রোববার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
১৬ ভাদ্র ১৪৩২

ছয় আসনে উপনির্বাচন: তিন আসনে আ.লীগের ‘বিদ্রোহী’ ৪

ইভিএম মেশিন। ফাইল ছবি
আপডেটেড
৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:৫৬

বিএনপির সংসদ সদস্যদের ছেড়ে দেয়া ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে মোট ৫৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে দলের আর কোনো নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে দলটির দুজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে একজন স্বতন্ত্র তথা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি আওয়ামী লীগ তাদের ১৪ দলের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টিকে ছেড়ে দিলেও সেখানে এক আওয়ামী লীগ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল এই ছয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ। আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, শেষ সময় পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছয়জন করে; বগুড়া-৬ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমা দিয়েছেন ১৩ জন করে এবং বগুড়া-৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন।

ঠাকুরগাঁও-৩: শরিকের আসনে আ.লীগের ‘বিদ্রোহী’ ১

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি জোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ওয়ার্কার্স পার্টি এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছে ইয়াসিন আলীকে। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোপাল চন্দ্র রায় এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

রংপুর আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দীন জানান, এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া বাকি প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, জাকের পার্টির এমদাদুল হক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ ও বিএনএসএসের সিরাজুল ইসলাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই আসনে আ.লীগের তিনজন ‘বিদ্রোহী’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়াউর রহমান গত বুধবারই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গতকাল দলের আরও দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার ও গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খুরশিদ আলম বাচ্চু। দলীয় মনোনয়ন চেয়েও না পেয়ে তারা ভোটের মাঠে ‘বিদ্রোহী’ হয়েছেন।

সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, এ আসনে বিএনএফের প্রার্থী নবীউল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ও জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফাও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল ওদুদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন গত বুধবার। গতকাল জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি (পরে কেন্দ্র থেকে তাকে বহিষ্কার ও যুবলীগের ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়) সামিউল হক লিটনও এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। সে হিসেবে তিনি ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়ে এই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান জানান, জাতীয় পার্টিতে সদ্য যোগ দেয়া ক্রীড়া সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল ও বিএনএফের কামরুজ্জামান খানও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

বগুড়ার দুই আসনে আ.লীগের বিদ্রোহী নেই

বগুড়া-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু এবং বগুড়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন গতকাল দুপুরে। এ ছাড়া দুটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বহুল আলোচিত মো. আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম।

বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, বগুড়া-৪ আসনে পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৯ জন এবং বগুড়া-৬ আসনে ছয় স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

বগুড়া-৪ আসনে অন্য দলীয় প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল, জাকের পার্টির আব্দুর রশিদ সরদার ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. তাজউদ্দীন মণ্ডল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন মো. গোলাম মোস্তফা, আলহাজ মো. ইলিয়াস আলী, মো. আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম), মো. কামরুল হাসান সিদ্দিকী (জুয়েল) এবং মো. আব্দুর রশিদ।

অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে নৌকার প্রার্থী ছাড়া অন্য দলীয় প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর, জাসদের ইমদাদুল হক ইমদাদ, গণফ্রন্টের আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনসুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফতে আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম ও জাকের পার্টির মো. ফয়সাল বিন শফিক। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মো. সরকার বাদল, মো. আব্দুল মান্নান, সৈয়দ কবির আহম্মেদ, হিরো আলম, মো. রাকিব হাসান ও মাছুদার রহমান মিলন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: উন্মুক্ত আসনে আ.লীগের ৫ প্রার্থী

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে আগেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন আসনটি থেকে সদ্য পদত্যাগী বিএনপি নেতা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। এই আসনে আওয়ামী লীগ নিজ দল বা জোট থেকে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি। তবে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আব্দুল হামিদ ভাসানীকে। মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তিনিও। তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির আরেক নেতা এবং এই আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দিলেও এই আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন, সরাইল উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন, বাংলাদেশ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম ও সরাইল উপজেলার চুন্টা গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম।

এই আসনে আরও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আব্দুর রাজ্জাক হোসেন ও জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আরও দুজন। তারা হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু আসিফ আহমেদ, মোহন মিয়া ও শাহ মফিজ।

এই আসনের উপনির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, এই আসনে ভোট করতে ১৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১৩ জন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, এই ছয় আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে আগামী ৮ জানুয়ারি। বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থীরা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সব কটি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেয়া হবে।


আন্তর্জাতিক ফেলোশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কুমিল্লার সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা দক্ষিণ

দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ নারী নেতৃবৃন্দের জন্য আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ প্রোগ্রাম ‘সাউথ এশিয়া ইয়ং উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট একাডেমি’তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লার উদীয়মান নারী নেত্রী সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী।
সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (IDEA) এই ফেলোশিপের আয়োজন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন (UN Women)-এর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের তরুণ নারী নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।
ফেলোশিপটি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর, শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়। তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নেতৃত্ব বিকাশ, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
এ প্রসঙ্গে সুমাইয়া বলেন, “আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আমার জন্য গৌরব ও সম্মানের। দেশের তরুণ নারীদের অবস্থান ও সক্ষমতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার এই দায়িত্ব আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব ইনশাআল্লাহ। এই অভিজ্ঞতা আমাকে ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে সমৃদ্ধ করবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব গঠনে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করবে।”
সুমাইয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল গবেষক এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য-প্রযুক্তি সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মহানগর মহিলা দলের সহ-সভাপতি এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের তরুণ রাজনৈতিক ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সুমাইয়া ইতোমধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
এই ধরনের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তরুণ নারীদের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতাকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরছে। সুমাইয়া বিনতে হোসাইনীর মতো নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ নারীরা আগামী দিনের পরিবর্তনের রূপকার হয়ে উঠবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের মানুষের।


কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, স্টাফ রিপোর্টার- কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। ৪ মাস ১৮ দিনে এই টাকা জমা পড়েছে মসজিদের ১৩ টি দানবাক্সে।

দিনভর গুনে দেখা গেছে, সেখানে জমা পড়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এ ছাড়াও পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে সকাল সোয়া ৭ টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর সকাল ৯ টার দিকে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে মেজেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। প্রায় পাঁচ শতাধিক গণনাকারীর অংশগ্রহণে গণনা চলে সন্ধ্যা ৮ পর্যন্ত।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহবায়ক মোঃ এরশাদুল আহমেদ রাত সোয়া ৮ টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সকালে মসজিদটির ১১ টি দানবাক্স খুলে ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। এছাড়াও পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা। তখন ৪ মাস ১২ দিনে এই পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল মসজিদের দানবাক্সগুলোতে।

তখনকার সময়ে এই পরিমাণ অর্থ ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে।

পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনায় অংশ নেয় পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৪৫ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা, এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য গণনায় অংশ নিয়েছেন।

এই গণনায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আনাছ বলেন, আমরা সব সময় অধীর আগ্রহে থাকি কখন দানবাক্স খোলা হবে। পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত তিনি।

এছাড়াও দানবাক্সের টাকা গণনা দেখতে অনেকেই এসেছেন দূরদূরান্ত থেকে। তাদের মধ্যে একজন জাকারিয়া হোসাইন। তিনি এসেছেন হোসেনপুর উপজেলার সিদলা এলাকা থেকে। জাকারিয়া বলেন, পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনা সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেন। তবে এবার সরাসরি দেখতে মসজিদে ছুটে এসেছেন তিনি।

এই মসজিদে দান বা মানত করলে মনের মনে আশা পূরণ এমন বিশ্বাস থেকে দান করেন অনেকে। এমন বিশ্বাস থেকে পাগলা মসজিদে দান করতে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছিলেন নিলুফা রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ পাগলা মসজিদে আসার ইচ্ছে ছিল তার। এবার সুযোগ পেয়ে মসজিদে এসে দান করেছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। দানবাক্স খোলা থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেও থাকেন মসজিদ প্রাঙ্গণে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান জানান, পাগলা মসজিদে দানের টাকা থেকে বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করা হয়ে থাকে। দানের টাকায় পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং এখানে বহুমুখী কাজ করা হবে। এখানে অনাথ–এতিমদের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসাশিক্ষা, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশনও থাকবে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দেবে এবং কাজ শুরু হয়ে যাবে।

এই মসজিদের বর্তমান আয়তন ৫ দশমিক ৫ একর। ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরও কিছু জায়গা কেনা হবে। এই মুহূর্তে পাগলা মসজিদের অ্যাকাউন্টে মানুষের দানের ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জমা আছে।


নিজের জুস নিজেই পান করে অচেতন অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা ফুল মিয়া

আপডেটেড ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ২০:৩৯
নাসির উদ্দীন শাহ মিলন, নীলফামারী প্রতিনিধি

ট্রেনের যাত্রী মা-মেয়েকে জুস পান করিয়ে অজ্ঞান করে খুলে নেন কানের দুল ও নাকের ফুল। এসময় পাশের যাত্রীরা ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে হাতেনাতে অজ্ঞান পার্টির মূল হোতা ফুল মিয়াকে (৫৫) আটক করেন। এসময় যাত্রীরা তাঁর কাছে থাকা জুস যাচাই করতে তাঁকে পান করালে তিনি অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়েন। শনিবার (৩০ আগষ্ট) ভোরের দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ-উন নবী।
সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশ দুই ভুক্তভোগীসহ অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অজ্ঞান পার্টি চক্রের মূলহোতা ফুল মিয়া রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আব্দুল্লাহপুরের আব্দুস ছামাদের ছেলে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার করনাই এলাকার দক্ষিণ মালঞ্চ গ্রামের ইশনী রায়ের স্ত্রী কৌশিলা রায় (৫০) ও মেয়ে বীথি রানী (২৮)।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঝ’ বগির ৭৮, ৭৯ নম্বর সিটের যাত্রী কৌশিলা ও বীথি। তাঁরা দিনাজপুরের বিরামপুর স্টেশন থেকে সৈয়দপুরে আসছিলেন। পাশের সিটের যাত্রী ছিলেন অজ্ঞান পার্টি চক্রের মূল হোতা ফুল মিয়া। আলাপচারিতার একপর্যায়ে মা-মেয়েকে জুস পান করান তিনি। এতে ভুক্তভোগীরা অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁদের কানের দুল ও নাকের ফুল খুলে নেন ফুল মিয়া।”
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ-উন নবী জানান, দুই ভুক্তভোগীসহ অজ্ঞান পার্টির মূল হোতাকে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুপুরে কৌশিলা রায়ের ছেলে রবীন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তিনি বলেন, “অজ্ঞান পার্টির মূল হোতা ফুল মিয়ার নামে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ভুক্তভোগী ও আসামির জ্ঞান এখনো ফেরেনি।


কুষ্টিয়ায় বিজিবির অভিযানে নকল বিড়ি, বিদেশি সিগারেট ও কারেন্ট জাল জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত দুটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল বিড়ি, শুল্ক ফাঁকি দেওয়া বিদেশি সিগারেট এবং ভারতীয় কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৮৮ হাজার ১০০ টাকা।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায়।

বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় গত ২৮ আগস্ট ভেড়ামারা উপজেলার বারমাইল বাজার এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩৪২০ প্যাকেট অবৈধ নকল বিড়ি এবং বৈধ মূসক চালানপত্র (৬.৩) না থাকায় ২০০০ প্যাকেট বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১০০ টাকা।

পরদিন ২৯ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী আশ্রায়ন বিওপি এলাকার ভাগজোত ঘাটে বিজিবির আরেকটি বিশেষ অভিযানে ভারত থেকে আনা ৫০ কেজি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ টাকা।

জব্দকৃত বিদেশি সিগারেট যাচাই করে মালিকপক্ষ থেকে মূসক বাবদ ১৮ হাজার টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক বাবদ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা—মোট ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা রাজস্ব আদায় করে সিগারেটগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নকল বিড়ি কাস্টমসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং কারেন্ট জাল ধ্বংসের জন্য ব্যাটালিয়নের সিজার স্টোরে সংরক্ষিত রয়েছে।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান, পিএসসি বলেন, "সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।"


পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৩২ বস্তা টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, স্টাফ রিপোর্টার- কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে, যেগুলোর গণনা চলছে।

জেলা শহরের ঐতিহাসিক মসজিদটিতে ১৩ টি দানবাক্স

আছে, যেগুলো সাধারণত তিন মাস পরপর খোলা হয়। এবার খোলা হয়েছে ৪ মাস ১৮ দিন পর। ধারণা করা হচ্ছে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে এবার।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে সকাল সোয়া ৭ দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সকালে মসজিদটির ১১ টি দানবাক্স খুলে ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা । এছাড়াও পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা। তখন ৪ মাস ১২ দিনে এই পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল মসজিদের দানবাক্সগুলোতে। তখনকার সময়ে এই পরিমাণ অর্থ ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে।

পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনায় অংশ নেয় পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৪৫ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা, এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য গণনায় অংশ নিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান জানান, পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলে এবার ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন চলছে গণনার কাজ। তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং এখানে বহুমুখী কাজ করা হবে। এখানে অনাথ–এতিমদের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসাশিক্ষা, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশনও থাকবে।

এই মসজিদের বর্তমান আয়তন ৫ দশমিক ৫ একর। ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরও কিছু জায়গা কেনা হবে। এই মুহূর্তে পাগলা মসজিদের অ্যাকাউন্টে মানুষের দানের ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জমা আছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দেবে এবং কাজ শুরু হয়ে যাবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে তিনিসহ তাঁর পুলিশ সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন।

দানবাক্স খোলার পর গণনা দেখতে মসজিদের আশপাশে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে আসেন দূরদুরান্ত থেকে। তবে বেশি লোকজন আসেন প্রতি শুক্রবারে।

মসজিদটিতে নিয়মিত হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলের পাশাপাশি নানা ধরনের জিনিসপত্র দান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ।


নওগাঁয় গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি
গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে কমিটি বানিজ্য, অনিয়ম, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দুর্নীতি, একক আধিপত্য বিস্তারসহ নানান অভিযোগ তুলে নওগাঁয় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের শতাধিক নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ শহরের প্যারীমোহন সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ পদত্যাগের ঘোষনা দেন নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি এবাদুল ইসলাম। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহ- সভাপতি আখতারুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শাকিব খানসহ জেলা ও উপজেলার নেতারা।
এবাদুল ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের কথা বলে সংগঠন শুরু হলেও বর্তমানে তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়েছে। সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। যারা মাঠে-ময়দানে সর্বস্ব দিয়ে সংগঠন গড়ে তুলেছেন, তাদের কোনো মূল্য নেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে। সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং অপমানজনক। দলের অভ্যন্তরে মতামতের কোনো মূল্য নেই, উপর থেকে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি নওগাঁ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মৌখিক ভোট উপেক্ষা করে জেলা কমিটি গঠনের জন্য একটি উপকমিটি গঠন করা হলেও তাদের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে অলৌকিক ক্ষমতায় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে যা ওই উপকমিটিই জানে না। মূল সংগঠন গণঅধিকার পরিষদ হলেও, নিয়ন্ত্রণ করছে অঙ্গ সংগঠন যুব অধিকার পরিষদ যা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কমিটি গঠনে অর্থ বাণিজ্য হয়েছে। কোনো কর্মসূচি করতে হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের আনতে জেলা থেকেই অর্থ সংগ্রহ করতে বলা হয়, যা একপ্রকার চাপ ও অবিচার। নতুন ধারার রাজনীতির কথা বলে সংগঠন শুরু হলেও বর্তমানে পুরনো ধ্যানধারণা ও আচরণেই চলছে সব কিছু। শুধু নওগাঁ জেলা নয় রাজশাহী বিভাগ উচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংগঠনের প্রতিনিয়ত ক্ষতি করে যাচ্ছে। রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন কবির.
গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য আমিনুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় সংসদ যুব অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এস এম সাব্বির এদের সকল প্রকার অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেন কেন্দ্রীয় নেতারা
বর্তমান সংগঠন তার মূল পথ ও উদ্দেশ্য থেকে সরে এসেছে। তাই নিজের আত্মমর্যাদা, রাজনৈতিক আদর্শ ও তৃণমূল কর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই এই সংগঠন থেকে শতাধিক নেতাকর্মী সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শাকিব খান বলেন, নওগাঁ জেলায় গণঅধিকার পরিষদের যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে সাধারণ সম্পাদকের পদে যার নাম আছে তার কোন যোগ্যতা নেই। শুধুমাত্র স্বজন প্রীতি করে তাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। বর্তমান কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে আমরা নওগাঁ জেলাতে গণধিকার পরিষদকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করলাম। গণঅধিকার পরিষদের অস্তিত্ব নওগাঁতে থাকবে না।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ জেলার গণ অধিকার পরিষদ, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও যুব অধিকার পরিষদের জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং সংগঠনের বর্তমান কমিটি ঘোষনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।


পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে হাজারো মানুষের উল্লাসে জশনে জুলুস পালিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

হাজারো মানুষের উল্লাসে পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটিতে সর্ববৃহৎ ও ঐতিহাসিক জশনে জুলুস পবিত্র ঈদ-এ- মিলাদুন্নবী পালিত হয়েছে। এসময় শায়েররা গাড়ি বহর নিয়ে গাইতে থাকলেন ‘আজে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলুস চলতেছে,আনন্দে উল্লাসে সারা জগৎ ভরেছে’ এমন মধুর কণ্ঠে হাম-নাত আর দরুদ মুখর পরিবেশে রাঙামাটিতে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহি জশনে জুলুস। জুলুসকে ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
জুলুসের পতাকা, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, তরুণের সাজে রাঙামাটি শহরের সড়ক ও মোড়গুলো। হামদ-নাত আর দরুদে মুখর পরিবেশে জুলুসে হাজারো মানুষের ঢল নামে। জুলুসে শিশু কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে একাকার হয়ে পড়ে শহরের রাজপথ। বাসাবাড়ির ছাদে শুধু মানুষ আর মানুষ। যেদিকে চোখ যায় শুধু পাঞ্জাবি টুপি পরিহিত মুসল্লিদের ভিড় ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বাদে জুমার নামাজের পরে রাঙামাটি জেলার গাউছিয়া কমিটির উদ্যোগে রিজার্ভবাজার জামে মসজিদ থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহি জশনে জুলুসের একটি বর্ণাঢ্য বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে হাজারো মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নানা রঙ-বেরঙের ব্যানার ফেস্টুন ও কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর, নারায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ (সঃ) ধ্বনিতে স্লোগান দিতে থাকে। এতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো শহর। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের বনরূপা জামে মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়। পরে বনরূপা জামে মসজিদে নবী করিম হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী নিয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং মিলাদ-ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে জুলুসের সমাপ্তি করা হয়।
এ সময় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি আব্দুল ওয়াজেদ, বনরূপা মসজিদের খতিব মাওলানা ইকবাল হোসাইন আল কাদেরী, কাঠালতলি জামে মসজিদের খতিব হাফেজ ক্বারী মাওলানা সেকান্দর হোসাইন আল ক্বাদেরী, বনরূপা জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা সুলতান মাহমুদ, রিজার্ভবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ছৈয়দ আবু নওশদ নঙ্গমী ।


খাবার সংকটে লোকালয়ে বানরের উৎপাত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সালাউদ্দীন শুভ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
খাবার সংকটে মৌলভীবাজারে বেড়েছে বানরের উৎপাত। সুযোগ পেলেই বাসাবাড়িতে ঢুকে রান্না করা খাবার এবং কাঁচা সবজি ও ফলমূল নিয়ে যাচ্ছে। এক সময় বনজঙ্গলের ফলফলাদি খেয়েই বেঁচে থাকত বানরগুলো। বর্তমানে বনজঙ্গল কেটে ফেলায় দেখা দিয়েছে বানরের খাবার সংকট। খাবার না পেয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় এ প্রাণীগুলো হুমকির মধ্যে পড়েছে। এদিকে বানর বন ছেড়ে লোকালয়ে আসার ঘটনায় পরিবেশকর্মীরা বনের খাদ্যসংকটকে দায়ী করছেন। বনে খাদ্য সংকট, অন্যদিকে ঘনবসতির কারণে বানরের সংখ্যা কমে গেছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রাণীকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানান এলাকাবাসী। শুক্রবার (২৯আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কাউন্টারের ছাদ থেকে তুলা।


মাগুরায় উপজেলা প্রশাসন বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উপজেলা প্রশাসন বিতর্ক উৎসব-২০২৫ এর উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালী শহর প্রদক্ষিণ করে নোমানি ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। বর্ণাঢ্য এ র‍্যালীতে মাগুরা সদর উপজেলার ২৫টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
র‍্যালী শেষে মাগুরা জেলা অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসক মো: অহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো: মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান বিতর্ক ব্যক্তিত্ব ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ এনডিএফ বি ডির চেয়ারম্যান এ কে এম শোয়েব ও বিশেষ বিতর্ক ব্যক্তিত্ব ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ এম ডি এফ বিডি খুলনা অঞ্চলের মডারেটর মোঃ তাকদীরুল গনি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসান।
দিনব্যাপী এ উৎসবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পরিচালনায় আন্তর্জাতিক শিশু বিতর্ক রম্য, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সনাতনী স্কুল বিতর্ক, তাৎক্ষণিক বিতর্কে অংশ নেয় মাগুরা সদর উপজেলার ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৬ টি বিতর্ক ক্লাবের শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে মাগুরা আদর্শ বিতর্ক সংঘের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন মাগুরা সদর এ উৎসবের আয়োজন করে। সার্বিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাগুর আদর্শ বিতর্ক সংঘের চেয়ারম্যান নাহিদুর রহমান দুর্জয়। পরে বিতার্কিক দের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয় ।


নারায়ণগঞ্জে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এম এস ডালিম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্যানেল ১৬ পদে বিশাল জয় পেয়েছে। আর মাত্র একটি পদে জয় পেয়েছেন জামায়াত ইসলাম সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল প্যানেলের একজন সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) রাত বারোটায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বারী ভুঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নারায়ণগঞ্জ বার ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১ হাজার ১৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৫৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ১২০ জন।
নির্বাচনে ১৭টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ১৬টি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নীল প্যানেল। বিজয়ীরা হলেন, সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবীর ৬০০ ভোট ও সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান ৭১৮ ভোটে পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুল গাফ্ফার ৬৯৭ ভোট, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন ৫৫৫ ভোট, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়ন ৬৭৫ ভোট, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট শাহাজাদা দেওয়ান ৭৫৫ ভোট, আপ্যায়ন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাইন উদ্দিন রেজা ৭৯৭ ভোট, লাইব্রেরি সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান ৫৯০ ভোট, ক্রীড়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ৬৪৫ ভোট, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সারোয়ার জাহান ৫৭২ ভোট, সমাজসেবা সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাজিব মন্ডল ৬০০ ভোট, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুন মাহমুদ মিয়া ৫৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সদস্য পদে যথাক্রমে বিজয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট দেওয়ান আশরাফুল ইসলাম ৭৩৪ ভোট, অ্যাডভোকেট ফাতেমা আক্তার সুইটি ৬৯৭ ভোট, অ্যাডভোকেট আবু রায়হান ৬৯৪ ভোট, অ্যাডভোকেট তেহসিন হাসান দিপু ৫৭৪ ভোট এবং অ্যাডভোকেট আফরোজা জাহান ৫২৩ ভোট। এদের মধ্যে মাত্র একটি সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ইসলাম সমর্থিত অ্যাডভোকেট আফরোজা জাহান।
উল্লেখ, নির্বাচনে ১৭টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন মোট ৪৯ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পূর্ণ প্যানেল,
জামায়াত ইসলাম সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের পূর্ণ প্যানেল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের আংশিক প্যানেল সহ স্বতন্ত্র প্রার্থীও অংশগ্রহণ করেন।


কিশোরগঞ্জে ট্রাক-সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, স্টাফ রিপোর্টার- কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মাইজহাটি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শরিফুল ইসলাম শরীফ (৪০) বাজিতপুর উপজেলার গজারিয়া এলাকার মৃত বকুল মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি অটোরিকশা চালক।

কটিয়াদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মারগুব তৌহিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, আজ সকালে দুর্ঘটনার শিকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কোন যাত্রী ছাড়াই কটিয়াদী থেকে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিল। এসময় মাইজহাটি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে সিএনজি চালক শরিফুল ইসলাম শরীফ মারা যায়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মারগুব তৌহিদ জানান, অটোরিকশাটি খালি থাকায় এই ঘটনায় আর কেউ আহত নেই। অটোরিকশা ও ট্রাক আটক করা হলেও ট্রাকের চালক পলাতক। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


প্রধান উপদেষ্টা ওয়াদা ভঙ্গ করে রোডম্যাপ দিয়েছেন, এই রোডম্যাপ সুষ্ঠ নির্বাচন ভন্ডুল করার নীল নকশা: ডা. তাহের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

প্রধান উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নির্বাচনী রোড ম্যাপ ঘোষণা করেছেন, এই রোডম্যাপ একটি সুষ্ঠ নির্বাচনকে ভন্ডুল করার জন্য নীল নকশা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের। আজ শুক্রবার সকালে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে মিলনায়তনে কুমিল্লার কালিবাজার ইউনিয়নের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, চুড়ান্ত সংস্কারের সিদ্ধান্তে পৌঁছার আগেই প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। এবং বিচার এখনো দৃশ্যমান হয়নি। এর মাঝে বোধহয় তিনি কোন শক্তির কাছে মাথানত করে পরিকল্পিত নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দেশবাসী শঙ্কা পোষন করছে। অন্তর্বর্তী সরকার কমিটমেন্ট দিয়ে আসছিল তারা নিরপেক্ষ থাকবে, তারা সংস্কার করবে এবং বিচার দৃশ্যমান করবে। এবং নির্বাচন হবে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা তার ওয়াদা ভঙ্গ করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোন আপত্তি নেই। আমরা ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু একটি সুষ্ঠ অবাধ নির্বাচনের জন্য কিছু বিষয় সুরাহা হওয়া খুবই জরুরী। এরমধ্যে জুলাই চার্টারকে আইনগত ভিত্তি দিতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু সেগুলো না করেই নির্বাচনের যে পথ নকশা ঘোষণা করা হয়েছে সেটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ভন্ডুল করার নীল নকশা বলে আমি মনে করি। আমরা এটা হতে দেব না। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশন কে বাধ্য করবো জুলাই চার্টার রিফান্ড ও পিআর এর মাধ্যমে নির্বাচন হতে হবে।
এছাড়াও আগের ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর দুইটার মধ্যে একটি নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত রোড ম্যাপ ঘোষণা করার নির্বাচন কমিশনের বড় ধরনের অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন ডাক্তার সৈয়দ আব্দুল মোঃ তাহের। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে দেশবাসীর প্রতি ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানান।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে আমীর মাহফুজুর রহমান এর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান এডভোকেট,উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন,সহকারী সেক্রেটারী আব্দুর রহিম,কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হাসেম।


বেনাপোলে গভীর রাতে নিজ বাড়ির গেটের সামনে বিএনপি'র কর্মীকে গলা কেটে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল প্রতিনিধি

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার ছোটআঁচড়া গ্রামে মিজানুর রহমান সর্দার (৪৩) নামে বিএনপি'র এক কর্মীকে কে বা কারা গরু কাটার ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে।

শুক্রবার (২৯ আগষ্ট) দিবাগত রাতে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে। মৃত মিজানুর রহমান সর্দার বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামের হানিফ আলী সর্দারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, মিজানুর বেনাপোল চেকপোস্টে একটি কসায়ের দোকানে গরু কাটা ঝোড়ার কাজ করে। প্রতিদিন সে ভোরে উঠে ওই কাজে যায়। আজ ও তার কসায়ের দোকানে কাজ করতে যাওয়ার কথা ছিল। জানা মতে এলাকায় কারো সাথে তার কোন ঝগড়া বিবাদ ছিল না। সে সবার সাথে মিলে মিশে থাকতো। সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি কে বা কারা বাড়ির গেটের সামনে উঠোনে গলা কেটে হত্যা করে রেখে গেছে।

নিহতের ভাই খায়রুল সরদার জানান, আমার ভাইয়ের সাথে কারো কোন শত্রুতা ছিল না । সে একটা কসায়ের দোকানে কাজ করে। প্রতিদিনের মতো আজও কাজে যাওয়ার কথা ছিল। রাত পৌনে তিনটার কে বা কারা তাকে ফোনে কল দিয়ে ডাকলে ভাই তার কাজে ব্যবহৃত ছুরি নিয়ে বাহিরে বের হন। পরে দেখি কে বা কারা গেটের ভিতরে তাকে গলা কেটে হত্যা করে চলে গেছে। বেনাপোল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আহাদ হোসেন জানান, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত মিজানুর রহমান আমাদের বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। আমার জানামতে তার সাথে কারো কোন কলহ ছিল না। সে গরুর মাংসের দোকানে কাজ করতেন। তবে কি কারণে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হলো আমাদের জানা নাই।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রাসেল মিয়া ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান দূর্বৃত্তরা তাকে কেন গলা কেটে হত্যা করেছে এটা তদন্ত না করে কোন কিছু বলা সম্ভব না।থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান। ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।


banner close