সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ওমরাহ পালনে গিয়ে সৌদিতে হামলায় নিহত নাসরুল্লাহ, শোকে স্তব্ধ পরিবার

* মরদেহ দেশে আনতে সরকারের কাছে অনুরোধ স্বজনদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা
প্রকাশিত
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা
প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩২

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ৪৫ জনের একটি দলের সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাফেজ মুফতি মো. নাসরুল্লাহ (৪৫)। কিন্তু ধর্মীয় সফরে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তার। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তার মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ পরিবার। বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা তিন শিশুসন্তান। অন্যদিকে, একই দলের সঙ্গে ওমরাহ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার চাচাতো ভাই দাউদুল ইসলাম। দুই পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

নাসরুল্লাহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক সামলানোর চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

নিহত নাসরুল্লাহর ছোট ভাই হাফেজ মাওলানা মো. আতিকুল্লাহ বলেন, ‘ভাইয়ের এমন মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও তিন শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন পুরো পরিবার।’ তিনি নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার পরিবারের দায়িত্ব নিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

নিহতের ছোট ভাই হাফেজ মাওলানা মো. আতিকুল্লাহ বলেন, ‘ভাইকে হারিয়ে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

চার ভাইয়ের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। তার বাবা-মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল পরিবার। চার ভাই-ই পবিত্র কোরআনের হাফেজ। নাসরুল্লাহর বড় ছেলে জামিলের বয়স মাত্র আট বছর। সে জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। যে বয়সে বাবার স্নেহ-ছায়ায় বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই বাবাকে হারাল জামিল ও তার দুই ভাইবোন।

সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ নাসরুল্লাহর বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ। ছেলের মৃত্যুর খবর কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। শোকের এই সময়ে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘ছেলেকে হারিয়ে তিনি ভেঙে পড়েছেন।’ শেষবারের মতো ছেলের মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

এদিকে, একই দলের সঙ্গে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন নাসরুল্লাহর পাশের বাড়ির চাচাতো ভাই দাউদুল ইসলাম। হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছেন। সন্তানের আহত হওয়ার খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তার বাবা মাওলানা মুহিবুল্লাহ। ছেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। সৌদি আরবে দাউদুলের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।


নির্বাচিত

ডিসেম্বরে খুলবে হাটিকুমরুল ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ, কমবে উত্তরের দুর্ভোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা কামাল, সিরাজগঞ্জ

যমুনা সেতু পার হওয়ার পরই উত্তরবঙ্গের পথে শুরু হয় যানজট ও ধীরগতির চিরচেনা ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয় যাত্রী ও পণ্যবাহী যানকে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ বাড়লে ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলগামী ২২ জেলার মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। গত বছরও ঈদে ঘরমুখো মানুষের এই দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি। যমুনা সেতুর দুই প্রান্তে সৃষ্টি হওয়া যানজটের প্রভাব পড়ে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও হাটিকুমরুল মোড়েও।

আগামী ঈদের আগেই এ দুর্ভোগ কমাতে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারচেঞ্জসহ সাসেক-২ চারলেন সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এর অংশ হিসেবে হাটিকুমরুল মোড়ে নির্মাণাধীন ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের এ অংশের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত দুই শিফটে চলছে নির্মাণকাজ।

ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর সঙ্গে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে নির্ধারিত সময়ে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে। সাসেক-টু প্রকল্পের অধীন রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ কাজ শুরু হয় প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৬ সালে। ২০২২ সালে সিরাজগঞ্জের হাটি- কুমরুল মোড়ে ক্লোভার লিভ ইন্টার চেঞ্জ ফ্লাইওভার প্রকল্পে কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। বর্ধিত মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত প্রধান কাঠামো যান চলাচলের উপযোগী করার চাপ রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের ওপর।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন ইন্টারচেঞ্জটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বালু ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, ব্রিজ নির্মাণ ও সার্ভিস এরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের বড় অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ছয়টি সার্ভিস লেনও খুলে দেওয়া হয়েছে।

সাসেক-২-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সরফরাজ হোসাইন বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে ইন্টার চেঞ্জ ফ্লাইওভারের মূল স্ট্রাকচার বা প্রধান কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের উপযোগী করাই লক্ষ্য। এ জন্য শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা দুই শিফটে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।’ প্রকল্পের নির্মাণ ও তদারকিতে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাসেক-২-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, জরিপকাজের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে জিপিএস প্রযুক্তি এবং নির্মাণকাজের নিবিড় তদারকিতে বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (বিআইএম) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ‘যমুনা সেতুর উপরিভাগের’ পুরোনো রেললাইন, যা ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে, সেখানে দুই লেন সম্প্রসারণের কাজও শেষ করতে না পারলে সাসেক প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি ভোগ করা যাবে না। যানজটের স্থায়ী সমাধানও হবে না। ইতোমধ্যেই যমুনা সেতু ও রেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। পাশাপাশি মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও আধুনিকিকরণ করা প্রয়োজন।’

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশাও কম নয়। সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার প্রকল্প সহ পুরো চারলেন রাস্তা চালু হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও শিল্পসামগ্রী দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানো যাবে। পরিবহন সময় ও ব্যয় কমলে এর সুফল পাবেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তা উভয়েই।’

এদিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘যমুনা সেতুর উপরিভাগে রেলট্র্যাক অপসারণের পর আন্তর্জাতিকভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর উপরিভাগ সম্প্রসারণের জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত মে মাসে চুক্তি হয়েছে। তবে ১৮ মাসের চুক্তির মধ্যে ঠিকাদারি মালামাল সংগ্রহ ও তাদের এস্টাবলিশমেন্টের জন্য ইতোমধ্যে পাঁচ মাস পার হয়ে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে, আগামী রোজার ঈদের আগে সেতুর সম্প্রসারণ অংশে চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। তা না হলে চলাচলে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হতে পারে।’

যমুনা সেতু দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়কপথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন এ পথ ব্যবহার করে। সেতু পার হওয়ার পর বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট ও ধীরগতির কারণে বাড়ে যাত্রার সময়। হাটিকুমরুল ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে সেই চাপ কতটা কমে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে এটি চালু করা গেলে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি রাজধানীর সঙ্গে উত্তরের বাণিজ্যিক যোগাযোগেও নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


নির্বাচিত

নওগাঁ সরকারি কলেজে ক্যান্টিনের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত ক্যান্টিন স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কলেজ চত্বরে নওগাঁ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের ব্যানারে এই বিক্ষোভ হয়। পরে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন ছাত্রদলের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ সময় নওগাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রেদোয়ানুর রহমান রওনক, সাধারণ সম্পাদক সজিব হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মারুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ হাসান রাব্বিসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করলেও মানসম্মত ও সুনির্দিষ্ট কোনো ক্যান্টিন নেই। ফলে দুপুরের খাবার, টিফিন ও বিশুদ্ধ পানির জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে কলেজের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন; যা ছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও নিরাপত্তাহীনতারও কারণ।’

তারা আরও জানান, ক্যাম্পাসে সুলভ মূল্যে একটি পরিচ্ছন্ন ক্যান্টিন থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাবারের নিশ্চয়তা মিলবে এবং পড়াশোনায় স্বস্তি ফিরবে। তাই শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত একটি আধুনিক ক্যান্টিন স্থাপনের জোর দাবি জানান বক্তারা।

নওগাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রেদোয়ানুর রহমান রওনক বলেন, ‘ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষরসহ অধ্যক্ষের কাছে আমাদের এই যৌক্তিক দাবি পেশ করেছি। আমরা আশা করি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন দ্রুত ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুলভ মূল্যের মানসম্মত ক্যান্টিন স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’


নির্বাচিত

বকেয়া ১,২৬৩ টাকার বলি চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া, ঘাতকের ফাঁসির রায়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

দোকানের বাকি মাত্র ১ হাজার ২৬৩ টাকা চাওয়াই কাল হয়েছিল চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়ার। সেই তুচ্ছ পাওনা টাকার জেরে দিনদুপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকি সাত আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়া।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের নারাইনপাশা এলাকায় নিজের চায়ের দোকানে বসে পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা ছাদিক মিয়ার কাছে চান দুরুদ মিয়া। সামান্য টাকা চাওয়ায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাদিক। দোকান থেকে তক্ষুণি চলে গিয়ে কিছুক্ষণ পরই দলবল নিয়ে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফিরে আসেন তিনি। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রকাশ্য দিবালোকে দুরুদ মিয়ার ওপর চালানো হয় অতর্কিত হামলা; ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।

স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত দুরুদ মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বর্বরোচিত ঘটনার পর ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে আটজনকে অভিযুক্ত করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, ‘মাত্র ১ হাজার ২৬৩ টাকার জন্য একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হলো।’

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত শেষ করায় মামলাজট কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার পাওয়ার সুফল পাচ্ছেন। বিচার বিভাগের এই গতিশীলতা বজায় থাকলে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাবে।


নির্বাচিত

জীবন বাজি রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেন ওসি নয়ন কুমার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার বেড়ায় ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, যদি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও সাহসী ভূমিকা না থাকত, তবে বড় ধরনের রক্তক্ষয় ও বহু প্রাণহানির মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারত। জীবন বাজি রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার ও তার সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স।

গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত বেড়া পৌর এলাকার নাজিম বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি দোকান ও অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়া পৌর এলাকার বেড়া বিবি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বেশ কিছুদিন ধরে ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল। গত রোববার (১১ অক্টোবর) টুর্নামেন্টের খেলায় পৌরসভার ২ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দল মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে ড্র হলে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময়ই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরপাড়া এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম মহল্লার বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুরো নাজিম বাজার এলাকা মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মাঝে বেশ কিছু দোকানপাটে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি অন্তত ১৫টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুলান্ট চাকমা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি চরম রূপ নিলে জীবনঝুঁকি উপেক্ষা করে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে নামেন বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া ও সুজানগর থানা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই মুখোমুখি অবস্থানরত পক্ষের মাঝখানে দাঁড়ান এবং টানা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পুলিশ যদি সময়মতো চরম সাহস ও ধৈর্যের পরিচয় না দিত, তবে এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের একাধিক তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা ছিল।

বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও আমাদের পুলিশ সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ এবং এসআরবি মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে ভাব থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।


নির্বাচিত

মঞ্চ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ফুল দিয়ে নবীনদের বরণ করলেন এমপি জিলানী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে মঞ্চ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে স্বাগত জানান গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনব্যাপী কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়।

কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. এনায়েত বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গৌরাঙ্গ লাল চৌধুরী ও কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বসার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান হাওলাদার এবং সাবেক ভিপি ও বিএনপি নেতা ফায়েকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, নবীন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য এসএম জিলানী নবীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি মাদক থেকে দূরে থাকা এবং নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সুশিক্ষা ও ভালো চরিত্র গঠনের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে অত্র কলেজ থেকে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর ভর্তি হওয়া ৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

রাজবাড়ীতে ডিবির অভিযানে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার তিন, ট্রাক জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি টাটা কার্গো ট্রাক ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালসংলগ্ন গোয়ালন্দঘাট থানার শাহ্‌ মেম্বারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার গয়রা এলাকার মো. রমজান আলী (৩৪), দিঘীরপাড় এলাকার মো. আরমান হোসেন ইউনুস (৩০) এবং কাগমারী এলাকার মো. আরিফ হোসেন (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, রমজান আলীকে মাদক চালানের মূল কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরমান ট্রাকচালক এবং আরিফ হেলপার হিসেবে কাজ করতেন।

রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল একটি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান পরিবহন করা হচ্ছে এরকম জানতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয় পুলিশ।

পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১১১৮ নম্বরের একটি টাটা কার্গো ট্রাকের গতিরোধ করা হয়। ট্রাকটির চালক, হেলপার ও চালকের পেছনের বক্সে থাকা এক ব্যক্তির কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তিনজনকে আটক করেন।

পরে ট্রাকের বক্স তল্লাশি করে ১৫০টি নীল রঙের জিপার ব্যাগে রাখা ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি এবং রেডমি-১২-৫জি ও টেকনো কেএম৫ মডেলের দুটি স্মার্টফোন এবং উইনস্টার ডব্লিউ৫০০এমআইডি মডেলের একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবার চালানটি পরিবহন করা হচ্ছিল। এ কাজে ট্রাকচালক ও হেলপার সহযোগিতা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানিয়েছেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমানের সহযোগী ওসমান পাবনায় গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 খুলনা ব্যুরো

খুলনার দৌলতপুর থানার একাধিক হত্যা মামলার আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমানের অন্যতম সহযোগী ওসমানকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৬ এবং এসআরবি-১২ এর যৌথ আভিযানিক দল।

গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার দেওয়ান মুন্সির ছেলে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এসআরবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয় এসআরবি-৬, সিপিসি স্পেশাল কোম্পানি এবং এসআরবি-১২ এর যৌথ আভিযানিক দল আজ সোমবার রাত আড়াইটায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আমিনপুর থানাধীন সাগরকান্দি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ওসমান খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ আরমান বাহিনীর প্রধান আরমানের অন্যতম সহযোগী।

তার পিসি-পিআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, খানজাহান আলী ও আড়ংঘাটা থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মারামারি, চুরিসহ একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামি ওসমানকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাবনা জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ঘুমন্ত স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, সাবেক স্ত্রী-শাশুড়ি আটক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী তানিয়া (৪০) ও শাশুড়ি করফুলের নেছাকে (৫৮) আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কামাল সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের খলিলুর রহমানের ছেলে। তার প্রাক্তন স্ত্রী তানিয়া সদর উপজেলার পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের আমজাদ হাজী মসজিদ বাড়ির আমির হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, জুয়া খেলায় আসক্তি নিয়ে কামালের সঙ্গে তানিয়ার পারিবারিক কলহ ছিল। এর জেরে পাঁচ-ছয় বছর আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও কামাল তার স্ত্রীকে কাজে যাওয়া-আসার পথে বিরক্ত করতেন। কিছুদিন আগে কামাল সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে আসেন। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাড়িতে জায়গা দেননি। এরপর থেকে তার মেয়েকে দেখতে তিনি শ্বশুর বাড়ির পাশের মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠে মাথার নিচে ইট দিয়ে ঘুমাতেন।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ওই মাদ্রাসার মাঠে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামাল ইট দিয়ে তার সাবেক শ্বশুর আমির হোসেনকে মারধর করে আহত করেন। এ ঘটনার জেরে পরদিন রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা থেকে আসেন কামালের শ্যালক আকাশ (২০)। এরপর গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত কামালকে তার স্ত্রী তানিয়া, শাশুড়ি করফুলের নেছা ও শ্যালক আকাশ কামালের পেটের বাম পাশে, পিঠে, মাথায়, হাতে ও বাম ঊরুতে ছরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।’


নির্বাচিত

চুয়েটে তালা ভেঙে প্রবেশ করলেন নতুন উপাচার্য

চুয়েটে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১১ অক্টোবর) ও সোমবার (১১ অক্টোবর) ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল উপাচার্যের। এ জন্য গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তার অনুপস্থিতিতে গত রোববার (১১ অক্টোবর) ও সোমবারের (১২ অক্টোবর) জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে পূর্বঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী উপাচার্য ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেলেও গতকাল সোমবার সকালে হঠাৎ চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি।

এ সময় ছাত্রদলপন্থি বর্তমান ও সাবেক আট থেকে দশজন শিক্ষার্থীও তার সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। পরে তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।


নির্বাচিত

ইবিতে বায়োটেকনোলজি বিভাগের পোস্টার প্রেজেন্টেশন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. সাকিব আসলাম, ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘International Seminar on Mycology, Biotechnology and Sustainable Environment (ISMBSE)’-এর অংশ হিসেবে প্রজেক্ট পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবনের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এই প্রেজেন্টেশনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ গবেষণাভিত্তিক প্রজেক্টের মূল বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য ও প্রাপ্ত ফলাফল পোস্টারের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা জামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুধাংশু কুমার বিশ্বাস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। এ ছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রেজওয়ানুল ইসলাম।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক (Keynote Speaker) হিসেবে বক্তব্য দেন চীনের বেইজিং ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটির ‘স্কুল অব ইকোলজি অ্যান্ড নেচার কনজারভেশন’-এর অধ্যাপক ড. হে শুয়াংহুই (Dr. He Shuanghui)। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (CAS) ‘ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোবায়োলজি’র সহযোগী অধ্যাপক ড. লিউ শি-লিয়াং (Dr. Liu Shi-Liang)।

অনুষ্ঠানে চীনা আমন্ত্রিত গবেষকরা তাদের দীর্ঘ গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন, যা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ অন্বেষণে অনুপ্রাণিত করবে।

আয়োজকরা জানান, এই প্রজেক্ট পোস্টার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক গবেষণাকর্ম উপস্থাপন ও বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। মাইকোলজি, বায়োটেকনোলজি ও টেকসই পরিবেশবিষয়ক গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ জোরদারে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতনিধি

টাঙ্গাইলের মেধাবী শিক্ষার্থী আসিফ হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবারের সদস্য এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট আসিফ নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ১৫ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের গাড়াইল আন্ডারপাসের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

মানববন্ধন থেকে আসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী শনাক্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় বাবা, মা, বোন ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। তারা আসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।


নির্বাচিত

নওগাঁয় চিঠি উৎসব, কাগজের পাতায় ফিরল অনুভূতির ভাষা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. সবুজ হোসেন, নওগাঁ   

একসময় মনের গভীরে জমে থাকা ভালোবাসা, অভিমান, অপেক্ষা কিংবা না-বলা কথাগুলো প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম ছিল চিঠি। ডাকপিয়নের হাতে আসা একটি খাম ঘিরে অপেক্ষার প্রহর গোনা, চিঠির পাতায় প্রিয় মানুষের হাতের লেখা ছুঁয়ে দেখার আনন্দ কিংবা বহুদিন পর পুরোনো চিঠি খুলে স্মৃতির জগতে হারিয়ে যাওয়া। সবই ছিল জীবনের এক অনন্য অনুভূতি। সময়ের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা আবেগ অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। জায়গা করে নিয়েছে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ আর মুহূর্তেই বার্তা পাঠানোর নানা ডিজিটাল মাধ্যম। তবে প্রযুক্তির দ্রুতগতির পৃথিবীতেও চিঠির আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, তারই প্রমাণ মিলেছে নওগাঁয় আয়োজিত ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসবে’।

চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা রেখে যায়। এমন আবেগঘন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

হারিয়ে যেতে বসা চিঠি লেখার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং ডাকসেবার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। উৎসবে কয়েক শ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে কাগজ-কলমে লিখেছেন প্রিয়জনের প্রতি মনের কথা, স্মৃতি আর ভালোবাসার বার্তা।

সকাল থেকেই নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে উৎসবকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। তরুণ-তরুণীদের হাতে কাগজ, কলম ও খাম; কেউ লিখছেন মা-বাবার উদ্দেশে ভালোবাসার কথা, কেউ ভাই-বোনের জন্য স্নেহের বার্তা, আবার কেউ স্মরণ করছেন ফেলে আসা শৈশবের বন্ধু কিংবা প্রিয় কোনো মানুষকে। কারও লেখায় ছিল মনের গভীরে জমে থাকা অনুভূতি, কারও চিঠিতে ফুটে উঠেছে স্মৃতিমাখা দিনগুলোর কথা। ডিজিটাল যোগাযোগের অভ্যস্ত সময়ে কাগজের পাতায় নিজের হাতে অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।

উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিনামূল্যে চিঠি পাঠানোর সুযোগ। অংশগ্রহণকারীরা উৎসবস্থলে বসেই নিজেদের পছন্দের মানুষদের উদ্দেশে চিঠি লেখেন। এরপর সেই চিঠি খামে ভরে কলেজ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী লাল ডাকবাক্সে জমা দেন। অনেকের কাছে এটি ছিল জীবনে প্রথম চিঠি লেখার অভিজ্ঞতা। আবার কেউ দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে পান কাগজে কলম ছোঁয়ানোর পুরোনো স্মৃতি। চিঠির খাম, ডাকটিকিট ও ডাকবাক্সের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে ডাক বিভাগের ঐতিহ্যবাহী সেবাও যেন নতুন করে ধরা দেয়।

উৎসবের উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ উপ ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইদ্রিস আলী শেখ, শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ ডাক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

উৎসবে অংশ নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন। তিনি বলেন, আমি কোনো দিন কাগজে-কলমে চিঠি লিখে কোথাও পাঠাইনি। এটিই প্রথম। আমরা তো সব সময় মেসেঞ্জারে বা ফোনে কথা বলি। কিন্তু আজ প্রথম নিজের হাতে একটি চিঠি লিখলাম। কাগজের পাতায় নিজের হাতে অনুভূতি লিখে পাঠানোর আনন্দ যে এত বেশি হতে পারে, তা আজ চিঠি না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।

শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিনের কথায় ফুটে ওঠে নতুন প্রজন্মের কাছে চিঠি লেখার অভিজ্ঞতার ভিন্ন এক আবেদন। তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের অভ্যাসের বাইরে এসে নিজের হাতে শব্দ সাজানো, প্রিয় মানুষের কথা ভাবতে ভাবতে চিঠি লেখা এবং সেই চিঠি ডাকবাক্সে জমা দেওয়ার মধ্যে তিনি খুঁজে পেয়েছেন অন্য রকম আনন্দ।

গণিত বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বলেন, আমি সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেটি ছিল প্রথম। আর আজ জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো কাগজে চিঠি লিখলাম। চিঠি লেখার সুযোগ পেয়ে এবং বিনামূল্যে চিঠি পাঠাতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে আমরা খুশি।

দুই শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, চিঠি লেখার অভ্যাস কমে গেলেও হাতে লেখা বার্তার প্রতি মানুষের আবেগ এখনো অটুট। প্রযুক্তির পর্দায় কয়েকটি শব্দ লিখে পাঠানোর সঙ্গে কাগজে নিজের হাতের লেখা, অনুভূতি ও স্মৃতি জড়িয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতার রয়েছে আলাদা আবেদন। একটি চিঠি তাই কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি নয়; কখনো তা ভালোবাসার প্রকাশ, কখনো দূরত্ব কমানোর সেতু, আবার কখনো ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া এক টুকরো স্মৃতি।

ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উৎসবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জমা নেওয়া চিঠিগুলো আয়োজন শেষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে যোগাযোগের মাধ্যম দ্রুত ও সহজ হয়েছে। কিন্তু চিঠির গভীরতা, আন্তরিকতা এবং দীর্ঘদিন স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখার যে সুযোগ রয়েছে, তা অন্য মাধ্যমে একইভাবে পাওয়া কঠিন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে চিঠি লেখার সুপ্ত অভ্যাস জাগিয়ে তোলা এবং ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close