জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেটের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতিসংঘের দৃষ্টিতে মানবাধিকার বা অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো উদ্বেগ প্রকাশিত হয়নি। যেসব দেশ ও অঞ্চলে মানবাধিকার এবং মানবিক অধিকার নিয়ে সমস্যা ও উদ্বেগ রয়েছে, সেটি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেলের সর্বশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এতে উল্লিখিত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নাম নেই।
গুম-খুনের মতো বিশেষ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যেসব দেশে বিরাজমান, সে বিষয়ও জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে। তবে এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম আসেনি। মিশেল তার প্রতিবেদনে বরং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক মানবাধিকারের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রকারান্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসব ক্ষেত্রে নানা যুগান্তকারী অর্জনকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
আগামী ৩১ আগস্ট মিশেলের জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের প্রধান হিসেবে চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার গতকাল প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে মূলত জাতিসংঘের দৃষ্টিতে এই চার বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির একটা মূল্যায়ন উঠে এসেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশসহ যেসব দেশে মিশেল সফর করেছেন, তার একটা তালিকা উল্লেখ করেছেন। দেশগুলো হলো- বুরকিনা ফাসো, নাইজার, আফগানিস্তান, চীন, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, পেরু এবং বাংলাদেশ।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দলের বাংলাদেশ সফরকালে সরকার এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মানবাধিকার বিষয়ে যেসব তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়েছিল, সেগুলো তারা গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মিশেলের প্রতিবেদনে তার প্রতিফলন দেখা গেছে।
মিশেল তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, তার এই মেয়াদকালে পৃথিবীর মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে। বৈশ্বিক কোভিড মহামারির অপরিসীম নেতিবাচক প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ইউক্রনে যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর দেশে দেশে তীব্র খাদ্য, জ্বালানি ও আর্থিক সংকট- এ তিনটিই হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের প্রধান তিন ইস্যু।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ড প্রথা বাতিল করার ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ, অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতার তথ্য এবং কোন কোন দেশে কী কী অগ্রগতি হয়েছে, সে কথাও এসেছে এই প্রতিবেদনে। নিজের দেশে দুই বার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার আলোকে মিশেল উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনা অনেক কঠিন কাজ। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই নানা দাবি, সংকট ও সমস্যা থাকে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সব সংকটই অতিক্রম করা যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মানবাধিকার সম্পর্কিত প্রচার কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল আনে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় একটি মানবাধিকার কেন্দ্রিক মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি কীভাবে সেখানকার চলমান সামাজিক-রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে পারে, সে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
মিশেল তার চার বছরের মেয়াদকালে যেসব দেশে গিয়েছেন, যেসব মানবাধিকার কর্মী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভিকটিমদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সে বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে আফগানিস্তানের নারী মানবাধিকার কর্মীদের সাহসের প্রশংসা করা হয়। মেক্সিকোর হারিয়ে যাওয়া মানুষদের মায়েদের শক্ত মনোবলের কথা বলা হয়। রিপাবলিক অব কঙ্গোর যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের কথা বলা হয়। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ মাইনিংয়ের কারণে নানা ঝুঁকিতে থাকা পেরুর আদিবাসীদের অধিকারের কথা বলা হয়। আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতে অভ্যন্তরীণ বসতিহারা (ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড) মানুষদের কথা উল্লেখ করা হয়। নাইজারের গ্রামাঞ্চলে মানবাধিকার রক্ষায় কমিউনিটি লিডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। ভেনিজুয়েলায় ২০১৭ সালে প্রতিবাদ সমাবেশে এক তরুণের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার স্রেব্রেনিসসা শহরে ২৭ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক ছেলের কথা উঠে আসে এই প্রতিবেদেনে।
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘ ইয়েমেন, সিরিয়া, আফ্রিকার সাহেল এলাকা এবং হাইতিতে মানবাধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কথা বিশদভাবে উঠে আসে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে এক রোহিঙ্গা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন তার স্বপ্নভঙ্গের কথা। রোহিঙ্গা হওয়ার কারণে তাকে নিজের দেশ ছাড়তে হলো।
মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও মানবিক বিপর্যয়ের ফলে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে। প্রতিবেদনে মিয়ানমারে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে দায়ী করা হয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে যে মানবিক বিপর্যয় হচ্ছে সেটি উল্লেখ করা হয়। ইউক্রেনের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ বন্ধের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অনুরোধ করা হয়। এছাড়া উভয়পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের নীতি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে গত ১৪ আগস্ট চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল। এটিই বাংলাদেশে এই পদে অধিষ্ঠিত কোনো হাইকমিশনারের প্রথম বাংলাদেশ সফর। বাংলাদেশে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ ছাড়া কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরও পরিদর্শন করেন মিশেল।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ১৯৪৮ সালে গড়ে তোলা ইসরায়েল নামে দখলদার ইহুদি রাষ্ট্রটির জন্মের পর একাধিকবার মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ-সংঘাতে জড়িয়েছে। জয়-পরাজয় যা-ই হোক না কেন, ভূমি ছাড়ার দৃশ্য বা নিজেদের মধ্যে অনৈক্য কখনও দেখেনি তেলআবিব। কিন্তু, ২০২৩ সালে হামাসের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ইহুদিদের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। ধ্বংস হওয়ার ভয় ঢুকেছে তাদের অন্তরে।
এরপর টানা দু’বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরায়েলি নৃশংস গণহত্যাও ‘ব্যাক ফায়ার’ করেছে। ইরানের হামলায় টিকতে না পেরে অবৈধ এ ভূখণ্ড ছাড়তে ইহুদিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
ঢল নামে সীমান্ত এলাকা ও বিমানবন্দরগুলোতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ইরানে যৌথ আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এতে বেশ ক্ষুব্ধ খোদ ইসরায়েলিরাই। যুদ্ধের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্কিন-ইসরায়েলি ভয়াবহ হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইরানের। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ সরকার ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ অনেক নেতার মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছুঁই ছুঁই। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক হাজার হাজার অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়েছে, কিন্তু হাল ছাড়েনি ইরানিরা। ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে উঠছে সাধারণ নাগরিকরা। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল ইরানে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উপজাতি নারীদেরও বন্দুক হাতে মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে দেখা যায়। এই দৃশ্য ইরানিদের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা ও প্রতিবাদী হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।
অপরদিকে ইসরায়েলের চিত্র পুরোপুরি উল্টো। ইরানের রেজিম চেঞ্জ বা শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য আগ্রাসন শুরু করলেও সরকারবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে ইসরায়েলে।
দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগ, যুদ্ধবন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নামছে ইসরায়েলিরা। সর্বশেষ গত শনিবার যুদ্ধবিরোধী ব্যানার বহন করে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তেল আবিবে শত শত ইসরায়েলি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে গণজমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা একটি কেন্দ্রীয় চত্বরে জড়ো হন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: ‘বোমা নয়—আলোচনা করুন! অন্তহীন যুদ্ধ বন্ধ করুন!’
ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি তৃণমূল গোষ্ঠী ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ এর সহ-পরিচালক অ্যালন-লি গ্রিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এখানে ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে গণহত্যা বা পরিকল্পিত আক্রমণ বন্ধের দাবি জানাতে এসেছি।’
গ্রিন বলেন, ‘ইসরায়েলে সবসময়ই যুদ্ধ লেগে থাকে। তাই যদি আমাদের বিক্ষোভ করতে দেওয়া না হয়, তবে আমাদের কখনোই কথা বলতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, যুদ্ধ অবসানের দাবিতে গত ২৮ মার্চও ইসরায়েলজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেশ করেছে। তেল আবিব, হাইফা ও জেরুজালেমে এ প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি সত্ত্বেও তারা ‘জীবনের জন্য’ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং যুদ্ধকালীন সরকারি নীতির তীব্র বিরোধিতা করছেন।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ইসরায়েলিদের। ক্রমেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। জ্বালানির মূল্য, খাবারের দাম, পরিবহন খরচ-সবই বেড়েছে। সঙ্গে বিঘ্ন ঘটছে বাণিজ্যে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে ইসরায়েলিদের দিন-রাতের অধিকাংশ সময় থাকতে হচ্ছে বাঙ্কারে, যা তাদের উৎপাদন কমিয়ে ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেকোনো একটি শহরে ছোট্ট একটি ড্রোন বা একটি রকেট আঘাত হানলে সর্বোচ্চ ক্ষতি হতে পারে একটি ফ্ল্যাটের বা কোনো একটি দোকানের।
কিন্তু, আকাশে সেই বস্তুর আগমন শনাক্ত হওয়ার পর যে সাইরেন বাজে তাতে একটি শহরের সব বাসিন্দাকে পালাতে হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে এ লুকোচুরি খেলা খেলতে গিয়ে তাদের জীবন নাজেহাল হয়ে পড়েছে।
বরগুনায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনার প্রায় ৩০ শতাংশেই শনাক্ত হচ্ছে হাম, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন এই ভাইরাসজনিত রোগে। ইতোমধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
ঢলুয়া এলাকার বাসিন্দা শিউলি বেগম জানান, তার শিশুসন্তানকে চারদিন ধরে সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হয়েছে এবং এ সময় প্রায় ৫ হাজার টাকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। ‘হাসপাতাল থেকে শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া হয়,’ এ অভিযোগ করেন তিনি।
বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩২ জন। এর মধ্যে ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়।
এদিকে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আমরা ইতোমধ্যে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করছি, দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে টানা দশ দিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ডানকান ব্রাদার্সের আওতাধীন ১৫টি চা-বাগানের লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে একসময়ের নির্ভরযোগ্য এই চিকিৎসাকেন্দ্র।
জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাতে মাথাব্যথা নিয়ে শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি হয় শমশেরনগর চা-বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস। পরদিন ২৭ মার্চ সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ চা-শ্রমিকরা হাসপাতালে গিয়ে স্টাফদের অবরুদ্ধ করে এবং একপর্যায়ে ভাঙচুর চালায়।
এরপর থেকেই চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে।
নিহত ঐশীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি ১৯৯৪ সালে শমশেরনগরের ফাঁড়ি কানিহাটি চা-বাগানে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি ডানকান ব্রাদার্সের ১৫টি চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটসহ নানা কারণে কয়েক বছর ধরে এখানে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালের সেবা বন্ধ থাকায় চা-শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় চা-শ্রমিকরা জানান, নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন, ফলে তারা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় চা-শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, ‘ক্যামেলিয়া হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু, অতীতের মতো সব ধরনের অপারেশন পুনরায় শুরু, ঐশী রবিদাসের মৃত্যুর কারণ এবং হাসপাতালের অপ্রীতিকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি।’
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রামভজন কৈরী বলেন, ‘ঐশীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তবে সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। হাসপাতালের সেবা পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
এ বিষয়ে শমশেরনগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানান, হাসপাতালটি একটি স্বতন্ত্র ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত। পুরো বিষয়টি ইংল্যান্ডে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন পর্যবেক্ষণ করছে। শিশুটির মৃত্যুর কারণ, চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল কি না এবং হামলার ঘটনাও পৃথকভাবে তদন্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের ফিরে আসা কঠিন। হাসপাতাল চালু হওয়ার বিষয়টি এখন ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল খোলা থাকলেও চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে দ্রুতই হেড অফিস থেকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম শুরু। এরই মধ্যে বনে ফুটেছে খলিসা, গরান, পশুর, হারগোজাসহ রঙ-বেরঙের ফুল। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো বনাঞ্চল। মধু আহরণে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত মৌয়ালরা। তবে উপকূলজুড়ে বনজীবীদের মধ্যে বিরাজ করছে বনদস্যুর আতঙ্ক।
ঘ্রাণ ও স্বাদে অতুলনীয় সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করতে জীবনবাজি রাখতে হয় মৌয়ালদের। এতদিন নদীতে কুমির আর ডাঙায় বাঘের ভয় থাকলেও এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বনদস্যুর আতঙ্ক।
মৌয়ালরা বলছেন, কয়েকটি দস্যু দল বনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। ফলে এবার মধু আহরণে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেক মৌয়াল। এতে যেমন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, তেমনি জীবিকা সংকটে পড়তে পারেন হাজারো মৌয়াল।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে টানা দুই মাস মধু সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হবে। এ বছর সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ১০০ কুইন্টাল (১ কুইন্টাল-১০০ কেজি) মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সুন্দরবন থেকে ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮ কুইন্টালে। ২০২৩ সালে আরও কমে হয় ২ হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়। আর ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৬ কুইন্টালে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম।
২০২৪ সালে প্রায় ৮ হাজার মৌয়াল মধু আহরণে নিয়োজিত থাকলেও ২০২৫ সালে তা নেমে আসে প্রায় ৫ হাজারে। স্থানীয়দের মতে, এবার এই সংখ্যা আরও কমতে পারে।
সাতক্ষীরা ও খুলনার পার্শবর্তী মৌয়ালরা জানান, সুন্দরবনে ডাকাতের তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অপহরণের ঘটনা বাড়ছে বলে দাবি তাদের। এতে পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই বনে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে জানান, ছোটবেলা থেকে জঙ্গলে যাই, কোনো দিন বাঘ-কুমিরের ভয় পাইনি। কিন্তু এখন ডাকাতের ভয় সবচেয়ে বেশি। একবার ধরা পড়লে আর রক্ষা নেই। তাই এবার মধু কাটা বাদ দিয়ে এলাকায় দিনমজুরি কাজ করবো।
আগে আমরা সাতজন মিলে নৌকায় যেতাম। এবার ডাকাতের ভয়ে কেউই যেতে চাইছে না। বাপ-দাদার পেশা হলেও নিরাপত্তা না থাকলে এ পেশা ছেড়ে দিতে হবে।’
মৌয়ালরা আরও বলেন, ‘ঋণ করে মধু কাটতে যাই। কিন্তু ডাকাতের হাতে পড়লে সব হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয়।’
তবে বন বিভাগ বলছে, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়ম করায় নিয়োগ বঞ্চিত ভুক্তভুগি একজন কিশোরগঞ্জ ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার বিরুদ্ধে রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকালে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগে শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ সহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ আব্দুল হালিম নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি তার লিখিত অভিযোগে বলেন, গত ২ নভেম্বর’২০২৫ তারিখে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার প্রিতম সাহা একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করেন।
এই বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে ওই নিয়োগ বঞ্চিত আব্দুল হালিম আবেদন করে শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ হন। গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া গত ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে তার স্বাক্ষরিত ফলাফলে সংক্ষুদ্ধ প্রার্থী আব্দুল হালিমকে মনোনিত করেন। নিয়োগপত্রের জন্য আমি যোগাযোগ করলে আমাকে ইউএনও অফিসের সহকারী ফুয়াদ ও মুকুল হোসেন আমার কাছে ৪ লক্ষ টাকা দাবী করে। তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় পরবর্তীতে শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষায় অযোগ্য ব্যক্তি মজিদুল ইসলাম নামে একজনকে ইউএনও গোপনে নিয়োগ দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার আবেদনে ক্রটি থাকায় আমাকে চাকুরী দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে তো শারীরিক যোগ্যতায় পাস করেনি, তাহলে তার কিভাবে চাকুরী হয় বললে তখন তিনি বলেন, এটি আমাদের বিষয়। নিয়োগকৃত ব্যক্তির তথ্য চাইলে আমাকে তথ্য দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। কাকে নিয়োগ দিয়েছে, কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিয়েছে তা আমার জানা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরও বলেন, আমার মামা খালু না থাকায় চূড়ান্ত মনোনিত হয়েও আমাকে চাকুরী দেয়া হয়নি। আমি বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনাসহ সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক আমাকে চাকুরীতে নিয়োগদান প্রদান ও ওই ইউএনও’র বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান যাদু জানান, আব্দুল হালিম নামে একজন শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে মনোনিত হয়েছেন। তিনি নিয়োগপত্রের আশায় ছিলেন এতকুটুই আমার জানা আছে। কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। কেউ যোগদান করতেও আসেনি।
এ ব্যাপারে বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার ফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
পৃথক ঘটনায় বগুড়ার শিবগঞ্জে দুইদিনে দুই নারী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র সাড়ে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুই হত্যার ঘটনা ঘটে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের জাবারীপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারির সময় ননদের ধাক্কায় ভাবী মোমেনা বেগম (৬৮) এর মৃত্যুর হয়। নিহত মোমেনা বেগম ওই এলাকার বাবু সরকারের স্ত্রী।
জানা যায়, একই এলাকার মোমেনা বেগমের পরিবারের সঙ্গে ননদ জোলেখা ও তার স্বামী বেলাল হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। রবিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন মোমেনা বেগম। প্রতিপক্ষ বেলাল হোসেন ও তার স্ত্রী জোলেখার আঘাতে মোমেনা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নে মহব্বত নন্দীপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন শাহানাজ বেগম (৭০)। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার এবং মৃত আবদুল খালেকের স্ত্রী।
নিহতের ভাতিজা সুজন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা শাহানাজ বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় তারা স্থানীয় দাড়িদহ বাজারে ছিলেন। বাড়িতে লোক ঢোকার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখেন শাহানাজ বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, দুটি হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শাহানাজ বেগম হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে জাবারীপুরে মোমেনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুটি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু ফজল মোঃ সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যে কোনো ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। ভোটের দিন কিংবা তার আগে বা পরে যে কোনো পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ এলে তা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো ঘটনা আমরা দেখতে চাই না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ অবহেলা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রবিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বগুড়া-৬ সদর আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট সেলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ভোট কারচুপি বা কোনো ধরনের অনিয়ম করার চিন্তাও যেন কেউ না করে। এমন কোনো চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের অসতর্কতা বা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একটি ছোট ভুল পুরো নির্বাচনকে বিতর্কে ফেলে দিতে পারে। এজন্য দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবু ফজল মোঃ সানাউল্লাহ বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ শাহজাহান, নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম, আনসার বাহিনীর রাজশাহী রেঞ্জের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, ৪০ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট তানভীর আহমেদ তমাল, রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘স্টার সানডে’ উপলক্ষে শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ধানের শীষের মনোনীত জননন্দিত নেতা মো. মাহমুদুল হক রুবেল। রোববার (৫ই এপ্রিল ) দিনভর তিনি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামের গির্জা ও খ্রিষ্টান পরিবারগুলোর সাথে এই আনন্দ ভাগ করে নেন।
সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ধানের শীষের এমপি পার্থী জনাব, মাহমুদুল হক রুবেল ও তাঁর একমাত্র কন্যা রুবাইদা হক রিমঝিম মরিয়মনগর এলাকার উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানান। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর পক্ষ থেকে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা তাঁদের মাঝে প্রিয় নেতাকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে তিনি পর্যায়ক্রমে মরিয়ম নগর,বড় গজনী, ছোট গজনী, বড় গজনী (প্রাইমারি স্কুল গির্জা), ডেফলাই, গান্ধীগাঁও, নকশি, বাঁকাকুড়া ও সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের গির্জা সহ ১৯টি গির্জা পরিদর্শন করেন এবং এসব এলাকায় বসবাসরত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সাথে ‘স্টার সানডে’র কেক কাটেন এবং ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার বিনিময় করেন। মাহমুদুল হক রুবেল "দৈনিক বাংলাকে"বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। প্রতিটি উৎসবে আমরা একে অপরের পরিপূরক। এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে আমি অতীতেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের পাহাড়ি জনপদে পাহাড়ি-বাঙালি যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে, মাহমুদুল হক রুবেলের এই ঝটিকা সফর তা আরও মজবুত করবে। দিনশেষে বিকেলে তিনি গজনী অঞ্চলের বিভিন্ন গির্জায় প্রার্থনা সভায় অংশগ্রহণকারী খ্রিস্টান নেতৃবৃন্দের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় শেষে সফর সমাপ্ত করেন। সংবাদটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ফুয়েল কার্ডের জন্য পঞ্চগড় বিআরটিএ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বাইকারদের সকাল থেকে উপচে পড়া ভীড় চোখে পরার মত।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক হল রুমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বর্তমান সময় বিবেচনা করে তেল সংকট নিরসন করতে যাদের গাড়ির বৈধ্যরেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও টেক্স টোকেন রয়েছে তাদের মাঝে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হবে ৫টি উপজেলায়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন স্যারের নির্দেশনায় ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে বাইকারদের মধ্যে, যাদের গাড়ির বৈধ্য রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও ট্যাক্স টোকেন রয়েছে যাচাই করে তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে, তিনি আরও জানান ক্রাইসিস বৈশ্বিক এবং পাবলিক আতংকিত হয়ে ক্রাইসিস তৈরি করছে।
সহকারী পরিচালক বিআরটিএ, পঞ্চগড় সার্কেল, পঞ্চগড় তন্ময় কুমার ধর এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টার করার পরও উনাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।
নবিজতুল্লাহ নবিজ বাইকার তিনি জানান যে, বিআরটিএ তে ফুয়েল কার্ডের জন্য গত ২ এপ্রিল সকালে এসে ফাইল জমা দেই কিন্তু উপচে পড়া ভীড়ের জন্য বিকালে এসে ফুয়েল কার্ড নিতে হয়।
পঞ্চগড় ফিলিং স্টেশন ও করতোয়া ফিলিং স্টেশন এর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে উনারা জানান যে, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না।
কুমিল্লায় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত তিন বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাস তিনটি পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডে ‘রয়েল কোচ’ নামের তিনটি এসি বাস বিকল হয়ে পড়ায় বাসস্ট্যান্ডে এনে রাখা হয়। রোববার দুপুরে হঠাৎ বাস তিনটিতে আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণের আগেই বাস তিনটির সিটসহ লোহার অবকাঠামো ছাড়া সব কিছু পুড়ে যায়।
জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকল বাস তিনটিতে নিয়মিত মাদকের আসর বসানো হয়। বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের চালক এবং হেলপাররা এ মাদকের আসরে জড়িত। রোববার দুপুরে আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে একটি বাস থেকে ৫ জন মাদক সেবন করে বের হয়ে আসেন। তারা বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লাইটার বিস্ফোরণ ঘটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ অনুসন্ধান চলছে। মাদকসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
জ্বালানি তেল নিতে রাজধানীর মৎস্যভবন এলাকায় অবস্থিত রমনা পেট্রোল পাম্পের চারপাশে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে সড়কে লম্বা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা। লাইনের শেষ প্রান্তটি গিয়ে পৌঁছেছে পাম্পের অদূরে গণপূর্ত ভবনের গেটের সামনে। এই দীর্ঘ সারি ঘুরে পাম্পের সামনে পৌঁছাতে গাড়িচালকদের সময় লাগছে অন্তত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রমনা পেট্রোল পাম্প এলাকা ঘুরে এবং চালকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। সেগুনবাগিচা সড়ক হয়ে শিল্পকলার সামনে দিয়ে মৎস্যভবন হয়ে রমনা পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত মোট দূরত্ব এক কিলোমিটার।
সরেজমিনে দেখা যায়, গণপূর্ত ভবনের সামনে থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাম্পে প্রবেশের জন্য আলাদাভাবে রশি দিয়ে লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি লাইনে একসঙ্গে দুটি করে মোটরসাইকেল প্রবেশ করতে পারছে। পাশাপাশি একটি করে প্রাইভেটকার ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল প্রতি ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কিছু সময় পরপরই বাইরের দিক থেকে কেউ না কেউ এসে লাইনে ঢোকার চেষ্টা করছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে সামনে ও পেছনের অপেক্ষমাণ চালকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
পাম্পের ভেতরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শামিম হোসেন বলেন, আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে থেকে লাইন ধরেছিলাম। সেখান থেকে গলি পথ দিয়ে শিল্পকলার সামনে হয়ে এখানে আসতে আমার আড়াই ঘণ্টা লেগেছে। দিনের এতটা সময় যদি তেল নিতেই লাগে, তাহলে অন্য কাজ করব কখন? তাও আবার মাত্র ৫০০ টাকার তেল দিচ্ছে।
গণপূর্ত ভবনের গেটের সামনে লাইনের শেষ প্রান্তে থাকা নোয়া গাড়ির চালক সিহাবুর রহমান বলেন, আমি তো এখনই এসে লাইনে দাঁড়ালাম। এই এক কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে কত সময় লাগবে, তা বলতে পারছি না। তবে এখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, এটাই বড় কথা। শুধু পাম্পে পৌঁছানোর আগেই তেল শেষ না হয়ে গেলেই হয়।
এদিকে পাম্পের কর্মীরা জানান, আজ সকাল ৯টা থেকে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পাম্পের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পাম্পের সব কর্মী কাজ করছেন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় শনিবার (৪ এপ্রিল) একটি টিনশেড গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে পুড়ে অঙ্গার হওয়ার কারণে মরদেহগুলো শনাক্ত করা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের লিঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কারখানার ভেতরে আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বর্তমানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দুপুর ১টা ১১ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ১টা ১৬ মিনিটে প্রথম দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টাফ অফিসার ও মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেছেন, ‘আমরা দুপুর ১টা ১১ মিনিটের দিকে রাজধানীর কদমতলীতে গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুপুর ১টা ১৬ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বেলা আড়াইটার দিকে কারখানাটির আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে ভেতরে ধোঁয়া ছিল। তাই ৩টার পর ফায়ার ফাইটাররা কারখানার ভেতরে কেউ আছে কিনা তা অনুসন্ধানে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখান থেকে একে একে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করে।’
তিনি আরও বলেন, কিন্তু লাশগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে, প্রাথমিকভাবে দেখে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর দুটি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলার খেয়াঘাট সড়কে অবস্থিত বিসিক শিল্প নগরীতে নিজ কারখানার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিল ও জেকে ট্রেডার্সের মালিক মো. জামাল উদ্দিন খান।
তিনি জানান, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় তার প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে মজুদ থাকা সব ডিজেল শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের জ্বালানি মজুদ নেই। জামাল উদ্দিন খান বলেন, “আমাদের নিকটবর্তী নদীঘাট থেকে গুদামে গম পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন চালাতে ডিজেল দরকার, কিন্তু তা পাওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে উৎপাদিত ময়দা, ভূষি ও মুড়ি ভোলার দক্ষিণ আইচা থেকে ইলিশা ফেরিঘাটসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “আজ থেকেই যদি ডিজেল সরবরাহ না পাই, তাহলে চরফ্যাশন, লালমোহনসহ বিভিন্ন উপজেলায় পণ্য পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাবে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে এবং বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করতে হতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে খোঁজ নিয়েও ডিজেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় শিল্প প্রতিষ্ঠান দুটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এসময় প্রতিষ্ঠান দুটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।