বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

যেভাবেই হোক, ডলারকে স্থিতিশীল রাখতে হবে

ইকবাল আহমেদ।
রাজিউল হাসান
প্রকাশিত
রাজিউল হাসান
প্রকাশিত : ১ অক্টোবর, ২০২২ ০৭:৪৯

বাংলাদেশের সিলেটের সন্তান ইকবাল আহমেদ ওবিই ডিবিএ এখন যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একজন। বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি রপ্তানিতে শীর্ষে তিনি। একসঙ্গে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে কাজ করে চলেছেন, অবদান রাখছেন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করায়। সম্প্রতি তিনি দৈনিক বাংলার মুখোমুখি হয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার সহকারী বার্তা সম্পাদক রাজিউল হাসান।

দৈনিক বাংলা: করোনা মহামারির ধাক্কার মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। দুই ধাক্কায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত। এর সঙ্গে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে যোগ হয়েছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ব্রেক্সিটের ধাক্কা তো আছেই। সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যে এখন ব্যবসায়িক অবস্থা কেমন যাচ্ছে?

ইকবাল আহমেদ: যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য প্রথম ধাক্কা ব্রেক্সিট। আমরা তো ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুরো অংশকে এক ভূখণ্ড ভাবতাম। আমরা যুক্তরাজ্য থেকে এসব দেশে পণ্য রপ্তানি না, সরবরাহ করতাম। শুল্কমুক্ত এই বাজারের ‍সুবিশালতার জন্য ইউরোপে অনেক ব্যবসাই সফল হয়েছে। কিন্তু ব্রেক্সিট ভয়াবহ ধাক্কা দিল। আমাদের পণ্যে আবগারি শুল্ক, মাশুল যোগ হলো। ফলে পণ্যের দাম বেড়ে গেল। মুখ থুবড়ে পড়ল অনেক ব্যবসা।

এই ধাক্কার মধ্যেই এল করোনা মহামারি। সব বন্ধ হয়ে গেল। তবে এ সময়ে অনলাইন বাজারটা বড় হলো। করোনার ধাক্কা সামাল দিতে যুক্তরাজ্যের সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে অনেক ব্যবসা রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ব্যবসা সংকুচিত হচ্ছে।

দৈনিক বাংলা: অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শীত পর্যন্ত বা তার বেশি সময় দীর্ঘায়িত হবে। এতে বৈশ্বিক সংকট আরও ভয়াবহ হবে। এই সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যে কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কি? সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে?

ইকবাল আহমেদ: যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে, তার প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যে। কাজেই এই যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় তত বড় হবে। এই অবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। অবশ্য যুক্তরাজ্যের সরকার ব্যবস্থাও নিচ্ছে। সম্প্রতি ৪৫ বিলিয়ন পাউন্ডের প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন নতুন অর্থমন্ত্রী, যাকে মিনিবাজেট বলা হচ্ছে। এই প্যাকেজে যুক্তরাজ্যের ব্যবসাগুলোকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দৈনিক বাংলা: আপনার প্রতিষ্ঠান সিমার্ক পিএলসি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজার থেকে মাছসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বাজারে সরবরাহ করে। কী ধরনের পণ্য আপনি আমদানি ও রপ্তানি করেন?

ইকবাল আহমেদ: চিংড়ি রপ্তানি করে আমরা স্বর্ণপদক, রৌপ্যপদকসহ অনেক স্বীকৃতি পেয়েছি। বাংলাদেশ থেকে আমরাই চিংড়ির সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক। ইউরোপের বাজারে প্রক্রিয়াজাতকৃত চিংড়ি সরবরাহ করি। ইউরোপের ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশনগুলো, এয়ারলাইন, রেস্তোরাঁসহ অনেকেই আমাদের গ্রাহক। বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি ছাড়াও আমরা সবজিসহ আরও কিছু জিনিস রপ্তানি করি। ইউরোপের দেশগুলোসহ বিশ্বের ৭০টি দেশে পণ্য রপ্তানি করি আমরা।

ইউরোপের বাজারে আমরা কেবল মাছ আর হিমায়িত সবজিই সরবরাহ করি না। আমরা শিঙাড়া, সমুচা, পরোটা, ড্রাইকেকসহ নানা ধরনের স্ন্যাকসও বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে সরবরাহ করি। ওয়ালমার্টের মতো প্রতিষ্ঠান আমাদের পণ্যের গ্রাহক।

বাংলাদেশ ছাড়াও অনেক দেশ থেকে আমরা পণ্য আমদানি করি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ অনেক দেশ। যেমন ব্রাজিল থেকে আমরা পোল্ট্রি আমদানি করে ইংল্যান্ডে নিজেদের কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করি। এর বাইরে যুক্তরাজ্যে আমাদের আরও কিছু ব্যবসা রয়েছে। যেমন আবাসন ব্যবসা, বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন ভাড়া ইত্যাদি। আমাদের হসপিটালিটি ডিভিশনের আওতায় হোটেল, রেস্তোরাঁ পরিচালিত হয়।

দৈনিক বাংলা: বিভিন্ন দেশ থেকে, বিশেষত বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে বৈশ্বিক চলমান অস্থিরতার কোনো প্রভাব পড়েছে কি?

ইকবাল আহমেদ: আমরা ডলারে পণ্য আমদানি করি। ডলারের বিপরীতে পাউন্ড দিনে দিনে দুর্বল হচ্ছে। এতে আমাদের আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে পণ্যের দাম বাড়ছে। গ্রাহক বেশি দামে সে পণ্য কিনতে চাইছে না। ফলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খুব সহজ হিসাব এটা। এই অস্থিরতা যত দিন গড়াবে, তত বাড়বে। এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাজ্যেই অনেক ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে।

বাংলাদেশেও কিন্তু ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আপাতদৃশ্যে মনে হচ্ছে, রপ্তানিকারকরা ডলারের দাম বাড়ায় লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারেও তো পণ্যের দাম বাড়ছে। আমদানিকারকরা বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে দেশের বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া বাংলাদেশে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি।

দৈনিক বাংলা: তাহলে এই পরিস্থিতির সমাধান কী?

ইকবাল আহমেদ: আমি দুবাইয়ের উদাহরণ দিতে পারি। তারা আর যা-ই হোক, ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার অবনমন ঠেকিয়ে রেখেছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব তাদের ওখানে সেভাবে পড়েনি। কাজেই যেভাবেই হোক, ডলারকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। তাহলে দেশীয় বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

দৈনিক বাংলা: বাংলাদেশকে আরও ব্যবসাবান্ধব করতে হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে?

ইকবাল আহমেদ: বাংলাদেশ থেকে আমি চিংড়িসহ কিছু পণ্য আমদানি করি। গুণগতমানের উন্নয়ন ঘটানো গেলে আরও অনেক কিছু আমদানি করা যেত। বাংলাদেশে প্রচুর খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় গবেষণায় বিনিয়োগ কম। উৎপাদন কীভাবে হচ্ছে, সে ব্যাপারে নজরদারি কম। রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহারে নজরদারি নেই। উদাহরণ দিই একটা। বাংলাদেশে কিন্তু প্রচুর আম হয়। কিন্তু সে আমের সিংহভাগ আমরা আমদানি করতে পারি না। আম কীভাবে উৎপাদন হচ্ছে, কীভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে, তার কিন্তু নজরদারি নেই। ফলে আমের মান কেমন, সেটা নিশ্চিত করতে পারে না কেউ। এভাবে তো আর আমদানি হয় না। কাজেই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের মানের দিকে নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি খাত এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর। এই খাত থেকেই সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় আসে। এভাবে একটা খাতের ওপর এতটা নির্ভরশীল থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে এই খাতে ধস নামলে বা আয় কমে গেলে বিপদ ঘটতে পারে। কাজেই অন্য খাতকেও রপ্তানিমুখী করতে হবে। কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে হবে। সরকারকেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরেকটা বিষয়। দেশে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ আনতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান যত বেশি দেশে আসবে, তত কর্মসংস্থান হবে, দেশে রপ্তানিবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

দৈনিক বাংলা: বাংলাদেশে এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন আপনি। এ দেশে ব্যাংক করার পরিকল্পনা এল কী করে? উদ্যোক্তাদের একজোট করলেন কীভাবে?

ইকবাল আহমেদ: আমি বিদেশে থাকলেও মনটা সবসময় বাংলাদেশে থাকে। এ কারণে দেশের জন্য সবসময় কিছু না কিছু করতে চেয়েছি আমি। তারই অংশ হিসেবে একসময় ব্যাংকের কথা মাথায় এল। এতে বহুমাত্রিক লাভ। প্রথমত, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন, দ্বিতীয়ত, দেশে কর্মসংস্থান হবে, তৃতীয়ত, এই ব্যাংক সফল হলে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে। এসব দিক বিবেচনায় আমি বাংলাদেশে এনআরবি ব্যাংক গড়ার পরিকল্পনা করি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। নিজের আগ্রহ ও তাদের উৎসাহে আমি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত ৪৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাকে খুঁজে বের করি। এভাবেই আসলে শুরু।

আমি ব্যাংকটিকে আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংক হিসেবে গড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরিস্থিতি ও সময়ের জন্য পারিনি।

দৈনিক বাংলা: বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে জড়িত থাকার কারণে আপনি এখানকার অবস্থা সম্পর্কে অবগত। সেই অভিজ্ঞতা থেকে দেশের ব্যাংক খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো কী?

ইকবাল আহমেদ: বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের সম্ভাবনা প্রচুর। তবে নজরদারি বাড়াতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও বেশি সক্রিয় ও উদ্যোগী হতে হবে। যেসব ব্যাংক ভালো করছে না, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। একটা ব্যাংক কতটা ভালো করবে অথবা কতটা লোকসানি হবে, তা নির্ভর করে আসলে পরিচালনা পর্ষদের নীতির ওপর। এখন ধরা যাক, একটা খারাপ লোককে জেনেশুনে ঋণ দিয়ে দিল একটা ব্যাংক। সে ঋণখেলাপি হয়ে গেল। এ ক্ষেত্রে লোকসান তো গুনতেই হবে। শুধু তা-ই নয়, বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপি এক সময় রাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করে।

কাজেই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কারা বসছেন, তাদের নীতি কী, এসব বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। কারণ ব্যাংক খাত যত শক্তিশালী হবে, অর্থনীতি তত জোর পাবে।

দৈনিক বাংলা: ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য ব্রিটিশ সরকার আপনাকে ওবিই ও ডিবিএ উপাধি দিয়েছে। এই উপাধিগুলো আসলে কী?

ইকবাল আহমেদ: ওবিই হচ্ছে অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এমপায়ার। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এই উপাধি দেয়া হয় যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষ রপ্তানিকারক হয়েছি আমি। পাশাপাশি আমি যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলাম। এসব কারণে ব্রিটিশ সরকার ওই উপাধি আমাকে দিয়েছে।

আর ডিবিএ হলো ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। শিক্ষা ও ব্যবসা খাতে অবদান রাখার জন্য এই ডিগ্রি দেয়া হয়।

আমি যে শুধু যুক্তরাজ্যে ব্যবসা খাতে অবদান রাখার জন্য পুরস্কৃত হয়েছি, তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশ সরকারও আমাকে বেশ কয়েকবার সেরা রপ্তানিকারক হিসেবে পুরস্কৃত করেছে।

দৈনিক বাংলা: অতি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেলেন। বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আপনার পরিচয় রয়েছে। এমনকি চট্টগ্রামে আপনার কারখানা উদ্বোধন করতে প্রিন্সেস অ্যান এসেছিলেন। এ বিষয়ে কিছু বলবেন কি?

ইকবাল আহমেদ: ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে আমার পরিচয় বেশ আগে থেকে। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে আমার বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। রানির গার্ডেন পার্টিতে আমি পাঁচবার গিয়েছি। বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আমার চারবার দেখা হয়েছে। আর প্রিন্সেস অ্যানের সঙ্গে তো অনেকবার হয়েছে। বর্তমান রাজার অর্গানাইজেশনের দুটি প্রকল্পে আমি সংশ্লিষ্ট। এর একটি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের সহযোগিতা। এই প্রকল্পকে বলে মোজাইক। এতে আমি সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট।

দৈনিক বাংলা: আপনি বেশ কিছু দাতব্য কাজেও জড়িত। সে কাজগুলো সম্পর্কে যদি বলতেন।

ইকবাল আহমেদ: আমি বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাজ করি। সিলেটে আমি স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ও গড়ার পরিকল্পনা আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে রুরাল ইউনিভার্সিটি। প্রত্যন্ত এলাকার ছেলেমেয়েরা বিশ্বমানের পড়ালেখা করার সুযোগ পাবে। ইংল্যান্ডে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে গৃহহীনদের মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেয়ার চেষ্টা করি আমি। বাংলাদেশ হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য খাতের যেখানে সুযোগ পেয়েছি, সেখানেই আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।

দৈনিক বাংলা: এখন যারা উদ্যোক্তা হতে চান বা চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য আপনার কী পরামর্শ?

ইকবাল আহমেদ: প্রথম কথা, পড়ালেখার কোনো বিকল্প নেই। আগে পড়ালেখা করতে হবে। তারপর কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে বেশি ভালো। বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে সবকিছু শেখা যায় না। একটা গণ্ডির মধ্যে থেকে কাজ করতে হয়। ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে সবদিকের সব কাজের বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। অভিজ্ঞতা পরিপূর্ণ করে তারপর ব্যবসা শুরু করতে হবে। আরেকটা কথা, ব্যবসার ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীল হতে হবে। বাংলাদেশে উদ্যোক্তা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এখন। এই সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে।

দৈনিক বাংলা : সব উদ্যোক্তা প্রথম দফায়ই সফল হন না। বারবার চেষ্টার পরও বিফল হয়ে এক সময় হতাশ হয়ে পড়েন অনেকে। তাদের জন্য আপনার কী পরামর্শ?

ইকবাল আহমেদ: অনেক সময় অনেকের ক্ষেত্রে এমনটা হয়। এর জন্য কিছু বিষয় অন্যতম দায়ী। অনেকে আছেন, এক ব্যবসায় ভালো করতে না পেরে অন্য ব্যবসায় চলে যান। এভাবে সুইচ করতে থাকলে আপনি কোনো ব্যবসায়ই ভালো করতে পারবেন না। একটার পেছনে লেগে থাকতে হবে। যত ব্যর্থ হবেন, তত অভিজ্ঞতা হবে। আরেকটা কথা, যখন দেখা যাবে, কিছুতেই একা সফল হওয়া যাচ্ছে না, তখন অংশীদার জোগাড় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হলো, আমার মধ্যে যে চিন্তা, যে সৃজনশীলতা নেই, তা আমার অংশীদারের মধ্যে থাকতে পারে। কাজেই সাফল্যের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একজন না পারলে, দুজন, দুজন না পারলে চারজনে মিলে উদ্যোগ নিতে হবে।

দৈনিক বাংলা: বাংলাদেশে আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আর কী করতে হবে?

ইকবাল আহমেদ: সর্বপ্রথম তরুণ প্রজন্মকে ব্যবসায় আগ্রহী করতে হবে। চাকরির ওপর ব্যবসাকে জোর দিতে হবে। সরকারের দিক থেকেই এই বার্তাটা আসতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে জোরালো অবস্থান নিতে হবে। প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স, ব্যাংক ঋণসহ সবকিছু আরও সহজ করতে হবে। ব্যাংক যদি আমাদের ঋণ না দিত, তাহলে আজ যতটুকুই এসেছি, তা কী আসতে পারতাম? কাজেই ব্যাংক খাতকে এখানে জোরালো অবস্থান নিতে হবে।

দৈনিক বাংলা: আপনাকে ধন্যবাদ।

ইকবাল আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।


নির্বাচিত

রপ্তানি বহুমুখীকরণে ইসিফরজে প্রকল্প: ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৫
বানিজ্য ডেস্ক

তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফরজে)’ প্রকল্প দেশের অন্যতম সফল শিল্পোন্নয়ন উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন ও শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) অর্থায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটি চালু করে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে রপ্তানি বহুমুখীকরণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প শুরুর সময় দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসত তৈরি পোশাক খাত থেকে, যা অর্থনীতিকে একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল করে তুলেছিল।

এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনাময় চারটি উৎপাদন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং নতুন রপ্তানি বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ইসিফরজে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রকল্প পরিচালক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি প্রায় সব প্রধান কর্মসম্পাদন সূচকেই নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি টেকসই ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু রপ্তানি বৃদ্ধি নয়, বরং বাংলাদেশি শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। প্রকল্পের ফলাফল প্রমাণ করে, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিলে শিল্পখাতের রূপান্তর উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

আব্দুর রহমান বলেন, প্রকল্পের সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ ছিল ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড (ইআরএফ)’। এই ম্যাচিং গ্রান্ট কর্মসূচির আওতায় নারী উদ্যোক্তাপ্রতিষ্ঠানসহ ৫৭০টি প্রতিষ্ঠান আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেয়েছে। এসব সহায়তার মাধ্যমে পরিবেশ, সামাজিক ও গুণগত মান (ইএসকিউ) সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, উৎপাদনব্যবস্থা আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন এবং নতুন বিদেশি বাজারে প্রবেশে প্রতিষ্ঠানগুলো সক্ষমতা অর্জন করেছে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৬০টি আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স সনদ অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ইআরএফের মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সহ-অর্থায়ন (কো-ইনভেস্টমেন্ট) এসেছে, যা সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি অতিরিক্ত বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে।

প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি ৫৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান ২২টি নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে।

প্রকল্প শুরুর আগে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রপ্তানিকারকের হার ছিল ৫৯ শতাংশ, যা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে তাদের গড় রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ১৯২ শতাংশ।

এছাড়া ৭৩টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে ১৪টি আন্তর্জাতিক সোর্সিং প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, শিল্প অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নেও বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে ইসিফরজে প্রকল্প। এর আওতায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিআইপিইটি) পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ হাইটেক সিটিতে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (সিইইটি) এবং গাজীপুরের কাশিমপুরে ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার ফর লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার (ডিটিসিএলএফ)-এর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইজিইটি) এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইজিইটি)-এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও সাইট উন্নয়নকাজও সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য উন্নত প্রযুক্তিসেবা, পণ্য উন্নয়ন, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্স বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটি সরাসরি ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি মানুষকে উপকৃত করেছে। তাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশই নারী।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন ও শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজারের প্রায় তিন গুণ।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আব্দুর রহমান বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সফল অংশীদারত্বের একটি উদাহরণ হিসেবে ইসিফরজে প্রকল্পকে উল্লেখ করেছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের আওতাভুক্ত তৈরি পোশাকবহির্ভূত খাতগুলোর রপ্তানি প্রায় ৮৩ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পটির অন্যতম উদ্ভাবনী দিক ছিল অনুদান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের সংস্থা উপকারভোগী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকি এবং নির্ধারিত অগ্রগতি যাচাইয়ের ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের কাজ পরিচালনা করেছে। এতে একদিকে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও উৎসাহিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, আর্থিক প্রণোদনার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই বৈশ্বিক মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়। ইসিফরজে প্রকল্পের সাফল্য তারই প্রমাণ।

সুত্র: বাসস


নির্বাচিত

ডলারের দাম মৌখিকভাবে বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বানিজ্য ডেস্ক

আমদানি দায় পরিশোধের কারণে ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আন্তঃব্যাংক বাজার ও রেমিট্যান্স চ্যানেল থেকে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দরে ডলার না কেনার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই অলিখিত নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার বাজার নিয়ন্ত্রণে রেখে ডলারের দর একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রাখতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই আকস্মিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনার পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ডলার সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ব্যাংকারদের তথ্যমতে, আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার আশপাশে থাকলেও, রেমিট্যান্স চ্যানেল থেকে আসা ডলার কোনোভাবেই ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সার নিচে কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আন্তঃব্যাংক বাজারে এভাবে সর্বোচ্চ দর নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় অনেক ব্যাংকই ওই দরে লেনদেন করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। আর্থিক খাতের বিশ্লেষক ও ব্যাংকারদের মতে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকর রাখতে হলে ডলারের দর সম্পূর্ণভাবে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত; নতুবা কৃত্রিমভাবে দর নিয়ন্ত্রণ করলে আন্তঃব্যাংক বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ডলারের দর কম রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক এমন পদক্ষেপ নিলেও, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার জোর পরামর্শ দিয়ে আসছে। এদিকে গত জুনের শেষ দিক থেকেই বাজারে ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী এবং গত সোমবার অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে আমদানির ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধ করেছে। এর মধ্যেই চলতি জুলাই মাসে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় তাদের প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, নতুন এই ঋণ কর্মসূচিতে চুক্তিবদ্ধ হতে হলে আইএমএফের পূর্ববর্তী শর্ত অনুযায়ী বাজারভিত্তিক বিনিময় হার বজায় রাখা এবং বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ সীমিত রাখার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে সরকারি এলসির অর্থ পরিশোধের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলসির মাধ্যমে আমদানি দায় নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে গত জুন মাসে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ গত আট মাসের মধ্যে একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ডলারের প্রবাহের তুলনায় বহির্গমন বেশি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে এই অসম চাপ তৈরি হয়েছে এবং টাকার অবমূল্যায়নের আশঙ্কায় গত প্রায় দেড় মাস ধরে বাজার থেকে ডলার কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকাররা সতর্ক করে বলেছেন যে, ২০২২ সালের মতো ভয়াবহ ডলার সংকট ও অস্থিরতা এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।


নির্বাচিত

১৬ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি দ্বিপক্ষীয় (জিটুজি) চুক্তির আওতায় চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য প্রায় ১৬ হাজার ৮৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা মূল্যের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির একটি বিশাল প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ৩৩তম সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই যুগান্তকারী সুপারিশ করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সমঝোতা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রিমিয়াম, আমদানির পরিমাণ এবং প্রচলিত সূচক মূল্য বিবেচনা করে মোট ছয়টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিস্তারিত প্রস্তাব সভায় উত্থাপন করা হয়েছিল। প্রস্তাবনা অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল), থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে সরকারি পর্যায়ে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে।

জ্বালানি তেল আমদানির এই বৃহৎ প্রস্তাবের পাশাপাশি ওই একই সভায় দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অবকাঠামো সংক্রান্ত আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন ও ঝুঁকি হ্রাস (রিভার)’ প্রকল্পের আওতায় একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে বগুড়া জেলার ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং আহাদ বিল্ডার্স-এর যৌথ উদ্যোগকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘দেশব্যাপী সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি সার বাফার গুদাম নির্মাণে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ এমবিএল-আরইএল যৌথ উদ্যোগের অনুকূলে দেওয়ার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধিত সমন্বিত বিদ্যুৎ ট্যারিফ অনুমোদনের সুপারিশও এই সভায় গৃহীত হয়েছে। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড পরিচালিত ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (উত্তর) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই নতুন ট্যারিফ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি ইউনিট বা কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের সমন্বিত ট্যারিফ ৪ দশমিক ০৯৪৫ মার্কিন সেন্ট বা ৫ দশমিক ০২৮১ টাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট হিসাবের ভিত্তিতে এই দর ঠিক করা হয়েছে, যেখানে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর, ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট ফ্যাক্টর, ৬ শতাংশ ইকুইটির ওপর মুনাফার হার, প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৮০ পয়সা এবং প্রতি এক হাজার স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট (এসসিএফ) গ্যাসের মূল্য ৪৩৮ টাকা ৯১ পয়সা বিবেচনা করে এই নতুন ট্যারিফ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়াতে তিনটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবও এই সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাব-জোন ৬, ৭, ১১ ও ১৮-এ উন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা নির্মাণের জন্য ১২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ মনিকো লিমিটেডকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানকার বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক নির্মাণ প্রকল্পে ২১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ রেভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের অনুকূলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের পরামর্শক সেবার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে পরামর্শক সেবার ব্যয় ৮৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার চেইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, ইউশিন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এবং বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শক সেবা প্রদান করছে।


নির্বাচিত

অর্থনীতির চালিকাশক্তি সিএমএসএমই খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বর্তমানে সুসংহত অবস্থানে রয়েছে অতিক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা সিএমএসএমই খাত। বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তৃণমূল পর্যায়ে শিল্পায়ন এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে এই খাতের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে, যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন তিন কোটিরও বেশি মানুষ। দেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রায় ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত। গত এক দশকে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় নতুনত্ব এসেছে। তবে এই খাতের একটি বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে রয়ে গেছে। প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থাকায় তারা ব্যাংক ঋণ, সরকারি প্রণোদনা এবং উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই খাতটি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারেনি।

সিএমএসএমই খাতের অগ্রযাত্রায় বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের অভাব। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের মধ্যে মোট ঋণের ২৫ শতাংশ এই খাতে বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ঋণের অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে মোট ঋণের ১৯ শতাংশের বেশি সিএমএসএমই খাতে থাকলেও বর্তমানে তা ১৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ঋণের এই অপ্রতুলতার কারণে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বাধ্য হয়ে চড়া সুদে এনজিও বা অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তির অভাব এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদের সংকট রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করোনা পরবর্তী প্রভাব, ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং ডলারের সংকটের মতো প্রতিকূল পরিবেশেও এ খাতের উদ্যোক্তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও স্থানীয়ভাবে আমদানিবিকল্প পণ্য উৎপাদনে অনেকে সফল হচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা বা ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ হিসেবে দেশের বাজার ধরে রাখতে এই ছোট উদ্যোগগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এজন্য বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ এবং বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তার চেষ্টা চলছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের রপ্তানি ঝুড়ি সমৃদ্ধ করতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সিএমএসএমই খাতকে অগ্রাধিকারে রাখা জরুরি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে কেবল একটি বাণিজ্যিক খাত হিসেবে না দেখে একে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কর-সুবিধা নিশ্চিত করা, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা এবং নীতিগত বাধাগুলো দ্রুত দূর করা সম্ভব হলে এই খাতটি জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই পারে সিএমএসএমই খাতকে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল অবস্থানে পৌঁছে দিতে।


নির্বাচিত

পণ্য পরিবহন খরচ কমাতে ঢাকার নৌপথ পুনরুদ্ধারের তাগিদ ডিসিসিআইয়ের  

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার পার্শ্ববর্তী নৌপথগুলো পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে পুনরায় সচল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। চট্টগ্রাম হতে রাজধানী অভিমুখে নৌপথে প্রতি টন পণ্য পরিবহনে ব্যয় হয় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, অথচ ট্রাকে করে অর্থাৎ সড়কপথে সেই একই মালামাল আনতে ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ পড়ে। অর্থাৎ নৌপথে পণ্য পরিবহনের খরচ সড়কপথের চেয়ে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ কম হয়। রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের প্রসার ও বাংলাদেশের বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবনে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি)।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তাসকীন আহমেদ তথ্য দেন যে, জাতীয় পর্যায়ে প্রতি কিলোমিটার নৌপথে টনপ্রতি মালামাল পরিবহনের ব্যয় ২-৩ টাকা হলেও সড়কপথে এই খরচ ১০ থেকে ১২ টাকা। তিনি মনে করেন, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো কার্যকর করা গেলে তা জাতীয় জিডিপিতে ১ শতাংশ অতিরিক্ত অবদান রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী জানান, নদীর বর্জ্য, দূষণ, দখল ও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পৌর এলাকায় বাসাবাড়ির স্যুয়ারেজ ও কারখানার বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলার ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং এ সমস্যা নিরসনে তিনি ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ রোধে নতুন প্রকল্প গ্রহণের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বল্প মূল্যে শিল্পবর্জ্য পরিশোধনে চীনের কারিগরি সহায়তায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় ছোট ছোট ইটিপি বা বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন ও নেদারল্যান্ডসের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব মন্তব্য করেন যে, নৌপথের পুনরুদ্ধার ও পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হলে নিচু সেতু ও বক্স কালভার্টগুলো দ্রুত অপসারণ করা জরুরি। সেই সঙ্গে সরকারি সকল সংস্থার মধ্যে কাজের সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর তিনি জোর দেন।

সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা নৌপথ সচল, খাল খনন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহন অনেক বেশি সাশ্রয়ী হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে।


নির্বাচিত

ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেল বায়োজেনের মুনাফা

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বখ্যাত বায়োটেকনোলজি জায়ান্ট বায়োজেন বুধবার তাদের চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, বিরল রোগের চিকিৎসার ওষুধের ব্যাপক চাহিদার কারণে কোম্পানির মুনাফা এবং মোট রাজস্ব উভয়ই ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে নতুন ওষুধের এই সাফল্যের বিপরীতে কোম্পানির পুরনো ও জনপ্রিয় মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস ওষুধের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং দামের চাপের কারণে বিক্রি কিছুটা কমেছে, যা কোম্পানির ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করে রেখেছে।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর রয়েছে বায়োজেনের নতুন আলঝেইমার ড্রাগ 'লেকিমবি' (Leqembi) এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তির ওপর। জাপানিজ কোম্পানি এজাই (Eisai)-এর সাথে যৌথভাবে তৈরি এই আলঝেইমার ড্রাগটির বৈশ্বিক বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শুরুতে এর উচ্চমূল্য এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বাজারে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, বর্তমানে সেই বাধা কাটিয়ে ওষুধটি চিকিৎসকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। বায়োজেন কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ভবিষ্যতে এই ওষুধের আরও সুবিধাজনক 'আন্ডার-দ্য-স্কিন' ফরম্যাট বাজারে এলে এর ব্যবহার এবং কাটতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ব্যবসায়িক পরিধি বাড়াতে এবং নতুন নতুন রোগের চিকিৎসায় নেতৃত্ব দিতে বায়োজেন সম্প্রতি ৫.৬ বিলিয়ন ডলারে অ্যাপেলিস ফার্মাসিউটিক্যালসকে অধিগ্রহণ করেছে। এটি ২০২৩ সালে রিয়াটা ফার্মাসিউটিক্যালস কেনার পর তাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। এই চুক্তির মাধ্যমে বায়োজেন কিডনি রোগের চিকিৎসা এবং নতুন কিছু বিরল রোগের ওষুধের বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। যদিও এই বড় মাপের অধিগ্রহণের কারণে কোম্পানির ২০২৬ সালের সম্ভাব্য মুনাফার পূর্বাভাসে কিছুটা কাটছাঁট করতে হয়েছে। আগে ২০২৬ সালে প্রতি শেয়ারে মুনাফা ১৪.২৫ থেকে ১৫.২৫ ডলার ধরা হলেও, বর্তমানের বিনিয়োগ ও অধিগ্রহণ সংক্রান্ত খরচের কারণে তা ১২ থেকে ১৩ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।

আর্থিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৩০ জুন শেষ হওয়া প্রান্তিকে বায়োজেন শেয়ার প্রতি ৩.৬০ ডলার অ্যাডজাস্টেড মুনাফা অর্জন করেছে, যেখানে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল মাত্র ২.৯৫ ডলার। কোম্পানির মোট ত্রৈমাসিক রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ২.৭৪ বিলিয়ন ডলারে, যা প্রত্যাশিত ২.৪৬ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকটা পেছনে ফেলেছে। তবে ইতিবাচক এই খবরের মাঝেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের পুরনো মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস পোর্টফোলিও। বিশেষ করে 'টেকফিডেরা'র মতো ওষুধের বিক্রি ১৩ শতাংশ কমে ৯৬৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা সামগ্রিক রাজস্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সামগ্রিকভাবে বায়োজেন এখন এক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানিটি তাদের পুরনো ও বাজার হারানো ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে লেকিমবি-র মতো নতুন উদ্ভাবন এবং অ্যাপেলিস-এর মতো কৌশলগত অধিগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের প্রবৃদ্ধি সচল রাখার চেষ্টা করছে। ২০২৬ সালের জন্য সংশোধিত মুনাফার প্রাক্কলন বিশ্লেষকদের ধারণার কাছাকাছিই (১২.৭২ ডলার) রয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য বর্তমানে বড় ধরনের বিনিয়োগের পথে হাঁটছে। আগামী দিনগুলোতে এই নতুন ওষুধগুলোই বায়োজেনের ভাগ্য নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


নির্বাচিত

পুঁজিবাজারে আবারও দরপতন, ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কার্যদিবসে সূচকের ইতিবাচক ধারার পর চতুর্থ দিন বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে আবারও দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার ফলে প্রধান সূচকগুলো নিচের দিকে নেমে গেছে। তবে সূচকের পতন ঘটলেও ডিএসইতে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুটা বেশ ইতিবাচক ছিল এবং প্রথম তিন ঘণ্টা সূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখে। তবে লেনদেনের শেষ এক ঘণ্টায় বাজারে বড় ধরণের দরপতনের প্রবণতা দেখা দেয়, যার ফলে দাম বাড়ার তুলনায় কমার তালিকা দীর্ঘ হয়। দিন শেষে ডিএসইতে ১১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের দর। বিশেষ করে লভ্যাংশ প্রদানের ভিত্তিতে ভালো মানের বা ‘এ’ ক্যাটাগরির ১১৭টি প্রতিষ্ঠানের দরপতন বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া ‘বি’ ও ‘জেড’ গ্রুপের অধিকাংশ শেয়ারেরও দর কমেছে।

বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সাথে ডিএসই-৩০ সূচক এবং শরিয়াহ সূচকেও নিম্নগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের এই শীর্ষে অবস্থান করেছে আর্গন ডেসিমস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং বেক্সিমকোর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। শীর্ষ ১০-এর তালিকায় সায়হাম টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর মতো কোম্পানিগুলোও জায়গা করে নিয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৫ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে ২৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৭টির দর কমেছে এবং ১১৩টির দাম বেড়েছে। সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কমে ৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী শুরুর পর শেষ সময়ের বিক্রির চাপে বাজার নেতিবাচক পরিস্থিতিতে দিন শেষ করেছে।


নির্বাচিত

নতুন ডিজিটাল পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈদেশিক লেনদেনের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সেবা বাণিজ্যের প্রসারে একটি নতুন ‘ডিজিটাল পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রবর্তন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈধভাবে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর (আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স) সুযোগ পাবে। এই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার’ বা সিডিপিএসপি হিসেবে অভিহিত করেছে।

নতুন এই কাঠামোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট’ (ডিভিএ) ব্যবস্থার প্রচলন। এটি মূলত গ্রাহকের জন্য একটি ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে কাজ করবে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাস্টার অ্যাকাউন্টের অধীনে পরিচালিত হবে। এই ডিভিএ ব্যবহার করে গ্রাহকরা ব্যক্তিগত ও সরকারি ভ্রমণ, চিকিৎসা সেবা, ভিসা ফি প্রদান, হোটেল বুকিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ মেটাতে পারবেন। এমনকি সীমিত পরিসরে ই-কমার্স বা অনলাইন কেনাকাটার সুবিধাও এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রিটেনশন কোটাসহ রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতেও এই সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।

তবে ব্যাংকগুলোকে এই ধরনের আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা চালু করার আগে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। এতদিন পর্যন্ত দেশীয় ব্যাংকগুলো কেবল বিদেশ থেকে অর্থ দেশে আনার (ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স) সেবা প্রদানে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ফ্রেমওয়ার্ক কার্যকর হলে ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স খাতে গতির সঞ্চার হবে এবং পেপ্যাল বা স্ট্রাইপের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলো বাংলাদেশের বাজারে তাদের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আরও বেশি আগ্রহী হবে।


নির্বাচিত

ডিএসই’র তালিকাভুক্ত ৬ ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধি, লোকসান বেড়েছে একটির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়টি ব্যাংকের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বুধবার প্রকাশ করা এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে একটি ব্যাংক লোকসানের ধকল কাটিয়ে লাভের ধারায় ফিরেছে, একটির মুনাফা সংকুচিত হয়েছে এবং অন্য একটির ধারাবাহিক লোকসানের ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।

আর্থিক উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আলোচিত সময়ে ব্র্যাক ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এবং এনসিসি ব্যাংকের মুনাফায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক; গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির ইপিএস ১ টাকা ৩৪ পয়সা থাকলেও চলতি বছরে তা লাফিয়ে ২ টাকা ৫৫ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত নিট সুদ আয় এবং বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লাভ বাড়ার কারণেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরা ব্যাংকের ইপিএস আগের বছরের ৪৬ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ১৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যার পেছনের চালিকাশক্তি হিসেবে বিনিয়োগ ও কমিশন আয় বৃদ্ধি এবং ঋণের বিপরীতে প্রভিশন হ্রাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ২ পয়সা থেকে বেড়ে ২৬ পয়সা এবং ইউসিবির আয় ৮ পয়সা থেকে ১৫ পয়সায় পৌঁছানোর তথ্য জানা গেছে। মূলত সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কারণেই ইউসিবির লাভ বেড়েছে। এছাড়া এনসিসি ব্যাংক তাদের বিনিয়োগের আয় বৃদ্ধি এবং পুঁজিবাজারের পুরোনো প্রভিশন ফেরত পাওয়ার ফলে ইপিএস ৯৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ১ পয়সা করেছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন এনেছে এনআরবি ব্যাংক; আগের বছরের একই সময়ে ১ টাকা ২৯ পয়সা শেয়ারপ্রতি লোকসানে থাকলেও এবারের প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান কাটিয়ে ১ পয়সা মুনাফা প্রদর্শন করেছে।

বিপরীত চিত্রের মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। গত বছরের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় ১৮ পয়সা থেকে কমে মাত্র ১ পয়সায় নেমে এসেছে। এছাড়া আগে থেকেই আর্থিক সংকটে থাকা আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান ২৮ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৫ পয়সা হয়েছে।


নির্বাচিত

ব্যয় সংকোচন নীতিতে মার্সিডিজ-বেঞ্জের মুনাফায় স্বস্তি

ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ব্যয় হ্রাসের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে জার্মানির প্রখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্সিডিজ-বেঞ্জ। এর ফলে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দরে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে চীনের বাজারে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ইউরোপের বাজারে চীনাদের ক্রমবর্ধমান বিস্তার মার্সিডিজের মূল ব্যবসায়িক গন্তব্য নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত শুল্ক এবং চীনা প্রতিযোগীদের চাপের কারণে জার্মানির অটোমোবাইল শিল্প বর্তমানে একটি প্রতিকূল সময় পার করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফক্সওয়াগন, মার্সিডিজ এবং বিএমডব্লিউ-এর মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যয় হ্রাসের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে। মঙ্গলবার মার্সিডিজের শেয়ারের দর এক পর্যায়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও দিনের শেষভাগে তা ২ দশমিক ৯ শতাংশে এসে স্থির হয়। মর্নিংস্টার-এর বিশ্লেষক রেলা সুসকিন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "এমন এক পরিবেশে যেখানে কিছু গাড়ি নির্মাতা তাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়ে সতর্কবাণী দিচ্ছে, সেখানে মার্সিডিজ একটি স্পষ্ট এবং আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছে।"

দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্সিডিজ-বেঞ্জের সামগ্রিক আয় ৩ শতাংশ হ্রাস পেলেও তাদের পরিচালন মুনাফা ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরো বা ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মূলত প্রশাসনিক এবং গবেষণা ও উন্নয়ন খাতের খরচ কমিয়ে আনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ভ্যান ও আর্থিক সেবা ইউনিটের শক্তিশালী অবস্থান এই মুনাফা অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া তাদের লিজ প্রদানকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাথলন বিক্রির পরিকল্পনা থেকে আসা ১৩১ মিলিয়ন ইউরোও লভ্যাংশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে স্টুটগার্ট-ভিত্তিক এই গাড়ি নির্মাতার জন্য ভবিষ্যৎ পথ এখনো চ্যালেঞ্জিং। এক সময়ের লাভজনক চীনের বাজারে স্থানীয় নির্মাতাদের কাছে বড় ধরনের বাজার হারানোর পর এখন সেই চীনা প্রতিযোগীরাই ইউরোপে গাড়ি রফতানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ির বাজার চীনে মার্সিডিজের বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাস সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হারাল্ড উইলহেল্ম জানিয়েছেন যে, ইউরোপের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় চলতি বছরের মুনাফার হার পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে।

সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মার্সিডিজ বর্তমানে তাদের জার্মানির কারখানাগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ বিষয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে পোল্যান্ড এবং হাঙ্গেরির মতো পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে, যেখানে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম, সেখানে কারখানা সম্প্রসারণের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ওলা ক্যালেনিয়াস প্রতিযোগিতামূলক বাজার প্রসঙ্গে বলেন, "আমাদের পণ্যের দামের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যয় হ্রাসের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।" ইউরোপে প্রবেশ করা চীনা কোম্পানিগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য সাধারণ গাড়ির বাজার হলেও, "তবে এটি হাত গুটিয়ে বসে থাকার বা নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো কোনো কারণ নয়।"


নির্বাচিত

এআই বিপ্লবে এসকে হাইনিক্সের রেকর্ড মুনাফা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জয়জয়কারে কপাল খুলেছে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের। উন্নত মেমোরি চিপের আকাশচুম্বী চাহিদার কারণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা বেড়েছে ১ হাজার ২৪২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান চিপ সরবরাহকারী হিসেবে এসকে হাইনিক্স বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখছে। ইচিয়নে সদর দপ্তর থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক ফলাফলকে “সর্বকালের সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স” হিসেবে অভিহিত করেছে। মূলত বিশ্বজুড়ে এআই অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার নির্মাণের প্রতিযোগিতার ফলে তাদের ব্যবসায় এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি এসেছে।

বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ৯৪ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করেছে, যা কোম্পানিটির ইতিহাসে এক প্রান্তিকের হিসেবে সর্বোচ্চ আয়। তবে মুনাফার এই বিশাল উল্লম্ফন বিনিয়োগকারীদের মনে এআই খাতের বাজারমূল্য নিয়ে কিছুটা উদ্বেগেরও সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে এআই মাইক্রোচিপ বিভাগের বিপণন প্রধান পার্ক জুন-দেওক জানান, বিনিয়োগের গতি কমে আসা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন নিজস্ব ডেটা সেন্টার নির্মাণের চেয়ে ভাড়ার দিকে ঝুঁকছে এবং উচ্চ-দক্ষতা সম্পন্ন প্রযুক্তির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তবে পার্কের মতে, এসব পরিবর্তন বিনিয়োগ কমে যাওয়ার সংকেত নয় বরং এটি “এখন পর্যন্ত তৈরি বিশাল এআই অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তা থেকে আয় করার প্রক্রিয়ার অংশ।”

বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে এসকে হাইনিক্সের পরিচালন মুনাফা ৫৫৭ শতাংশ বেড়ে ৬০ ট্রিলিয়ন ওনে দাঁড়িয়েছে। ফ্ল্যাশ মেমোরি নির্মাতা কিওক্সিয়ায় থাকা শেয়ার বিক্রির এককালীন আয়ও এই মুনাফায় প্রভাব ফেলেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছর তারা প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ওন নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, “প্রধান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে অতিরিক্ত সরবরাহের অনুরোধও বাড়ছে।” বিবৃতিতে মেমোরি চিপের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলা হয়, “এআই সেবা থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমে এসব বিনিয়োগ সমর্থিত হওয়ায় মেমোরি চাহিদার গতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

এদিকে এসকে হাইনিক্সের মূল প্রতিষ্ঠান এসকে গ্রুপ এনভিডিয়ার সাথে সম্মিলিতভাবে এআই খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি মার্কিন শেয়ারবাজারে এডিআর তালিকাভুক্তির মাধ্যমে তারা বড় অংকের তহবিল সংগ্রহ করলেও বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দামে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। কেবি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক কিম ডং-ওয়নের মতে, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও এআই খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন যে মেমোরি চিপের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং সরবরাহের এই ঘাটতি ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। উল্লেখ্য, এসকে হাইনিক্সের প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং ইলেকট্রনিকসও তাদের মুনাফায় বড় ধরণের চমক দেখানোর অপেক্ষায় রয়েছে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৩ বছরের জন্য এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বর্তমানে কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মোট পাঁচটি কোম্পানির সঙ্গে সাতটি জিটুজি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করে আসছে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে এবং ভবিষ্যতের বাড়তি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসি ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি করে এলএনজি কার্গো সরবরাহের প্রস্তাব পেশ করে। মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য প্রক্রিয়াকরণের প্রাথমিক অনুমোদন পায়।

প্রস্তাবিত এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে থাকবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা সরাসরি চুক্তি কার্যকর করবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের লাগামহীন অস্থিরতার মাঝেও দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প কারখানায় গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিলেন অ্যাডভোকেট শামছুজ্জামান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ শামছুজ্জামান (সুরুজ)।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে গত ২৩ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোঃ শামছুজ্জামান (সুরুজ)-কে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান পদে গ্রেড-২ মর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মো. শামসুজ্জামান (সুরুজ) পেশায় সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্ট এবং ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনে পৃথক চেম্বারের মাধ্যমে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

১৯৭০ সালে টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার মশুদ্দি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শামসুজ্জামান (সুরুজ)। দীর্ঘদিনের আইন পেশার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিকায়নে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।


নির্বাচিত

banner close