শনিবার, ২ মে ২০২৬
১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

যুদ্ধ থেমে গেলে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে

মোহাম্মদ আলী খোকন
আপডেটেড
১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৯:০৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৫৭

বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় আর চীন প্রথম, গত দশক পর্যন্ত এমনই ছিল প্রচলিত তুলনা। তবে এ বছর অন্তত ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধিতে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। আর এতে পোশাক রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি বস্ত্রশিল্প মালিকদেরও বড় অবদান রয়েছে বলে মনে করেন বস্ত্রশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। যুদ্ধ থেমে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আশার কথা শুনিয়েছেন মোহাম্মদ আলী খোকন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

বস্ত্রশিল্প খাতের অবস্থা এখন কেমন? দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কতটা অবদান রাখছে এই খাত?
আমরা বস্ত্র খাতের ব্যাকওয়ার্ড শিল্পের (পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প) সবচেয়ে বড় সংগঠন। আমাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে রপ্তানিতে আমাদের জোগান ছিল ৩৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বস্ত্রের যে জোগান, সেটি আমরাই দিয়ে থাকি। আমরা বছরে দেশে সাত বিলিয়ন মিটার কাপড় জোগান দিই। যার অনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে আমাদের বছরের টার্নওভার প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলার। আমাদের যে বিনিয়োগ ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা, এটি ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট। এর সঙ্গে যদি আমরা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বিনিয়োগ যোগ করি, তাহলে মোট বিনিয়োগ হবে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে আমাদের এই খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। তাই সামগ্রিক বিচারে আমাদের বস্ত্র খাতের অবদানকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

সবচেয়ে বড় কথা যেটি, সেটি হচ্ছে আমাদের এই ব্যাকওয়ার্ড শিল্প না থাকলে আজকে পোশাকশিল্পের অবদান কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। এই যে গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে, তাতে কিন্তু আমাদেরও বড় অবদান আছে। আমরা তুলা আনি, সেখান থেকে সুতা বানাই, সুতা থেকে কাপড়, কাপড় থেকে ডাইং ফিনিশিং করছি। সেখানে প্রিন্টিং হচ্ছে, চেক হচ্ছে, ডেনিম হচ্ছে, টুইল হচ্ছে, গ্যাবার্ডিন হচ্ছে, নিট ফ্যাব্রিক হচ্ছে নিট খাতকে ৯০ শতাংশ জোগানদাতা আমরা। ওভেন খাতে আমাদের জোগান হচ্ছে রপ্তানির ৪০ শতাংশ। আর ডেনিমের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ জোগানদাতা আমরা। বাংলাদেশে জ্বালানির বড় গ্রাহক আমরা। ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা ব্যবহার করছি। করোনাভাইরাসের সময় আমরা বিপদে পড়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ উদ্যোগে আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম। সেই সময়ের উদ্যোগের কারণে পরবর্তী সময়ে আমরা ভালো করতে পেরেছি। আসলে এই শিল্পটি ভালোর দিকে ছিল। নতুন বিনিয়োগ আসছিল; কর্মসংস্থান বাড়ছিল।

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। কিছুদিন সংবাদ সম্মেলন করে বস্ত্র খাতের সংকটের কথা বলেছিলেন। এখন কেমন চলছে?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে যখন যুদ্ধ লাগল। গত মার্চ থেকে আমাদের অবস্থা খারাপ হতে থাকল। নামতে নামতে গত অক্টোবর আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেল; এখন যে ভালো সেটি বলব না। গত নভেম্বরে পোশাক রপ্তানি থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি যে আয় হয়েছে, সেটি অবশ্যই ভালো অর্জন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই যে অর্জন হয়েছে তা হচ্ছে আগে আমাদের অনেকগুলো অর্ডার ছিল, সেটির কারণে হয়েছে। সামনে আমাদের অর্ডারগুলো আছে, কিন্তু খুব স্লো (ধীর) ডেলিভারি। সেগুলোর মধ্যে ক্রেতাদের সে রকম চাপ নেই যে মালটি দিতে হবে। অন্য সময় আমাদের ওপর চাপ থাকত যে মাল দিতে হবে। এমন অবস্থা মাঝে মাঝে হতো যে প্রাইজ যেটিই হোক, আমাকে মাল দিতে হবে।

সারা বিশ্বে এখন মন্দার ভাব। সেটির প্রভাব কিন্তু আমাদের দিকে আসছে। কিন্তু একটি কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে আমরা ভালো আছি; অনেক বড় বড় দেশের চেয়ে ভালো আছি। এই তো আমি ইউরোপের কয়েকটি দেশ ঘুরে এলাম, নিজ চোখে দেখে এলাম, তাদের তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি। বাংলাদেশে আমরা যতটা খারাপ করি, তার তুলনায় প্রচার-প্রচারণা বেশি। যেটি ইউরোপে হয় না। ইউরোপে অনেকের ঘরে খাওয়া নেই, কিন্তু আপনি এটির খবর দেখবেন না। কিন্তু বাংলাদেশে যদি ৯০টি ভালো সেবা পাওয়া যায়, আর ১০টি খারাপ সেবা পাওয়া যায়। আমরা ১০টির খবর পাই। আর ৯০টির খবর পাওয়া যায় না। আমি ৫টি কিস্তি আগে দিয়েছি এই খবর হয় না। কিন্তু বিসমিল্লাহ গ্রুপ টাকা নিয়ে গিয়েছে সেই খবর হয়। আমি গণমাধ্যমের সবাইকে বিনীত অনুরোধ করব যে আপনারা দেশকে নিয়ে পজিটিভ নিউজ করেন। বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে; আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সমালোচনার পাশাপাশি দেশের ভালো খবরও প্রচার করুন দয়া করে।

একটি কথা আমি বারবার বলে থাকি, কোনো দলের রক্ষণভাগ যত শক্তিশালী, তাকে গোল দেয়া তত কঠিন। আমাদের পোশাকশিল্পের রক্ষণভাগ শক্তিশালী, অর্থাৎ আমরা বস্ত্র খাত হলাম পোশাকশিল্পের রক্ষণভাগ। আমরা শক্তিশালী বলেই পোশাক খাতের অনেক অর্জন হচ্ছে। গ্যাস ও বিদুৎ-সংকটের কারণে আমরা সরকারকে বলেছিলাম যে দরকার হলে আমরা একটু টাকা বাড়িয়ে দিই, আপনারা আমাদের বিদ্যুৎ দেন। আমরা বলেছিলাম আমরা যদি ১ লাখ ডলারের জ্বালানি পাই, তাহলে কিন্তু আমরা ২৪ লাখ ডলার আর্ন করতে পারি। এই পরিসংখ্যান যখন আমরা তুলে ধরেছিলাম; বলেছিলাম যে আমরা সরকারকে সহায়তা করতে চাই। আমরা যদি একসঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করি, তাহলে কিন্তু সংকট কাটিয় ওঠা যায়। আমরা যদি সংকটের সময় দোষারোপ করি, তাহলে কিন্তু জাতি সংকট থেকে উদ্ধার হতে পারব না।

এখন কি গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কেটেছে? আগের চেয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি?
উন্নতি হয়েছে ঠিক; কিন্তু সংকট কিন্তু পুরোপুরি কাটেনি। আমরা এটি বুঝি যে সরকার ইচ্ছে করে ব্যয় সংকোচন করেনি। এ ক্ষেত্রে সবাই মিলে সরকারকে সহায়তা করা উচিত বলে আমি মনে করি। বিশ্বের সব দেশ সংকটকে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার কারণে কিন্তু সংকট কাটিয়ে উঠেছে। জাতীয় সংকটে সব দল এক হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশের সংকটটিকে বিশ্বের দরবারে আরও বড় করে তুলে ধরা হচ্ছে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ফায়দার জন্য। দেশকে কিন্তু আমরা ছোট করছি। আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বলব, দেশকে ছোট করে কোনো লাভ নেই। সমস্যা থাকবে, তার সমাধান থাকবে। জ্বালানির সমস্যা সারা বিশ্বের সমস্যা। সুতরাং আমরা মনে করি, সবাই মিলে কাজ করলে এই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব। আগে আমাদের কোনো জিনিস আনতে যদি ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হতো, এখন ১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। আমাদের টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। বাংলাদেশে যে উন্নয়নকাজ হয়েছে, গত ১০ বছরে এগুলোকে আপনি ফেলে দেবেন কীভাবে।

এখন একজন রিকশাওয়ালাও রিজার্ভ (বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা মজুত) নিয়ে কথা বলে। এটি আমার কাছে খুব খারাপ লাগে। আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত। রিজার্ভ নিয়ে চিন্তা করার জন্য রাষ্ট্রের অনেক লোকজন আছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে বলে আমি মনে করি। তখন বিশ্ব অর্থনীতির বাজার কিন্তু বিশেষভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। এই বাজারটিকে ধরার প্রস্তুতি এখন আমরা নিচ্ছি। আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতি ঠান্ডা হয়ে এলে অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলে তখন দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। এখন বিশ্ব অর্থনীতির যে খারাপ অবস্থা, সেটি একসময় সহনীয় হয়ে যাবে। আর সহনীয় হয়ে গেলে আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সবাই মিলে সেই প্রস্তুতিই নিতে হবে। যুদ্ধ থেমে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে আমার বিশ্বাস।

দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে কি আপনারা উদ্বিগ্ন?
আমি যখন ব্যবসায় আসি ’৮৭ সালে, তখন উত্তাল আন্দোলন এরশাদবিরোধী। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ বুকে-পিঠে লিখে শহীদ হলেন নূর হোসেন। ’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, এর পরও দেশে আন্দোলন হয়েছে- এগুলো দেখতে দেখতে আমরা ব্যবসায়ীরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই বাধাবিপত্তি-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়েই আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যবস্যা করছি। উৎপাদন করছি, কর্মসংস্থান করছি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

৩৫ বছরের ব্যবসায়ী হিসেবে আমি মনে করি, এ ধরনের সংকট মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের থাকা উচিত। প্রত্যেক জিনিসের সিজন থাকে। পিঠা উৎসব শীতকালে হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো একটি ফেস্টিভ ব্যাপার। এতদিন কিছু ছিল না, এখন দেখা যাচ্ছে সমানতালে দুটো দলই করছে। দুই দলেরই প্রচুর লোকজন হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এটিকে এনজয় করছে ফেস্টিভ হিসেবে। সুতরাং আমি আতঙ্কিত নই। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট নতুন কিছু নয়। এর চেয়ে খারাপ সময় আমরা দেখেছি। সেই তুলনায় বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো আছে। বাংলাদেশে অর্থনীতি বলেন, অর্থনীতির সাইজ বলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এখন ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। আমাদের অবস্থান ৪১তম। আমরা যদি ধরে নিই আগামী পাঁচ বছরে আমাদের অর্থনীতির সাইজ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে।

এখন ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। আজ থেকে ২০ বছর আগে আমাদের অর্থনীতি কত ছিল। কয়েক মিলিয়ন ডলারের ছিল। অর্থনীতি আস্তে আস্তে ট্রিলিয়ন ডলারের দিতে এগোচ্ছে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলো নিয়ে অনেক লেখা হচ্ছে। কিন্তু এই বেসরকারি ব্যাংকগুলোর যে অবদান আছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে, বাংলাদেশের শিল্পে, আমাদের বস্ত্র সেক্টরে যে বিনিয়োগ আছে তার বেশির ভাগ টাকা বেসরকারি ব্যাংক থেকে আসছে। সুতরাং দু-একটি ব্যাংকের খারাপ দিক নিয়ে আপনি সারা ব্যাংকিং খাতের ওপর ঢালাও কথা বলতে পারেন না। সংকট থাকবে; এর মোকাবিলা থাকবে। এই মুহূর্তে আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বস্ত্র খাত কতটা অবদান রাখছে?
অর্থনীতিতে আমাদের অবদান যদি হিসাব করেন, এটাকে কোনোভাবে খাটো করে দেখা যায় না। বাংলাদেশের ৫২ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে সরাসরি ১ কোটি ১০ লাখ লোক কাজ করে এখানে। ৫২ বিলিয়ন ডলার অর্থনীতি, এটা হলো রপ্তানি, এতে স্থানীয়ভাবে আমাদের সেক্টরের ৮ বিলিয়ন ডলার, অন্যান্য সেক্টর মিলিয়ে ডোমেস্টিক প্রোডাক্টকে ধরলে আরও ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১৩ বিলিয়ন ডলার হবে। সব মিলিয়ে ৬৫ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলার আমাদের ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট। আমাদের টোটাল ইকোনমিতে আমাদের টোটাল ইন্ডাস্ট্রির অবদান হলো ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ। এটা ২০২২ সালের তথ্য হিসাব করে আমি বললাম। তাহলে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মধ্যে যদি ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ অবদান হয়, তাহলে ভেবে দেখেন কত বড় অবদান আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রির।

আমাদের কৃষির অবদান ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সার্ভিস সেক্টর থেকে ৫১ শতাংশ পাচ্ছি। শিল্প থেকে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ অবদান আসছে তার মধ্যে ৮৪ শতাংশ টেক্সটাইল থেকে আসছে। আমরা কাজ করছি, সরকারও সহায়তা করছে। আগামীতে প্রতিযোগিতামূলক বাজার হবে। করোনা শেষ হয়ে গেছে। এখন চিন্তা করার সময়ে হয়েছে যে, কোন বাজারটিকে আমরা আগে দখলে নেব।

বস্ত্র খাতে নতুন বিনিয়োগ কেমন আসছে? কর্মসংস্থান কেমন বাড়ছে?
আমাদের সেক্টরে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ এসেছে। এগুলোর কোনোটাই বন্ধ হয়নি। আরও হওয়ার কথা ছিল, যুদ্ধের কারণে স্থগিত আছে। আমি বলব, ব্যাকওয়ার্ড শিল্পে আমাদের যে অবস্থানটা আছে, বর্তমানে আমাদের যে টেকনোলজি, ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশনারি মেশিনারিজ আমাদের আছে। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, পৃথিবীর এমন কোনো টেকনোলজি নেই যে আমাদের নেই। আমরা প্রস্তুত। বলব যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ, কোনোটাতে ৭০ ও কোনোটাতে ৪৫ শতাংশ প্রস্তুত। আপনারা বলতে পারেন ৪৫ শতাংশ কেন ৭০ শতাংশ হলো না।

আমাদের জ্বালানি সেক্টরে যেটা হলো কি, আপনি জানেন যে ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কানেকশনটা খুবই মন্থর গতিতে যাচ্ছে, যেটা গ্যাসের যতটুকু চাহিদা সেই তুলনায় আমাদের কূপগুলো খনন হয়নি। আমাদের নিজস্ব যে গ্যাস বা সম্পদ সেটা ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং যার কারণে আমাদের ওভেন শিল্পগুলোতে প্রচুর গ্যাসের দরকার হয়। এত দিন যদি আমাদের সেই পরিমাণ ইউটিলিটি থাকত, তাহলে হয়তো সেটা হয়ে যেত। যেহেতু এটা প্রাকৃতিক সম্পদ, এই সম্পদের একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে, মেয়াদ থাকে, তারপর আস্তে আস্তে নিম্নমুখী হতে থাকে। সুতরাং যেটা ২৭০০ এমএমসি গ্যাস উঠত চার-পাঁচ বছর আগে, সেটা ২৩০০ এমএমসিতে নেমে এসেছে। এটাকে পূরণ করার জন্য আমরা এলএনজি কিনছি। আমরা লং টার্মে ৫০০ এমএমসিএফটি কিনছি প্রতিদিন। আমাদের শর্ট টার্মে সেখান ২০০ আমরা কিনছি। কখনো আসছে, কখনো আসতে পারছে না। যুদ্ধের কারণে বিগত দুই-তিন মাসে আসতে পারছে না। প্রাইস অনেকটা হাই হয়ে গেছে। এসব কারণে আমাদের ওভেন শিল্পগুলো আমরা সেভাবে আগাতে পারিনি। কিন্তু আমাদের যে ইয়ার্ন বলি, ইয়ার্নে আমরা ৯০ শতাংশ সফল, ম্যান-মেড ফাইবারে আরও ৫ শতাংশ এগিয়ে যাব। ২০২৩ সালে সম্ভবত আমরা ৯৫ শতাংশ অর্জন করব।

ডেনিমে আমরা প্রায় পুরোটাই সফল হয়েছি। ওভেন-নিটে তো আমাদের পুরো সাপ্লাই ঠিক আছে। আমরা আগামীতে চেষ্টা করব, আমরা দেখছি সরকার অনেক চেষ্টা করছে যে, নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে বের করা যায় কিনা। আসলে কি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি সাসস্টেইনেবল (টেকসই) হওয়া সম্ভব নয়।

আমাদের নিজস্ব যে গ্যাসগুলো আছে, আগামী পাঁচ বছরে যদি আমাদের পাইপলাইনে যুক্ত হয়, আমি জানি সরকার কাজ করছে, বিভিন্ন জায়গায় কূপ খুঁজছে, সংস্কার করছে, ভোলায় দেখে আসলাম প্রতিদিন ১ থেকে ১০০ অতিরিক্ত গ্যাস থাকে সেটা জাতীয় গ্রিডে যোগ করার জন্য চেষ্টা করছে। সেটাকে লিক্যুইড ফর্মে আনার জন্য পাইপলাইনে। এভাবে দেখা গেছে, সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন আরেকটা কূপ পাওয়া গেছে। আমরা যদি নিজস্ব রিসোর্সগুলো ব্যবহার করতে পারি, আবার যদি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালু হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার প্ল্যান্ট যদি কমে আসে, সেই বিদ্যুৎটা যদি শিল্পে সাপ্লাই দেয়া যায়, তাহলে আমি মনে করি যে অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আর বর্তমানে অর্থনীতিতে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ যে শিল্পের অবদান তা ৪০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। আমরা যদি গ্যাসকে রিঅ্যারেঞ্জমেন্ট করতে পারি, আমরা যদি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে পারি এবং এটা যদি শিল্পে ব্যবহার করতে পারি, অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

আমদানি কমছে। এটা একটা স্বস্তির খবর। তবে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি বেশ কমে গেছে। এতে কি দেশে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না?

এখাতে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ক্যাপিটাল মেশিনারি কিন্তু গ্রোসারি জিনিস নয় যে প্রতিদিন আমদানি করা হয়। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে দেখা যায়, দুই বছরে একবার আনতে হয়। আপগ্রেশনের কারণে বা অন্য কারণে আমদানি করতে হয়। ক্যাপিটাল মেশিনারি (মূলধনি যন্ত্রপাতি) আমদানি কমে গেছে এটা আশঙ্কার কিছু নেই। শিল্পের কাঁচামাল (র-ম্যাটেরিয়াল) আমদানি কমে গেলে আশঙ্কার কারণ আছে। ক্যাপিটাল মেশিনারি না এলে উৎপাদন হবে না, র-ম্যাটেরিয়াল আসবে না, টাকাও দরকার নাই। কিন্তু আমার মেশিন আছে, কিন্তু র-ম্যাটারিয়ালের কারণে মেশিন বন্ধ আছে এটা আশঙ্কার বিষয়। কিন্তু মেশিনারি আমদানির হ্রাসে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।

সহায়ক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য আপনার প্রত্যাশা কী?
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা ব্যবসায়ীরা জড়াতে চাই না। বিরোধী দল হোক বা সরকারি দল হোক, দেশকে নিয়ে প্রপাগান্ডা (গুজব) ছড়ানো থেকে প্রথমে আমাদের বিরত থাকতে হবে। পৃথিবীর কোনো জাতি এটা করে না। দেশের অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে, এর সুফল কিন্তু আমরা নাগরিক হিসেবে সবাই পাব।

জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব যাদের জন্য আজকে মুক্ত স্বদেশ তাদের লাল সালাম। দেশটা স্বাধীন না হলে আমরা কয়টা বাঙালি শিল্পের মালিক হতাম। সুতরাং আমি বলব, জাতি হিসেবে ’৭১ সালে একত্রিতভাবে, সম্মিলিত শক্তি না হলে আমরা কিন্তু পাকিস্তানকে পরাজিত করতে পারতাম না। সুতরাং প্রত্যেকটা সংকটে আমাদের এক হতে হবে। শুধু ব্যক্তিস্বার্থে কাজ-ক্ষমতা দেখলে হবে না। ’৭১ সালে যেমন জাতীয় ঐক্য হয়েছিল। আমি মনে করি অর্থনীতি সংকটে ঐক্য হওয়া উচিত। প্রপাগান্ডা ছড়ানো ঠিক নয়।

এ দেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। যে দেশ নিজের টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু বানাতে পারে, বিভিন্ন ধরনের টানেল করতে পারে- সেই জাতিকে কখনো আপনি খারাপ বলতে পারেন না। আমি বলছি, ১০টা ব্যাংকের ক্লায়েন্ট খারাপ করছে, সেটা যদি ৩০টা টিভি চ্যানেল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচার করে, তাহলে ৯০টা ক্লায়েন্ট যে ভালো করছে তাদের আমরা কেউ চিনি না। আমরা খারাপকে চিনি, ভালোকে চিনি না। আমি মনে করি, আমাদের ঐক্য থাকতে হবে। জাতীয় অর্থনীতি ও দেশকে বাঁচাতে হবে। দেশটা আমার, আপনার দেশ। দেশর সুনাম নষ্ট করা যাবে না। জাতি হিসেবে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।


এপ্রিলের ২২ দিনে এলো ২৪১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ব্যাপক ইতিবাচক গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মাসের প্রথম ২২ দিনে দেশে ২৪১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকার সমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, "এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার।" পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমান মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কোটি ১৯ লাখ ডলার করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২ হাজার ৮৬২ কোটি ৬০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এর আগে মার্চ মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় আসার মাধ্যমে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসেও যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বিগত মাসগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। উল্লেখ্য যে, বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের নজির। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার আগমন দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং ডলারের বাজার স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


পাইপলাইনে ভারত থেকে তৃতীয় দফায় এলো আরো ৭ হাজার টন ডিজেল

আপডেটেড ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৫১
বাণিজ্য ডেস্ক

ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি মাসের তৃতীয় চালানে আরও সাত হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের টার্মিনালে এই জ্বালানি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, গত ২০ এপ্রিল নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাম্পিং শুরু হওয়ার প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর এই ডিজেল গন্তব্যে এসে পৌঁছায়। উল্লেখ্য, এর আগে চলতি মাসের ১১ ও ১৯ এপ্রিল আরও দুটি পৃথক চালানে মোট ১৩ হাজার টন জ্বালানি এসেছিল। সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ৩৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানে ভারত থেকে ২৫ হাজার টন জ্বালানি আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বছরজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এই ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগে রেল ওয়াগনে জ্বালানি পরিবহনের দীর্ঘ সময় ও জটিলতা অনেকাংশে কমেছে। গত ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই আমদানি কার্যক্রমের চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ বছর ভারত থেকে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। বিপিসির তথ্যমতে, এই পাইপলাইন ব্যবহার করে বছরে ১০ লাখ টন পর্যন্ত তেল আমদানি করা সম্ভব, যা কৃষি ও পরিবহন খাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলো পার্বতীপুর ডিপো থেকে এই ডিজেল সংগ্রহ করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।


টিসিবির জন্য ১৯৭ কোটি টাকা ব্যায়ে তেল-ডাল কিনবে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশের টিসিবি কার্ডধারী নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মাঝে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম তেল ও ২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি অনুমোদন লাভ করে। এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য সংগ্রহে সরকারের কোষাগার থেকে ব্যয় হবে মোট ১৯৬ কোটি ৯৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩২ টাকা। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে আমেরিকার পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে ১৮১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ৯৩২ টাকা ব্যয়ে পাম তেল কেনা হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঢাকার গুলশানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইজ সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২ হাজার টন মসুর ডাল সংগ্রহের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তবে এদিনের সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বেশ কয়েকটি প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়নি। এর মধ্যে বাপেক্স কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘৩টি অনুসন্ধান কুকূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১) খনন’ প্রকল্পের আওতায় দুটি কূপ খননের প্রস্তাবটি আলোচনার বাইরে ছিল। একইভাবে ‘সিলেট-১২ নম্বর কূপ খনন (তেল কূপ)’ এবং স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তাবগুলোও বৈঠকে উত্থাপন করা হয়নি। এছাড়া নেসকো ও বাপবিবোর বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত একাধিক প্যাকেজ এবং সিরাজগঞ্জ ও ভেড়ামারা কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুনর্নির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফ নির্ধারণের প্রস্তাবগুলোও এদিনের সভায় উপস্থাপন করা হয়নি বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের এই বড় মজুত সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


বাংলাদেশ-ইতালি বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উদ্যোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জুলাই মাসে ইতালি থেকে একটি বিশেষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও যৌথ বিজনেস প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলাসান্দ্রোর এক সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই বিষয়গুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা উল্লেখ করে বলেন, “ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য খাতেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী।”

সাক্ষাৎকালে বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের সুদীর্ঘ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, “বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ঐতিহাসিকভাবে দৃঢ়। ইতালি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” মন্ত্রী ইতালীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে ইতালির বিনিয়োগ বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফার্নিচার, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বন্ধ জুটমিল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে। দেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।”

বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং পোশাক শিল্পের বাইরেও চামড়া ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম তৈরির বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হন। এই সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহিম খানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যেরই দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনায় তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এর বহুমুখী প্রভাব কেবল জ্বালানি তেলের দামের ওপর সীমাবদ্ধ নেই। বরং পোশাক, খেলনা ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মতো হাজারো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর কাঁচামালের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ভোক্তা পর্যায়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি পণ্য তৈরিতে ব্যবহূত পেট্রোকেমিক্যাল মূলত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে সংগৃহীত হয়। কম্পিউটারের কিবোর্ড থেকে শুরু করে লিপস্টিক, চুইংগাম, জুতা এমনকি মানুষের দাঁতের নকল পাটিও তৈরিতে পেট্রোলিয়ামজাত উপাদানের বিশেষ প্রয়োজন পড়ে।

খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যালেনি ব্র্যান্ডস-এর প্রধান রিকার্ডো ভেনেগাস জানান, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তাদের পলিয়েস্টার ও এক্রাইলিকের মতো কাঁচামাল সংগ্রহের ব্যয় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “খেলনার দাম যে তেলের দামের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে, তা আগে কে ভেবেছিল?” পরিস্থিতি এমন উদ্বেগজনক থাকলে ২০২৭ সালের শুরুতেই সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু অর্থনীতিবিদ গার্নট ওয়াগনারের মতে, বিশ্বের মোট তেলের ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভোক্তা পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ইথিলিন ও প্রোপিলিনের মতো উপাদানগুলো প্লাস্টিক ও সিন্থেটিক ফাইবার তৈরির মূল ভিত্তি।

পোশাক ও জুতা শিল্পেও এই সংকটের প্রভাব অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুসারে, যুদ্ধের আগে পলিয়েস্টার টেক্সটাইল প্রতি কেজি ৯০ সেন্টে পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা ১ ডলার ৩৩ সেন্টে পৌঁছেছে। এর ফলে প্রতিটি পোশাক তৈরিতে অন্তত ১৫ সেন্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ গুণতে হচ্ছে। এফডিআরএ-এর বিশ্লেষণ মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে এক জোড়া জুতার দাম ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। একইভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জেন্টেল-এর সিইও ডেভিড নাভাজিও জানান, আঠাজাতীয় পণ্যের কাঁচামালের দাম ২০ শতাংশ বাড়ায় তারা পণ্যের দাম ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “অতীতে আমি পরিবহন খরচ কমতে দেখেছি, কিন্তু কাঁচামালের দাম কমতে কখনও দেখিনি।”

শিল্প সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের ওপরে অবস্থান করলে সরবরাহ চেইনের এই চাপ আরও প্রকট হবে। ইতিমধ্যে রিনসেরু-এর মতো পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ব্যয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের প্রতিটি সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এই অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না ব্যবসায়ীরা। তেলের দামের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এমন অনেক সাধারণ পণ্যের দামও এখন পরোক্ষভাবে পেট্রোকেমিক্যালের কারণে আকাশচুম্বী হওয়ার পথে।


মার্কিন অবরোধেও ইরানি তেল রফতানি অব্যাহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের মধ্যেও পারস্য উপসাগর থেকে ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল রফতানির তথ্য পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন খাত বিশ্লেষণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ জারির পরবর্তী সপ্তাহেই এই রফতানি সম্পন্ন হয়েছে।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা জানায়, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরোপের পর ১৩ এপ্রিল থেকে গত সোমবার পর্যন্ত সময়ে তারা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারগুলোর ৩৪টি যাতায়াত শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ১৯টি জাহাজ পারস্য উপসাগর ছেড়ে গেছে এবং ১৫টি জাহাজ সেখানে প্রবেশ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-কে (এপি) পাঠানো এক ইমেইলে জানিয়েছে, উপসাগর ত্যাগ করা জাহাজগুলোর মধ্যে ছয়টি ইরানি অপরিশোধিত তেলে পূর্ণ ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ছয়টি জাহাজে মোট প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল তেল বহন করা হচ্ছিল।

তবে এই তেলের চালান শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সূত্র: এপি


পুঁজিবাজারে মিশ্র প্রবণতা, সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলেও সূচক ছিল ইতিবাচক। ডিএসইতে দিনের শুরুতে চাঙ্গাভাব থাকলেও আধা ঘণ্টার ব্যবধানে বিক্রেতাদের চাপে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন ঘটে। তবে লেনদেনের শেষভাগে বড় মূলধনি কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচক সামান্য বেড়ে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মাত্র ০.০০৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। দিনশেষে ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়লেও ১৯৯টির দর কমেছে এবং ৫৮টির দাম স্থিতিশীল ছিল। বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় ১৭১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা কমে ৮৮৪ কোটি ৬২ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম ও ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।

অন্যদিকে, সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৪টির দাম বেড়েছে এবং ১০৩টির দাম কমেছে। সিএসইতে ২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা গত দিনের তুলনায় প্রায় ৪ কোটি টাকা বেশি। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হলেও বাছাই করা কিছু বড় কোম্পানির ভালো পারফরম্যান্সের কারণে সূচক শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানে থাকতে সক্ষম হয়েছে।


পোশাক খাতের সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তা জোরদারের আহ্বান বিজিএমইএ’র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের চলমান বহুমুখী প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কার্যকর নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধির জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এই দাবি উত্থাপন করে। বৈঠকে বিআরপিডি সার্কুলার-০৭/২০২৫-এর আওতায় আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি রুগ্ন শিল্পগুলোর পুনর্বাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। বিজিএমইএ-র পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খেলাপি হিসাবের সময়সীমা নভেম্বর ২০২৫-এর পরিবর্তে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলে অনেক সংকটাপন্ন কারখানা নীতি সহায়তার আওতায় আসার সুযোগ পাবে। এতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তাগুলো অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক সময়মতো কার্যকর না করায় যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো সুযোগবঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হয়।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার সরকারি উদ্যোগকে সফল করতে আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও সভায় তুলে ধরা হয়। বিজিএমইএ মনে করে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক তথ্য যাচাই ও নির্ভুল তালিকা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন, যা কার্যকর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে। ডেপুটি গভর্নর বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গভীর মনোযোগের সাথে শোনেন এবং উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।


যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের বৃহত্তম কনডম উৎপাদনকারী মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান কারেক্স সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, এই সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলে তারা পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে মূল্যবৃদ্ধির এই হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূলত জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় এই শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তার ওপর পড়ার উপক্রম হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী গোহ মিয়া কিয়াত এক সাক্ষাৎকারে জানান, জাহাজ চলাচলে অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রতা এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে পরিবেশক পর্যায়ে পণ্যের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যা বাজারে কৃত্রিম চাহিদার সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে খুবই নাজুক, দাম বাড়ছে। এ মুহূর্তে আমাদের আর কোনো উপায় নেই। খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিতেই হচ্ছে।” কারেক্স প্রতি বছর ৫০০ কোটির বেশি কনডম তৈরি করে এবং তারা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) ও জাতিসংঘের বৈশ্বিক সহায়তা কর্মসূচিগুলোতে প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে।

সংঘাত শুরুর পর থেকে কনডম তৈরির প্রধান উপকরণ সিন্থেটিক রাবার ও নাইট্রাইল থেকে শুরু করে প্যাকেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও সিলিকন লুব্রিকেন্টের দাম হু হু করে বাড়ছে। কারেক্সের প্রধান নির্বাহী জানান, বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় পণ্য পাঠাতে আগের তুলনায় দ্বিগুণ সময় লাগছে; যেখানে আগে এক মাস সময় লাগত, এখন সেখানে দুই মাস সময় ব্যয় হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, “অনেক কনডম এখন জাহাজেই পড়ে আছে, এখনো গন্তব্যে পৌঁছায়নি। কিন্তু সেগুলোর চাহিদা খুব বেশি।” এর ফলে অনেক উন্নয়নশীল দেশে প্রয়োজনীয় মজুত শেষ হয়ে আসছে, যা সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন বাড়িয়ে এই ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করছে, তবে আন্তর্জাতিক পরিবহণ ও কাঁচামালের ঊর্ধ্বমুখী দামই এখন সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণ ও রুপার দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় স্বর্ণ ও রুপার মূল্য নতুন করে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা হ্রাস পেয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমার কারণ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, “স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।”

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দর ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় ক্রয় করা যাবে। ইতিপূর্বে গত ১৫ এপ্রিল স্বর্ণের মূল্য সর্বশেষ বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের ভরি ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এ নিয়ে মোট ৫৬ বার স্বর্ণের বাজারমূল্য পরিবর্তন করা হলো, যার মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৪ বার কমানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে ৯৩ বার স্বর্ণের দর সমন্বয় করা হয়েছিল।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও উল্লেখযোগ্য মূল্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমে এখন ৫ হাজার ৭১৫ টাকায় নেমেছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৩৫ বার রুপার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ১৯ বার দাম বৃদ্ধি ও ১৬ বার হ্রাসের ঘটনা ঘটেছে। গত ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।


ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনে নিম্নমুখী প্রবণতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি বছরের জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে দেশ ও বিদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশিদের বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় কমেছে ৮৬ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে বিদেশে ৪৬৩ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে আসে ৩৭৭ কোটি টাকায়। বিদেশে ব্যয়ের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, এরপরই রয়েছে থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের অবস্থান।

একইভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রবণতাও নিম্নমুখী। জানুয়ারিতে তারা ৩৪৪ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় করলেও ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ২৬৬ কোটি ৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রেও ব্যয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা।

দেশের অভ্যন্তরেও কার্ডের ব্যবহার হ্রাসের চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে অভ্যন্তরীণ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩,৭২০ কোটি টাকা, যা ফেব্রুয়ারিতে ২৯৮ কোটি টাকা কমে ৩,৪২২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে সামগ্রিক ক্রেডিট কার্ড লেনদেনে একটি স্পষ্ট নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।


বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্ধিত করার ঘোষণার পর বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা কিছুটা লাঘব হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫৪ দশমিক ৮৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জুন মাসে সরবরাহযোগ্য স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দর ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৭৭২ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পূর্বেই ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে একতরফা এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইরান বা ইসরায়েল আদৌ চূড়ান্তভাবে সম্মত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাজার বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড মেয়ার মন্তব্য করেন, “যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ফলে বাজারে সংকট কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়, তাহলে ডলারের মান বাড়বে, তেল ও সুদের হার বাড়বে এবং স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হবে।”

এই ঘোষণার প্রভাবে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেছে, যার ফলে মার্কিন ডলারের মান কিছুটা কমেছে এবং তেলের দামও নিম্নমুখী হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের চাহিদাকে প্রভাবিত করে। ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এক বার্তায় জানিয়েছে যে, স্বর্ণের বর্তমান এই দরবৃদ্ধি বেশ নাজুক এবং স্বল্পমেয়াদে তা হ্রাসের ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এই মূল্যবান ধাতু পুনরায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী প্রধান হিসেবে মনোনীত কেভিন ওয়ার্শ জানিয়েছেন যে, সুদের হার কমানোর বিষয়ে তিনি ট্রাম্পকে কোনো আগাম প্রতিশ্রুতি দেননি এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেবেন। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও তেজি ভাব দেখা গেছে; যেখানে রুপার দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৭.৯৭ ডলার হয়েছে এবং প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরই আগামী দিনগুলোতে এই বাজারগুলোর গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে।


সৌদি থেকে আসছে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি ট্যাংকার বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

জাহাজটি আগামী ৪ বা ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত জানিয়েছেন, ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা করা ট্যাংকারটি লোহিত সাগর উপকূল ঘেঁষে আসছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলেছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই চালানটি দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

অন্যদিকে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজ ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে এখনো হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। ইরানের বিশেষ অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি এখনও বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার ৯২ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে, যা মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার টনের বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ—৬৩ শতাংশের বেশি। পাশাপাশি কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ, গৃহস্থালি ও অন্যান্য খাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়েছে।

জ্বালানির ধরন বিবেচনায় ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল, পেট্রল ও অকটেন।


banner close