সোমবার, ৩ জুন ২০২৪

প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেছেন: অর্থমন্ত্রী

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড
১৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৭:৩৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৭:৩৬

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেছেন।

আজ শুক্রবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অর্থমন্ত্রী এ তিনি কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের স্প্রিংমিটিং-এ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে অর্থমন্ত্রী মাহমুদ আলী এখন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এবং মাহমুদ আলীর বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক কর্মজীবন সংক্ষেপে তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন এবং তার নেতৃত্বে দেশ সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তিনি জাতিকে এর অভীষ্ঠ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দেশে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান এবং তারা দেশের চলমান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার জন্য ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।’

আবুল হাসান মাহমুদ আলী ১৯৭১ সালে নিউইয়র্কে তার কূটনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এর আগে অর্থমন্ত্রী দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

দূতাবাসে পৌঁছালে অর্থমন্ত্রী মাহমুদ আলীকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান এবং দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা।


ই-জিপি জানতে ৩ দিনের সফরে শ্রীলংকার প্রতিনিধিদল ঢাকায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) প্রবর্তিত ইলেকট্রনিক গর্ভনমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সিস্টেম বাস্তবায়নের সাফল্য সম্পর্কে জানতে, বুঝতে এবং নিজের দেশে তা বাস্তবায়ন করতে ৭ সদস্য বিশিষ্ট শ্রীলংকার একটি সরকারি ক্রয় বিষয়ক প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছেন। প্রতিনিধি দলটি আজ রোববার (২ জুন) থেকে বিপিপিএ’র সংগে ৩ দিনব্যাপী একটি অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর শুরু করেছে।

সফরকারী এ সরকারি ক্রয় বিষয়ক প্রতিনিধিদলকে বিপিপিএ’তে স্বাগত জানান বিপিপিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. শোহেলের রহমান চৌধুরী। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সেশনে শ্রীলংকার পাবলিক ফিন্যান্স দপ্তরের মহাপরিচালক ই এ রাত্নাশিলা শ্রীলংকা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

প্রতিনিধিদলে শ্রীলংকার ই-জিপি সেক্রেটারিয়েট, জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিশন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও পাবলিক ফিন্যান্সের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শ্রীলংকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সে দেশে বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিও রয়েছে।

বাংলাদেশে ই-জিপি সিস্টেমের বাস্তবায়ন জানা ও বোঝার জন্য এর আগেও ২০১৭ সালে শ্রীলংকার একটি ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল পূর্বতন সিপিটিইউ পরিদর্শন করেছে। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্বতন সিপিটিইউকে বিপিপিএ’তে রূপান্তর করা হয়েছে।

শ্রীলংকার চলতি সফরসহ এ পর্যন্ত মোট ১২ টি দেশ ও ৫ টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ই-জিপি বিষয়ে মত বিনিময়ের জন্য বিপিপিএ বা পূর্বতন সিপিটিইউ পরিদর্শন করেছে। দেশ ও সংস্থাগুলো হচ্ছে তানজানিয়া, মিশর, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, অস্ট্রিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভূটান, আফগানিস্তান, নেপাল, গাম্বিয়া এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, আইএমএফ, উই কানেক্ট ইন্টারন্যাশনাল, কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি ও সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ (ইউকে)।

২০১১ সালের ২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি ক্রয়ের ডিজিটাইজেশনের জন্য ই-জিপি পোর্টাল উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে ই-জিপির দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। বর্তমানে ই-জিপির মাধ্যমে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকরণসহ চুক্তি ব্যবস্থাপনার সকল কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্রয় ব্যবস্থা দেশে ও বিদেশে প্রশংসা অর্জন করেছে।

শ্রীংলকা তাদের দেশে ই-জিপি চালু করলেও বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করছে এবং এখনও পুরো সিস্টেম ডিজিটাল হয়নি। বাংলাদেশ কিভাবে ই-জিপির সফল বাস্তবায়ন করেছে তা জানতে ও বুঝতেই তাদের এ সফর বলে উল্লেখ করেছেন দলনেতা।

বিপিপিএ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বাংলাদেশে ই-জিপি বাস্তবায়নের পটভূমি ও প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। বিপিপিএ’র ই-জিপি সিস্টেম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় লিড পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে দোহাটেক নিউ মিডিয়া। সঙ্গে রয়েছে বেক্সিমকো আইটি ডিভিশন ও জিএসএস ইনফোটেক লিঃ। ই-জিপি সিস্টেম বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে বিশ্বব্যাংক।


দুই-এক মাসের মধ্যেই রিজার্ভ চুরির অভিযোগপত্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া।

সিআইডি সদর দপ্তরে আজ রোববার আয়োজিত ‘অবৈধ অর্থ স্থানান্তর এবং অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ’ সম্পর্কিত গবেষণা ফলাফলের প্রচার ও দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সিআইডিপ্রধান বলেন, ‘আমরা মাদক নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি। এরই মধ্যে যারা মাদক সেবন করে এবং যারা কারবারি তাদের আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে। স্পেশাল ডাইমেনশন আকারে গডফাদারদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি এবং মাদক গডফাদারদের যত অর্থ-সম্পদ আছে সেগুলো আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। তাদের সম্পদের কোনোটা ফ্রিজ করেছি, আবার কোনোটা সিজ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সিআইডির মানবপাচার তদন্ত সেল রয়েছে। সেটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। এ সেলের একটি ব্রাঞ্চ বিমানবন্দরে রয়েছে। যারা বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে বিদেশ থেকে রিজেক্টেড হয়, রিপোর্ট করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সমস্ত ডাটা সংগ্রহ করি। মামলা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এ ছাড়া কোনো ভুক্তভোগী যদি মামলা করে তাহলে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত শুক্রবার মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাওয়ার বিষয়ে বিমানবন্দরে আমরা যেটা দেখেছি তার বিষয়ে যদি সংক্ষুব্ধ কেউ মামলা করে তাহলে সিআইডি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শুধু পাচার মামলা নয়, এর পাশাপাশি অবৈধভাবে শ্রমিক পাঠানো বা অবৈধভাবে অর্থ আয় করে হস্তান্তর করেছে সেগুলো মানি লন্ডারিং আইনে মামলার আওতায় নিয়ে আসব।’

গত এক বছরে কী পরিমাণ মানি লন্ডারিং হয়েছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের কাছে তথ্য নেই। এটা বাংলাদেশ ব্যাংক মনিটরিং করে। আমরা বলতে পারি, মানিলন্ডারিং রিলেটেড যেসব মামলা হয়েছে সেগুলোর ডাটা আমাদের কাছে আছে। অনেক মামলা হয়েছে, আমরা অনেক উদ্ধার করেছি।’


`সব কাগজ পেয়েও মালয়েশিয়া যেতে পারেননি ১৬ হাজার ৯৭০ কর্মী'

কর্মীদের প্রেরণে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
আপডেটেড ২ জুন, ২০২৪ ২০:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রসহ দরকারি সব কাগজপত্র পেয়েও মালয়েশিয়া যেতে পারেননি মোট ১৬ হাজার ৯৭০ জন কর্মী। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।

তবে মোট চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে এই সংখ্যাটা ৫০ হাজারের বেশি হবে বলে ধারণা করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

নির্ধারিত সময়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যেতে না পারার কারণ খুঁজতে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই কমিটির কাছে ভুক্তভোগীদের যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন’ - যোগ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত বিএমইটি থেকে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪২ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন মালয়েশিয়া গিয়েছেন। সেই হিসাবে ১৬ হাজার ৯৭০ জনের কম-বেশি যেতে পারেননি।

এসব কর্মী না যাওয়ার পেছনে সিন্ডিকেটভুক্ত ১০০টি এজেন্সি দায়ী যেখানে ৪ জন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আপনারা কি ব্যবস্থা নেবেন– এমন প্রশ্নের যেভাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যিনি বা যারা দায়ী থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপি চিনি না। তাদের সাথে কোন ডিল নাই। আমরা শুধু এজেন্সিকে কাজ দেব।’

ভবিষ্যতে আবার সিন্ডিকেট হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিন্ডিকেটে বিশ্বাস করি না। যে দেশ কর্মী নেবে, তাদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এজেন্সি কর্মী পাঠায়। আমরা চাই আমাদের নিবন্ধনকৃত আড়াই হাজার এজেন্সির সবাই যেন কর্মী পাঠাতে পারে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর লক্ষ্যে সরকার বরাবরই আন্তরিক ছিল। পত্রিকায় জরুরি বিজ্ঞপ্তি সম্মিলিত বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মীগণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত ২৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমমাজার শিগগিরই খোলার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী বলেন, বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ সচিব রুহুল আমিন বলেন, মালয়েশিয়া যেতে না পারা শ্রমিকরা তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ করতে পারবে। তাদের টাকা ফেরত দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

সচিব জানান, ২৪ মে’র পর থেকে যাদের টিকিট ছিল শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।


মসলার দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং করা হবে: ভোক্তার ডিজি

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২ জুন, ২০২৪ ১৮:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মসলাসহ সব নিত্য পণ্যের দাম যাতে কেউ বাড়াতে না পারে সে বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

আজ রোববার সুনামগঞ্জ পৌরশহরের বিভিন্ন মার্কেট ও কাঁচা বাজার পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাজার ব্যবস্থা ভালো আছে। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজার কিছুটা অস্থির। তাই বারে বারে বাজার মনিটরিং করে স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা চালানো হবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, সবজির বাজার স্থিতিশীল আছে। দেশে এমন কোনো পণ্য নেই যা নকল হয় না। কসমেটিক থেকে শুরু করে শিশু খাদ্য সবকিছুই নকল হচ্ছে। এ নকলগুলো দেশের ভেতরেই হচ্ছে। এ তথ্যগুলো আপনারা আমাদের দেন, আমরা ব্যবস্থা নেব।

এ সময় একটি পোলট্রির দোকানে গরু মোটাতাজাকরণের ওষুধ পাওয়ায় সাত হাজার টাকা জরিমানা এবং দোকানটি সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর আগে আজ সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন ভোক্তা অধিকারে মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জামিল চৌধুরী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।


স্থায়ী দোকানের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য দিতে চাই: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

রোববার জুন মাসের টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থায়ী দোকানের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

আজ রোববার জুন মাসের টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আর অস্থায়ীভাবে টিসিবির পণ্য দিতে চাই না। আগামী অর্থবছর থেকে স্থায়ী দোকানের মাধ্যমে এই পণ্যগুলো দিতে চাই। সুবিধাভোগীরা যেন সময়মতো পণ্যগুলো নিতে পারে। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ডিলারদের অনুরোধ করবো, আপনারাও এই ব্যবস্থা করুন।’

স্থায়ী দোকানে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদেরও ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে আমরা টিসিবির একটি বাফার স্টক তৈরি করার চেষ্টা করব। যাতে বিভিন্ন সময়ে বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখা দিলেও আমরা যেন দামটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। সেই বাফার স্টক থেকে পণ্য সরবরাহ করতে পারি। এজন্য আমরা রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যদি দোকান স্থায়ী হয়ে যায়, তাহলে প্রায় ১০ হাজারের মতো নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। এখন আমরা শুধু নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য দিচ্ছি। মধ্যবিত্তদেরও যেন আমরা ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ করতে পারি, সেই পরিকল্পনা আছে।’

টিটু বলেন, ‘প্রতি মাসেই আমাদের চেষ্টা থাকে যত তাড়াতাড়ি টিসিবির পণ্যটি সুবিধাভোগীর হাতে তুলে দিতে পারি। জুন মাসে প্রথম কর্ম দিবসেই টিসিবি এই কার্যক্রমটি শুরু করতে পেরেছে। এজন্য টিসিবির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। এক কোটি পরিবারকে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার এই কর্মযজ্ঞটা অনেক বড়। সামনে কোরবানির ঈদ। ঈদের আগেই সারা দেশে প্রতিটি সুবিধাভোগীর হাতে টিসিবির এই প্যাকেজটি আমরা তুলে দিতে চাই।

এক কোটি পরিবার যখন এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো পায়, তখন চিনি, চাল, ডাল ও তেলের বাজারের চাহিদাও কিছুটা পূরণ হয়। এর মাধ্যমে আমরা যেমন এক কোটি পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে চারটি পণ্য দিচ্ছি, তেমনি বাজারে দ্রব্যমূল্যের চাপও নিয়ন্ত্রণ করছি। এই একটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দুইটি উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে। এতে শুধু সুবিধাভোগী পরিবারই সুবিধা পাচ্ছে না, বাজারের চাপও কমছে।’

জুন মাসে টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে এক কোটি সুবিধাভোগী পরিবারকে ৩০ টাকা দরে পাঁচ কেজি চাল, ১০০ টাকা দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল, ৬০ টাকা দরে দুই কেজি মশুর ডাল ও ঢাকায় ৭০ টাকা দরে এক কেজি চিনি দেওয়া হবে। প্রতি প্যাকেজের মূল্য ৫৪০ টাকা।


কর কমছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩০ পণ্যের

আপডেটেড ২ জুন, ২০২৪ ১০:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজার স্থিতিশীল রাখা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে নিত্য প্রয়োজনীয় অন্তত ৩০ পণ্য ও খাদ্যশস্য সরবরাহের ওপর উৎসে কর কমানো হচ্ছে। আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পণ্যে উৎসে কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদি প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয় তবে বাজারে এই পণ্যগুলো আগের চেয়ে কমমূল্যে কিনতে পারবেন ভোক্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- পেঁয়াজ, রসুন, মটর, ছোলা, চাল, গম, আলু, মসুর, ভোজ্যতেল, চিনি, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, ময়দা, আটা, লবণ, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, খেজুর, তেজপাতা, পাট, তুলা, সুতা এবং সব ধরনের ফলসহ ৩০ পণ্য।

অন্যদিকে প্যাকেটজাত গুঁড়াদুধ আমদানিতে করহার কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আড়াই কেজি ওজন পর্যন্ত গুড়াদুধের ওপর করহার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসছে। বর্তমানে গুঁড়াদুধের বাল্ক আমদানিকারকদের জন্য মোট করহার ৩৭ শতাংশ।

আর আগে গত ১৪ মে গণভবনে বাজেট-বিষয়ক সভায় বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকেও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার স্থিতিশীল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অনুবিভাগের বাজেট বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। ওই সভায় কৃষি উপকরণ ও সার আমদানিতে শুল্ক না বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ী নেতারা প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর ওপর উৎসে কর কমানোর পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এটি ভোক্তাদের উপকৃত করবে। তবে বাজারে এর যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এসব পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী ৬ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বাজেট প্রস্তাব করবেন।

এর আগে ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী দেশের উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন বাজেটে খাদ্য, কৃষি-সংক্রান্ত জিনিসপত্র এবং সারের ওপর কর না বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত করতে এনবিআরের রাজস্ব-নীতিবিষয়ক কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যেই বেশি হওয়ায় খাদ্য ও খাদ্য-সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক বা কর না বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং খাদ্যশস্যের সরবরাহের ওপর কর কমানোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সিপিডি উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে এ ধরনের কর হ্রাসের পক্ষে অনেক আগে থেকেই কথা বলছে।

এটি ভোক্তাদের জন্য একটি সুবিধা, আমদানিকারকদের জন্য নয়। আর সরকারকে অবশ্যই এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, কর কর্তনের ব্যবস্থা প্রায়শই বাজারে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। সুতরাং এখানে বাজার ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে কর কমানো খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ।

‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে করহার কমানোর জন্য অনুরোধ করছি। এ উদ্যোগ খাদ্য মূল্যস্ফীতি রোধে সহায়ক হবে,’ বলেন তিনি।

প্যাকেটজাত গুঁড়াদুধের আমদানিতে শুল্ক কমানোর ফলে ফিনিশড পণ্য আমদানিতে আগ্রহ বাড়বে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমদানি বা ক্রয় মূল্য কমে গেলে তা খুচরা মূল্যে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, ‘যখন আপনার খরচ কমবে, তখন ভোক্তাদের তা থেকে উপকৃত হওয়া উচিত।’

মাহবুবুল আলম আরও বলেন, সরকার গুঁড়াদুধ আমদানিকারকদের জন্য অগ্রিম আয়করের হার না বাড়ালে এবং এটিকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করলে ব্যবসায়িক সুবিধা হবে।

তবে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে অগ্রিম আয়করের বিরোধিতা করে আসছি। তবে কর কমানোর যেকোনো পদক্ষেপ সবসময়ই স্বাগত।’

‘সরকার যদি কোনো কর ১ শতাংশ হারে কমায়, তাহলে তা স্থানীয় ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই সহায়ক হবে,’ তিনি বলেন।

সরকারের উচিত প্রকৃত পরিমাণের বেশি কেটে নেওয়া করের জন্য রিফান্ড-নীতি প্রবর্তন করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অন্যথায় করের বোঝা মুনাফা ছাড়িয়ে যাবে।’

আবুল কাশেম বলেন, ‘সরকার অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে না পারলে আগামী অর্থবছরে তা সমন্বয় করতে হবে।’


কাল থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাসিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল রোববার থেকে ভর্তুকি মূল্যে জুন মাসের পণ্য বিক্রি শুরু করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানায় সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এবার বিক্রি কার্যক্রমে এক কার্ডধারী সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারবেন। এবার প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা, চিনি ৭০ টাকা ও প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করবে টিসিবি।’

এ বিক্রয় কার্যক্রম ডিলারদের দোকান অথবা নির্ধারিত স্থায়ী স্থাপনা হতে সিটি করপোরেশন, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ও তাদের নির্ধারিত তারিখ ও সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করবে।

আগামীকাল রোববার এ বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

মিরপুর পল্লবী এলাকায় শেখ ফজলুল হক মনি খেলার মাঠে সকালে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।


২ দিনে ১২০ টন কাঁচা মরিচ এলো ভারত থেকে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। দুই দিনে আমদানি করা ১২০ টন কাঁচা মরিচ দেশে এসে পৌঁছেছে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা মোট ১২০ টন কাঁচা মরিচ নিয়ে ১৩টি ট্রাক ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

কাঁচা মরিচ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো হলে- রাজ এন্টারপ্রাইজ, শিমু এন্টারপ্রাইজ ও সেঞ্চুরী প্লাগ। বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে খালাস হয়ে এসব কাঁচামরিচ রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাবে।

বন্দর সূত্র জানায়, প্রতি টন ২৩৮ ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে। প্রতি কেজিতে সরকারকে ৩৯ টাকা আমদানি শুল্ক পরিশোধ করতে হয়েছে। এতে বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত প্রতিকেজি কাঁচা মরিচের আমদানি খরচ পড়েছে প্রায় ৭০ টাকা।

বেনাপোল স্থলবন্দরে খাদ্যদ্রব্যের মান পরীক্ষায় নিয়োজিত উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার সরকার জানান, প্রায় ১০ মাস পর ভারত থেকে আবারো কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানিকারকরা যাতে দ্রুত তাদের পণ্য বন্দর থেকে খালাস করতে পারেন সে বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) রেজাউল করিম জানান, গত দুই দিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১২০ টন কাঁচা মরিচ ১৩টি ট্রাকে ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার পাঁচটি ট্রাকে ৩৭ টন ও বৃহস্পতিবার আটটি ট্রাকে ৮৩ টন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে।

তিনি জানান, পণ্য চালান দ্রুত খালাস দিতে বন্দরের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমদানি করা কাঁচা মরিচ আমদানিকারকরা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলার আলোকে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য সমন্বয় করছে সরকার।

এ দফায় অকটেনের দাম ১৩১ টাকা, পেট্রোলের দাম ১২৭ টাকা ও ডিজেলের দাম ১০৭ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন মূল্যের প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিনের বিদ্যমান মূল্য ১০৭ টাকা থেকে ০.৭৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১০৭.৭৫ টাকা, পেট্রোলের বিদ্যমান মূল্য ১২৪.৫০ টাকা থেকে ২.৫০ টাকা বাড়িয়ে ১২৭ টাকা এবং অকটেনের বিদ্যমান মূল্য ১২৮.৫০ টাকা থেকে ২.৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ১৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সমন্বয়কৃত এ মূল্য ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা হ্রাস পেলেও মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে এ মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।


‘জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, হংকং কনভেনশন প্রতিপালন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত আন্তরিক এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সর্বাত্মক সহয়োগিতা প্রয়োজন। আইএমও মহাসচিবের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে এতে গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা যায়।

আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও এন্টোনিও ডোমিনগেজ ভেলাসকো আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর সঙ্গে রাজধানীর মতিঝিলে তার দপ্তরে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জীবনের শেষ সীমায় পৌঁছানো জাহাজের নিরাপদ এবং পরিবেশসম্মত উপায়ে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গত ২৫ জুন হংকং কনভেনশন অনুসমর্থন করে। সে হিসেবে আগামী ২০২৫ সালের ২৬ জুনের মধ্যে বাংলাদেশকে কনভেনশন প্রতিপালন করতে হবে এবং সকল ইয়ার্ডসমূহে ট্রিটমেন্ট স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ) নিশ্চিত করতে হবে। নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বাংলাদেশের এ সম্ভাবনাময় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ গ্রহণসহ করণীয়সমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। মন্ত্রী এ সময় হংকং কনভেনশন প্রতিপালনে শিপ ইয়ার্ড মালিকদের জন্য উন্নয়ন সহযোগী বা আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার কাছ থেকে সফট লোন পেতে আইএমও'র সহযোগিতা কামনা করেন। তাছাড়া জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনেও আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সহায়তা চান।

সাক্ষাৎকালে আইএমও মহাসচিব বলেন, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে আইএমও প্রবর্তিত হংকং কনভেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এ শিল্পের টেকসই, নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব উন্নয়নে সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ স্বচক্ষে দেখা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য আমার এ সফর। আর্সেনিও এন্টোনিও ডোমিনগেজ ভেলাসকো বলেন, এ শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে দেখে আমি খুশি। আমরা এ শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে আইএমও এর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মহাসচিব এ সময় বাংলাদেশ সরকার ও আইএমও এর সহযোগিতায় বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও নির্মাণ শিল্প আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্বে) এস এম আলম, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনিম, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরক্ত সচিব ড. শাহ্ মো. হেলাল উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ১৯৮০ সাল থেকে জাহাজ রিসাইক্লিং করে আসছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় শতাধিক শিপ সাইক্লিং ইয়ার্ড রয়েছে। উল্লিখিত ইয়ার্ডগুলির মধ্যে ৫০টি চালু রয়েছে। দেশের সামগ্রিক লোহার চাহিদার প্রায় ৬০% আসে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প থেকে। প্রায় ২ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।


সরবরাহে ঘাটতি নেই তবুও ঊর্ধ্বমুখী মসলার বাজার

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র অল্প কয়েক দিন । কোরবানির ঈদে সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে সব ধরনের মসলার। রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে তোলা। ছবি: ওসমান গনি
আপডেটেড ৩১ মে, ২০২৪ ০০:০৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন কোরবানির ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ মসলা। আর ঈদকে ঘিরে সিন্ডিকেটের অসাধু তৎপরতায় অস্থির হয়ে পড়েছে দেশে মসলার বাজার। ফলে সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম। দেশে মসলা আমদানি হওয়ার প্রধান দুটি রুট হচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এবং দিনাজপুরের হিলি বন্দর। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে ঘিরে তিন মাস আগে থেকেই মসলা আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। এর ফলে দেশের বাজারে বিপুল পরিমাণ মসলা আমদানি হলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে মসলার দাম।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে লাগামছাড়া এলাচের দাম। কেজি প্রতি বেড়েছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। বেড়েছে দারুচিনি-জিরা-হলুদের দামও। চীনা আদার দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৩০ টাকা। স্থির নেই পেঁয়াজের বাজারও। মসলার এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ডলারের দাম বৃদ্ধিকেই যুক্তি হিসেবে দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের মসলার মোকামগুলো ভর্তি নানা রকম মসলা পণ্যে। সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও এর কোনো প্রভাব নেই পণ্যের দামে।

পাইকারি বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। ২৫০০ টাকার এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ টাকায়। সবচেয়ে ভালো মানের এলাচের দাম আরও বেশি, ৩৯০০ টাকা কেজি। জিরা আর দারুচিনির দামও বেড়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।

পেঁয়াজ-আদা-রসুন-হলুদের বাজারেও স্বস্তি নেই। এক সপ্তাহে চীনা আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা। দেশি আর ভারতীয় পেঁয়াজের দামও পাইকারিতে পাঁচ টাকা বেড়ে গেছে। আর হলুদের দাম বেড়েছে ৩০

ব্যবসায়ীদের দাবি, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া ও এলসি খোলায় জটিলতার কারণেই মশলার দাম বেড়ে গেছে। তবে নিয়মিত বাজার তদারকি হলে এত দাম বাড়তো না বলেও মনে করেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, এলাচের দাম টন প্রতি যেখানে ১২ থেকে ১৩ হাজার ডলার ছিল, তা বেড়ে এখন ৩০ হাজার ডলার হয়েছে। এলাচের দাম সে কারণে বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সহসভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, জেলা পরিষদ মনিটরিং সেল যেসব আছে তারা যদি বাজার মনিটরিং জোরদার করে তাহলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

জানুয়ারি থেকে গত পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে লবঙ্গ-এলাচ-জিরা-গোলমরিচ আমদানি হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টন। যেখানে পুরো গত বছর আমদানির পরিমাণ ছিল এক লাখ ৮২ হাজার টন।

এদিকে হিলি প্রতিনিধি জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেড়েছে মসলার আমদানি। তাপরও বাজারে মসলা জাতীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি। বাজারে জিরাসহ মসলা জাতীয় সব পণ্যের দামই বেড়ে গেছে।

পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময়। এতে হিলি বাজারে প্রতিটা মসলার দোকানেই বেড়েছে বেচাবিক্রি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মসলার দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে ঈদের আগেই হঠাৎ মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

তাদের দাবি, কোরবানির বাকি এখনো প্রায় তিন সপ্তাহ। এর মধ্যেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে ফেলেছেন, যা নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ক্রেতাদের।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, আমদানিকারকরা দাম বাড়ানোয় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে মসলা। ফলে তাদেরকেও তুলনামূলক বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে এসব পণ্য।

স্থানীয় এক মসলা বিক্রেতা বলেন, হিলি বাজারে যেসব মসলা বিক্রি হচ্ছে, তার অধিকাংশই ভারত থেকে আমদানি করা। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিনই জিরাসহ অন্যান্য মসলা আমদানি হচ্ছে। আগে প্রতিদিন দুই-তিন ট্রাক মসলা আমদানি হলেও কোরবানি উপলক্ষে এখন হচ্ছে ৮ থেকে ১০ ট্রাক।


আইএমএফ ঋণের তৃতীয় কিস্তি জুনে পাওয়ার সম্ভাবনা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের তৃতীয় কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই কিস্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে এলে দেশের ক্রমশ কমতে থাকা রিজার্ভ নিয়ে উদ্বেগ খানিকটা কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ঋণের তৃতীয় কিস্তির প্রস্তাবটি আগামী ২৪ বা ২৫ জুন অনুমোদনের জন্য আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড সভায় তোলা হবে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদান করবে আইএমএফ।

গত রোববার আইএমএফ নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণমূর্তি ভেঙ্কারা সুব্রামানিয়ানের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও একই তথ্য জানিয়েছিলেন। সে দিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে ডলারের প্রবাহ বাড়ানো যায়। এখানে অনেক নেগোসিয়েশন আছে। আশা করছি এ সমস্যার আমরা সমাধান করতে পারব। আমরা কাজ করছি। আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, আপনারা সঠিক পথে আছেন। আপনারা যে কাজ করছেন সমস্যা সমাধানে সেটাতে আমাদের সমর্থন আছে।’

গত বছরের জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য চার দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার ঋণের অনুমোদন দেয়। দুই কিস্তিতে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পাওয়া গেছে। তৃতীয় কিস্তি দেওয়ার বিষয়ে ক্রিস পাপাজর্জিওর নেতৃত্বে আইএমএফ দল গত মাসে ঋণ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যালোচনা শেষ করে। এর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কর্মী-পর্যায়ে চুক্তি করে সংস্থাটি।

আইএমএফের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে রিজার্ভ সংক্রান্ত শর্ত ছাড়া বাংলাদেশ বাকি শর্তগুলো পূরণ করেছে।

গত ডিসেম্বরে দেশের নিট রিজার্ভ ১৭ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার রাখার কথা ছিল। কিন্তু এটি এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমেছে। এর ফলে আইএমএফকে রিজার্ভ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনতে হয়েছে। সরকারও সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেছে। এর মধ্যে আছে মুদ্রা বিনিময় হারের পুনর্বিন্যাস, ক্রলিং পেগ গ্রহণ ও সুদের হার উদারীকরণ।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে উচ্চ আমদানি বিল পরিশোধের কারণে রিজার্ভ অনেক কমে গেলে বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে ঋণ চায়। সে সময় টাকার দাম অনেক কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এটি স্বল্প আয়ের মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেয়।

আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল বলছে, বাংলাদেশের রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টের ৪১ বিলিয়ন ডলার থেকে এখন ১৮ দশমিক চার বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।


দেশে পরিবেশবান্ধব কারখানা বেড়ে এখন ২১৮

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৪ ১২:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের আরও একটি কারখানা পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে। স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর উত্তরা কাচকুরায় অবস্থিত কেসি জ্যাকেট ওয়্যার। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফলে দেশে পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২১৮-তে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) পরিবেশবান্ধব সনদ পাওয়ার ৯টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ নম্বরের মধ্যে কোনো কারখানা ৮০-এর বেশি পেলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ পেলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ দেওয়া হয়।

কেসি জ্যাকেট ওয়্যার প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। কারখানাটি ইউএসজিবিসি থেকে ১১০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ৮৪ নম্বর।

বিজিএমইএ তথ্যানুযায়ী, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বর্তমানে লিড সনদ পাওয়া পরিবেশবান্ধব কারখানা বেড়ে হয়েছে ২১৮। তার মধ্যে ৮৪টি লিড প্লাটিনাম সনদধারী। এ ছাড়া ১২০টি গোল্ড, ১০টি সিলভার ও ৪টি কারখানা সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০ পরিবেশবান্ধব কারখানার ৯টি বাংলাদেশে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি লাভ করেছে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর এসএম সোর্সিং। ১১০ নম্বরের মধ্যে কারখানাটি ১০৬ পেয়েছে। দেশের অন্য শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলো হচ্ছে ময়মনসিংহের গ্রিন টেক্সটাইল, গাজীপুরের নিট এশিয়া ও ইন্টিগ্রা ড্রেসেস, নারায়ণগঞ্জের রেমি হোল্ডিংস ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস, গাজীপুরের লিডা টেক্সটাইল অ্যান্ড ডাইং ও লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মানিকগঞ্জের তারাসিমা অ্যাপারেলস।

এ ছাড়া বিশ্বের ১০০টি পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার মধ্যে ৫৬টি অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি কারখানা বাংলাদেশে। দিন যতই যাচ্ছে দেশে গ্রিন ফ্যাক্টরি বা পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা ততই বাড়ছে। পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে ২০১২ সালে দেশে পরিবেশবান্ধব কারখানার যাত্রা শুরু হয়।


banner close