নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করে আলোচনায় আসা টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ রানাকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় তার মুখে চুনকালি মাখিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্যালিকাকে বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের আপত্তি ও ভাড়া বাসায় থাকতে না দেওয়ার হুমকির মুখে সোমবার সন্ধ্যায় বদলগাছী ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন মাসুদ রানা (৩৫)। তার সঙ্গে ছিলেন প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা (২১)।
জানা যায়, মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমী ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমার বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে। এর আগে মাসুদ রানা বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় মো. মুসলিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পূর্ণিমার সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়ে হয়। পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমোদনেই এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিয়ের পর মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা নিজেদের বিয়ের খবর ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
এদিকে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বদলগাছী এলাকার কয়েকজন তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা ভাড়া বাসার মালামাল নিয়ে বদলগাছী ছেড়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। তবে সেখানেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রামে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানার মুখে চুনকালি মাখিয়ে তাকে এলাকা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর কয়েকজনের দাবি, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করেন। তাদের ভাষ্য, এ কারণেই মাসুদ রানাকে এলাকায় থাকতে দিতে চাননি তারা।
এ বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, তার শ্যালিকা পূর্ণিমার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তাদের আগে ধারণ করা ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পূর্ণিমাকে হয়রানির শিকার হতে হতো বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন। এ কারণেই প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মহাদেবপুর থানার ওসি মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অনুমতি ছাড়া অবৈধ গ্যাসসংযোগ দেওয়ার জন্য সড়ক খননের সময় দুই শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। এ সময় খননকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর জুরাইনের উত্তর মুরাদপুর এলাকার লাল মিয়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সড়কটি ডিএসসিসির অঞ্চল-৫-এর ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মুরাদপুরের শরীফ মঞ্জিলের (হোল্ডিং নম্বর ৩০৭) জিয়া উদ্দিন বাদলের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই অবৈধ গ্যাসসংযোগ দেওয়ার জন্য সড়কটি খনন করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই শ্রমিককে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযানকালে খননকাজে ব্যবহৃত দুটি হ্যামার ড্রিল, বৈদ্যুতিক তার ও দুটি কর্নি জব্দ করা হয়।
পরে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় আটক দুই শ্রমিককে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জনস্বার্থ রক্ষা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
রংপুরের বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার তিনটি সার ডিলার পয়েন্টে সার বিক্রি ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বিক্রয় মেমো ও রেজিস্টারের হিসাবে অসংগতি, কোথাও খুচরা বিক্রেতার কাছে সার সরবরাহ, আবার কোথাও বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা না রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। সরেজমিনে নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। বদরগঞ্জের একটি ডিলার পয়েন্টে এক দিনের ইউরিয়া বিক্রির হিসাবে ৩৪ বস্তার পার্থক্য পাওয়া গেছে।
বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানী ইউনিয়নের মণ্ডলের হাটে মেসার্স শান্তি সার বিতানের গত ১৯ অক্টোবরের বিক্রয় মেমোতে ৩১ বস্তা ইউরিয়া বিক্রির তথ্য রয়েছে। অথচ একই দিনের সেল রেজিস্টার ও স্টক রেজিস্টারে বিক্রি দেখানো হয়েছে ৬৫ বস্তা। এতে ৩৪ বস্তা ইউরিয়ার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া, ছয় বস্তা ইউরিয়া সরবরাহের একটি মেমোতে থাকা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে সুজন নামের এক ব্যক্তি জানান, তাঁর সুজন ট্রেডার্স নামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি কীটনাশকের পাশাপাশি সার বিক্রি করেন এবং ওই ডিলারসহ অন্য ডিলারদের কাছ থেকেও সার সংগ্রহ করেন। অন্য একটি মেমোতে থাকা নম্বরে যোগাযোগ করলে মেরাজ নামের এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি কোনো সার নেননি; তাঁর নাম ব্যবহার করে কে সার নিয়েছে, তা-ও জানেন না।
মেসার্স শান্তি সার বিতানের ব্যবস্থাপক সন্দীপ বাবু বলেন, হিসাবের পার্থক্যে থাকা ৩৪ বস্তা ইউরিয়া মেমো ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে। কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও নির্দেশনায় খুচরা বিক্রেতাদের সার দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
ডিলার মালিক সুবোধ কুমার কুন্ডু (গোবিন্দ) অভিযোগের স্পষ্ট জবাব না দিয়ে ঘটনাটিকে ভুলবশত হয়েছে বলে বিবেচনা করে বিষয়টি না বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
বদরগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়নের বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স শ্যামপুর সার ঘর, প্রোপ্রাইটর হাবিবা বেগমের প্রতিষ্ঠান থেকেও সম্প্রতি ১০ বস্তা ইউরিয়াসহ একটি ভ্যান আটক করা হয়। অভিযোগ, সারগুলো কৃষকের পরিবর্তে খুচরা বিক্রেতার কাছে পাঠানো হচ্ছিল। ডিলার ব্যবস্থাপক রেজাউল ফোনে দাবি করেন, সার কৃষকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে মেমোতে থাকা নম্বরে যোগাযোগ ও ভ্যানচালকের বক্তব্যে সার খুচরা দোকানে পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়।
ডিলার পয়েন্টে মেমো ও রেজিস্টার যাচাই করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিক্রির পরিমাণে অসংগতি দেখা যায়। ব্যবস্থাপক রেজাউল এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে এমনটি করা হয় বলে দাবি করেন। তবে তাঁর এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বদরগঞ্জ লোহানী ইউনিয়নের ইউনিয়নের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা জিয়া বলেন, খুচরা বিক্রেতার কাছে সার বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং মেমো ছাড়া এক কেজি সার বিক্রিরও নিয়ম নেই। অনিয়ম হয়ে থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যামপুরের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নীতিমালাবহির্ভূত সার বিক্রি বা অনিয়ম করার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত দলের সঙ্গে আজ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় বদরগঞ্জের লোহানী ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার পয়েন্টে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে, বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার অধিকাংশ খুচরা সার বিক্রেতার দোকানে বিপুল পরিমাণ সার মজুত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব দোকানে মজুত থাকা সারের উৎস, ডিলারদের কাছ থেকে সরবরাহের পরিমাণ এবং বিক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা হলে কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার বিতরণের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন খোলা থাকে। সরেজমিনে পাঁচ দিন গিয়েও এটি বন্ধ পাওয়া যায়। ষষ্ঠ দিনেও বন্ধ থাকায় কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়। পরিদর্শনে ব্যবস্থাপক সেল রেজিস্টার দেখাতে পারেননি। মেমো ও স্টক রেজিস্টারেও অসংগতি দেখা যায়। গুদামে সার রাখার জন্য মেঝের ওপর মাচার ব্যবস্থাও ছিল না।
সাংবাদিকদের কাগজপত্র দেখার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনাকারী খলিলুর রহমান বলেন, “আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য থাকলে নিউজ করেন, আমি দেখে নিবো আপনাদেরকে।” বক্তব্যটি সাংবাদিকদের প্রতি হুমকিসূচক বলে প্রতীয়মান হয়।
খলিলুর রহমান মিঠাপুকুর বণিক সমিতির সভাপতি এবং বিএডিসি সার এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত আছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
মিঠাপুকুরের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা বলেন, তিনি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিলার পয়েন্টে থাকেন। মেমো ও রেজিস্টারের অসংগতির জন্য তিনি ব্যবস্থাপককে দায়ী করেন।
মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম বলেন, খলিলুর রহমান কে সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে বলেছেন। খুচরা বিক্রেতার কাছে তিন থেকে চার বস্তা সার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন; তবে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা তারিখ উল্লেখ করতে পারেননি। মেমো ছাড়া সার বিক্রি এবং রেজিস্টারের হিসাব সংরক্ষণে অনিয়মের সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
তবে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি পাঠ্যবই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিদ্যালয়টিতে পাঠ্যপুস্তকগুলো বস্তায় ভরে ভ্যানে তোলার দৃশ্য এলাকাবাসী ও সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করে। টেন্ডার ছাড়াই গোপনে পাঠ্যপুস্তক বিক্রির ঘটনাটি প্রকাশ হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। অন্যদিকে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি পাঠ্যপুস্তক সংগ্রহ করে বিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে বই সংগ্রহের পর সেগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ না করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বই কেনার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি জানান, টেন্ডার ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমার নিকট ২১ টাকা কেজি দরে বইগুলো বিক্রি করেন।
এদিকে, কর্মচারীর অভিযোগ, ব্যবস্থাপক ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে বিদ্যুৎ চত্বরে নিয়মিত এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজ আহমেদ বলেন, ‘ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আপনি সম্মানিত মানুষ, আপনার সম্মানী দিয়ে দিচ্ছি। ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুরের ব্যবস্থাপক (নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়) প্রকৌশলী মো. গোলাম মোরসেলীন বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।’
এলাকাবাসী বলেন, ‘সরকারি বইগুলো কীভাবে বিক্রির পর্যায়ে গেল, কত পরিমাণ বই বিক্রি করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি।’
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সরকারি পাঠ্যবইয়ের উৎস ও বিতরণ সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
কিশোরগঞ্জে ইমরান হাসান নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়িতে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার প্যারাভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একই এলাকায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ইমরান হাসান (৩৫)।
নিহত ইমরান হাসান সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাতিয়ারচর এলাকার মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কালাম (৩০) প্যারাভাঙ্গা এলাকার নূর ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালামের কাছে পাওনা ২ হাজার ৪০০ টাকা চাইতে গেলে ইমরানের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবুল কালামের ছুরিকাঘাতে ইমরান গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের নতুন জেলখানা মোড়ে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে উত্তেজিত লোকজন অভিযুক্ত আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।’
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ঢাকা-টাঙ্গাইলের মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে অবরোধ ঘোষণা করেছে কারখানার শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে সফিপুর ও মৌচাক এলাকার অন্তত ১৫টি কারখানা ছুটি দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড নামে কারখানায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিকরা। পরে ছুটি হওয়া অন্যান্য কারখানার অনেক শ্রমিকরাও যোগ দিয়েছে আন্দোলনে।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা সকালে কারখানার সামনে আন্দোলন শুরু করে। এরপর তারা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় শ্রমিকরা আশপাশের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকরা আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানার গেটে ইটপাটকেল ছুঁড়ে। পরে ওই সড়কের অনেক কারখানা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে শ্রমিকরা টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাকে অবস্থান নেয়। এরপর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা এ সময় হাতে লাঠি নিয়ে বিভিন্ন কারখানার সামনে অবস্থান নিলে মৌচাক, সফিপুর ও কোনাবাড়ি এলাকার অন্তত ১৫ কারখানা ছুটি দিয়ে দেয়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক স্বাভাবিক করতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে আলোচনা চলছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল কালিয়াকৈরের এসেনশিয়াল গার্মেন্টসে আন্দোলন শুরু করে। পরে আশপাশের ১৪-১৫টি কারখানা ছুটি দিয়েছে। এ সকল কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে রয়েছে। তাদেরকে বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরানোর জন্য শিল্প পুলিশসহ জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর ) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ১ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ৬ জনের।
একই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৯৫ জন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজকে পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ১ হাজার ১৩৫ শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৫ শিশু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১ হাজার ২৪০ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৩২ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জনের। মোট ১ হাজার ২৯৫ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা প্রদান এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ব্যাহত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
সমাবেশে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষকৃত্যে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানান এবং এই অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। কর্মসূচির সঞ্চালক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, ‘রাজাকার একটি চেতনা, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ভূখণ্ডগতভাবে পাকিস্তান পন্থা জিইয়ে রাখতে চায়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারকে সংসদে বসানো হয়েছে, এর চেয়ে লজ্জাকর কিছু হতে পারে না।’
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, অনির্বাচিত প্রশাসনের সময়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল বলে তারা মনে করেছিলেন; কিন্তু নির্বাচিত সরকারের আমলেও মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদাহানির ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ক্ষোভ প্রকাশ করে রাসেল বলেন, ‘কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে যে নির্বাচিত সরকার এলো তাদের আমলেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হলো। এটি চরম ঘৃণ্য একটি কাজ। আমি সরকারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মানিক পশারীর শেষ বিদায়ে এমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। কাদের বাধার কারণে এটি হতে পারেনি, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। তারা ধর্মকে সব সময় রাজনীতি করার জন্য ব্যবহার করেছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, তারা ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী একজন মুসলিমের দাফন কার্যক্রম পর্যন্ত সম্পন্ন হতে দেয়নি।’
মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘যারা ২৪-এর নাম করে ৭১-কে নস্যাৎ করতে চান, তাদের চিনে রাখা দরকার। যারা ৭১-কে ধারণ করতে পারেন না, তারা কোনো দিন ২৪-কেউ ধারণ করতে পারবেন না।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সরকার জনগণের হলে ২৪ ও ৭১-এর চেতনাকে ধারণ করত। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে উচ্ছৃঙ্খলভাবে বাধা দেওয়া হলে আইনগতভাবে তা প্রতিহত করত। কিন্তু আইন আজ মব সৃষ্টিকারী ও উগ্রপন্থিদের হাতে বন্দী।’
বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেশের টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা ও জনবলসংকটকে সামনে এনেছে। দ্রুত এসব ঘাটতি পূরণ করা না হলে হামের পাশাপাশি হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া এবং টিকা থেকে উদ্ভূত পোলিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবও বড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের একটি স্বাধীন কমিটি এ বিষয়ে সতর্ক করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি মূল্যায়ন করে কমিটি তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। এতে হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে দেশের টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ থেকে দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবে ১ হাজার ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ। কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হাম প্রাদুর্ভাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা না হলে অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিস্তারও বাড়তে পারে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহিদ রায়হান এএফপিকে জানান, সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব টিকাদানকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
টিকাদানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), টিকা সহায়তাবিষয়ক জোট গাভি এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সমর্থনে চলতি মাসের শুরুতে ৭০ সদস্যের একটি দল বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি মূল্যায়ন করে। মূল্যায়নে দেখা যায়, দেশে মাত্র ৮২ শতাংশ শিশু পূর্ণাঙ্গ টিকা পেয়েছে। অথচ জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় টিকাদানের হার ১৩ শতাংশ পয়েন্ট কম।
এ ছাড়া টিকাদানকর্মীদের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। জনবলের এই ঘাটতি নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের টিকার আওতায় আনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিকভাবে সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ১৯৭৯ সালে কর্মসূচি শুরুর পর দেশটি পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল করেছে। পাশাপাশি রুবেলা ও হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদান কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে পরিকল্পিত হামবিরোধী টিকাদান কর্মসূচি শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে পিছিয়ে যায়। ২০২৫ সালে ধর্মঘট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণেও আরেকটি কর্মসূচি ব্যাহত হয়।
তিন রোগের সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা: হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। রোগটির নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই; তবে টিকার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। গুরুতর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি।
অন্যদিকে হুপিং কাশি শিশুদের গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ডিপথেরিয়া শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করার পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। আর টিকা থেকে উদ্ভূত পোলিও ভাইরাস টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষাঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এসব রোগের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম সচল রাখা, বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা জরুরি। একই সঙ্গে টিকাদানকর্মীদের শূন্যপদ পূরণ, টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ: হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশজুড়ে ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকায় শুধু জরুরি কর্মসূচির ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত টিকাদানব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, জনবলসংকট নিরসন এবং সময়মতো শিশুদের সব প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করা গেলে হামের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। অন্যথায় দীর্ঘদিনের সাফল্য সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
দেশের শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাই টিকাদান কর্মসূচিতে বিনিয়োগ, নিয়মিত নজরদারি এবং স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজারমুখী ট্রেন চলাচলের বিস্তারের মধ্য দিয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের ফলে নতুন করে ১০টি উপজেলার মানুষ নিজ এলাকার কাছের স্টেশন থেকে পর্যটন নগরীতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে শুধু যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে না, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন অর্থনীতির সম্পর্কও আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে সম্প্রসারিত রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর মাধ্যমে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জসংলগ্ন ভৈরব অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের জন্য কক্সবাজার ভ্রমণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। পথে নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে ট্রেনটি। পাশাপাশি ঢাকা বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকেও যাত্রীরা এ সেবা নিতে পারবেন।
এত দিন এসব এলাকার অনেক যাত্রীকে কক্সবাজার যেতে ট্রেন ধরার জন্য ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় নিজ এলাকার কাছের স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে যাত্রাপথের অতিরিক্ত সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এ রুট সুবিধাজনক হতে পারে। তবে প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সময়সূচি, আসনপ্রাপ্তি, টিকিট ব্যবস্থাপনা এবং ট্রেনের নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত করার ওপর।
বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রধানত রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক যাত্রী চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। নতুন এ সম্প্রসারণ সেই নেটওয়ার্ককে পর্যটননির্ভর গন্তব্যের সঙ্গে আরও বিস্তৃতভাবে যুক্ত করছে। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোকে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার যাত্রার কার্যকর সংযোগকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করছে।
কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। সমুদ্রসৈকত, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ বাড়লে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভ্রমণ ব্যয় পরিকল্পনা করাও সহজ হতে পারে।
সড়কপথের যানজট ও দীর্ঘ যাত্রার বিকল্প হিসেবে ট্রেন অনেক যাত্রীর কাছে আকর্ষণীয়। তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়ায় নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ থাকলে মধ্যবিত্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীদের কক্সবাজার ভ্রমণে আগ্রহ বাড়তে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পর্যটন পরিবহন এবং অন্যান্য সেবামূলক খাতে।
তবে পর্যটন মৌসুমে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত আসন, পরিচ্ছন্ন কোচ, নির্ভরযোগ্য সময়সূচি এবং কক্সবাজার স্টেশনের সঙ্গে স্থানীয় পরিবহনের সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু ট্রেন চালু করাই যথেষ্ট নয়; পুরো যাত্রাব্যবস্থাকে যাত্রীবান্ধব করে তুলতে হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী মহানগর এক্সপ্রেসে মোট ৭০৬টি আসন এবং কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে ৭৩৬টি আসন থাকবে। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির ব্যবস্থা রয়েছে।
ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৫৮৩ কিলোমিটার। এ পথে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৬৮৫ টাকা, স্নিগ্ধার ভাড়া ১ হাজার ৩১১ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ২ হাজার ৪০৮ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ২০২ কিলোমিটার। এ পথে শোভন চেয়ারের ভাড়া ২৪০ টাকা, স্নিগ্ধার ভাড়া ৪৫৫ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ৮৬৭ টাকা। মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়াও কমবে।
নরসিংদী থেকে কক্সবাজার যেতে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৬১০ টাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৫১৫ টাকা, কুমিল্লা থেকে ৪৩৫ টাকা এবং ফেনী থেকে ৩৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারবেন।
তবে সব স্টেশন থেকে সব শ্রেণির আসন পাওয়া যাবে না। কোনো কোনো স্টেশনে এসি বার্থের আসন নেই, আবার কোথাও স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ারের আসনসংখ্যাও সীমিত। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের আসন বরাদ্দ ও টিকিটের প্রাপ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
রেল যোগাযোগের সুফল কেবল যাত্রী পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় বাজার, কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও সেবা খাতের বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে। কক্সবাজারের সঙ্গে মধ্যবর্তী জেলাগুলোর সরাসরি রেলসংযোগ বাড়লে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সেবাদাতাদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে রেলওয়ের পরিকল্পনায় যাত্রী চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ফেনী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো জনবহুল এলাকার যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় আসন বরাদ্দ পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে। চাহিদা বাড়লে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন কিংবা ভবিষ্যতে আরও ট্রেন চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
একই সঙ্গে সময়মতো ট্রেন চলাচল, স্টেশনের নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা, অনলাইন টিকিটপ্রাপ্তি এবং যাত্রাপথে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। রেলপথের সুবিধা যেন শুধু বড় শহরের যাত্রীরা নয়, মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর সাধারণ মানুষও সমানভাবে পান, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।
মহানগর এক্সপ্রেসের সম্প্রসারিত রুটে ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলবে; সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার। ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ৮টায় এবং কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় যাত্রা শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন রুট চালুর ফলে কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেলসংযোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে যাত্রীদের আস্থা অর্জন, আসনসংকট মোকাবিলা, সময়ানুবর্তিতা এবং সেবার মান বজায় রাখার ওপর।
সব মিলিয়ে, মহানগর এক্সপ্রেসের কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রা সম্প্রসারণ বাংলাদেশের রেলযোগাযোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর মাধ্যমে নতুন কিছু এলাকার মানুষ সরাসরি পর্যটন নগরীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত আসন এবং নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে এ রেলসংযোগ যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কিশোরগঞ্জ সদরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরান হাসান (৩৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার প্যারাভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমরান হাসান সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের কাতিয়ার এলাকার আব্দুস শহীদের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কালাম (৩০) একই উপজেলার প্যারাভাঙ্গা এলাকার নূর ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্যারাভাঙ্গা এলাকার আবুল কালামের কাছে ইমরানের ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা আনতে সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন ইমরান। পরে আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবুল কালাম ইমরানকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে গুরুতর আহত হন ইমরান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা চিকিৎসকের।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে জাতীয়তাবাদী আদর্শের স্মারক হিসেবে পরিচিত ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ পুনর্নির্মাণের জোর দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ অষ্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের কাছে স্থাপনাটি ছিল আবেগ, অনুভূতি ও রাজনৈতিক চেতনার প্রতীক। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অষ্টগ্রামের কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতীক মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ইট খুলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে চরম রাজনৈতিক আক্রোশ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শহীদ জিয়ার স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য এই প্যাভিলিয়নটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙচুরের পর থেকে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার বিষয় ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই স্মৃতিচিহ্নটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে—এটি ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের সংকল্প। বর্তমানে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান সাহেবের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা উনাকে আমাদের এই দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘অনতিবিলম্বে জিয়া প্যাভিলিয়নটি পুনর্নির্মাণ করা হোক এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জানান, জিয়া প্যাভিলিয়ন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমি স্থানীয় নেতাদের সাথে বিস্তারিত কথা বলেছি। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অষ্টগ্রামের ক্রীড়া, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ আবারও তার পূর্বের স্বকীয়তায় ফিরে আসবে।
মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ফের খোলা হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউরিয়ায় অবস্থিত ফকির লালন সাঁইয়ের বারামখানা খ্যাত আখড়াবাড়ির মাজারের দানবাক্স। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সিলগালা ভেঙে খোলা হয় মাজারের দুটি দানবাক্স।
এরপর লালন একাডেমি ভবনের চারতলায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী গণনা শেষে পাওয়া গেছে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা।
এর আগে, গত ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে খোলা ও গণনা করা হয় দানবাক্সের টাকা। সেদিন দান বাক্স থেকে প্রায় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। যা পরদিন ১১ অক্টোবর লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘ফকির লালন সাঁইয়ের দুটি উৎসব ঘিরে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৩৬তম তিরোধান দিবসের সাত দিন পর দানবাক্স খুলে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। যা সোমবার (২৬ অক্টোবর) নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হবে।’