শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

অস্ত্র ঠেকিয়ে শিক্ষিকাকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’

ধর্ষণ। প্রতীকী ছবি
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২২ ১৫:২৬

কক্সবাজারের সদরে অস্ত্র ঠেকিয়ে এক শিক্ষিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার সকালে মেহেদী অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী তিনজনকে আসামি করে গতকাল সোমবার রাতে মামলা করেছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নির্যাতিত ওই নারীকে পুলিশ পাহারায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে বলে সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট রাতে কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর মালিপাড়া থেকে ওই নারী তার এক ভাগনির মেহেদী অনুষ্ঠানে যান। সেখানে বেদার মিয়া নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই স্বজনের বাড়ি থেকে ইজিবাইকে করে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার ব্রিজ এলাকায় আসলে বেদার ও তার সহযোগীরা তাকে আরেকটি ইজিবাইকে তুলে নেয়। পরে ওই ইউনিয়নের চান্দের পাড়ার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে।

মামলায় বেদার মিয়াসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। বেদার মিয়ার বাড়ি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা ইউনূছঘোনা এলাকায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী শিক্ষিকার এক স্বজন বলেন, ‘এ ঘটনা পরিবারের লোকজন জানার পর থানায় যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে রামু থানা, সেখান থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায়। মামলা নিতে চাচ্ছিল না। পরে সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা মামলা নিয়েছে।’

ওসি সেলিম উদ্দিন বলেন, মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে সদর হাসপাতালের ক্রাসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। ভিকটিম নিজে মামলার বাদী, সে হিসেবে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। এজাহারের বক্তব্যই জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর এজাহার পাওয়ার পর মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’


নির্বাচিত

জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও সংকটে অষ্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পনির শিল্প

* শিল্পটিকে বাঁচাতে হিমাগার স্থাপনের দাবি এলাকাবাসীর * শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে লড়ছে পনির কারিগররা * বর্ষাকালে দুধের সংকটে বেড়ে যায় উৎপাদন ব্যয়
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)

নদীর জল, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ আর রূপালি ঢেউয়ের মায়াজালে ঘেরা এক জনপদ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম। তবে কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, ঐতিহ্যবাহী পনিরের সাথে এই হাওর উপজেলার আরেকটি বড় পরিচয় জড়িয়ে আছে এক অনন্য স্বাদ ও সুবাসে। শত বছরের প্রাচীন এই 'হোয়াইট গোল্ড' বা সাদা সোনা আজ দেশজুড়ে প্রশংসিত।

গত বছর এই পনির পেয়েছে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের অমূল্য স্বীকৃতি, যা এই শিল্পকে নিয়ে গেছে এক আন্তর্জাতিক উচ্চতায়। কিন্তু এই জৌলুসের আড়ালে অষ্টগ্রামের পনির কারিগর ও ব্যবসায়ীদের দিন কাটছে চরম সংকট আর অস্তিত্বের লড়াইয়ে। বাইরে থেকে যা উৎসবমুখর মনে হয়, ভেতরের বাস্তব চিত্রটা আসলে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত।

অষ্টগ্রামের পনিরের মূল প্রাণ হলো খাঁটি দুধ। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে এই পনির বুঝি কেবল মহিষের দুধ দিয়ে তৈরি। ঐতিহাসিকভাবে মহিষের দুধের পনিরের সুখ্যাতি থাকলেও, বর্তমানে চারণভূমি হ্রাসের কারণে হাওরে মহিষের সংখ্যা বেশ কম। ফলে এখন অষ্টগ্রামের পনিরের সিংহভাগই উৎপাদিত হয় গরুর খাঁটি দুধ থেকে। এই পনিরের উৎপাদন ও গবাদিপশু পালনের সাথে জড়িয়ে আছে হাওরের এক অদ্ভুত ঋতুচক্র।

শুকনো মৌসুমে যখন মাইলের পর মাইল চোখ জুড়ানো সবুজ মাঠ জেগে ওঠে, তখন পশুখাদ্য বা চারণভূমির কোনো অভাব থাকে না। চারদিকে তখন দুধের প্রাচুর্য দেখা যায়। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে বর্ষাকালে। বর্ষার উত্তাল জলরাশি যখন পুরো হাওরকে গ্রাস করে, তখন চারণভূমির তীব্র সংকট দেখা দেয়। চারিদিকে শুধু পানি থাকায় গবাদিপশু নিয়ে কৃষকদের চরম বিপাকে পড়তে হয়, যার সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়ে পনিরের বাজারে।

বর্ষার এই সংকটের কারণে বছরের একটি দীর্ঘ সময়জুড়ে এখানে তীব্র কাঁচা দুধের সংকট দেখা দেয়। ফলে দুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় পনির উৎপাদনের খরচও হয়ে যায় আকাশচুম্বী। এই প্রাকৃতিক সংকটের সাথে যোগ হয়েছে কারিগর ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক অসচ্ছলতা। বংশানুক্রমিকভাবে এই পেশা ধরে রাখলেও অর্থনৈতিকভাবে তারা অত্যন্ত প্রান্তিক। পুঁজির অভাব এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ বা সরকারি আর্থিক প্রণোদনা না থাকায় অনেকেই এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন; কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছেন পেশা পরিবর্তন করতে।

অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও আধুনিকায়নের সমস্যাও এই শিল্পকে দারুণভাবে পিছিয়ে রেখেছে। সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর মতো আধুনিক সাপ্লাই চেইন বা ই-কমার্স নেটওয়ার্ক এখনো এখানে গড়ে ওঠেনি। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়াদের হাতে পড়ে প্রকৃত কারিগররা প্রায়শই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

এর চেয়েও বড় জটিলতা দেখা দেয় পনির সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। কাঁচা দুধে তৈরি এই পনির অত্যন্ত পচনশীল ও সংবেদনশীল। এটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করতে হয়। অথচ দুর্গম এই হাওর অঞ্চলে পনির সংরক্ষণে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে এখনও পর্যন্ত কোনো হিমাগার গড়ে ওঠেনি। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে পনির নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়।

দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পনির ব্যবসার সাথে জড়িত অষ্টগ্রামের তোরাব আলী এই প্রতিনিধিকে ক্ষোভ ও আক্ষেপের সুরে জানান, ”পনিরের জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমাদের আনন্দ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এই স্বীকৃতি কেবল কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। এই স্বীকৃতির পর বাস্তবে এ পর্যন্ত আমরা তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা বা সরকারি সাহায্য পাইনি। চারণভূমি আর হিমাগারের অভাবে দিন দিন পঙ্গু হয়ে যাচ্ছি।" ঐতিহ্যবাহী এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সরকারের কার্যকর ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, "আমরা পনিরের এই প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। ইতিমধ্যেই পনির ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের বিদ্যমান সমস্যা এবং বিভিন্ন চাহিদার কথা বিস্তারিত লিখিতভাবে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর অষ্টগ্রামের পনির এখন শুধু কিশোরগঞ্জের নয়, পুরো বাংলাদেশের এক অনন্য গৌরব। তবে এই আন্তর্জাতিক সিলমোহর তখনই সার্থক হবে, যখন এই শিল্পের পেছনের মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটবে। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে বর্ষাকালের জন্য বিকল্প পশুখাদ্যের (যেমন সাইলেজ বা উন্নত খড়) ব্যবস্থা, সরকারি উদ্যোগে আধুনিক হিমাগার স্থাপন, কারিগরদের জন্য জামানতবিহীন স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি সুদূরপ্রসারী পৃষ্ঠপোষকতা আর আধুনিক উদ্যোগই পারে শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যেতে।


নির্বাচিত

নারী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে শ্রীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় একটি নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) সকালে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে মারা যাওয়া এক নারী শ্রমিককে স্মরণ করে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল উপলক্ষে সকালে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কারখানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ তিন দফা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ এ সময় লাঠিচার্জও করে। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পরিচালক (প্রশাসন) শহিদুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে মারা যাওয়া নারী শ্রমিককে স্মরণ করে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সেটি উত্তেজনায় রূপ নেয়।

শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে কারখানায় দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


নির্বাচিত

মাধবপুর সীমান্তে পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত, বিজিবির কঠোর অবস্থানে পিছু হটল বিএসএফ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের একটি বড় ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তেলিয়াপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার ১৯৮২ নম্বর মেইন পিলারের ১১-এস সাব-পিলার সংলগ্ন জিরো লাইনে এই পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। গভীর রাতের অন্ধকারে বিএসএফ সীমান্তে তাদের সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে দিয়ে অজ্ঞাতসংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে।

এ সময় ৫৫ বিজিবির একটি ক্ষিপ্র টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সর্বোচ্চ সতর্কতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অনুপ্রবেশের সেই প্রচেষ্টা জিরো লাইনেই প্রতিহত করে। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ বাধ্য হয়ে ওই ভারতীয় নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।

অভিযান চলাকালে স্থানীয় সীমান্তবাসী ও সাধারণ মানুষও বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে।

৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে তেলিয়াপাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ৫৫ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দিনরাত দায়িত্ব পালন করছে।


নির্বাচিত

বাগেরহাটে মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাচ্চু মল্লিক, বাগেরহাট

বাগেরহাটে ৪১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সংবর্ধনা প্রদান করেছে জেলা পরিষদ। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে এই বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডঃ শেখ লায়ন ফরিদুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পি সি কলেজের অধ্যক্ষ শেখ জাহাংগীর আলী , সাবেক সচিব শেখ ফরিদুল ইসলাম,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাশ, খানহাজান আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আসিফ উদ্দিন রাখি, জেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব শেখ মোজ্জাফ্ফর রহমান আলম প্রমুখ।

‎অনুষ্ঠানে জেলার ৯ উপজেলায় এসএসসি ও এইচএসসিতে ৩৬৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরত ৫৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

ডুয়েটে দুই দিনব্যাপী সিএসই কার্নিভাল শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে “ইনোভেট টুডে, লিড টুমরো” শিরোনামে দুই দিনব্যাপী সিএসই কার্নিভাল শুক্রবার (২৬ জুন) শুরু হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে কার্নিভালের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব থেকে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও রোবটিক্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নতুন জ্ঞান, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আজকের সিএসই কার্নিভাল সেই সম্ভাবনা বিকাশের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এবং মেধা, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। এখানকার অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক শিক্ষা ও নেটওয়ার্কিং ভবিষ্যতের গবেষণা, স্টার্টআপ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পোন্নয়নের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে। ডুয়েট এমন একটি একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে।

উপাচার্য আরও বলেন, “আমরা এমন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের অংশীদার হবে। উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের শিক্ষার্থীদের সেই মেধা, সৃজনশীলতা ও সাহসিকতা আছে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।” উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর মাননীয় উপাচার্য ফোরডি চশমা ব্যবহার করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের ভ্রাম্যমান বিজ্ঞান প্রদর্শনী উপভোগ করেন। এছাড়াও তিনি হেড মাউন্টেড ডিভাইস ব্যবহার করে ভার্চুয়াল থ্রিডি এনভায়রনমেন্ট উপভোগ করেন।

এ সময় তিনি সিএসই বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রতিযোগী, শিক্ষক, গবেষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য বলেন, “সিএসই কার্নিভালের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবতর গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আগামী দিনে গবেষণা ও উদ্ভাবনে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে।”

সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব, সিএসসি কার্নিভালের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এমরান হোসেন, অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. উম্মে ফাওজিয়া রহিমসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং বিডিরেন-এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ তাওরিত এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত থাকবেন।

ইনোভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কার্নিভাল ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটি এবং হোয়াইটবোর্ড ইনিশিয়েটিভসের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের একশোর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার দুইশোর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

কার্নিভালের প্রথম দিনে আজ ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইইউপিসি), এআই হ্যাকাথন, আইসিটি অলিম্পিয়াড এবং প্রজেক্ট শোকেসিং কম্পিটিশন-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় তুলে ধরবে।

আগামীকাল শনিবার (২৭ জুন) কম্পিটিশনগুলোর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার পর নেটওয়ার্কিং সেশন এবং পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের পর্দা নামবে।


নির্বাচিত

পাহাড়ের গভীরে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে বন্যহাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধ নিহত

সংরক্ষিত বনে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে নিহত জয়নাল আবদিনের মরদেহ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৭ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
শেরপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের বকশীগঞ্জের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের গভীর বনাঞ্চলে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে জয়নাল আবদীন (৬৬) নামে এক বৃদ্ধ বন্যহাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজের একদিন পর শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় বকশীগঞ্জ উপজেলার ডুমুরতলা বিটের সংরক্ষিত বনভূমির বাগিচা টিলা এলাকা থেকে ওই বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জয়নাল বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের মৃত আনিজ মিয়ার ছেলে।

বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুমুরতলা বিট শেরপুর বনবিভাগের শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি রেঞ্জের আওতাভূক্ত। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে ডুমুরতলা বিট এলাকার সংরক্ষিত বনভূমি ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা সীমান্তের ১০৮৮ ও ১০৮৯ পিলার সংলগ্ন ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর ১০.০ হেক্টর বাগান এলাকায় লাকড়ি সংগ্রহ করতে যান বৃদ্ধ জয়নাল আবদিন। তবে রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফিরেননি।

পরদিন ২৭ জুন শনিবার তার আত্মীয়-স্বজনরা স্থানীয় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) এর সহায়তায় পাহাড়ে খোঁজাখুঁজি করার এক পর্যায়ে বাগিচা টিলা নামক স্থানে তার মৃতদেহ খুঁজে পাযন। ওইসময় তার এক হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেতলানো ছিলো। উদ্ধারকারী বন বিভাগ কর্মীদের ধারণা, হাতির আক্রমণে তিনি মারা গেছেন।

এ বিষয়ে শেরপুর বনবিভাগের বালিজুরি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, ইআরটি এবং আমাদের বন বিভাগের স্টাফদের সহায়তায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারি রীতি অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

শরীয়তপুরে পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ভাঙনের শঙ্কায় লক্ষাধিক মানুষের বসতভিটা

ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। ছবি নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা এলাকা থেকে তোলা হয়েছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ও নওপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রাভাবশালী একটি মহল দিনের পর দিন শত শত ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

এতে নতুন করে নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ও নদী রক্ষা বাঁধ। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি- নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের যোগশাজসে জেলার উত্তরাংশে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ও নওপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন একটি প্রভাবশালী মহল। প্রায় অর্ধশতস্থানে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে শত শত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করার ফলে নদী ভাঙ্গনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পদ্মা পাড়ের হাজার হাজার অসহায় মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল চকিদার ও বাঁশতলা এলাকার সাইদুর রহমান বলেন, নদীতে স্পিডবোট যোগে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর পাহারায় এ অবৈধ বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে আবারও ভয়াবহ নদী ভাঙন শুরু হবে।

নওপাড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাশেম সিদ্দিক বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পদ্মার তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। তাতে করে আমরা আবার পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়বো।

সুরেশ্বরের আয়না বিবি বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে আমরা নদী ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছি। বালু উত্তোলনকারীদের দাবি, সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন তারা।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম। এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলে তা ক্ষতিও হতে পারে আবার ভালোও হতে পারে। বিষয়টি স্টাডি করে দেখতে হবে। তবে অবৈধভাবে কেউ বালু উত্তোলন করলে তা বন্ধ করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের।

এদিকে সম্প্রতি জেলার দক্ষিণাংশে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরে নদীতে বালুভর্তি বস্তা ফেলে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কর্মসূচি উব্দোধন করছেন জাতীয় সংসদের হুইপ, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।

কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদী শাসনের জন্য আমাদের আলাদা সংস্থা আছে। নদী শাসন করার দায়িত্বে আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ড রয়েছে, আমাদের বিআইডব্লিউটি আছে, তারা করবে। এর বাহিরে অন্যভাবে বালু উত্তোলন করার সুযোগ নাই। বালু উত্তোলন বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীর।


নির্বাচিত

শ্বাসনালীতে দুধ আটকে শিশুর করুন মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শ্বাসনালীতে দুধ আটকে মেঘলা ঘোষ নামে তিন মাস বয়সী এক কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৭ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মেঘলা ঘোষ জীবননগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাইমারি স্কুলপাড়ার বাসিন্দা মাধু ঘোষ ও সরস্বতী ঘোষ দম্পতির ছোট মেয়ে।

শিশুটির মা সরস্বতী ঘোষ জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে তিনি মেঘলাকে দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। পরে ভোরের দিকে শিশুটির বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে কোলে নিলে তার শরীর অস্বাভাবিক মনে হয়। তখন দেখা যায় শিশুটির মুখ কালচে হয়ে গেছে এবং হাত-পা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। পরে দ্রুত তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম জানান, ভোরে তিন মাস বয়সী এক শিশু কন্যাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ধারণা করা হয়, হাসপাতালে আনার প্রায় ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসনালীতে দুধ আটকে যাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, শিশু কন্যার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।


নির্বাচিত

পাশাপাশি চার কবরে শায়িত হলো মা ও তিন মেয়ে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়ের মরদেহ শুক্রবার রাতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। রাত ১০টা ৫ মিনিটে হোমনা পৌরসভার লটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে মা ও তিন মেয়েকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মুফতি সামসুল হক আরিফী।

হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখতে জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন।

জানাযায় উপস্থিত ছিলেন হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে মো. সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। ঘটনার সময় বাসার বাইরে থাকায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া সিফাত একাই মা ও তিন বোনের মরদেন নিয়ে হোমনায় পৌঁছেন। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসী জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। প্রিয়জনদের হারানোর শোকে সিফাত এখন বাকরুদ্ধ। তার আপন বলতে আর কেউ রইল না।

জানাযার নামাজে উপস্থিত হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়াও সিফাতের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে তারা সহযোগিতা করবেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের ভাড়া বাসায় ঢুকে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহীনূর আক্তার (৩৮) ও তাঁর তিন মেয়ের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই শাহীনূর আক্তার, বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে সিফা আক্তার (১০) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান মেঝো মেয়ে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকরা আক্তার। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে হামলাকারী অন্তর মজুমদারও নিহত হয়।


নির্বাচিত

দৌলতপুরে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সিমান্ত এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলিসহ সৈকত (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজত বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার সৈকত উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি পাকুড়িয়া গ্রামের গোলাম মস্তফার ছেলে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভাগজত বাজার এলাকা থেকে সৈকতকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।


নির্বাচিত

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স দীর্ঘ ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. নাজমুস সাকিবের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই সিন্দুকগুলো উন্মুক্ত করা হয়। এবারের সংগ্রহে মিলেছে বিস্ময়কর ৪৩ বস্তা টাকা। এরপর সিন্দুক থেকে বের করা অর্থগুলো মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনার বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবে কেবল দেশি মুদ্রাই নয়, দানবাক্সে সোনা ও রুপার গয়না, বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার আকুতি জানিয়ে ভক্তদের লেখা অসংখ্য চিরকুটও পাওয়া গেছে।

সাধারণত প্রতি তিন মাস অন্তর এই দানবাক্সগুলো খোলা হলেও জাতীয় নির্বাচন ও বন্যার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এবার ছয় মাস পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্সগুলো থেকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল, যার আর্থিক মূল্য ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এবারের বস্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংগ্রহের পরিমাণ আগের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টাকা গণনার এই বিশাল কাজে পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্স মাদ্রাসা ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চার শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানত হিসেবে ভক্তরা নগদ অর্থ ছাড়াও নিয়মিত গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, কবুতর ও শাকসবজি দান করে থাকেন, যা প্রতিদিন বিকেলে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে লব্ধ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, আজকের দানবাক্সের অর্থ গণনার আগেই মসজিদের ব্যাংক হিসাবে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৫২ টাকা জমা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিপুল দানের অর্থ দিয়ে পাগলা মসজিদে একটি ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক মাল্টিপারপাস মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দান হিসেবে পাওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বর্তমানে সরকারি ট্রেজারিতে সংরক্ষিত রয়েছে, যা পরবর্তীতে বিধি অনুযায়ী বিক্রি করা হবে।


নির্বাচিত

ডুরার নতুন সভাপতি শাহজাহান, সম্পাদক জহিরুল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেবা খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সভাপতি পদে দৈনিক আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার শাহজাহান মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক কালের কন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার জহিরুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি হোটেলে বার্ষিক সাধারণ সভায় সদস্যদের ভোটগ্রহণ শেষে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। পরে তিনি নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার জিলানী মিলটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার একলাছ হক, সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলা ট্রিবিউনের স্টাফ রিপোর্টার আতিক হাসান শুভ, অর্থ সম্পাদক পদে দৈনিক আমার দেশের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ঢাকা স্ট্রিমের স্টাফ রিপোর্টার তৌফিক হাসান, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে বাংলানিউজ২৪ডটকমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মিরাজ মাহবুব ইফতি, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পদে এনটিভির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট নাজিবুর রহমান।

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন, ভোরের কাগজ সিনিয়র রিপোর্টার মো. রুহুল আমীন, বিজনেস মিররের বিশেষ প্রতিনিধি বারেক কায়সার, ইনডিপেনডেন্ট টিভির বিশেষ প্রতিনিধি হাসিফ মাহমুদ শাহ্, জাগো নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার মুসা আহমেদ, ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার নিলয় মামুন ও ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার আবির হাকিম। নতুন এই কমিটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।


নির্বাচিত

জামালপুরে প্রাইভেটকার থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, চালকসহ গ্রেপ্তার ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামালপুরে একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন চেম্বার থেকে ১৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মাদক বহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কের উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় একটি নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বড়টোডা বিশনাউড়ি এলাকার আক্তার হোসেন, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুরুয়া ভাটিপাড়া এলাকার মিন মোক্তার ওরফে মনির হোসেন, বিল্লাল হোসেন এবং প্রাইভেটকারচালক সাগর।

পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জামালপুরে আনা হচ্ছে—এমন একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় নির্দিষ্ট কারটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে এর ভেতরে থাকা আরোহীরা গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ধাওয়া করে তাঁদের চারজনকেই ধরে ফেলেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সন্দেহভাজন গাড়িটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে লোহা ও স্টিল দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান মেলে। সেই চেম্বার খুলে খাকি কাগজে নিখুঁতভাবে মোড়ানো ছয়টি বড় প্যাকেটে থাকা মোট ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এই গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চালানের মূল উৎস, সরবরাহকারী চক্র এবং এর পেছনে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এই অভিযানের বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এমন কঠোর অভিযান ও নজরদারি সর্বদা জারি থাকবে এবং মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


নির্বাচিত

banner close