বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেছেন, আইন শিক্ষার প্রসার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ, সৎ, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে হবিগঞ্জ ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মতিন খানের স্মরণসভা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, মরহুম অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মতিন খান ছিলেন শিক্ষা বিস্তার ও আইন পেশার উন্নয়নে একজন দূরদর্শী, কর্মনিষ্ঠ ও নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে হবিগঞ্জ অঞ্চলে আইন শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আইন বিষয়ে শিক্ষিত হয়ে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ ও যোগ্য আইনজীবী তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। হবিগঞ্জ ল কলেজ ভবিষ্যতেও সৎ, দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারী হতে পারি, কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। জনগণ যাঁদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তাঁদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হলো ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতার লোভে নয়, বরং ন্যায়বিচার, জনস্বার্থ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, সাম্য, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।
স্মরণসভায় অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলাম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ ল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের একাডেমি এলাকায় ১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শহরের একাডেমি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার উন্নি ও মোহাম্মদ ফিরোজ। ওই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুই পথচারী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা হাসপাতাল মোড় এলাকা থেকে ট্রাংক রোডের দিকে যাওয়ার সময় একাডেমি এলাকায় হঠাৎ ব্রেক করলে অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এ সময় অটোরিকশাটি উল্টে গড়িয়ে সড়কের পাশে শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে তারা গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফিরোজের অবস্থা গুরুতর। পথচারী ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে।
এ খবর প্রচার হলে ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির শিক্ষার্থীরা একাডেমি সড়কে নেমে আসে। তারা ফেনী-পরশুরাম-ছাগলনাইয়া সড়কের একাডেমি এলাকায় ১ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি সঠিক ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করলে শিক্ষার্থীরা ১ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন।
ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির শিক্ষার্থী মোসাম্মৎ সানজিদাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমি আসার পথে দুইজন শিক্ষার্থীকে একাডেমি এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চাপা দিলে দুর্ঘটনার শিকার হন। আমরা এর বিচার চাই। একাডেমি এলাকায় স্কুলের সামনের সড়কে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ এবং একাডেমি এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরিয়া নিতে হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ইসমাইল মজুমদার পিন্টু বলেন, ‘সদর হাসপাতাল মোড় থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ট্রাংক রোডের দিকে যাওয়ার সময় একাডেমি এলাকায় হঠাৎ ব্রেক করলে উল্টে গিয়ে গড়িয়ে সড়কের পাশে শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি দেখে উপস্থিত লোকজন দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সরিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির সামনে সড়কে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করতে হবে। একাডেমি এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরিয়া নিতে হবে।’
সড়ক দুর্ঘটনার কারণে অবরোধের খবর পেয়ে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা নাসরিন কান্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির সামনের সড়কে স্পিড ব্রেকার দেওয়ার বিষয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে কেসিসি। প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কিত এক পর্যালোচনা সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসির সকল বিভাগ ও শাখা প্রধানসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে প্রশাসক বলেন, ‘অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাথ দখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের অপসারণে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কাজের প্রতি ব্যাপক সমর্থন আছে, আবার ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে কিছু মানুষের সহানুভূতি আছে। সকল মন্তব্যই আমাদের আমলে আনতে হবে।’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কেসিসির মালিকানাধীন ১২নং ওয়ার্ড অফিসের বর্ধিত অংশসহ অনেক স্থাপনাও অপসারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ‘নাগরিকরা যেন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, কর্মহীন না হয়ে পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র তথা সরকারের দায়িত্ব। আবার নগরবাসীও যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে, সেটিও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীরও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।’ সেই নির্দেশনার আলোকে সড়ক ও ফুটপাথ থেকে অপসারণকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে মতামত উপস্থাপনের তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ ছাড়া প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা থেকে কেসিসিকে দেওয়া দায়িত্বের অগ্রগতিসহ নগরীর সড়ক ও ফুটপাথ মেরামত, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের অগ্রগতি এবং আরও কী কী প্রয়োজন সে সম্পর্কেও তিনি উপস্থিত সকলকে মতামত প্রদানের অনুরোধ জানান।
সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে সড়ক ও ফুটপাথ থেকে অপসারণ করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) ৫টি থানা এলাকায় বিদ্যমান উন্মুক্ত জমিতে অথবা যে সড়কগুলোতে যান চলাচল কম সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কেসিসির সচিবকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় প্রশাসক অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পর উন্মুক্ত জায়গা সংরক্ষণ, কচুরিপানা অপসারণকৃত পুকুরে পুনরায় যাতে কচুরিপানা না জমে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাসে আগামী এক মাস চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসাথে প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় শুভ আগমন ও এ সম্পর্কিত সকল অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। বিদ্যমান সৌন্দর্যবর্ধন কাজগুলো স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে তিনি নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ছাড়া সভায় ৯নং ওয়ার্ডের বাস্তুহারায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনসহ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারকরণ, হামের টিকাদানের বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আক্রান্ত এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিশুদের হামের টিকার আওতায় আনা এবং জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে আগামী ১ নভেম্বর থেকে স্কুলভিত্তিক কিশোরীদের এইচপিভি টিকা প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতনা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামানসহ সকল বিভাগ ও শাখাপ্রধান এবং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পেয়ে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউনহলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সংবর্ধনা ও ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাল্যবিবাহ, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং শিশুশ্রম প্রতিরোধেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকদের সরকারিকরণ, এমপিওভুক্তি বা জাতীয়করণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু এগুলো করলেই হবে না। শিক্ষকদের ভালো রাখতে হবে, শিক্ষার্থীদের ভালো পরিবেশ দিতে হবে এবং স্কুল-কলেজ থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পেছনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকদের সামাজিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকরা সমাজের অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের পরামর্শ নিতে আসেন। তাই শিক্ষকদের ইতিবাচক পরামর্শ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ, শিশুশ্রম নির্মূল এবং মাদকের বিস্তার রোধে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সামাজিক সচেতনতা ও জনগণের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।’
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এসব শিশুর জন্য শুধু শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করলেই চলবে না, তাদের অভিভাবকদের প্রয়োজন ও কষ্টের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর যত্নে অনেক ক্ষেত্রে একাধিক সহায়তাকারীর প্রয়োজন হয়। তাই শিক্ষার পরিকল্পনা করতে হবে সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে।’
রাজধানীতে মাদকবিরোধী পৃথক চারটি অভিযানে তিন হাজার ১০ পিস ইয়াবা ও ১২০ গ্রাম গাঁজাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান। এর আগে, গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরের খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘খিলগাঁও দক্ষিণ গোড়ানের মদিনা সড়কের ৬১৯ নম্বর বাড়িতে কাজী স্টোর নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে কাজী ছানা উল্লাহ (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় দোকানের ক্যাশ বাক্সের ড্রয়ার থেকে দুই হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’
অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তসংলগ্ন আলী মার্কেটের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আরামবাগ ক্লাব মার্কেটের আল ফালাক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে অভিযান চালিয়ে লাভলু রহমান (৪৫), গিয়াস উদ্দিন (৪০) ও মো. হানিফকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার এলাকায় মেসার্স ফাহিম বাণিজ্যালয়ের সামনে অভিযান চালিয়ে হনুফা (২৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ও ১২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় চারটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০ দেশের পর্যটন সংস্থা ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার আগারগাঁওয়ের একটি সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পর্যটন উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টলে ২২০টির বেশি প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য ক্রেতা ও ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ট্রেড ভিজিটরের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। মেলায় ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছে- নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা এবং প্রতিনিধিরা। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে বিমান সংস্থা, হোটেল ও ট্যুর অপারেটররা নিজেদের সেবা ও পণ্য তুলে ধরছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফের মতো আয়োজন দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এ খাতের বিকাশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘টানা ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এ মেলা দেশীয় পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।’
এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এয়ারলাইন্স পার্টনার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট।
মেলার আয়োজনে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই।
উল্লেখ্য, মেলা আগামী শুক্রবার ও শনিবার প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, সকল প্রকার ভয়-ভীতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণ দূরে ঠেলে সমাজের অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে এবং সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সারদার প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিবাদন গ্রহণ ও সুসজ্জিত প্যারেড পরিদর্শন করেন। এই কুচকাওয়াজে দীর্ঘ ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত ক্যাডেটদের হাতে পদক ও স্মারক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে সামগ্রিকভাবে শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট নির্বাচিত হন ওমর ফারুক, মেধাভিত্তিক মূল্যায়নে বেস্ট অ্যাকাডেমিক হন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, মাঠের দক্ষতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন সাইফুল ইসলাম এবং লক্ষ্যভেদে পারদর্শিতার জন্য বেস্ট শুটার পুরস্কার লাভ করেন মো. আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে সামগ্রিকভাবে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, একাডেমিক শাখায় শীর্ষস্থান পেয়ে বেস্ট অ্যাকাডেমিক হন মো. বোরহানুল ইসলাম, শারীরিক ও মাঠের দক্ষতায় সেরা হন দেওয়ান গোলাম রসুল এবং নিশানাভেদে বেস্ট শুটার পুরস্কার পান মো. কামাল গনি।
ছয় মাসের কঠোর মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী নবীন কর্মকর্তারা এখন মাঠপর্যায়ে সরাসরি দায়িত্ব পালনে যাচ্ছেন। এর মধ্যে শিক্ষানবিশ সার্জেন্টরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটে যোগ দেবেন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআইরা দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত হবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মাইনুল হাসান, বিপিএম, পিপিএম, এনডিসি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট নাগরিক এবং সদ্য উত্তীর্ণ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুরের বাবুরহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণ করা জমি এবং ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের পরিচয় উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। চাঁদপুর জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুজাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে এ নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ।
আদালতের আদেশে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট চাঁদপুর পৌরসভার বাবুরহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণ করা জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে চাঁদপুর-মতলব সড়কের বাবুরহাট বাজারসংলগ্ন পশ্চিম পাশে সড়ক বিভাগের জমি ও জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাত দখল করে পুনরায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বাবুরহাটে সড়ক সংকুচিত হয়ে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়ছে।সরকারি জমি উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল এবং সড়ক-ফুটপাত দখল করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখা এবং যানবাহন ও পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত। আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি দখলদারদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ডাব প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ দাবি করেন। মির্জা ফয়সল অভিযোগ করে বলেন, ডাব মার্কার এজেন্টরা সবাই জামায়াতের এজেন্ট হয়ে গেছে। জামায়াতের এজেন্টরা ডাব মার্কার কাগজ নিয়ে ঢুকে গেছে।
এর আগে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বড় ব্যবধানে নিরঙ্কুশ বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন এবং ভোটারদের মাঝে কোনো শঙ্কা দেখছেন না। প্রশাসন তাদের পর্যালোচনায় কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সকালের দিকে আবহাওয়া কিছুটা বৈরী থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন এই প্রার্থী।
স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিনটি প্রশাসনিক এলাকায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন। এ ছাড়া চারজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। পাশাপাশি ডাকযোগে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ২৪৯ জন পুরুষ ও ৩৮ জন নারীসহ মোট ২৮৭ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তবে ব্যালটের লড়াইয়ে সাধারণ জনগণের রায়ই চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ অভিমত জানান।
ভোট প্রদানের পর পরিবেশ মূল্যায়ন করতে গিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন জানান, সবেমাত্র ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সার্বিক পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে এখন পর্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ আবহ বিরাজ করছে এবং ভোটাররা কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই কেন্দ্রে আসছেন। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নিজের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্তই শেষ কথা এবং সেই রায়কে বরণ করে নেওয়ার মানসিকতা সবার থাকা উচিত।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করায় এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি বুথে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট পাঁচজন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন লড়ছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ রুখে দিতে দেশজুড়ে সমন্বিত অভিযানের ছক কষছে পুলিশ। শুধু গ্যাংয়ের সদস্য নয়, তাদের সংগঠক, অর্থের জোগানদাতা এবং অপরাধে সহায়তাকারীদেরও শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে সক্রিয় গ্যাং, সদস্য ও পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা তৈরি এবং হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশের এই উদ্যোগের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। অক্টোবরের প্রথমার্ধে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে একাধিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে সন্দেহভাজনদের পাশাপাশি গ্যাংয়ের কথিত নেতাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তালিকায় থাকবে গ্যাংয়ের নেতা ও পৃষ্ঠপোষকেরা: পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, সক্রিয় কিশোর গ্যাং এবং তাদের সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অভিযান পরিচালনার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো রেকর্ড নেই, তাদের শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই। জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে এবং আইন ভাঙছে, এমন ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের আওতায় স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) প্রাথমিক যাচাইয়ে ১ হাজার ৩৩৩টি কিশোর গ্যাং, ২১৩ জন দলনেতা বা সংগঠক এবং ২৭ জন পৃষ্ঠপোষকের একটি খসড়া তালিকা তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠানোর আগে তালিকাটি বিভাগীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিভিন্ন জেলায় চলছে ধারাবাহিক অভিযান: কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি জেলায় বড় পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে।
কুমিল্লায় ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলা পুলিশের ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে ২ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করার তথ্য প্রকাশ করে পুলিশ। ২ অক্টোবরের অভিযানে আটক ৩৭০ জনের মধ্যে ২৭৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। পরবর্তী অভিযানেও সেখানে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে। ৯ অক্টোবর এক রাতের অভিযানে আরও ২৫২ জনকে আটক করার তথ্য প্রকাশিত হয়।
নোয়াখালীতে ১২ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে জেলার নয়টি থানা এলাকা থেকে ১৪৫ জনকে আটক করে পুলিশ। একই সময়ে লক্ষ্মীপুরের ছয় থানায় তিন দিনের ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৫৪৭ জনকে আটক করার তথ্য প্রকাশিত হয়। এসব অভিযানে আটকদের পরিচয়, বয়স ও অপরাধে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ।
তবে এসব অভিযানে আটক হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বা অপরাধে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পুলিশও যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।
পরিসংখ্যানে তথ্যের ঘাটতি: কিশোর গ্যাংয়ের প্রকৃত সংখ্যা ও সদস্যদের বিষয়ে পুলিশের তথ্যভাণ্ডারে অসংগতি রয়েছে। বিভিন্ন ইউনিট নিজেদের মতো করে তালিকা তৈরি করায় কোথাও পুরোনো তথ্য রয়ে গেছে, আবার কোথাও পূর্ণাঙ্গ তালিকাই নেই।
পুলিশ সদরদপ্তরের আগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৩০৭টি কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য ছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ৯৩টি, ঢাকা রেঞ্জে ৭৮টি এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি গ্যাংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ডিএমপির তালিকায় ছিল ৪১টি গ্যাং। খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল মহানগরসহ কয়েকটি অঞ্চলের তথ্যও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এসব সংখ্যা ও এসআরবির সাম্প্রতিক খসড়া তালিকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তালিকা তৈরির পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহের সময় এবং গ্যাং শনাক্তের সংজ্ঞা এক না হলে সংখ্যার এই পার্থক্য থেকেই যেতে পারে। ফলে দেশব্যাপী একটি সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের আগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৪৮টি গ্যাংয়ের ২৭০ সদস্য ৬৯টি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছিল। এর মধ্যে ২১টি মামলা ছিল গ্যাংগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনায়। ওই ৪৮টি গ্যাংয়ের তালিকাভুক্ত সদস্যসংখ্যা ছিল ৫৭৭।
আইনের সীমার মধ্যে কঠোর হওয়ার নির্দেশ: কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ছাড়া কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করার পর তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমাধান নয়।
অতিরিক্ত আইজিপি সায়েদুর রহমানের ভাষ্য, কিশোর অপরাধ দমনে কঠোর হওয়া প্রয়োজন, তবে তা নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ ক্ষমতা আইনে কিশোরদের গ্রেপ্তার করার মতো পদক্ষেপ ভালো চর্চা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
পুলিশের অনুসন্ধানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অন্য কোনো মহল গ্যাংগুলোকে অর্থ, আশ্রয় কিংবা সুরক্ষা দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, অপরাধে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে কিশোরদের ব্যবহার করতে পারে। বয়স, পারিবারিক অসহায়ত্ব ও আইনের বিশেষ সুরক্ষার সুযোগ নিয়ে তাদের অপরাধে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
শুধু গ্রেপ্তারে সমাধান নয়: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. উমর ফারুক মনে করেন, কিশোর গ্যাং দমনে শুধু সদস্যদের আটক করলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আসবে না। গ্যাং পরিচালনায় অর্থ জোগানদাতা, সংগঠক ও প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
তার মতে, গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত অনেক কিশোর পারিবারিক তদারকির বাইরে থাকে, কেউ কেউ মাদকাসক্তি বা সামাজিক নানা সংকটে জড়িয়ে পড়ে। তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি, কাউন্সেলিং, পরিবারের সম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করা জরুরি।
কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের অভিযান ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের পুনর্বাসন এবং নতুনদের অপরাধ থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা না থাকলে গ্রেপ্তার ও আটকের পরও একই সমস্যা ফিরে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের নতুন উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার, নির্ভুলভাবে অপরাধী শনাক্তকরণ, পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর। একই সঙ্গে নিরপরাধ কিশোরদের হয়রানি থেকে সুরক্ষা এবং অপরাধ থেকে ফিরে আসার সুযোগ নিশ্চিত করাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান লঙ্ঘন করে গড়ে তোলার অভিযোগে ‘ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর যাবতীয় নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে পটুয়াখালীর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে এ নির্দেশ জারি করেন।
পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী আলোচিত এই মেগা রিসোর্ট প্রকল্পটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। কাজ বন্ধের পরপরই প্রকল্প এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে অনুমোদন ব্যতিরেক নির্মাণের কারণে এটি বন্ধ করা হয়েছে এবং নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভূমি প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই বহুতল রিসোর্ট প্রকল্পটির নির্মাণকাজ জোরেশোরে শুরু হয়। ইত্যবসরে প্রকল্পটির প্রায় ছয় একর জমি ঘিরে সুবিশাল সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শেষ হয়েছিল এবং সেখানে একটি আধুনিক মসজিদ ও বিশাল কনভেনশন হলের পরিকাঠামোগত কাজও পুরোদমে চলছিল।
অভিযানের বিষয়ে প্রকল্পটির স্থানীয় প্রতিনিধি মনির মুসুল্লি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং রিসোর্টের চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, অনুমোদন ছাড়া বহুতল স্থাপনা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ এবং সরকারের গৃহীত কুয়াকাটার মহাপরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট জমিটি মূলত রেলওয়ের ভবিষ্যৎ অবকাঠামোর জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
কলাপাড়া ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান জানান, ইতিপূর্বেও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা অমান্য করেছিল। সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনারের স্পষ্ট প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার আলোকেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, আইনের চোখে সবাই সমান এবং কে উদ্যোক্তা তা প্রশাসনের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের প্রস্তুতি। কোথাও কোথাও কৃষকরা পাকা ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। সবুজ ধানক্ষেতের সোনালি রূপ ধারণের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও মাঠের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এবারও আমন ধানের ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন পাকা ও আধাপাকা আমন ধানের শিষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। কৃষকের স্বপ্নজুড়ে এখন সোনালি ধান ঘরে তোলার প্রত্যাশা। ধান কাটা-মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ফলন ভালো হলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।
গ্রামবাংলার মাঠজুড়ে আমন ধানের এমন দৃশ্য কৃষকের পরিশ্রমের সার্থকতার বার্তা দিচ্ছে। বছরের এই সময়ে কৃষকের প্রধান ব্যস্ততা থাকে ধান কাটা-মাড়াই ও ঘরে তোলাকে ঘিরে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং ফসলের সঠিক পরিচর্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিনহাজুর রহমান হাবিব বলেন, ‘গ্রামবাংলার কৃষি ও প্রকৃতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। মাঠভরা আমন ধান কৃষকের পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি। সোনালি ধান ঘরে তোলার সময়টি গ্রামীণ জীবনে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। কৃষকরা ভালো ফলন পেলে তাদের মুখে হাসি ফোটে, সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’
নন্দীগ্রাম উপজেলার শিমলা বাজারের ধানের আড়তদার মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘ধানের জাত ও মানভেদে বাজারদর নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে নতুন আমন ধানের মধ্যে ব্রিধান-৪৯ প্রতি মণ ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মিনিকেট ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা, সুবললতা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কাটারিভোগ ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, ‘চলতি খরিপ-২ মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ধানের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধান পরিপক্ব হলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কাটা-মাড়াইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এবারও এ উপজেলায় আমন ধানের আশাব্যঞ্জক ফলন হবে বলে আমরা আশা করছি। ধানের ফলন ভালো হলে কৃষকরা লাভবান হবেন।’