়নের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নশিপের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান।
‘১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’-এ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন ৮টি থানা এলাকার মেধাবী, উদ্যমী ও সম্ভাবনাময় অনূর্ধ্ব-২০ খেলোয়াড়দের বাছাই করে দল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচিত খেলোয়াড়দের যথাযথভাবে নিবন্ধনের পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচ শেষে নির্ধারিত মূল্যায়ন ফরমের মাধ্যমে তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার উপস্থিত সম্মানিত অতিথিরা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতারা, কাবাডি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, বিচারকমণ্ডলী ও খেলোয়াড়দের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক জাগরণ সৃষ্টি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। খুলনায় বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ক্রীড়া ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রগুলোতে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আয়োজক, স্পন্সর ও সহযোগী সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মাঠ সজ্জা, খেলোয়াড়দের আনা-নেওয়াসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং টুর্নামেন্টটি ফলপ্রসূ ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় এম, এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর, অতি দায়িত্বে এফঅ্যান্ডবি) অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ক্রাইম অ্যান্ড অপস (ভারপ্রাপ্ত) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর নদী ও সাগরে আবার বাড়ছে ইলিশের প্রাপ্যতা। জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ, ব্যস্ত হয়ে উঠছে মাছঘাট। সরবরাহ বাড়ায় দেশের বিভিন্ন মোকামে পাইকারি দামও কমেছে। বরিশালে বিভিন্ন আকারের ইলিশের দাম মণপ্রতি কমেছে ১৪ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। লক্ষ্মীপুরে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। তবে এক কেজি ওজনের মাছের দাম এখনো প্রায় ২ হাজার টাকা। ফলে সরবরাহ বাড়লেও সাধারণ ক্রেতার স্বস্তি পুরোপুরি ফেরেনি।
বাংলাদেশে ইলিশ মূলত নদী ও সাগর—দুই পরিবেশেই বিচরণ করে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মেঘনা, পদ্মা, তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁসহ বিভিন্ন নদী ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিচরণ ও প্রজনন এলাকার সঙ্গে যুক্ত। চাঁদপুর থেকে লক্ষ্মীপুরের নিম্ন মেঘনা, ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া, পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক এবং শরীয়তপুরের নিম্ন পদ্মাসহ কয়েকটি এলাকায় ইলিশের অভয়াশ্রমও রয়েছে।
মৎস্য গবেষণা-সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশের ২০ থেকে ২৫টি নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়। মেঘনা অববাহিকায় ইলিশের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি হলেও তেঁতুলিয়া, আড়িয়াল খাঁ, পদ্মা ও পায়রাসহ অন্যান্য নদীতেও ইলিশ ধরা পড়ে। নদীর পাশাপাশি উপকূল ও সমুদ্র থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ আহরণ করা হয়।
লক্ষ্মীপুরে জালে ইলিশ, ঘাটে বেড়েছে ব্যস্ততা: মৌসুমের বড় একটি সময় প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় লক্ষ্মীপুরের অনেক জেলেকে অলস সময় কাটাতে হয়েছে। নৌকা পরিচালনা, জ্বালানি ও সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। গত কয়েক দিনে মেঘনায় ইলিশের পরিমাণ বাড়ায় পরিস্থিতি বদলেছে। জেলার প্রায় ৩০টি মাছঘাটে বেড়েছে নৌকার আনাগোনা ও মাছ কেনাবেচা।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনার প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম। জেলার পাঁচ উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার জেলে এ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
মজুচৌধুরীরহাট মাছঘাটে গত বুধবার দেখা যায়, একের পর এক জেলে নৌকা ভিড়ছে। নৌকা থেকে মাছ নামানো, দরদাম ও কেনাবেচায় ব্যস্ত জেলে, আড়তদার ও পাইকারেরা। তবে জেলেদের ভাষ্য, মাছের পরিমাণ বাড়লেও তুলনামূলক ছোট ইলিশই বেশি ধরা পড়ছে।
মতিরহাটের জেলে লিটন মাঝি বলেন, নদীতে মাছ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন অলস সময় কাটাতে হয়েছে। সংসার চালাতে কষ্ট হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে জালে বেশি ইলিশ ধরা পড়ায় আবার নিয়মিত মাছ শিকারে যেতে পারছেন তারা।
সরবরাহ বাড়ায় কমেছে দাম: স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মজুচৌধুরীরহাটে এক কেজি ওজনের চারটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার টাকায়। তিন দিন আগে একই পরিমাণ মাছের দাম ছিল সাড়ে ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা।
আকার ও প্রকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। তবে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম এখনো প্রায় ২ হাজার টাকা। ফলে বড় ইলিশ এখনো অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে।
বরিশালে আট দিনে এসেছে ১ হাজার ২৮০ মণ: দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ইলিশ বাণিজ্যকেন্দ্র বরিশালের পোর্ট রোড মাছ অবতরণকেন্দ্রেও সরবরাহ বেড়েছে। গত ২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট দিনে সেখানে ইলিশ এসেছে ১ হাজার ২৮০ মণ। প্রতিদিন গড়ে সরবরাহ ছিল ১৬০ মণ, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭৫ মণ। অর্থাৎ দৈনিক গড় সরবরাহ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
এর প্রভাবে বিভিন্ন আকারের ইলিশের পাইকারি দাম মণপ্রতি ১৪ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম মণপ্রতি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে কমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হয়েছে। এক কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম নেমেছে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ৯৬ হাজার টাকায়।
ভোলার নদীতেও বড় ইলিশ: উপকূলীয় জেলা ভোলাতেও সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের প্রাচুর্য দেখা গেছে। আগস্টের শেষ দিকে বাসসের প্রতিবেদনে জেলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবাদর, বেতুয়া, বুড়াগৌরঙ্গ ও ইলিশা নদীতে জেলেদের ইলিশ আহরণের কথা জানানো হয়। মনপুরা এলাকার মেঘনা নদীতেও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার তথ্য এসেছে।
ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর কয়েকটি অংশও ইলিশের অভয়াশ্রমের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এ অঞ্চলের নদী ও সাগর মোহনা ইলিশের বিচরণ ও প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চাঁদপুরে সরবরাহ বাড়লেও বড় মাছে চড়া দর: চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটেও সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সরবরাহ বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা পোস্টের ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ মণ ইলিশ আসছিল।
তবে মাছঘাটে সরবরাহ বাড়লেই খুচরা বাজারে সমান হারে দাম কমে না। উৎপাদনস্থল থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পরিবহন, বরফ, সংরক্ষণ, আড়ত ও বিপণনের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় যুক্ত হয়। তাই পাইকারি দামের পতনের সুফল ক্রেতারা কতটা পাচ্ছেন, তা জানতে খুচরা বাজারের তথ্যও জরুরি।
বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জরুরি: ইলিশের দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও বাজার তদারকির ঘাটতি। তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে সরবরাহ, রপ্তানি এবং পাইকারি ও খুচরা দামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
সরবরাহ বাড়ার পরও কোনো পর্যায়ে অস্বাভাবিক মুনাফা হচ্ছে কি না, তা জানতে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ জরুরি। বিভিন্ন আকারের ইলিশের পাইকারি ও খুচরা দাম প্রকাশ এবং সরবরাহের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়তে পারে।
নিষেধাজ্ঞার আগে আয়ের শেষ সুযোগ: মৌসুমের শেষ সময়ে ইলিশের প্রাপ্যতা বাড়লেও সামনে প্রজনন রক্ষার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে জেলেদের মধ্যে। ভোলা ও বরগুনার কিছু জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মাছ বাড়তে শুরু করার পর আহরণ বন্ধ হলে প্রত্যাশিত আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তারা।
তবে ইলিশের প্রজননকাল পরিবর্তিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। জেলেদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তন করা যথেষ্ট নয়।
নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও কেনাবেচার ওপরও বিধিনিষেধ কার্যকর থাকে। এ সময় অবৈধ জাল অপসারণ, নদীতে অভিযান ও বাজার তদারকির পাশাপাশি প্রকৃত জেলেদের সরকারি খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
মৌসুমের শেষ সময়ে ইলিশের বাড়তি প্রাপ্তি জেলেদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে এবং পাইকারি দামের পতন খুচরা বাজারে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। নদী ও সাগরে ইলিশের বিচরণ বাড়ার এই সময়ে একদিকে প্রজনন ও সম্পদ রক্ষা, অন্যদিকে জেলেদের জীবিকা এবং বাজারে ন্যায্য দাম—তিন দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন আমাদের লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা ও বরগুনা প্রতিনিধি।
বড় ভূমিকম্পে একটি ফায়ার স্টেশন কিংবা সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেন উদ্ধার তৎপরতা থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই নিজেদের সক্ষমতা ছড়িয়ে দিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এক জায়গায় জনবল, সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা কেন্দ্রীভূত না রেখে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ভাগ করে রাখা হয়েছে। পূর্বাচলে গঠন করা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের বিশেষ রেসকিউ টিম। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ রেসকিউ টিম এবং ঢাকার বাইরে ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, বড় ভূমিকম্পে একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার সদর দপ্তর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে অধিদপ্তরের কমান্ড ব্যবস্থা সচল থাকে, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১০-এ নির্মাণ করা হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক বহুতল সদর দপ্তর। জাইকার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন ভবনটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ভবনটি ভেঙে পড়বে না। ২০২৮ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের বড় অংশের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম এতদিন সদর দপ্তরকেন্দ্রিক ছিল। বড় ভূমিকম্পে সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব সরঞ্জাম আটকে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে সরঞ্জাম ভাগ করে রাখা হয়েছে।
ফলে কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও কাছাকাছি অন্য স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হবে।
বড় দুর্যোগে একটি স্টেশনের স্বাভাবিক জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক ভবনধস সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। এ জন্য পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি স্পেশাল রেসকিউ টিম রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও বিভিন্ন স্টেশন থেকে জনবল নিয়ে ২০ সদস্যের এসআরটি গঠন করা হয়েছে। এসব দলকে ধসে পড়া ভবনে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় রাজধানীর বাইরে ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মহানগরীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা জনবল-সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিলে এসব স্টেশন থেকে সহায়তা নেওয়া হবে।
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে হেলিকপ্টারে উদ্ধার সরঞ্জাম ও রেসকিউ টিম স্থানান্তরের বিষয়েও বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ চলছে।
ভূমিকম্পে মোবাইল টাওয়ার ও ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্ধারকারী দলগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এ ঝুঁকি বিবেচনায় গত আগস্টে অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহযোগিতায় দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করেছে ফায়ার সার্ভিস। মোবাইল, ল্যান্ডফোন ও বেতার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন—এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার মহড়া দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি। তাই প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ভূমিকম্পে একই সময়ে ভবনধস, অগ্নিকাণ্ড, গ্যাসলাইন দুর্ঘটনা ও বৈদ্যুতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। ঢাকার সরু সড়ক, যানজট ও ধ্বংসস্তূপও উদ্ধারকাজে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তাই দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন, আটকে পড়াদের শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ই হবে প্রধান কাজ।
ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের সুযোগ সীমিত। তাই কখন ভূমিকম্প হবে, তার অপেক্ষায় নয়—আঘাতের পর যেন উদ্ধারব্যবস্থা অচল না হয়, সেই প্রস্তুতিকেই এখন গুরুত্ব দিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল’কে (আরএসজিটিআই) দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (সিপিএ) নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশনা জারি করা হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে শুক্রবার (২ অক্টোবর)। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক একটি অপারেটরের মাধ্যমে নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো কন্টেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) ১৫ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি সরকারের নীতিগত অনুমোদন পায়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সিসিটির অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআই-এর নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের (আইবিএ) চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে আরএসজিটিআই-এর আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রকল্প দুটি হলো—সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনাল।
চিঠিতে বলা হয়, চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআই-এর নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইবিএ-কে অনুরোধ করা হচ্ছে।
সিসিটি পরিচালনায় দেশি ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব জমার পর এই অগ্রগতি এলো। টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ গত ৮ এপ্রিল এবং সৌদি আরবের ‘আরএসজিটিআই’ ২২ এপ্রিল আলাদা প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী ‘এমজিএইচ গ্রুপ’ও একটি প্রস্তাব জমা দেয়।
আরএসজিটিআই গত মে মাসে সাংবাদিকেদর নিশ্চিত করেছিল যে তারা সিসিটি এবং জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)—উভয় টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহী এবং নির্বাচিত হলে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, সিসিটি টার্মিনালটি এনসিটি এবং জিসিবির মাঝখানে অত্যন্ত কৌশলগত স্থানে অবস্থিত। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কন্টেইনার পরিবহনের প্রায় ১৬ শতাংশ পরিচালিত হয়েছে এই সিসিটি দিয়ে। এছাড়া এনসিটিতে প্রায় ৪৪ শতাংশ, জিসিবির মাধ্যমে প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ৪ শতাংশ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পাওয়া ২২ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালটি ইতোমধ্যে পরিচালনা করছে আরএসজিটিআই।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে বড় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধা এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সময়েই সিসিটি নিয়ে এই নতুন পদক্ষেপ সামনে এলো। গত ১ অক্টোবর এনসিটি এবং ওসিওয়াই উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরকে ১৫ বছরের দায়িত্ব দিতে খসড়া চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প বিবরণীতে দুবাই সরকার মনোনীত দুবাইভিত্তিক 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'কে প্রস্তাবিত অপারেটর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পিপিপি চুক্তির আওতায় ডেনমার্কভিত্তিক ‘এপিএম টার্মিনালস’কে নতুন লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই নতুন নির্দেশনার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান আরেকটি বড় টার্মিনাল সিসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে যাওয়ার পথে রয়েছে, যেখানে দাপ্তরিক চিঠিতে আরএসজিটিআই-এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে সিসিটি পরিচালনার প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ, আর্থিক শর্ত কিংবা বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী পিপিপি এবং চুক্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব বিস্তারিত বিষয় নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলনের সময় ১টি পন্টুন, ১টি বাল্কহেড ও ২টি এস্কেভেটরসহ হাতেনাতে ধরল উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের মেঘনা নদীতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযান শেষে বাল্কহেডচালক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার বৈশ্বর গ্রামের জিন্নত আলীর ছেলে সুমন মিয়াকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আগানগর এলাকার মেঘনা নদীর তীরবর্তী নবাব ব্রিকফিল্ডের পাশে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে রাজধানী শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় বাল্কহেড ভর্তি করে মাটি পাচার করে আসছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে নদী থেকে মাটি উত্তোলনের সময়ে হাতেনাতে ১টি পন্টুন, ১টি বাল্কহেড ও ২টি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়। পরে অনুমতিবিহীন অবৈধভাবে নদীর পাড় থেকে মাটি উত্তোলনের দায়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় বাল্কহেডচালককে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় জব্দকৃত মালামাল নৌপুলিশের জিম্মায় রয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক জানান, আমাদের কাছে তথ্য ছিল একটি চক্র মেঘনা নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে। তারই সূত্রে ধরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার সময়ে হাতেনাতে এস্কেভেটর যন্ত্র ও বাল্কহেড জব্দ করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’
আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কিশোর গ্যাং উচ্ছেদ হবে জানিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক আন্দোলনের যৌথ সমন্বয় প্রয়োজন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত ‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলন অধিক কার্যকর’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কিশোররা স্কুলে যাবে, পড়ালেখা করবে, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা শিখবে, দক্ষ মানুষ হবে, তারা অস্ত্র চাপাতি নিয়ে ঘুরবে না। তিনি বলেন, আজকের কিশোর তরুণরাই আগামী দিনের কাণ্ডারী।
তিনি বলেন, সরকার যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। সরকার ব্যর্থ হলে সেই দায় আমাদের। দায় চাপানোর রাজনীতি আমরা করি না। বিভিন্নভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কুচক্রী মহল সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অপশক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিরোধী দল হিসেবে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।