খুলনা জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও মতবিনিময় সভা গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষকসহ কেসিসি ও কেডিএ’র কর্মকর্তা এবং নাগরিক নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। সভায় জিয়া হল কমপ্লেক্সে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে সে বিষয়ে উপস্থিত সকলের মতামত গ্রহণ করা হয় এবং মতামতের ভিত্তিতে জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়ন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় কেসিসি প্রশাসক জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের দাবির বিষয় তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘একটি আধুনিক সিনেপ্লেক্স, আধুনিক লাইব্রেরি ও টপ ফোরে ফুডকোর্ট রাখার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি রয়েছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত বিশিষ্টজনরা আর্ট এক্সিবিশন আয়োজনের জন্য একটি আর্ট গ্যালারি, নৃত্যকলার জন্য একটি স্পেস, ওপেন নাট্যমঞ্চ রাখারও দাবি জানিয়েছেন। সবকিছুর সম্মেলন ঘটিয়ে একটি নান্দনিক স্থাপন্য নির্মাণ করাই আমাদের লক্ষ্য।’ শিববাড়ি মোড়কে নগরীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকদের চাহিদা ও রুচিবোধের সাথে সমন্বয় রেখে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই চত্বরের ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিকল্পনায় রেখে জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. খোন্দকার মাহফুজ উদ দারাইন, সহযোগী অধ্যাপক এস এম নাজিমউদ্দীন কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম, কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, সিসভাসের স্বত্বাধিকারী এস এম নাজিমুদ্দিন পায়েল, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ, নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন, নাগরিক নেতা শেখ আশরাফ উজ্জামান, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খোকন, নারী উদ্যোক্তা শামীমা সুলতানা শিলু উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে উপস্থিত সকলে জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ব অষ্টগ্রাম পীর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকা শরীফের তিনতলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ওই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অত্র দরবার শরীফের গদিনশীন পীর আলহাজ ফজলুল করিম উপস্থিত থেকে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি এবং সার্বিক মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পবিত্র আল-কোরআনের কাব্য অনুবাদকারী আলহাজ মোহাম্মদ তৈয়ব আলী ও আলহাজ শাফিউদ্দিন সরদার।
এ সময় এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, স্থানীয় মুরুব্বি এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ইটভাটার দেয়াল ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরপুমদী ইউনিয়নের রামপুর এলাকায় মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের ইটভাটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকরা হলেন, দক্ষিণ চরপুমদী এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান উৎপল (২৭) এবং একই গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের ছেলে গোলাপ মিয়া (৬০)। তারা দুজনই ওই ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রামপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের ইটভাটায় কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে ইটের দেয়াল ধসে শ্রমিকদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটাটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাঁদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর এর আগে ইটভাটাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। এরপরও পাশের একটি বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ইটভাটাটির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোমিন ভূঁইয়া জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া মেসার্স মায়ের দোয়া ব্রিকস পরিচালনার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার জানা মতে, সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার কথা নয়।
নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মকর্তাদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ১লাখ ৪২ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল এবং ৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ৬-৮ অক্টোবর নওগাঁ, জয়পুরহাট দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে স্বপন(২৮) একই গ্রামের ওয়াজেদের ছেলে হাসান আলী (২৫), ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মকর্তা অলংকার দিঘি গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সুজন (২৭) ও সিমলাদার গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে আবু তালেব (২২), এজেন্ট ব্যাংকের অফিস সহায়ক অলংকার দিঘি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রাসেল বাবু (২২) এবং মোটরসাইকেল মালিক রাব্বি আলী।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত ০৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মচারী ক্যাশিয়ার এবং অফিস সহায়ক আদিমদিঘী রেল গেট হতে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে তার মালিক ফিরোজ হোসেনের আবাদপুকুর বাজার শাখার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে রওনা দেয়। বেলা ১টার দিকে রানীনগর থানার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌছালে পিছন থেকে একটা মোটরসাইকেল তাদের পথ রোধ করে এবং লোহার স্টিক দিয়ে মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি চৌকস টিম গঠন করা হয়। ওইদিন রাত ১১টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার চৌকস টীম ও রানীনগর থানার বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রাথমিক ক্ল্যু উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে দুই জন আসামি সনাক্ত করে। ঐ দিন রাতেই জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রানীনগর থানা অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যাবহৃত রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ করে এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, ৭ অক্টোবর পরের দিন রাতে আমার তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা নওগাঁর একটি স্পেশাল টীম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর ও দিনাজপুর জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের ঘটানার সাথে জড়িত স্বপন (২৮) এবং হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেয়া তথ্য মতে ০৮ অক্টোবর রানীনগর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আসামি ইসলামী ব্যাংক এজেন্টে ব্যাংকিংয়ের অফিস সহায়ক রাসেল, কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব কয়েক মাস যাবত অনলাইন জুয়া খেলে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা হেরে যায়। তখন তারা বিভিন্ন গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়া খেলায় ব্যবহার করে এবং হেরে যায়। তখন তারা তিনজন গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী স্বপন, হাসানসহ কয়েকজন মিলে এজেন্ট ব্যাংকিয়ের মালিক মোঃ ফিরোজ হোসেনের টাকা ডাকাতির পরিকল্পনা করে। তারা দীর্ঘ একমাস যাবত এই পরিকল্পনা করতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ব্যাংকের ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে টাকা আনতে যায়। টাকা নিয়ে অফিসের দিকে যাবার সময় আসামি রাসেল বাবু, স্বপন এবং হাসানসহ পলাতক আসামিদের তাদের অবস্থান জানাতে থাকে। ঘটনা স্থলে টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে নাজমুল ও আসামি রাসেল পৌছালে স্বপন এবং হাসানসহ পলাতক কয়েকজন তাদেরকে আটকিয়ে মারধর করে এবং টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ক্যাশিয়ার নাজমুল ছিল প্রকৃত ভিকটিম, তাকে লোহার পাইপ দিয়ে বেশ মারধর করা হয়। অন্যদিকে টাকা বহনকারী অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ছিল সাজানো এবং মিথ্যা ভিকটিম।
পুলিশ সুপার বলেন, ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকের তিনজনকে ১০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য সকল ছিনতাইকারীরা মিলে বাকি টাকা নেওয়ার কথা ছিল।এরমধ্যে ছিনতাইকারী স্বপন এবং হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া হয় এবং তাদেরকে নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। সেই মোতাবেক ছিনতাইকারী হাসান ও স্বপন জয়পুরহাট হয়ে দিনাজপুর পালিয়ে যায়। সকল আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক (ওসি ডিবি) হাসিবুল্লাহ হাসিব, নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান, রানীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত (ওসি) জাকারিয়া মন্ডলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সুলতানের শিশুস্বর্গে চিত্রাঙ্কন অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রামীণ পরিবেশ-প্রকৃতি, এস এম সুলতানের প্রতিকৃতি, দেশের ইতিহাস-ঐহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয় শিশু-কিশোরদের রঙতুলিতে উঠে এসেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন-জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, চিত্রশিল্পী নিখিল দাস, চিত্রশিল্পী সাকি, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য নড়াইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সংগ্রহশালা চত্বরে সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া মোনাজাত, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। এদিকে, ২০০১ সাল থেকে সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে সুলতান স্বর্ণ পদক দেয়া হয়।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শেওড়াতলা সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় লোকজনের তৎপরতায় এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৩টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর আওতাধীন মেহেরপুরের শেওড়াতলা সীমান্তের ১৪৪/৪-এস নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
৪৭ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতের ১১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের বিজয় মাঠপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেন। গোয়েন্দা তথ্য এবং সীমান্তে বিজিবির টহল দলের সতর্ক অবস্থানের কারণে বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বিজিবি সদস্যরা এ চেষ্টা প্রতিহত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘটনার পর বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। এ ঘটনায় ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে।
বিজিবি জানায়, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে সীমান্তের ১০৪ নম্বর গেট দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যান। বিশেষ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তারা বর্তমানে বিজয় মাঠপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে অবস্থান করছেন।
৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।
ময়মনসিংহ নগরীর ব্যস্ততম বাঘমারা রেলক্রসিং এলাকায় যানজট নিরসনে সরেজমিনে রাস্তায় নেমে তৎপরতা চালিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন। রং সাইডে যানবাহন প্রবেশ এবং সড়কে বিশৃঙ্খলভাবে চলাচলের কারণে সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
বাঘমারা রেলক্রসিং নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থল। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ব্যস্ত সময়ে এখানে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে কিছু যানবাহন নিয়ম না মেনে রং সাইডে প্রবেশ করায় তৈরি হয় তীব্র যানজট। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারী ও সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সরেজমিনে বাঘমারা রেলক্রসিং এলাকায় যান ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন। এ সময় তিনি নিজে রাস্তায় অবস্থান করে যানবাহন চলাচলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। রং সাইডে প্রবেশকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এ সময় প্রশাসক সড়কে যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে যত্রতত্র গাড়ি থামানো, রং সাইডে প্রবেশ এবং নিয়ম না মেনে সড়ক ব্যবহারের কারণে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
স্থানীয়রা জানান, বাঘমারা রেলক্রসিং এলাকায় যানজট নতুন কোনো সমস্যা নয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে একদিকে রেলক্রসিংয়ে ট্রেন চলাচল, অন্যদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও রং সাইডে গাড়ি প্রবেশের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। অনেক সময় যানজট আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী অ্যাম্বুলেন্স, রোগীবাহী যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের সময় নষ্ট হয়।
নগরবাসীর অভিযোগ, অনেক চালক যানজট এড়াতে নিয়ম ভেঙে রং সাইড দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সাময়িকভাবে একটি গাড়ি এগিয়ে গেলেও উল্টো দুই দিকের যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে যানজট আরও বেড়ে যায়। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চালকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
প্রশাসকের সরেজমিনে উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক তৎপরতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, শুধু তাৎক্ষণিকভাবে নয়, বাঘমারা রেলক্রসিং এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে রং সাইডে যানবাহন চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ এলাকায় যানজটের মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে।
ময়মনসিংহ নগরীর যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসকের এমন সরেজমিনে তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচলে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বহু ডিসেম্বর পার হয়ে গেলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর বোন শেখ রেহানা আর কখনোই দেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন না। শুধু শেখ হাসিনাই নন, শেখ রেহানাও বাংলাদেশে ফিরবেন না। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মাগুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রাব্বির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি বার্তার সূত্র ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, শেখ রেহানা ফেসবুকে পোস্ট করে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন।’ অথচ বাস্তবতা হলো শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছেন এবং সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগও বিতাড়িত হয়েছে, যদিও তাদের কিছু দোসর এখনও সমাজে রয়ে গেছে। বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অধ্যায় চিরতরে শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইতিহাসের এমন বর্বরোচিত গণহত্যার পরও দলটিকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হলে তা শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বেইমানি করার শামিল হবে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিরোধী দলগুলো গণহত্যার উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করার চেয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি সুযোগ তৈরি হলে ক্ষমতা লাভের জন্য জামায়াতে ইসলামীও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে কুণ্ঠাবোধ করবে না বলে তিনি দাবি করেন।
কবর জিয়ারত সম্পন্ন করে রাশেদ খাঁন শহীদ রাব্বির নিজ বাসভবনে গিয়ে তাঁর শোকসন্তপ্ত মা, স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং রাব্বি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার আগে বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে কাজ করছেন। আমরা চাই এই দেশটি উন্নত হোক, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হোক। দেশের উন্নয়ন হলে সবার উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরেই আমরা দেশের উন্নয়ন করব, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাব।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে সচেতনতা সভা ও জেলে পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো মূল্যেই হোক নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে কেউ যাতে নদীতে ইলিশ ধরতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মাদারীপুর ইলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই পদ্মা নদীতে সুস্বাদু রূপালি ইলিশ পাওয়া যায়। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে এর সুফল সবচেয়ে বেশি পাবেন জেলেরাই। তাই মাত্র ২২ দিনের এই কষ্টকে ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং এর মাধ্যমে জেলেদের আয় ও সম্পদের পরিমাণও বাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জলাশয় উন্মুক্ত থাকবে, ‘জাল যার, জলা তার’। আমরা জেলেদের পাশে আছি এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলোর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ভিজিএফের চাল বিতরণ করছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবেন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাবীব খান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার। এ সময় শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান, বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ জেলে ও ভিজিএফের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ১৫১ জেলে পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে সরকারি সহায়তার ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।
গ্যাস সংকটে আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও চাপ কম থাকায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। এর দুই দিনের মাথায় বুধবার (৭ অক্টোবর) বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
যমুনা সার কারখানার উপমহাব্যাবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতে কাজ চলছে। ত্রুটি সারিয়ে দুই দিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে।
কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কারখানা চালু হওয়ায় শুরুতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। বয়লারের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। শুক্রবারের মধ্যে মেরামত করে উৎপাদন শুরুর চেষ্টা চলছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। গ্যাসসংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। পরে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারও যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্যাসসংযোগ দেওয়া হয় সার কারখানায়। সকল প্রস্তুতি শেষে গত সোমবার ভোররাতে আবারও সার উৎপাদন শুরু করেছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ।
একসময় সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের চেহারা বদলে দিতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দুর্গম পাহাড়ি এ এলাকায় এবার রাজশাহীর সারদার আদলে আধুনিক পুলিশ একাডেমি গড়ে তোলা হবে। প্রায় ৩০০ একর জায়গায় একাডেমি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ৭২ একর জমিতে স্থানান্তর করা হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার। একই সঙ্গে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, একসময়ের ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের স্থায়ী কাঠামোর আওতায় আনা। সরকারি খাসজমি উদ্ধার, অবৈধ বসতি পুনর্বাসন, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
৩০০ একরে পুলিশ একাডেমি: সরকারের অন্যতম বড় পরিকল্পনা প্রায় ৩০০ একর জায়গায় সারদার আদলে একটি আধুনিক পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা। সেখানে পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
এর পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও এসআরবির জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে সুশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
৭২ একরে যাবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার: জঙ্গল সলিমপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ইতোমধ্যে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান কারাগারের পরিবর্তে নতুন স্থানে আধুনিক কারা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ একাডেমি, কারাগার এবং একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা একই এলাকায় গড়ে উঠলে জঙ্গল সলিমপুরের প্রশাসনিক ও কৌশলগত গুরুত্বও বাড়বে।
সরকারি জমি উদ্ধারে জোর: জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা সরকারি পাহাড় ও খাসজমি সুশাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দীর্ঘদিন ধরে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে এসব মানুষকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’
দুর্গমতা কাটাতে সড়ক নির্মাণ: জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম ভূপ্রকৃতি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন বড় বাধা ছিল। সেই বাধা কাটাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে।
নির্মাণাধীন সড়কগুলো বায়েজিদ লিংক রোড, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে। ফলে ওই এলাকায় মানুষের চলাচলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে দুই সেনাক্যাম্প: এদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঠেকাতেও নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হবে। রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে ক্যাম্প দুটি পরিচালিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ বন্ধে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ অনুযায়ী দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ক্যাম্পে বাড়বে নজরদারি: রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি সোলার লাইট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে ক্যাম্পের প্রবেশপথ, আশপাশের পাহাড়ি এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হবে।
অপরাধ দমনে যৌথ অভিযান: ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে এপিবিএনের নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে ক্যাম্পের অপরাধ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে গতি আসবে।
তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় নিরাপত্তা জোরদারের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ ও পর্যটন: জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা শুধু নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটনের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। প্রায় ৪০ একর জায়গায় নাইট সাফারি পার্ক ও পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সরকারি জমি উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে জায়গা একসময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল, সেটিকে সুশাসন ও শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। আর সেই লক্ষ্যেই জঙ্গল সলিমপুরে একদিকে তৈরি হচ্ছে পুলিশ একাডেমি, কারাগার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী অবকাঠামো, অন্যদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে জোরদার করা হচ্ছে সেনা ও পুলিশের নিরাপত্তা কাঠামো।’
কচুরিপানায় ঢাকা রূপগঞ্জের খাল বিল। পুকুরগুলোতে সারা বছর পানি থাকত, সেই পানিতে ঘুরে বেড়াত বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলাসহ দেশি নানা প্রজাতির মাছ। আবাসন কোম্পানি বালি ফেলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র খাল বিল পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলেছে। রূপগঞ্জের মাছের সুখ্যাতি ছিল মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, মাদারটেক, বাসাবো, নন্দীপাড়া, ডেমড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলোতে।
সরেজমিনে উপজেলার নগরপাড়া বিলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বিল কচুরিপানায় ঢাকা। একসময় বিলটি ছিল দেশি মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল। রূপগঞ্জের মাছ ছড়িয়ে পড়ত বিস্তীর্ণ এলাকায়। একই সঙ্গে এটি ছিল জেলেদের জীবিকার অন্যতম উৎস। দখল ও ভরাটে সেই জলাধার হারিয়ে গেছে। নদী শুকালেও এসব বিলে পানি থাকত।
আগরপাড়ার বাসিন্দা ছমিরুন খাতুনের (৬৫) স্মৃতিতেও ভেসে আছে সেসব দিন। তিনি বলেন, ‘আশপাশের মানুষ বিলের পানি ব্যবহার করতেন।’ ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পানিতে এসে পূজা করতেন।
স্থানীয় আবুল হোসেন (৬৫) ও সঞ্জিবন সরকার (৬৬) বলেন, ‘খাল-বিলগুলোতে এখন বালু আর কচুরিপানার বিস্তার। পানির সেই গভীরতা নেই, নেই মাছের ঝাঁক ও জেলেদের ব্যস্ততা।’
বিলের ওপর বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। ফুরিয়েছে মাছ, ফুরিয়েছে আয়। একসময় জেলেরা মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাতেন জানিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান (৫৭) বলেন, ‘ভরাট আর দখলে দেশি প্রজাতির মাছও আর আগের মতো দেখা যায় না।’
মশুরী এলাকায় বসবাস করে কয়েকটি জেলে পরিবার। তাদের একজন মানিক সরকার (৫০)। একসময় মাছ ছিল তাদের আয়-রোজগারের বড় উৎস। তিনি বলেন, ‘নদীর পশ্চিম পাশে বালু ফেলে সব ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানিও নেই, মাছও নেই, জেলেদের সেই আয়ও নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি বিল হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি জলাধার হারিয়ে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে হারিয়েছে দেশি মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল, জেলেদের জীবিকার একটি উৎস এবং এলাকার পুরোনো সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। বিল ও জলাভূমি রক্ষা করা গেলে জীববৈচিত্র্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মৃধার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খাল-বিল ভরাট করে ফেললে তো মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবেই। মাছের উৎপাদন কমে যাবে। জেলেদের আয় রোজগার কমে যাবে। মৎসজীবীরা বেকার হবে। জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একসময় রূপগঞ্জ থেকে দেশি জাতের মাছ হারিয়েই যাবে।’
‘কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি যাওয়া নিজের ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে এসে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত তার চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘গত বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন তিনি। তখন নিজের জিনিসপত্র একজনের কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তা নন। টাকা তুলে ফিরে এসে দেখেন, ওই ব্যক্তি ও তার জিনিসপত্র—দুটিই নেই। ব্যাগে তার ম্যাকবুক ও ক্যামেরা ছিল।’
ঘটনার পর নাটোরে থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান তিনি। ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমরা নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারিনি। তবে আশা করছি, আমরা আমার জিনিসপত্রের অবস্থান খুঁজে পাব।’
ল্যাপটপে কোনো পাসপোর্ট ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার পাসপোর্ট ও মুঠোফোন তার কাছেই আছে। তবে ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর।’ পুলিশ তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ছিলেন ক্রিল ল্যান্ডার। গত বুধবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একটি হোটেলে তার থাকার ব্যবস্থা করে পুলিশ। তাকে খাবারও সরবরাহ করছে পুলিশ।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত বুধবার নাটোর রেলস্টেশনে ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় জিডি করেন ওই পর্যটক। বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি কাজ শুরু করে। পরে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।’
ওসি বলেন, ‘প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় দেখা যায়। পরে রাত ১১টার দিকে পর্যটক রাজশাহীতে আসেন। তখন ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, আরএমপির বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও র্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান।’
তিনি জানান, তবে ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হয়। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার হয়নি।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নাটোর রেলস্টেশনের প্রথম শ্রেণির বিশ্রামকক্ষ থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের ব্যাগ চুরি হয়। বগুড়া ঘুরে সান্তাহার থেকে ট্রেনে দর্শনার উদ্দেশে যাওয়ার পথে ভুল করে নাটোরে নেমেছিলেন তিনি।