বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩
ভাই-ভাবিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

গরু-ছাগল ও জমানো টাকার লোভে নওগাঁয় বৃদ্ধাকে হত্যা: পুলিশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৪

কানের স্বর্ণের দুল, জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি লোভ। এর সঙ্গে মাদকের কারবারে বাধা দেওয়া এবং জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধ। এসব ক্ষোভ ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে ৬৫ বছর বয়সি হালিমা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। নওগাঁর ধামইরহাটে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের ছোট ভাই ও তার স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর হালিমার কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিতে তার এক কানের লতি কেটে এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- নিহত হালিমা বেগমের ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬), তার স্ত্রী হোসনে আরা (৪২), রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫) ও মোশারফ হোসেন (৪৫)। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৯ অক্টোবর সকালে ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধানক্ষেতের আলে হালিমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল করে। এ সময় বৃদ্ধার একটি কানের লতি কাটা এবং অন্য কানের লতি ছেঁড়া অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। ঘটনার পরপরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে ধামইরহাট থানা-পুলিশ।’

এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে প্রথমে মজনু রহমান ও তার স্ত্রী হোসনে আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলমপুর ও ছিলিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলাম, হামিদুর রহমান ও মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হালিমা বেগম ছিলেন নিঃসন্তান ও স্বামী পরিত্যক্তা। বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনু রহমানের ঘরের পেছনে একটি ছাপড়াঘরে বসবাস করতেন তিনি। মানুষের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কষ্টের উপার্জনে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। তার জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি লোভ ছিল ছোট ভাই মজনু ও তার স্ত্রী হোসনে আরার।

অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় রবিউল ইসলাম এবং জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধের কারণে হামিদুর রহমান ও মোশারফ হোসেন হালিমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব বিরোধ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ দিন আগে পাঁচজন মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হামিদুর রহমান কৌশলে হালিমা বেগমকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন। এ সময় অন্য আসামিরা তার মুখ চেপে ধরেন। পরে তাকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে হালিমার হাত রশি দিয়ে বেঁধে তার পরনের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানায় পুলিশ। এরপর তার কানে থাকা স্বর্ণের দুল খুলে নেওয়ার জন্য হামিদুর রহমান নৃশংসভাবে একটি কানের লতি কেটে এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হত্যার পর মরদেহটি বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে পালিয়ে যান আসামিরা। পরে কানের স্বর্ণের দুল দুটি নিজেদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা করে নেন তারা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বোদার ইটভাটায় পুড়ছে জ্বালানি কাঠ, হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবেশ আইন ও সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া চন্দনবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘এ অ্যান্ড এ অটো ব্রিকস’ ইটভাটায় দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ ও কাঠের গুঁড়া। কয়লার সংকটের অজুহাতে প্রতি রাতেই ট্রাকে করে আনা কাঠের খড়ি এবং বিপুল পরিমাণ কাঠের গুঁড়া কয়লার সাথে মিশিয়ে চুল্লিতে দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ঘটনার সত্যতা আংশিক স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সব সময় নয়, মাঝে মাঝে কিছু কাঠের খড়ি ব্যবহার করা হয়।’

দেখা যায়, ভাটার এক কোণে শত শত বস্তা কাঠের গুঁড়া এবং স্তূপ করে রাখা হয়েছে বনের গাছের খড়ি। দিনের বেলা কিছুটা আড়ালে রাখা হলেও গভীর রাত হলেই এসব কাঠ ও গুঁড়া কয়লার বিকল্প হিসেবে চুল্লিতে ঢোকানো হয়। এতে আশপাশের ফসলি জমি, ফলদ গাছপালা এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া পুরো এলাকার পরিবেশ দূষিত করছে।

চিকিৎসক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইটভাটায় কাঠ ও গুঁড়া ব্যবহারের ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম ছাই সরাসরি মানুষের ফুসফুসে ঢুকে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্টের মতো ক্রনিক রোগ তৈরি করছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। ধোঁয়ার কার্বন মনোক্সাইড রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কাঠ পুরোপুরি না পুড়লে বাতাসে ‘বেনজো-এ-পাইরিন’ নামক ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান ছড়ায়, যা ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য দায়ী। এই দূষিত বাতাস গর্ভবতী মা ও গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা দিচ্ছে, ফলে জন্ম নিচ্ছে কম ওজনের ও শারীরিক জটিলতাযুক্ত শিশু। বাতাসে ভাসমান ছাইয়ের কারণে চোখ জ্বালাপোড়া, চোখের স্থায়ী ক্ষতি এবং নানাবিধ চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জানান, ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষত এর ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি বয়স্ক ও শিশুদের জীবন হুমকিতে ফেলে দেয়। বন ধ্বংস করে ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ানো আইনিভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যেখানে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে এইসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক (ডিসি) শুকরিয়া পারভীন জানান, পরিবেশ ধ্বংস করে এ রূপ যেকোনো কিছুর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। এই ইটভাটার বিরুদ্ধে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, সাকোয়া এ অ্যান্ড এ অটোব্রিকস ইটের কারখানায় কাঠের গুঁড়া ও কাঠের খড়ি বেআইনিভাবে পোড়ানোর বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

একই বিষয়ে পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল গফুর জানান, কাঠ পোড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইটভাটায় কোনোভাবেই কাঠের গুঁড়া কিংবা খড়ি পোড়াতে পারবে না। আমরা দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।


নির্বাচিত

মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মিঠামইনে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নরিছলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

মতবিনিময় সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সাফিউর রহমান শাফি, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ ৭টি ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক নারী-পুরুষ।

সভায় সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যুবসমাজ আজ মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে আমাদেরকেই হাল ধরতে হবে। পরিবার থেকে সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রধান আলোচক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে। আমাদেরও উচিত প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। তারা অধিক মুনাফার লোভে যুব সমাজকে মাদকের দিকে আসক্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করছি। ৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, এখন শেষ বয়সে এসে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নেমেছি। শুধু যুব সমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য।’

সভায় বক্তারা মিঠামইনকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

সাইবার নিরাপত্তাসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। এ বিষয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নিজের সংসদীয় আসন ভোলা-১-এর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি থেকে আরম্ভ করে অন্যান্য আইন আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করছি। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, তাদের সঙ্গে বসছি। বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি, কীভাবে বিষয়টি এগিয়ে নেয়া যায়। যাতে আপনারা (সাংবাদিক), আমরা এবং সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পান। এটি চলমান প্রক্রিয়া। আশা করি, সামনে এ বিষয়ে ভালো কিছু আসবে।’

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে থেকেই এ বিষয়ে কথা বলে আসছেন তিনি। এবার হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।’

এদিকে নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সাংবাদিক না, এটা যে কারোই যদি ঘটনা হয়ে থাকলে, তাহলে প্রচলিত আইনে যা আছে সেভাবেই হবে।’

এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিজেপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব হলো: মীর শাহে আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বাংলাদশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের তিনটি আলাদা অঞ্চলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেছেন।’

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‌‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক লোটন একরাম।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে একটি গোষ্ঠী হিন্দুধর্মের ভাইদের পকেটের লোক মনে করত। সেখান থেকে তারা বের হয়ে এসে আমাদের প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে, আমাদের বিশ্বাস করেছে। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে হাজারো (৩৩,৮৫১টি) পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব পালন হয়েছে। এটা আমাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত বিষয়। তারা আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে, বিশ্বাস রেখেছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য তারেক রহমানের জনগণের সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আমরা দিতে পেরেছি।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রশাসন এবং বিএনপির লোকজন একসঙ্গে পূজামণ্ডপগুলো পাহারা দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের এ বড় উৎসবকে আমরা সমাপ্ত করতে পেরেছি।’


নির্বাচিত

আগামী ১০ বছরেও হাসিনার দেশে ফেরা সম্ভব না: স্পিকার

ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে অনুধাবন করা যায়, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনগুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপরও তার আস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে সুষ্ঠু হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় নিজের সংসদীয় আসনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘সমাজের নিকৃষ্ট যে লোকটা, সেটাই এমপি-মন্ত্রী হয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন স্পিকার। বৃহস্পতিবার ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি এসব কথা বলেছেন। তাদের আমলে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে সমাজের ভালো মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ অবস্থার অবসান হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা নেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনকে একটি পদ্ধতি নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে দেশের মোট গ্যাসের মজুতের সমপরিমাণ গ্যাস ইতোমধ্যে ভোলায় পাওয়া যাচ্ছে। তার আশা, সেখানে আরও বিপুল গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে।

স্পিকার বলেন, ভোলার গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে সরকার বিদেশে যোগাযোগ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহজ বিকল্প ভোলাতেই রয়েছে। ভোলার গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর ও ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ফরিদগঞ্জের এসিল্যান্ডকে আদালতের শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে (এসিল্যান্ড) কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী ৯ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন এ নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন ১৭ তারিখ এই আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে তদন্ত করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় সময় দেন। এরপরও প্রতিবেদন না পাওয়ায় ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আবারও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে একটি দরখাস্তের মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তের অগ্রগতি জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তদন্ত করতে পারবেন না বলে জানান।

পরবর্তী সময়ে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেননি।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বারবার সময় দেওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়া আদালতের আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও আদালতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। এতে বিচারপ্রার্থীর দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকারও ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

এ অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৮৫ ধারার বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ আদেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ভোটের পাঁচ দিন আগে স্থগিত বাইশিমাসের নির্বাচন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইশিমাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোটের মাত্র পাঁচ দিন আগে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ ছাড়াই সব নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি শুরুর ঠিক আগের শেষ কার্যদিবসের রাতে নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে নির্বাচন বন্ধের পেছনে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা যৌক্তিক কারণ তুলে ধরা হয়নি। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও প্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ভোটের চূড়ান্ত মুহূর্তে কোনো নিয়মনীতি না মেনে একতরফাভাবে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা বাণিজ্য সংগঠন আইনের পরিপন্থি এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার স্পষ্ট অপচেষ্টা।

নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের পর তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সদস্য ও প্রার্থীরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে লিখিত প্রতিবাদপত্র জমা দিয়েছেন এবং অবিলম্বে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। প্রার্থীদের মতে, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণার পর একেবারে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই ব্যবসায়ী সংগঠনের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনমুখী খাতের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হলো হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) শিল্প। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বাইশিমাসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন এভাবে স্থগিত হওয়ায় সংগঠনের সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্ব নির্বাচন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্ভূত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অবিলম্বে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

মাসে ২২ ডিজে পার্টি, অংশ নিতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-ব্যাংকাররাও

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে এসব আয়োজন চলছিল। বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এ তথ্য জানান।

ইলিয়াস কবির বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ভবনটিতে প্রবেশের পর ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। সিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল।’

ডিসি ইলিয়াস কবির আরও দাবি করেন, পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারও ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন।’

ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, ‘এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন।’

প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন হতো। একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই বাড়ি থেকে আটক ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সম্পর্কে এই কর্মকর্তা জানান, ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিনদিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া সেই আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী

গর্ভবতী নারী আঁখি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

‘গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চান আঁখি’ সম্প্রতি এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। এতে ফুটে ওঠে গর্ভবতী নারী আঁখির অসহায়ত্ব। সেখানে বলা হয়- ওই নারী তৃতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন। তার স্বামী অসুস্থ। অভাবের তাড়নায় তিনি অনাগত সন্তানকে ‘বিক্রি’ করতে চান। পরে প্রকাশিত সংবাদটি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিনই তিনি মানবিকভাবে বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পরই আঁখি ও তার পরিবারের সন্ধান করা হয়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আঁখির স্বামী দীর্ঘদিন ধরে রোগে আক্রান্ত। স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে পরিবারটি ঋণের বোঝায় জর্জরিত। সেই ঋণের টাকা পরিশোধের অসহায় চেষ্টা থেকেই আঁখি তার গর্ভের সন্তান ‘বিক্রি’ করার মতো কঠিন ও হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্তের কথা ভাবতে বাধ্য হন।

বিষয়টি জানার পর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার আঁখি ও তার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্তান প্রসবের সমস্ত খরচ বহনসহ কর্মসংস্থানেরও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।


নির্বাচিত

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস; বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকির গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মাদারীপুরের রাজৈর থানার বদরপাশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস) মো. জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় করা মামলায় সোহাগ ফকিরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর রাজৈর থানা-পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের সময় সোহাগ ফকিরের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোনসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ইঞ্জিন বিকল, সোয়া ৩ ঘণ্টা পর ছাড়ল কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ইঞ্জিন বিকল হয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সোয়া তিন ঘণ্টা আটকে থাকার পর ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়।

এর আগে, বিকেল ৪টায় ট্রেনটির ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করতে পারেনি ট্রেনটি। এতে স্টেশনে আটকে থেকে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার খলিলুর রহমান।

তিনি জানান, ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি প্ল্যাটফর্মে সোয়া তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী আরেকটি ইঞ্জিন এনে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করা হয়।


নির্বাচিত

দুর্নীতি বন্ধে আগে নেতাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

দেশে কার্যকরভাবে দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সবার আগে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নেতাদের নিজেদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় স্থানীয় শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতি নির্মূলের প্রথম শর্ত হলো যারা মুখে দুর্নীতি বন্ধের কথা বলছেন, সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের সততা নিশ্চিত করা; তা না হলে এ সংক্রান্ত যাবতীয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

সভায় শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানসিকতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শিক্ষকদের জন্য দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে শিক্ষকদের গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে শিক্ষকদেরই সময়োপযোগী ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার টাকা-পয়সার লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিদের স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কর্তৃক প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা অসৌজন্যমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না।

তবে কেবল ব্যবস্থাপনা কমিটি নয়, শিক্ষকদেরও নিজেদের পেশাগত দায়িত্বশীলতার বিষয়ে সতর্ক করেন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা লুটপাটে জড়ান, তবে সেটিও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। শৈলকুপার এই মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে কথিত দুই ‘জিনের বাদশা’ গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার মূলপাইততন গ্রামের মো. রাজিব (২৮) এবং একই থানার ফুলকাচিয়া গ্রামের মো. সুমন (২৬)। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বোরহানউদ্দিনের কুঞ্জেরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে দীর্ঘ আট মাস প্রযুক্তিগত তদন্ত চালিয়ে এই চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলামের পরিচিত এক ব্যবসায়ী বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে চক্রটি। এরপর জরুরি আর্থিক প্রয়োজনের কথা জানিয়ে সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পূর্বপরিচয়ের সূত্রে বিশ্বাস করে রশিদুল ওই দিন দুপুরে আটটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে দফায় দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর বিজয় বাবুর মূল অফিসে যোগাযোগ করে রশিদুল নিশ্চিত হন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

ঘটনার পর রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তার ছাড়াই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব পায় ফরিদপুর পিবিআই। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মাজিদুল হক খান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন, এই চক্রের সদস্যরা সারাদেশেই সক্রিয়। বিশেষ করে টাকা সংগ্রহের জন্য চক্রটি সুমন নামের এক পা হারানো শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে ব্যবহার করত। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালানোর আড়ালে ক্রাচে ভর দিয়ে বিভিন্ন এলাকার বিকাশ ও নগদ ক্যাশ আউট পয়েন্ট থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি, যেন শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা স্থানীয়রা সহজে সন্দেহ না করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, চক্রটির প্রতারণার কৌশল ছিল বহুবিধ ও সুপরিকল্পিত। গভীর রাতে তারা বিশেষ করে নারীদের ফোন করে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিত এবং ফোনের পাশে অদ্ভুত শব্দ বাজিয়ে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করত। এরপর পরিবারের সদস্য হারানো বা চরম বিপদের আতঙ্ক তৈরি করে তা থেকে উদ্ধারের নামে ভয় দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত। এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামকরা তান্ত্রিক ও কবিরাজ সেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে কঠিন বা গোপন রোগমুক্তি, প্রেমে সফলতা এবং পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই নিশ্চিত করেছে যে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম আরও জানান, এই প্রতারক চক্রে মোট পাঁচজন সক্রিয় সদস্য জড়িত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও চক্রের বাকি তিন সদস্যের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close