কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর নুরুল ইসলামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঢাকার বিভিন্ন বার, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অ্যালকোহলজাত পণ্যের অবৈধ উৎস, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শনিবার (৩ অক্টোবর) একযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি ও যাচাই-বাছাই শুরু করেছে এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থা।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এসব পণ্যের বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
অভিযানের জন্য কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর (সিআইআইডি) চারটি পৃথক দল গঠন করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)-এর কর্মকর্তারা অভিযানে অংশ নেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে চারটি প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে পরিদর্শন, তল্লাশি ও নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট পণ্য আটক করার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- র’ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ এবং ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড।
সূত্র বলছে, ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিক শেখ নুরুল ইসলাম।
এনবিআর সূত্র জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানে মজুত থাকা অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মজুত পণ্যের বৈধ উৎস, আমদানি বা ক্রয়ের কাগজপত্র, শুল্ক-মূসক ও অন্যান্য প্রযোজ্য কর পরিশোধ করা হয়েছে কিনা এবং পণ্যের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে এসব পণ্য সংগ্রহ করেছে এবং আইন অনুযায়ী অনুমোদিত উৎস ও গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও অনিয়ম বা কর ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অভিযান শেষে প্রাথমিকভাবে উদ্ঘাটিত তথ্য জানাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে এনবিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিচতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার শুল্কমুক্ত মদ মজুতের অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামের চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়।
রাজবাড়ীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে রাতের আঁধারে কেরোসিন দিয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পৌর শহরের বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, রাতের যেকোনো একসময় দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের প্রবেশপথের কেঁচিগেটের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের ভেতরেও কেরোসিন ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, ‘জেলা বিএনপির কার্যালয়টি পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের ছেলেরা ও কেয়ারটেকার রাত ১টা পর্যন্ত কার্যালয়ে ছিলেন। তারা চলে যাওয়ার পরই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পার্টি অফিসটি জ্বালিয়ে দেওয়া। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ ব্যাপারে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম পিন্টু ও গাজী আহসান হাবিব বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের লোকজন সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিএনপি সরকারের সাত মাসের সফলতা ও অর্জন নস্যাৎ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আমরা মনে করি। ৫ আগস্টের পর দায়ের করা মামলাগুলোর প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি করছি।’
জেলা বিএনপি কার্যালয়ের কেয়ারটেকার মো. আতর আলী শেখ বলেন, ‘আমি রাত ১টার দিকে কার্যালয়ের প্রতিটি তালা চেক করে বাড়িতে চলে যাই। তখন কাউকে দেখিনি। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমার স্ত্রী এসে আমাকে জানান, কার্যালয়ের কেঁচিগেট পোড়া। এরপর আমি এসে ঘটনাটি দেখি এবং নেতা-কর্মীদের খবর দিই।’
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে। যেই হোক না কেন, আমরা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনব।’
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লাউয়াছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল ও কোনাগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধ ভেঙে তীব্র বেগে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে দুই গ্রামের অন্তত ৩০টি বাড়িঘর এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত থেকে কমলগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে উজানের ঢল নেমে আদমপুর ইউনিয়নের লাউয়াছড়ায় তীব্র স্রোত ও পানির চাপ সৃষ্টি হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে অতিরিক্ত পানির চাপে ভানুবিল ও কোনাগাঁও এলাকার মাঝামাঝি অংশের বাঁধটি ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে অন্তত ৩০টি পরিবারে প্রবেশ করে।
এদিকে বন্যার পানিতে গ্রাম দুটির একমাত্র চলাচলের পাকা রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। কার্যত চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার প্রায় পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা। এ ছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ রোপা আমন ধানের ক্ষেত এবং কৃষকের মৌসুমি শাক-সবজি, ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা শমসের মিয়া ও ইসমাইল হোসেন জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে দ্রুত পানি প্রবেশ করায় বাড়ির আসবাবপত্র ও মালামাল সরানোর সুযোগ মেলেনি। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ধানের ক্ষেত সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল আহমদ বলেন, ‘বাঁধ ভাঙার ফলে যাতায়াতে খুব সমস্যা হচ্ছে। বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। খাবার ও বাচ্চাদের নিয়ে আমরা বিপাকে আছি।’
আরেক বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, ‘বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও বাঁধ মেরামতের ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, লাউয়াছড়া নদীর বাঁধটির কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময়মতো সংস্কার বা মেরামত না করায় অতিরিক্ত পানির চাপে ভেঙে গেছে। এতে একদিকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে, অন্যদিকে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রুশন মিয়া বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন জানান, টানা ভারি বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণেই আকস্মিক বাঁধ ভেঙে এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে আসায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি পুরোপুরি নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিয়ে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে তার কাছে পাঠানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের নির্যাতনের শিকার গাইবান্ধার নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি আর নেই। দীর্ঘদিন বার্ধক্য ও নানা শারীরিক জটিলতায় শয্যাশায়ী থাকার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতনের শিকার হয়েও সাহস ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন ফুলমতি। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর ২০১৬ সালে নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান তিনি।
সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের ভূমি অফিসের সামনে সড়কের পাশে সরকারি খাসজমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন ফুলমতি। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত ‘বীর নিবাসে’ ওঠেন তিনি। জীবনের শেষ সময়টাও সেই বাড়িতেই কেটেছে তার।
স্বজনরা জানান, সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া গ্রামের ফুলমতি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। এর মধ্যে প্যারালাইসিস, ব্রেন স্ট্রোকসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় তার চলাফেরার সক্ষমতা কমে যায়। শেষ দিকে তিনি প্রায় পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। নিজ বাড়িতেই চলছিল তার চিকিৎসা। শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মারা যান তিনি।
ফুলমতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ছেলে মনিরাজ কুমার। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মায়ের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিলো না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তিনি মারা যান।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় নিজ বাড়িতে ফুলমতির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ফুলমতিকে সাদুল্লাপুরের উত্তরপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ২৮ বছর।
স্বাধীনতার পর বহু মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেও ফুলমতির স্বীকৃতি পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
জানা গেছে, অভাব-অনটনের সংসারে বড় ছেলে রতন কুমার ও নিরঞ্জন কুমার কখনও জুতা সেলাই, কখনও দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন।
ফুলমতির মৃত্যুতে সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে ফুলমতির আত্মত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন তিনি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেক চেষ্টা ও আবেদনের পর ২০১৬ সালে তার স্বীকৃতি মেলে।’
এদিকে ফুলমতির মৃত্যুতে সাদুল্লাপুর উপজেলা ও জেলার মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফুলমতি শুধু একজন নারী নন, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার জীবনের নির্যাতন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। তার স্মৃতি সংরক্ষণে সমাধিস্থলে একটি স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শরতের কাশফুল আর উৎসবের আমেজের মধ্যে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে, কোথাও মণ্ডপ সাজানোর কাজে ব্যস্ত আয়োজকেরা। এর পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তুতিও।
এবার বোয়ালখালী উপজেলায় ৯৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১০টি স্থায়ী এবং ৮৭টি অস্থায়ী মণ্ডপ। স্থায়ী মণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা হলেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে না। অস্থায়ী মণ্ডবগুলোতে পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
এদিকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা নিয়েও চলছে প্রস্তুতি। পূর্ব শাকপুরা মাতৃমন্দিরের পূজারি বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, ১০ অক্টোবর মহালয়া শুরু হচ্ছে। এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং গমন হবে নৌকায়।
উপজেলার আমুচিয়া মাস্টার বাজার এলাকার শ্রী শ্রী রামঠাকুর শিল্পালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগরেরা। দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা তৈরির কাজও চলছে। মাটি, পাট, সুতা ও খড়সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমা।
কারিগরেরা জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ কয়েকটি ধাপে করতে হয়। প্রথমে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করে তার ওপর মাটি দেওয়া হয়। মাটি শুকানোর পর চলে নকশা, অলংকরণ ও রঙের কাজ। সবশেষে প্রতিমাকে পূজামণ্ডপে নেওয়ার উপযোগী করে তোলা হয়।
প্রতিমাশিল্পী শানু দেব বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এরই মধ্যে কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। বাইরের কাজ শেষ হলেও কারখানার কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে।
শানু দেব বলেন, এ বছর তারা ১৮টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। বর্তমানে ছয়জন মিলে কাজ করছেন। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপও বেড়েছে।
প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের খরচও বেড়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, পাট ও মাটির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে কাজের শুরুতে যতটা ব্যস্ততা ও চাপ থাকে, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে তা মণ্ডপে স্থাপন করার পর অন্যরকম আনন্দ তৈরি হয়।
প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। আমুচিয়া এলাকার নবারণ সাহিত্য পরিষদ পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, মণ্ডপসজ্জায় ব্যস্ত কয়েকজন। বাঁশ, কাপড়, রঙিন কাগজসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মণ্ডপের সাজসজ্জার কাজ চলছে।
সাজসজ্জার দায়িত্বে থাকা সাজু দেব বলেন, প্রায় তিন মাস আগে থেকে তাঁরা মণ্ডপ সাজানোর কাজ শুরু করেছেন। এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।
বোয়ালখালীর কয়েকটি পূজামণ্ডপে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। এর মধ্যে বীণাপাণি ও দেবান পাঠাগার পূজামণ্ডপে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি থাকে বলে জানান শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি বলেন, দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপির সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, বোয়ালখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়ে থাকে। এবার উপজেলায় ৯৭টি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে ১০টি স্থায়ী ও ৮৭টি অস্থায়ী।
ওসি বলেন, ৯৭টি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এসআরবি টহল টিমও থাকবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পূজার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপগুলোর ব্যস্ততা। কারও হাতে প্রতিমা তৈরির শেষ কাজ, আবার কেউ ব্যস্ত মণ্ডপ সাজাতে।
এদিকে, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান : বাগেরহাটের শরণখোলায় এবার ২১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ থেকে শুরু হতে যাওয়া এ উৎসবকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
শরণখোলার লাকুড়তলার প্রতিমা কারিগর সমর পাইক বলেন, “প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন রং ও সাজসজ্জার কাজ শুরু করব। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুন্দরভাবে প্রতিমা তৈরি করে ভক্তদের সামনে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।"
শরণখোলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার নাগ বলেন, “এবার উপজেলার ২১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপনে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।"
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজোয়ান ইফতেকার বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যেবক্ষণ করা হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।"
ফারাক্কা চুক্তি জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করা হবে বলে মন্তব্য করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ফারাক্কা চুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কারিগরি কমিটি কাজ করছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলোতে মহানন্দা নদী এলাকায় নোঙর রিভার ক্যাম্পের কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নদী এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির হিস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন এবং আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী ও খাল উদ্ধারে কোনো ধরনের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা হবে না। দেশের খনন ও পুনরুদ্ধার করা নদী, খাল ও জলাশয় পুনরায় দখলের কোনো সুযোগ থাকবে না। নদী উদ্ধারে দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।
এর আগে মহানন্দা নদীর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে নোঙর রিভার ক্যাম্পের পতাকা আয়োজকদের হাতে তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
জানা গেছে নোঙর বাংলাদেশের এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলায় শেষ করে টেকনাফে গিয়ে শেষ হবে।
এ সময় পঞ্চগড়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, তেঁতুলিয়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আকাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, নোঙর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন সামস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সদস্য দিন মোহাম্মদ খান, সালাউদ্দীন প্রধান, নাসির খান মিন্টুসহ জেলা-উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি শনিবার সারাদেশের মতো মাগুরায়ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশা নিধনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
শহরের একতা কাঁচা বাজার এলাকায় শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযানকালে মশা নিধনে ফগার মেশিনের সাহায্যে ড্রেন ও আশপাশের নর্দমায় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন এই বাজারের রাস্তা ও এলাকার চারপাশ পরিষ্কার করা হয়।
অভিযানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা এবং ‘বিডি ক্লিন’-এর ৬ জন স্বেচ্ছাসেবী সক্রিয়ভাবে এ কাজে অংশ নেন।
এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের এবং পৌরসভার পরিছন্নতা বিভাগের প্রধান ইতি খাতুন।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও পৌরবাসীকে সচেতন করতে এই ধরনের প্রতিরোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চলনবিলে শিকারিদের ফাঁদে পড়া অর্ধশতাধিক বক পাখি অবমুক্ত করেছে পরিবেশকর্মীরা। শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার আগমুরশন, বামিহাল, কাকিয়ান, পূর্বভেংড়ী বিলের বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা ফাঁদ থেকে পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে ধানের জমিতে পাখি শিকারিরা কলা-খেজুরের পাতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষ ফাঁদ দিয়ে বক পাখি শিকারে মেতে উঠেছে। স্থানীয়দের কাছে এমন খবর পেয়ে বিলে যায় পরিবেশকর্মীরা।
এ সময় তিন পাখি শিকারিসহ অর্ধশতাধিক বক পাখি উদ্ধার করা হয়। ধ্বংস করা হয় পাখি ধরার দশটি ফাঁদ। পরে তিন পাখি শিকারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম তাদের প্রত্যেককে একদিনের জেল ও দুই হাজার টাকা জড়িমানা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান শিমুলসহ অন্যান্যরা।
ময়মনসিংহে বাস চাপায় নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৭ যাত্রীর গ্রামের বাড়ি জামালপুরে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে জামালপুর সদর উপজেলায় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে গত শুক্রবার মধ্য রাতে নিহতদের মরদেহ জামালপুরে তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে নিহত মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০) ও তার মা রাশিদা বেগমের (৭০) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই ইউনিয়নের গোড়ারকান্দা গ্রামে নিহত মোফাজ্জল হোসেন লেবুর মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা মর্জিনা বেগম (২৫) ও মর্জিনা বেগমের শিশুসন্তান মিনানের (৫) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
একই দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজিচালক সুজন আলীর (৪৪) মরদেহ গত শুক্রবার রাতে বাড়িতে আনা হলে রাতেই তার জানাজা গোবিন্দবাড়ি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাদের প্রত্যেকের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এদিকে সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামে আক্রাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগমের (৩৯) জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু। জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সিএনজিতে ও পরে সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সাথে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন ও সিএনজিচালকসহ মোট সাতজন নিহত হন।
পরে ঘাতক বাসটির চালক বাসটিকে ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো জামালপুরে আনা হয়। এই দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকা-জামালপুর রুটে রাজীব পরিবহনের সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কুমিল্লায় কুখ্যাত কিশোর গ্যাং ‘RAW’ ও ‘Crime Setup’-এর চার শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ‘RAW’ গ্যাংয়ের মূলহোতা ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০) এবং ‘Crime Setup’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) ও রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানায়, রতনের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ ৯টি মামলা রয়েছে। সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান। অন্যদিকে সাব্বির ও নবীর বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাং, মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ১০ দিন ধরে কুমিল্লাজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে। এ সময় সন্দেহজনক দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়া কিশোরদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমের নির্দেশনায় চলমান এ অভিযানের অংশ হিসেবে ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে এবং কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
গাজীপুরের ডেগেরচালার ফকির মার্কেট এলাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার ভেতরে আটকে পড়ে ধোঁয়ায় অন্তত ৭০ জন অসুস্থ ব্যাক্তিকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট কাজ করছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী বলেন, সাততলা ওই কারখানার তিনতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়ায় এ পর্যন্ত ৭০ জনকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আশপাশে পুকুর বা পানির কোনো উৎস না থাকা এবং কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি আরও জানান, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে।
আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ও রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটিসহ মোট ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।
বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২৪ ও ২০২৫-এর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্মানী, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মানী, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান এবং মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মানিত অভিভাবকরা।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য তাদের অনুপ্রাণিত করা হয়।
একদিকে সবুজে মোড়া তিন ফসলি জমি, অন্যদিকে সেই জমির বুক চিরে ফসল ফলানোর জমিতে বসানো হয়েছে ড্রেজার। কোথাও মাটি কাটার চিহ্ন, কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। ড্রেজারের পাইপ চলে গেছে কৃষিজমির ভেতর দিয়ে। কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম বাঙ্গরা ইউনিয়নের কুড়াখাল এলাকায় প্রায় ছয় একর কৃষিজমি থেকে চার বছর ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় জমির মালিকদের অভিযোগ, এ কাজে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। উত্তোলিত মাটি পাইপের মাধ্যমে পাশের কাগাতুয়া গ্রামের কৃষিজমিতে নিয়ে ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানায় লিখিত অভিযোগের পর সরেজমিনে নায়েবকে পাঠানো হয়েছে। ড্রেজারটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দেওয়া অভিযোগে পশ্চিম বাঙ্গরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়াখাল এলাকার জমির মালিক আখতারুজ্জামান অভিযোগ করেন, আবু তাহের নামের এক ব্যক্তি ড্রেজার বসিয়ে কৃষিজমি থেকে মাটি উত্তোলন করছেন। অভিযোগে খতিয়ান নম্বর ৪৯২ এবং দাগ নম্বর ২০৮৫, ২০৮৬, ২০৮৭, ২০৮৮ ও ২১০৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কাটার কারণে আশপাশের জমির পাড় ধসে পড়তে পারে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি বর্ষায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে অভিযোগে ঠিক কতটুকু জমি থেকে কত গভীরতায় মাটি কাটা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিমাপ উল্লেখ নেই। ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সরেজমিন পরিমাপ এবং ভূমি রেকর্ড যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১২ আগস্ট বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন আখতারুজ্জামান, কিবরিয়া সরকার, আবদুল হাকিম ও মো. হামিদ মিয়া। অভিযোগে বলা হয়, কুড়াখাল গ্রামের ফসলি জমি থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে আবু তাহেরকে ড্রেজারের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও কয়েকজনের নামের পাশাপাশি অজ্ঞাত সাত থেকে আটজনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন ফসলি কৃষিজমির মধ্যে একটি ড্রেজার স্থাপন করে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজারের পাইপ দিয়ে উত্তোলিত মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাইপের মাধ্যমে এসব মাটি কাগাতুয়া এলাকায় নিয়ে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাটি উত্তোলনের ফলে কৃষিজমির একটি অংশ গভীর জলাশয়ের মতো হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কুড়াখাল ও কুরুন্ডি মৌজার মধ্যবর্তী বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন চলছে। তাঁদের প্রশ্ন, কৃষিজমির এত কাছে দীর্ঘ সময় ধরে মাটি কাটার অনুমতি রয়েছে কি না এবং থাকলে সেই অনুমোদনের শর্তগুলো কী। স্থানীয়দের দাবি, কুড়াখাল এলাকার মৃত হানিফ খাঁর ছেলে আবু তাহের সেখানে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ও বালু উত্তোলন করছেন। এতে আশপাশের তিন ফসলি জমির স্বাভাবিক গঠন, উর্বরতা ও ভবিষ্যৎ চাষাবাদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করবে এবং কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়লে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
তবে ড্রেজিংয়ের অনুমোদন নেই স্থানীয়দের এমন দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত আবু তাহেরের কাছ থেকেও অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো কাগজ পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭ক ধারায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে মাটি বা বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রেও কৃষিজমির উর্বরতা ও উপরিভাগের উর্বর মাটি সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ড্রেজিংয়ের ফলে পার্শ্ববর্তী জমির ক্ষতি বা ধসে পড়ার আশঙ্কার বিষয়টিও বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু বলেন, গত পাঁচ বছরে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ফসলি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৬১ হেক্টর থেকে কমে ২৩ হাজার ৯১৪ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ফসলি জমি কমেছে ১৪৭ হেক্টর।
তিনি বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত থাকলে মাটির গুণগত মান ও উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিজমি ও এর উর্বর উপরিভাগের মাটি সংরক্ষণে নজরদারি জরুরি।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুড়াখাল এলাকায় নতুন করে ড্রেজার চালুর বিষয়টি আমার জানা নেই। সেখানে ড্রেজিং কার্যক্রম চলার তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন বলেন, কুড়াখাল এলাকায় ড্রেজার স্থাপনের বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে স্থানীয় নায়েবকে পাঠানো হয়েছে। ড্রেজারটি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এরপরও সেখানে ড্রেজার চালিয়ে মাটি উত্তোলন করা হলে বিষয়টি আর ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।
স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমির ক্ষতি হয়ে থাকলে তা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।