সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২

নাটকে এখন বাজেট নয়, সংকট ভালো গল্পের

আপডেটেড
২০ এপ্রিল, ২০২৪ ১৯:৪২
সৈয়দ ইকবাল
প্রকাশিত
সৈয়দ ইকবাল
প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২৪ ১৯:৩৪

প্রতি বছর ঈদ উৎসবে দেশের বিভিন্ন টিভি ও ইউটিউব চ্যানেলসহ প্রায় তিন শ থেকে চার শ নাটক নির্মিত হয়ে থাকে। কখনও কখনও এই সংখ্যা কমবেশি হয়ে থাকে। এখনকার সময়ে টিভি চ্যানেল থেকে ইউটিউবেই নাটক নির্মাণের সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে কিছু ইউটিউব চ্যানেলের নাটক টিভিতে প্রচার হওয়ার পর সেগুলো আবার ইউটিউবেও প্রচার হচ্ছে। আবার বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল আছে যারা শুধু নিজস্ব ইউটিউবের জন্যই নাটক নির্মাণ করে থাকে। অন্যদিকে বর্তমানে প্রায় সব টিভি চ্যানেলের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল থাকায় তাদের নিজেদের নির্মিত নাটক টিভিতে প্রচারের পর আবার সেগুলো নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। ফলে এখন একটি নাটক বানানোর লগ্নিকৃত টাকা দুই মাধ্যম থেকেই প্রযোজক বা লগ্নিকারক ফেরত পাচ্ছেন। যার কারণে নাটকের বাজেট এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। একটা সময় বলা হতো বাজেট নেই, নাটকে বাজেট কম- এটা এখনকার সময়ে নাটকের বাজেটের দিকে তাকালে বলা যাবে না।

বিশেষ করে ইউটিউবের আধিপত্য হওয়ার পর থেকেই গত কয়েক বছর ধরে একেকটি নাটক অনেক টাকায় বানানো হচ্ছে। একটা সময় নাটকের বাজেট নিয়ে নানান ধরনের কথা শোনা যেত। পরিচালক-অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে নাটকের কলাকুশলীরা সব সময় বলত- নাটকের বাজেট কমে গেছে, এত কম বাজেটে নাটক বানানো সম্ভব নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। ইউটিউবের কল্যাণে এখন নাটকের সেই বাজেট কয়েকগুণ বেড়েছে। অথচ ইউটিউবের আগে নাটকের বাজেট অনেক কমে গিয়েছিল। ২০১৬-২০১৭ সালেও নাটক এখনকার মতো এত বাজেটে নির্মিত হতো না। ২০১৮ সাল থেকে আস্তে আস্তে নাটকের বাজেট বাড়তে থাকে। নরমালি এখন একটি নাটক বানাতে চার-পাঁচ-ছয় লাখ টাকা নির্মাতারা হরহামেশাই পাচ্ছেন। এর থেকেও কম বাজেটে ছোট কিছু কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। ওইদিকের হিসেবে না গিয়ে যেগুলো আমাদের মেইনস্ট্রিমের নাটক বলে চিহ্নিত তা নিয়েই কথা হচ্ছে।

আর্টিস্ট ভেদে এখন একেকটি নাটকের বাজেট দশ-বারো-পনেরো লাখ পর্যন্ত পাচ্ছেন নির্মাতারা। এবার ঈদে তো আঠারো-বিশ লাখ এমনকি পঁচিশ লাখে নাটক নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এই যে এত এত বাজেট পাচ্ছেন নির্মাতারা, নাটকের গল্পে কতটা ভেরিয়েশন পাচ্ছেন দর্শক? সেই একই অভিনয়শিল্পীদের একই প্রেম কাহিনি, কমেডি গল্প, চিল্লাচিল্লি কিংবা প্রেম হওয়ার শুরুতে ঝগড়া, তারপর প্রেম, পরিবার মানে না- টাইপের গল্প অথবা প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, প্রেমিক চাকরি পায় না, পরিবার মানে না ইত্যাদি ইত্যাদি গল্প। অনেকটা নতুন বোতলে পুরোনো মদের মতো গল্প। আর এখন যোগ হয়েছে নাটকে গানের ব্যবহারসহ ঢাকার বাইরে শুটিং- দামি ক্যামেরা এবং বিজ্ঞাপনের মতো ইউনিট-ক্রু নিয়ে মুভ করা। বাজেট বাড়ছে, খরচ করতে সমস্যা নেই। কিন্তু যেই গল্পের জন্য নাটক- সেই গল্পের জন্য কতটা খরচ করে নাটক নির্মিত হচ্ছে? মানে ভালো গল্পের এবং ‘খরচওয়ালা’ গল্পের পেছনে কি সেই বাজেটটা যাচ্ছে?

বিশিষ্ট সাংবাদিক, নাট্যকার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা রেজানুর রহমান বলেন, ‘নাটকে ভালো গল্পের সংকট রয়েছে এটা যেমন সত্যি, তেমনি অনেকের কাছে ভালো গল্প থাকার পরও সে বাজেটের জন্য তা বানাতে পারছেন না- এটাও সত্যি। আসলে এখন কোনো লেভেল কোম্পানি (ইউটিউব), টিভি কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রথমেই নির্মাতার কাছে জিজ্ঞাসা করেন- ‘যে গল্প নিয়ে কাজ করবেন সেটির ভিউ হবে নাকি’- এই কথায় নির্মাতা নতুন কোনো কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করতে চান না। সেই একই ফর‌ম্যাটে কাজ করতে হচ্ছে তাকে। এখন দেখা গেছে কেউ একজন একটি গল্প নিয়ে কাজ করায় সেটির ভিউ হয়েছে- সবাই সেটা বানাতে ছুটে। মানে হলো ভিউয়ের পেছনে দৌঁড়াচ্ছি। ভিউ-ই যখন এখন একমাত্র বাণিজ্য তখন তো গল্প ফ্যাক্ট না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্মাতাদের স্বাধীনতা দিতে হবে। নির্মাতারা স্বাধীনতা না পেলে কাজ করা মুশকিল। অমুকটার মতো, তমুককে নিয়ে জুটি করে নাটক বানানোর জন্য প্রেসার না দিয়ে তাকে স্বাধীনতা দিতে হবে। এখন গল্পসহ ‘পাঁচজন- পাঁচজন’ জুটিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলে দেয়া হচ্ছে নাটক বানানোর জন্য। সেই ‘পাঁচজন-পাঁচজন’ জুটির দশজন এতো ব্যস্ত যে, তাদেরকে মেনটেইন করতে গেলে নাটকের দিকে নজর দেয়া যাচ্ছে না। তারা ব্যস্ত থাকতেই পারেন। কিন্তু জুটি বেঁধে দিলেই বিপদ। নির্মাতাকে বলতে হবে- স্বাধীনভাবে গল্পে যে ধরনের আর্টিস্ট যায়, তাদেরকে নিয়েই বানান। তাহলে নতুন গল্প এবং নতুন আর্টিস্টও ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হবে। বর্তমানে যারা কম্প্রমাইজ করে কাজ করছেন যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ফলে মনে রাখার মতো নাটক হচ্ছে না। এখন আমাদের লাখ লাখ টাকা বাজেট যাচ্ছে, শত শত নাটকও হচ্ছে। কিন্তু অর্জনের জায়গাটা ফাঁকাই থেকে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কথা বলছে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ নাটকে লোকেশন (প্রয়োজন না হলেও), লাইট-ক্যামেরাসহ এগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বাজেট ব্যবহার, মেইন আর্টিস্টদের বেশি রেম্যুনারেশন (আর্টিস্টরা নিজেরাই নিজেদের পারিশ্রমিক ঠিক করছেন), শুটিং ইউনিটে বিলাসবহুল খরচ করায় বেশির ভাগ নাটকের মূল বাজেট সেখানেই চলে যাচ্ছে। ফলে নাটকে এত এত বাজেট পাওয়ার পরও যেই ভিন্নধর্মী গল্পটির পেছনে বাজেটটা খরচ করার কথা- সেখানে কি খরচ হচ্ছে না। সেই একই গল্প, একই মেকিং এবং কমেডি টাইপ নাটকগুলোই নির্মিত হচ্ছে। এখন তো একটি নাটকের গল্পের সঙ্গে আরেকটি নাটকের নামেরও বেশ মিল পাওয়া যায়। যেমন- ‘তুই আমারই’, ‘তোর জন্য’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘তোমাতে হারাই’, ‘তোমায় ভালোবেসে’- এবারের ঈদের এই নাটকগুলোর নাম প্রায় কাছাকাছি। এরকম ইউটিউবে খুঁজলে আরও অনেক নাটক পাওয়া যাবে যেগুলোর নাম প্রায় কাছাকাছি। আরও রয়েছে ইউটিউবে ‘কাটতি টাইপ’ নাটকের নাম। যা আসলে শিল্পমানের নাটকের নাম নয়। ফলে দর্শক আসলে একটি নাটক দেখে তার মনের মধ্যে সেটি ‘দাগ’ কাটাতে পারছেন না। আর এখনকার নাটকগুলোতে প্রায় একই অভিনয়শিল্পী (অমুকের সঙ্গে তমুক, তমুকের সঙ্গে অমুক- ধরাবান্দা জুটি) হওয়ায় দর্শক আরও বিভ্রান্ত হচ্ছেন যে সে আসলে কোন নাটকটা দেখেছেন। ফলে মনের মধ্যে অনুভূতি সৃষ্টি করা এবং খুব ভাবনায় ভাবানোর মতো নাটক এখন খুব একটা দেখা যায় না।

নাটকে বাজেট বাড়লেও গল্পের অভাব কিংবা শিল্পমান সম্পন্ন নাটক কম নির্মিত হওয়ার পেছনে কারণ কি? এই বিষয়ে কথা বলেন নির্মাতা রাকেশ বসু। তিনি বলেন, ‘বাংলা নাটকের এখন সব থেকে বড় সমস্যা হলো- গল্প সংকট। একটা সময় বাজেট নিয়ে সবাই কম-বেশি কথা বলতেন। কিন্তু এখন বাজেট সমস্যা থেকে গল্প সংকটটাই অনেক বড় ইস্যু একটা ভালো কাজের জন্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীরা যে ধরনের কাজ করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এবং ভিউ কাউন্ট হয় সেই একই ধরনের গল্প নিয়েই কাজ করেন। সে ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হলো ভিউ হওয়া একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। ফলে অভিনয়শিল্পীরা জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিতে গিয়ে ভালো গল্পের কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বারবার।’

আগে একটি নাটকের স্ক্রিপ্ট ফাইনাল হতো। টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রধানসহ ক্রিয়েটিভ টিম মিলে গল্পটি ফাইনাল হওয়ার পর কোন অভিনয়শিল্পী কোন চরিত্রে অভিনয় করবে সেটা ভেবেচিন্তে কাস্টিং ফাইনাল করা হতো। এরমধ্যে স্ক্রিপ্ট নিয়ে কয়েকদফায় রাইটার ও পরিচালকসহ মিটিং হতো। তারপর ফাইনালি নাটকটি নির্মাণে যাওয়া হতো। নাটক নির্মাণের পর তা দেখে প্রিভিউ কমিটির মতামত থাকত এবং সেখানে পাস হলেই তা ফাইনালি সম্প্রচারে যেত।

আর এখন অনেকটা ঝালমুড়ি বানানোর মতোই নাটক বানানো হয়। মানে অমুক-তমুকের ভিউ আছে- আগে তাদের ডেট ‘লক’ করা হোক। তারপর তারা যেই গল্প পছন্দ করবেন কিংবা অনেক সময় অভিনয়শিল্পীও গল্প দিচ্ছেন সেটা নিয়ে- ডে নাইটের কিছু সিক্যুয়েন্স বানিয়ে (শুটিংয়ের সুবিধার্থে) শুটিংয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে। স্লো-মো শট, গানের কিছু শট, নায়ক-নায়িকার দেখাদেখি-চোখাচোখি আর বিয়ে দিবে না বাবা-মা, ছেলে বেকার, চাকরি হয় না, পরিবার মেয়েকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয় আর চিল্লাচিল্লি ভরা কমেডি গল্প। বেশির ভাগ নাটকই এখন এভাবে নির্মিত হচ্ছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি এখন সেট বানানোতেও ভালো খরচ করে নাটক নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে।

ইউটিউবের সঠিক নিয়মনীতি না থাকা, নাটকে প্রিভিউ সিস্টেম না থাকায় এবং ‘ভিউই’ একমাত্র বাণিজ্য হওয়ায় দিনকে দিন মানহীন নাটক বানানোর প্রতিযোগিতা হচ্ছে এবং তা নিম্নমানের তলানিতে যাচ্ছে বলে অনেকে অভিমত দেন। এর পাশাপাশি একটা গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথাও তারা উল্লেখ করেন তা হলো- একটা সময় যারা নাটক নির্মাণ ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তারা টেলিভিশন ও থিয়েটারে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। আর এখন শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যেই (বেশির ভাগ) ইউটিউব চ্যানেল করে নাটকের নামে ‘কনটেন্ট’ বানানো হয়।

অথচ গল্পনির্ভর, জীবনবোধের নাটক, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের গল্প, আমাদের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কত কত গল্প। প্রতিদিন সংবাদের পাতায় কত গল্প প্রকাশ পায়, অথচ আমাদের দেশের নাটক নির্মাতারা এসব গল্প দেখেন না। কারণ এসব গল্পে ভিউ পাওয়া যায় না। তাই ইউটিউব মালিক তথা প্রযোজকরা ওই ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করতে বা নির্মাণে আগ্রহ পান না।

ইউটিউবে ভিউ হচ্ছে সস্তা-চটুল, কমেডি তথা সুরসুরি প্রেম মার্কা গল্পের। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা বাজেট দিয়ে যেসব ‘নাটক’ বানানো হচ্ছে তা আসলে কতটা সমাজে প্রভাব ফেলছে? কি শিখছেন তরুণ প্রজন্ম? অবশ্য তরুণ প্রজন্ম নাকি যা বানানো হচ্ছে- তাই দেখতে চায় বলে তাদের অভিমত। এত এত বাজেটের টাকা আদতে ‘শ্রাদ্ধ’ করাই হচ্ছে বলে প্রকৃত নাট্যপ্রেমী তথা সত্যিকারের সংস্কৃতপ্রেমীরা অভিমত দেন। তাদের মতে, বেশি বাজেট এলে বেশির ভাগ নাটককে ঝকঝকে তকতকে বানানো আর ‘ফুটেজ’ ছাড়া আর কিছুই না বলেও অনেকে অভিমত দেন। তাই ভালো বাজেট দিয়ে ভালো গল্প এবং ভিন্নধর্মী চরিত্রসহ জীবনবোধের নাটক বানানোর তাগিদ দেন তারা।

বর্তমানে নাটক নির্মাণের একটা চিত্র তুলে ধরলে এখনকার পরিস্থিতিটা আরও পরিষ্কার বোঝা যাবে। এখন নাটকের কয়েকজন মেইন নায়ক তারা তাদের নিজেদের প্রযোজনা হাউস থেকে নাটক বানিয়ে তা নিজেই বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল এবং টিভি চ্যানেলে তাদের চাহিদামতো সরবরাহ করছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক নাট্য নির্মাতা বলেন, ‘এভাবে আসলে কাজ করে অভ্যস্ত না। এই ভিউ বাণিজ্য এসে একজন নির্মাতার হাত-পা বন্দি হয়ে গেছে। আমরা আসলে বিক্রি হয়ে গেছি। এখন তো চাহিদাসম্পন্ন নায়করা তাদের প্রযোজনা হাউস থেকে নাটক তৈরি করেন। তারা নিজেদের বানানো ডিরেক্টর টিম, প্রোডাকশন টিমসহ ডিওপি এবং কো-আর্টিস্ট- সবই তারা ঠিক করেন। ডিরেক্টরকে দিয়ে শুধু ডিরেকশন (আসলে নামে ডিরেকশন) দেওয়ান। কোথায় এডিটিং হবে, কোথায় মিউজিক হবে এবং কীভাবে কাজটা কোথায় কত টাকায় বিক্রি হবে- সবই তিনি (নায়করা) ঠিক করেন। এভাবে চললে তো আসলে নাটকের ‘মান’ বলে কিছু থাকবেই না। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।’

ভালো নাটক বানানোর কিছু ব্যতিক্রম চিত্রও রয়েছে। কিছু যে ভালো গল্পের নাটক নির্মিত হচ্ছে না তা বলা যাবে না। যারা সত্যিকারের ভালো গল্পের খোঁজ করেন এবং জীবনবোধের গল্পসহ ভিন্নরকম কিছু বা আইডলজির জায়গা থেকে কাজ করছেন তারা ঠিকই শত প্রতিকূলতায় কিছু নাটক বানাচ্ছেন। আমাদের দেশে ওটিটিতে ওয়েবসিরিজ ও ওয়েবফিল্মে ভিন্নধর্মী গল্পের কাজ হওয়ায় সেগুলো দর্শকদের কাছে সাড়া ফেলেছে। ফলে তার কিছুটা ছোঁয়া নাটকেও লেগেছে বলা যায়। এবারের ঈদে ভিন্নধর্মী গল্পের তেমনকিছু নাটক হচ্ছে- ‘স্মৃতিসারক’, ‘বিদায় বসন্তে মধ্যাহ্ন রোদে’, ‘নিখোঁজ’, ‘বোঝা’, ‘শেষমেষ’, ‘সম্ভবত প্রেম’, ‘কিছু কথা বাকি’, ‘দুনিয়া’, ‘অভাব’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘অভিশাপ’, ‘অভাব, ‘জাদুর শহর’, ‘গর্ভ’, ‘কলিজার টুকরা’, ‘স্বপ্নটা সামান্যই’সহ আরও কিছু নাটক।

এখন প্রায় একই মুখ ঘুরেফিরে সব নাটকেই দেখতে হচ্ছে বলে সব নাটক একইরকম লাগার কথা দর্শকরা অভিমত দিয়েছেন। এক সময় নাটকে নিশো, মেহজাবীন, অপূর্ব, তানজিন তিশাকে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে দেখা যেত। এখনকার সময়ে অপূর্ব ও তানজিন তিশাকে নাটকে দেখা গেলেও নিশো-মেহজাবীনকে দেখা যায় না। নিশো চলচ্চিত্র ও ওটিটির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গত কয়েক ঈদ উৎসবে তাকে নাটকে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে মেহজাবীনও বর্তমানে ওটিটির কাজের সঙ্গে সম্প্রতি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন। তারপরও নাটকে মেহজাবীনের কাজের আগ্রহ রয়েছে; কিন্তু ভালো গল্পের অভাবে কাজ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। ‘সাবা’ ও ‘প্রিয় মালতী’ শিরোনামের দুটি ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন ভক্তদের মেহু। তার জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমা ঘোষণার অনুষ্ঠানে নাটকে অভিনয় কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি নাটকে একেবারেই কাজ করতে চাই না, বিষয়টা তেমন না। আমি আসলে ভালো গল্প পাই না। ভালো গল্প পেলে অভিনয় অবশ্যই করব। আমার কাছে যে স্ক্রিপ্টগুলো আসে সেগুলো পছন্দ হয় না। দর্শক আসলে ভিন্নতা চায়। আমি অনেক দিন পর সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলের ‘অনন্যা’ করেছি। কারণ এটার গল্পটা ভিন্ন। এটার জন্য আমি সাড়াও পেয়েছি বেশ। তাই আমি এরকম ভিন্ন ভিন্ন গল্পের কাজ করতে চাই। তেমন স্ক্রিপ্ট পেলে কাজ করব।’

ঈদে রাফাত মজুমদার রিংকুর পরিচালনায় ‘রূপান্তর’ নাটকটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার এবং তৃতীয় লিঙ্গের ইস্যুতে নাটকটিকে শেষমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা শ্রেণি ধর্মের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করে। ফলে কর্তৃপক্ষ নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে নাটক বানাতে গেলেও নানান সমস্যার কথা উল্লেখ করেন নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকু। তিনি বলেন, ‘আগের চেয়ে ভিন্ন ধরনের গল্পের নাটক বানানো হচ্ছে। তবে সেটা সংখ্যায় কম। এখন আলাদা টাইপের গল্পের নাটক বানাতে গেলেও নানান ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আমি নিজেও ‘রূপান্তর’ নিয়ে একপ্রকার জটিলতায় রয়েছি। তাই যারা ইউটিউবের মালিক এবং প্রযোজক তারা ভিন্ন টাইপের গল্পের নাটক বানাতে রিস্ক নেয় না। বাধ্য হয়েই গদবাঁধা গল্পের নাটক বানায়। নাচ-গান আর বিউটি লোকেশনসহ কাজগুলো হচ্ছে।’

নাট্যপ্রেমী-বিনোদনপ্রেমী তথা সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, নাটকের গল্পে সমাজের বাস্তবচিত্র থাকবে। কারণ ‘সমাজের দর্পণই হচ্ছে নাটক’। একটা সময় বিটিভিতে নাটক প্রচারের মাধ্যমে মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুমের সাজটা কেমন হবে- তা সেই নাটক থেকে শিখত মধ্যবিত্ত সমাজ। সময় বদলেছে, মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। সমাজের আমূল পরিবর্তনে নিজেদের ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’ যেন নাটকের মাধ্যমে প্রচার হয়ে তা আবার সমাজে প্রভাব ফেলুক- তা কারোরই কাম্য নয়। কারণ আজকে পর্দায় যা দেখানো হবে তাই দেখবেন দর্শক। সংস্কৃতিকর্মী তথা ক্রিয়েটিভরাই প্রকৃত ‘দর্শক’ তৈরি করেন। সারা পৃথিবীতেই রুচিহীন-সস্তা কনটেন্টেরই ‘ভিউ’ বেশি, এটাই স্বাভাবিক। এরমধ্যেও নিজেদের দর্শক নিজস্ব গল্প দিয়ে নিজেদেরই তৈরি করতে হবে- এমনটাই মনে করেন প্রকৃত সংস্কৃতিপ্রেমীরা।


বলিউড পরিচালক রোহিত শেঠির বাসভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ

আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০৮
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির মুম্বাইয়ের বাসভবন লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করেছে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা জুহুর একটি বহুতল ভবনে তাঁর ফ্ল্যাট লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় বলিউডের চলচ্চিত্র পাড়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

মুম্বাই পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরের দিকে দুর্বৃত্তরা জুহু এলাকার ওই ভবনের সামনে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে ভবনটির নিরাপত্তা রক্ষী ও বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভবনের প্রবেশপথ ও আশপাশের সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এছাড়া রোহিত শেঠির ফ্ল্যাটের ব্যালকনি এবং দেয়াল থেকে বুলেটের চিহ্ন ও ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে হামলার সময় জনপ্রিয় এই নির্মাতা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত, তা নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কুখ্যাত ‘বিষ্ণোই গ্যাং’-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহ করা হচ্ছে, কারণ অতীতেও এই গোষ্ঠীটি বলিউডের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে হুমকি ও হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে কোনো বার্তা পাঠায়নি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং রোহিত শেঠির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর বাসভবন ও কর্মস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বলিউড তারকাদের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা মুম্বাইয়ে নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে সুপারস্টার সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে একইভাবে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল, যার দায় স্বীকার করেছিল লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দল। এছাড়া শাহরুখ খানকেও একাধিকবার আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে জনপ্রিয় কমেডিয়ান কপিল শর্মার রেস্তোরাঁতেও নয় রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। একের পর এক এমন ঘটনায় মুম্বাইয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে সেলিব্রিটিদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।


বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে রানি মুখার্জির ক্রাইম থ্রিলার ‘মারদানি থ্রি’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের অন্যতম শক্তিমান অভিনেত্রী রানি মুখার্জি দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরে আবারও তাঁর অভিনয়ের জাদু দেখালেন। গত শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তাঁর জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি ‘মারদানি থ্রি’। ছবিটিতে আবারও তুখোড় পুলিশ অফিসার শিবানি শিবাজি রায়ের চরিত্রে হাজির হয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। মুক্তির প্রথম দুই দিনেই ভারতীয় বক্স অফিসে সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে বেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই দিনেই ভারতের বাজারে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি রুপি।

পরিচালক অভিরাজ মিনাওয়ালার এই ক্রাইম অ্যাকশন থ্রিলারটি মুক্তির প্রথম দিনে অর্থাৎ শুক্রবার ৪ কোটি রুপি আয় করে এক আশাব্যঞ্জক সূচনা করেছিল। তবে দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া এবং সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসার কারণে দ্বিতীয় দিনে সিনেমাটির আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। শনিবার ভারতের বক্স অফিসে এটি ৬ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছে, যা প্রথম দিনের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। বক্স অফিস বিশ্লেষক সংস্থা ‘স্যাকনিল্ক’-এর মতে, সিনেমার টানটান উত্তেজনাপূর্ণ সামাজিক প্রেক্ষাপটের গল্প এবং রানির বলিষ্ঠ অভিনয় দর্শকদের হলমুখী করতে সক্ষম হয়েছে।

ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক থেকে ‘মারদানি থ্রি’ এই ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের দুই সিনেমার রেকর্ডকেও ম্লান করে দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সিরিজের প্রথম ছবি ‘মারদানি’ মুক্তির প্রথম দিন সংগ্রহ করেছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ রুপি এবং দ্বিতীয় কিস্তি ‘মারদানি টু’ আয় করেছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ রুপি। সেই হিসেবে রানির এই নতুন ছবিটি ওপেনিং সংগ্রহের দিক থেকে সিরিজের সেরা মাইলফলক অর্জন করেছে। বর্তমান সময়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বাজারে একটি ক্রাইম থ্রিলার সিনেমার এমন শুরুকে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

বর্তমানে বক্স অফিসে সানি দেওল অভিনীত যুদ্ধভিত্তিক বিগ বাজেটের সিনেমা ‘বর্ডার টু’-এর প্রবল দাপট চলছে। মাত্র নয় দিনেই ২৫০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করা সেই মেগা প্রজেক্টের ভিড়েও নিজের জায়গা স্বতন্ত্রভাবে ধরে রাখতে পেরেছে ‘মারদানি থ্রি’। বড় বাজেটের কমার্শিয়াল সিনেমার মাঝেও একটি নারীপ্রধান সামাজিক গল্পের সিনেমা যেভাবে দর্শকদের নজর কেড়েছে, তা রানি মুখার্জির দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা ও অভিনয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থারই প্রতিফলন। আগামী সপ্তাহগুলোতে সিনেমাটির আয় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন হল মালিক ও পরিবেশকরা। মূলত অপরাধ জগতের অন্ধকার দিক উন্মোচনের গল্পটি দর্শকদের মাঝে এক ধরণের নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।


আসন্ন ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় শুভ-মিম জুটি, আসছে অ্যাকশন থ্রিলার ‘মালিক’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঢালিউডের জনপ্রিয় দুই তারকা আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম ফের বড় পর্দায় জুটি বাঁধতে চলেছেন। আগামী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দর্শকদের জন্য বিশেষ চমক হিসেবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সাইফ চন্দন পরিচালিত এই তারকাবহুল সিনেমা ‘মালিক’। মূলত মারকাটারি অ্যাকশন ও রোমাঞ্চকর গল্পের মিশেলে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে ইতোমধ্যে সিনেমাপাড়ায় ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এই দুই তারকাকে একসঙ্গে দেখার অপেক্ষায় থাকা ভক্তদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে ঈদের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

সিনেমাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পরিচালক সাইফ চন্দন জানিয়েছেন যে, ‘মালিক’-এর দৃশ্যধারণের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলচ্চিত্রটি সম্পাদনা বা পোস্ট প্রোডাকশনের টেবিলে রয়েছে। নির্মাতা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, শেষ মুহূর্তের কিছু কারিগরি কাজ বাদে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিনি আরও যোগ করেন, তারা ঈদে সিনেমাটি দর্শকদের সামনে আনার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। বড় ক্যানভাসে আরিফিন শুভর বিধ্বংসী অ্যাকশন এবং মিমের বলিষ্ঠ উপস্থিতি দর্শকদের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে বলে নির্মাতার প্রত্যাশা।

পরিচালক সাইফ চন্দনের জন্য ঈদের আবহে সিনেমা মুক্তি দেওয়াটা বেশ ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। ২০২৩ সালের রোজার ঈদে তাঁর পরিচালিত ‘লোকাল’ সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সেই সফলতার রেশ ধরেই এবার ‘মালিক’ নিয়ে বড় পরিসরে প্রেক্ষাগৃহে আসার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। মূলত বাণিজ্যিক ধারার গল্পের পাশাপাশি আধুনিক নির্মাণশৈলী দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন মেধাবী চিত্রনাট্যকার সিদ্দিক আহমেদ, যার লেখনী এই অ্যাকশন ড্রামায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাইফ চন্দনের কর্মজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০৮ সালে বরেণ্য কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের ছোটগল্প ‘জীবন যাপন’ অবলম্বনে নাটক নির্মাণের মাধ্যমে বিনোদন জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ছয় বছর ছোট পর্দায় নিয়মিত ও সফলভাবে কাজ করার পর ২০১৪ সাল থেকে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে পূর্ণ মনোযোগ দেন। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’, ‘আব্বাস’ এবং ‘দুনিয়া’। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে নির্মিত ‘মালিক’ সিনেমাটি ঢালিউডের অ্যাকশন জনরায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বর্তমানে সিনেমাটির ট্রেলার ও গান মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন সিনেমাপ্রেমীরা।


যমজ সন্তানের বাবা-মা হলেন রাম চরণ ও উপাসনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার রাম চরণ এবং তাঁর স্ত্রী উপাসনা কোনিদেলার ঘরে নতুন দুই অতিথির আগমন ঘটেছে। এবার তাঁরা যমজ সন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এই খুশির সংবাদটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন রাম চরণের বাবা, কিংবদন্তি অভিনেতা চিরঞ্জীবী। তিনি অত্যন্ত আবেগঘন এক বার্তায় জানান, তাঁদের পরিবারে এবার একসঙ্গে এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। বর্তমানে মা ও দুই নবজাতক—তিনজনই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সুসংবাদটি শেয়ার করে দাদু চিরঞ্জীবী তাঁর গভীর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, যমজ সন্তানের আগমনে তাঁদের পরিবারে এক অনাবিল সুখের মুহূর্ত তৈরি হয়েছে এবং এটি তাঁদের জন্য বিধাতার পক্ষ থেকে এক বিশেষ আশীর্বাদ। পোস্টটিতে চিরঞ্জীবী এবং তাঁর স্ত্রী সুরেখা—দুজনেরই নাম ছিল, যা দাদূ-দিদিমার পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও ভালোবাসাপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও সহকর্মীদের শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন এই তারকা দম্পতি।

রাম চরণ ও উপাসনার দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি বিশেষ মুহূর্তই সব সময় তাঁদের অনুরাগীদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে রূপ নেওয়া এই জুটি ২০১১ সালের ডিসেম্বরে বাগ্‌দান সম্পন্ন করেন এবং ২০১২ সালের জুনে হায়দরাবাদে এক রাজকীয় আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০২৩ সালের জুনে তাঁরা তাঁদের প্রথম কন্যাসন্তান ‘ক্লিন কারা’-কে পৃথিবীতে স্বাগত জানিয়েছিলেন। প্রথম সন্তানের জন্মের আড়াই বছরের মাথায় এবার যমজ সন্তানের আগমনে কোনিডেলা পরিবারে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য যে, যমজ সন্তানের আগমনের বিষয়ে একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছিলেন উপাসনা। গত ২০২৫ সালের দীপাবলির সময় নিজের ‘সীমান্থম’ বা গর্ভাবস্থার বিশেষ অনুষ্ঠানের ভিডিও শেয়ার করে তিনি ‘ডাবল সেলিব্রেশন’ ও ‘ডাবল ব্লেসিং’-এর কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেই থেকেই ভক্তদের মনে এক ধরণের কৌতূহল ছিল, যা আজ পূর্ণতা পেল। উপাসনা নিজে একজন সফল উদ্যোক্তা এবং অ্যাপোলো হাসপাতাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রতাপ সি রেড্ডির নাতনি। অন্যদিকে রাম চরণ বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সময় পার করছেন।

পেশাগত জীবনেও রাম চরণ বেশ সাফল্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি প্রখ্যাত পরিচালক শংকরের ‘গেম চেঞ্জার’ ছবির শুটিং শেষ করেছেন, যেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি। বর্তমানে তিনি তাঁর পরবর্তী মেগা প্রজেক্ট ‘পেড্ডি’-র জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। একদিকে ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা আর অন্যদিকে যমজ সন্তানের আগমনে রাম চরণের ব্যক্তিগত জীবন এখন পরিপূর্ণ। নবজাতকদের আগমনে কেবল তাঁর পরিবারই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনও এই আনন্দ উদ্‌যাপনে শরিক হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই নতুন অতিথির স্পর্শে রাম চরণের জীবন ও কর্মে নতুন অনুপ্রেরণা যোগ হবে।


‘হোম অ্যালোন’-‘বিটলজুস’খ্যাত অভিনেত্রী মারা গেছেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটেছে। বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের শৈশবের প্রিয় সিনেমা ‘হোম অ্যালোন’-খ্যাত কিংবদন্তি হলিউড অভিনেত্রী ক্যাথরিন ও’হারা আর নেই। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শক্তিমান শিল্পী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর এজেন্টের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই শোকাবহ সংবাদটি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, স্বল্প সময়ের অসুস্থতার পর তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, যা হলিউড ও বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

কানাডীয় বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী মূলত ১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কালজয়ী পারিবারিক কমেডি ‘হোম অ্যালোন’-এ কেভিন ম্যাককালিস্টারের মা অর্থাৎ কেট ম্যাককালিস্টারের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বড় পর্দায় বিপদে পড়া সন্তানের জন্য এক মায়ের ব্যাকুলতা তিনি এতই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে, আজও দর্শকদের হৃদয়ে তা অমলিন হয়ে আছে। কেবল ‘হোম অ্যালোন’ নয়, ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া টিম বার্টনের কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা ‘বিটলজুস’-এ তাঁর অসামান্য অভিনয় তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, তাঁর কমেডি টাইমিং এবং চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতা ছিল ঈর্ষণীয়।

ক্যাথরিন ও’হারা কেবল গত শতাব্দীর সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং বর্তমান প্রজন্মের কাছেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। জনপ্রিয় কমেডি সিরিজ ‘শিটস ক্রিক’-এ ‘মোইরা রোজ’ চরিত্রে তাঁর অবিশ্বাস্য অভিনয় তাঁকে এনে দিয়েছিল মর্যাদাপূর্ণ এমি পুরস্কার। ইউজিন লেভি ও ড্যান লেভির এই সিরিজে তাঁর নাটকীয় সংলাপ বলার ধরন এবং অদ্ভুত সব ফ্যাশন সেন্স ইন্টারনেটে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল, যা তাঁকে নতুন করে তরুণ দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—উভয় মাধ্যমেই সমান্তরালভাবে সাফল্য অর্জন করা খুব কম শিল্পীর মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের শুরুটা হয়েছিল টরন্টোর বিখ্যাত ‘সেকেন্ড সিটি ইম্প্রোভাইজেশন ট্রুপ’ এবং টেলিভিশন শো ‘এসসিটিভি’-র মাধ্যমে। সেখান থেকেই তাঁর প্রতিভার বিকাশ ঘটে এবং পরবর্তীতে তিনি বিশ্ব জয় করেন। ২০২৪ সালে পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন যে, ‘হোম অ্যালোন’-এর মতো একটি পারফেক্ট সিনেমার অংশ হতে পারা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় পাওয়া ছিল। এটি তাঁর জন্য কেবল একটি কাজ ছিল না, বরং আগামীর পথ তৈরির একটি শক্তিশালী মাধ্যম ছিল।

ক্যাথরিন ও’হারার মৃত্যুতে হলিউডের অনেক তারকা এবং সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তাঁকে একজন দয়ালু, সৃজনশীল এবং অনুপ্রেরণাদায়ী শিল্পী হিসেবে স্মরণ করছেন। কমেডি ও ড্রামা—উভয় ঘরানায় সমানভাবে পারদর্শী এই অভিনেত্রীর প্রয়াণে বিনোদন বিশ্বে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর সৃষ্টি ও অসামান্য সব চরিত্রগুলো আগামী বহু বছর দর্শকদের বিনোদিত করবে এবং সিনেমার ইতিহাসে তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। মূলত একটি যুগের অবসান ঘটল তাঁর চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩: শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘সাঁতাও’, অভিনয়ে বাজিমাত নিশো ও আইনুন পুতুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩’ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৮টি ক্যাটাগরিতে বিশেষ অবদানের জন্য মোট ৩০ জন শিল্পী ও কুশলীকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এই তালিকায় এবার নতুনদের জয়জয়কার যেমন দেখা গেছে, তেমনি কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বদেরও দেওয়া হয়েছে যথাযথ সম্মান।

এবারের আসরে চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘আজীবন সম্মাননা’ যৌথভাবে প্রদান করা হচ্ছে প্রয়াত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং বরেণ্য চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে কে এম হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন) প্রযোজিত জীবনধর্মী সিনেমা ‘সাঁতাও’। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই একজন দক্ষ নির্মাতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালকের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন খন্দকার সুমন।

অভিনয় শিল্পী শাখায় এবার বড় চমক দেখিয়েছেন আফরান নিশো। ছোট পর্দার জনপ্রিয় এই তারকা তাঁর অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’-এর মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠ অভিনেতার মুকুট নিজের করে নিয়েছেন। অন্যদিকে, ‘সাঁতাও’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আইনুন পুতুল। পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা পাচ্ছেন মনির আহমেদ শাকিল (সুড়ঙ্গ) এবং শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন নাজিয়া হক অর্ষা (ওরা সাতজন)। নেতিবাচক বা খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পাচ্ছেন আশীষ খন্দকার (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন) এবং শ্রেষ্ঠ কৌতুক চরিত্রে জয়ী হয়েছেন শক্তিমান অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম (সুড়ঙ্গ)।

সংগীত বিভাগে এবার ‘প্রিয়তমা’ ও ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার গানগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। ‘ও প্রিয়তমা’ গানের জন্য বালাম শ্রেষ্ঠ গায়ক এবং ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার জন্য অবন্তী দেব সিঁথি শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। জনপ্রিয় গান ‘ঈশ্বর’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে সোমেশ্বর অলি এবং শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে প্রিন্স মাহমুদ রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি পাচ্ছেন। এছাড়া শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে ইমন চৌধুরী (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন) নির্বাচিত হয়েছেন।

লেখনি ও কারিগরি শাখায় শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার হিসেবে ফারুক হোসেন (প্রিয়তমা), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিয়ামুল মুক্তা (রক্তজবা) এবং শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে যৌথভাবে রায়হান রাফী ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা (সুড়ঙ্গ) পুরস্কৃত হচ্ছেন। শিশুশিল্পী শাখায় শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছে মো. লিয়ন এবং একই সিনেমা ‘আম কাঁঠালের ছুটি’-র জন্য বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছেন আরিফ হাসান আনাইরা খান। প্রামাণ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ‘লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল’ এবং শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘মরিয়ম’ এই সম্মাননা অর্জন করেছে। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় মেধার এই মূল্যায়ন দেশের সৃজনশীল অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দুবাইয়ে ‘গ্লোবাল স্টাইল আইকন’ সম্মাননা পেলেন শাহরুখ খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দুবাইয়ের ঝলমলে সন্ধ্যায় ফ্যাশন ও আভিজাত্যের নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন বলিউড মেগা স্টার শাহরুখ খান। গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুবাই মলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘গ্লোবাল স্টাইল আইকন’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। দুবাই মল গ্লোবাল ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডস-এর প্রথম এই আসরেই প্রধান সম্মাননাটি জিতে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রভাবের আরও একটি নজির স্থাপন করলেন ৫৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

আরমানি হোটেল দুবাইয়ে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটি ছিল ‘দুবাই মল ফেস্টিভ্যাল অব ফ্যাশন’-এর সমাপনী দিনের প্রধান আকর্ষণ। দুই দিনব্যাপী চলা এই উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফ্যাশন ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা সমবেত হয়েছিলেন। ইমার প্রপার্টিজের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলাব্বার নিজে উপস্থিত থেকে শাহরুখ খানের হাতে এই বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। পুরস্কার প্রদানের সময় মঞ্চে এই দুই ব্যক্তিত্বের আন্তরিক আলিঙ্গন তাঁদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন হিসেবে দেখা গেছে।

পুরস্কার গ্রহণকালে বরাবরের মতোই বিনয়ী ও রসিক মেজাজে ধরা দেন বলিউড বাদশা। ফ্যাশন আইকন হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও নিজের সাদামাটা পছন্দের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি সত্যি বলতে ফ্যাশন সম্পর্কে খুব একটা জ্ঞান রাখি না। সচরাচর নীল জিন্স আর সাদা শার্ট পরেই আমি আমার দিন পার করি।” তাঁর এই রসিকতাপূর্ণ মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে অভিবাদন জানান। এ সময় তিনি কৌতুক করে আরও বলেন যে, পুরস্কারটি পাওয়ার পেছনে হয়তো মোহাম্মদ আলাব্বারের কিছুটা পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে।

মূল অনুষ্ঠানের আগের রাতে আয়োজিত একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজেও শাহরুখ খানের সরব উপস্থিতি ছিল। সেখানে তাঁকে অত্যন্ত স্টাইলিশ অথচ ঘরোয়া লুকে দেখা যায়। কালো টি-শার্ট ও ব্লেজারের সঙ্গে ডেনিম কার্গো প্যান্ট এবং মাথায় একটি ক্যাজুয়াল বিনি টুপি পরে তিনি উপস্থিতদের নজর কাড়েন। স্নিকার্স পায়ে তাঁর এই আধুনিক লুকটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, বয়সের গণ্ডি পেরিয়ে স্টাইলের ক্ষেত্রে তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পুরস্কার কেবল তাঁর পোশাকের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শাহরুখ খানের যে ব্যাপক সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরির ভূমিকা রয়েছে, এটি মূলত তারই স্বীকৃতি। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে শুরু করে পশ্চিমা স্যুট—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সাবলীল উপস্থিতি ভক্তদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মান পেলেও দুবাইয়ের এই নতুন স্বীকৃতি তাঁর বৈশ্বিক অবস্থানের মুকুটে আরও একটি সোনালী পালক যোগ করল। মূলত চলচ্চিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর এই জীবনশৈলী ও ব্যক্তিত্বই তাঁকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্টাইল আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘ধুরন্ধর’ ছবির সেই জনপ্রিয় র‍্যাপ গান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

গত ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে বক্স অফিসে জয়রথ থামছে না রণবীর সিং অভিনীত ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর। ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১,১০০ কোটি রুপির ব্যবসা করে সিনেমাটি একাধিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিশ্বমঞ্চে এক বিরল ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি ছিনিয়ে নিল এই সিনেমার অন্যতম আকর্ষণীয় সংগীত। অক্ষয় খান্নার অনবদ্য পারফরম্যান্সের সঙ্গে ব্যবহৃত ‘FA9LA’ (ফায়লা) শিরোনামের র‍্যাপ গানটি এবার জায়গা করে নিয়েছে ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে’। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বাহরাইনের জনপ্রিয় র‍্যাপার হুসাম অসীম, যিনি ‘ফ্লিপারাচি’ নামে পরিচিত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক উচ্চতায় আরোহণ করলেন।

গিনেস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় ব্যবহৃত এই র‍্যাপ গানটি একযোগে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিলবোর্ডে প্রদর্শিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছে। একই সঙ্গে এটি অ্যারাবিয়া চার্টের শীর্ষস্থানে অবস্থান করে এক অনন্য নজির স্থাপন করে। বিশেষ করে সিনেমার বালোচিস্তান এন্ট্রি সিকোয়েন্সে অক্ষয় খান্নার শক্তিশালী উপস্থিতি এবং এই গানের মিশেল দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করেছিল। গত কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আট থেকে আশি—সব বয়সী মানুষের মুখে মুখে ফিরছে এই আরবি র‍্যাপটি। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা ছাপিয়ে একটি ভিন্ন ভাষার গান উপমহাদেশে কীভাবে এমন বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংগীত বিশ্লেষকরাও।

এই বিশ্বরেকর্ডের খবর পেয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজের উচ্ছ্বাস ও আবেগ ভাগ করে নিয়েছেন শিল্পী ফ্লিপারাচি নিজেই। তিনি জানান, একটি ফটোশুটের মাঝেই তিনি এই ঐতিহাসিক খবরটি পান। অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ফ্লিপারাচি বলেন, “গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অর্জন করা আমার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে। যে ভাষা আমি জানি না, সেই হিন্দি ঘরানার একটি সিনেমায় আমার গান এতটা জনপ্রিয়তা পাবে তা কখনও ভাবিনি। গত দুই মাসে ‘FA9LA’ গানটি নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা আমাকে অভিভূত করেছে। এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।” একটি মাত্র গানের জন্য চারটি ভিন্ন চার্টের শীর্ষে অবস্থান করা নিজের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি নির্মাণের মুন্সিয়ানা এবং তারকাদের বলিষ্ঠ অভিনয়ের জন্য আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে অক্ষয় খান্নার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং রণবীর সিংয়ের নতুন অবতারের পাশে ফ্লিপারাচির এই র‍্যাপ গানটি বাড়তি প্রাণ সঞ্চার করেছে। আধুনিক ও ধ্রুপদী র‍্যাপের এই অভাবনীয় সংমিশ্রণ কেবল সিনেমার আবহকে শক্তিশালী করেনি, বরং আন্তর্জাতিক সংগীতের বাজারেও ভারতকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সিনেমার পুরো টিমের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজ করছে এবং ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দন বার্তায় ভসিয়ে দিচ্ছেন প্রিয় তারকাদের। মূলত সৃজনশীলতা আর আধুনিক নির্মাণশৈলীর কারণে ‘ধুরন্ধর’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং একটি বিশ্বজনীন অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।


১৩০০ কোটির ‘বারাণসী’র মুক্তির তারিখ জানালেন রাজামৌলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দক্ষিণ ভারতের কালজয়ী নির্মাতা এস এস রাজামৌলির পরবর্তী মেগা প্রজেক্ট ‘বারাণসী’ নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের কৌতূহল মিটিয়ে পরিচালক নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটির মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি শিহরণ জাগানিয়া পোস্টার শেয়ার করে রাজামৌলি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি। শিলায় খচিত পৃথিবীর বুকে বিশাল গ্রহাণু আছড়ে পড়ার দৃশ্য সংবলিত সেই পোস্টারটি প্রকাশের পরপরই চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ‘গ্লোবাল ট্রটার’ বা বিশ্বভ্রমণ ভিত্তিক এই অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলারটি নিয়ে নির্মাতাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল।

এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাজামৌলির নির্দেশনায় কাজ করতে যাচ্ছেন দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশ বাবু। তাঁর বিপরীতে মন্দাকিনী চরিত্রে দেখা যাবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে। সিনেমায় মহেশ বাবুর চরিত্রের নাম ‘রুদ্র’, যা এক বিশেষ অভিযানে বিশ্বজুড়ে পাড়ি জমাবে। অন্যদিকে, সিনেমার প্রধান খলনায়ক ‘কুম্ভ’ হিসেবে বড় পর্দায় হাজির হবেন মালয়ালম তারকা পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। তারকার সমাহার এবং রাজামৌলির ট্রেডমার্ক নির্মাণশৈলী মিলিয়ে সিনেমাটি কেবল ভারতে নয়, বরং বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটে একটি বড় ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রকাশ পাওয়া চরিত্রগুলোর লুক দর্শকদের প্রত্যাশাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাজেটের দিক থেকে ‘বারাণসী’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি রুপি বা ১৫ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই সিনেমাটি রাজামৌলির আগের দুই ব্লকবাস্টার ‘বাহুবলী টু’ এবং ‘আরআরআর’-এর বাজেটকেও ছাড়িয়ে গেছে। অত্যাধুনিক ভিএফএক্স এবং স্পেশাল ইফেক্টের ব্যবহারের মাধ্যমে এতে এক কাল্পনিক অথচ রোমাঞ্চকর জগৎ ফুটিয়ে তোলা হবে। সিনেমার গল্পের বুননে আধুনিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি হিন্দু পৌরাণিক নানা উপাদানের এক নিপুণ সংমিশ্রণ থাকবে বলে নির্মাতা ইঙ্গিত দিয়েছেন। মূলত এক অজানাকে জানার অভিযানে মহেশ বাবুর রুদ্র চরিত্রটি কীভাবে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাবে, তাই হবে এই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য।

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘বারাণসী’র টিজারটি নিয়ে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের এই টিজারে ৫১২ খ্রিস্টাব্দের বারাণসীর একটি প্রাচীন ও মহিমান্বিত দৃশ্য দিয়ে গল্পের শুরু হয়। এরপর একটি বিশাল গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানার দৃশ্য এবং পরবর্তীতে অ্যান্টার্কটিকা ও আফ্রিকার ঘন জঙ্গল প্রদর্শনের মাধ্যমে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি তুলে ধরা হয়। টিজারের শেষ পর্যায়ে দেখা যায় পৌরাণিক লঙ্কা নগরীর দৃশ্য, যেখানে ভগবান রাম এবং হনুমানের বানরবাহিনী রাবণের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মহাযুদ্ধে লিপ্ত। আধুনিক অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে প্রাচীন ইতিহাসের এই যোগসূত্র সিনেমাটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী বছরগুলোতে এর প্রতিটি আপডেটই যে বিনোদন দুনিয়ায় উত্তাপ ছড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


জীবনদর্শন ও পর্দার পেছনের সংগ্রাম নিয়ে নুসরাত ফারিয়ার খোলামেলা আলাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া সম্প্রতি রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ পডকাস্টের একটি বিশেষ পর্বে অতিথি হয়ে নিজের জীবনের নানা অজানা দিক ও দর্শনের কথা শেয়ার করেছেন। জৌলুসপূর্ণ তারকা জীবনের আড়ালে থাকা চড়াই-উতরাইয়ের গল্প শোনাতে গিয়ে তিনি জানান, জীবনের কঠিন সময়গুলোই তাঁকে প্রকৃত বন্ধু চিনতে শিখিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন সবারই থাকে। তবে আমার জীবনের খারাপ সময়গুলো আমাকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছে- কে আসলে আপন আর কে পর।’ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জীবন থেকে নেওয়া এসব অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা নিয়ে তিনি পডকাস্টের এই দীর্ঘ আড্ডায় সরব ছিলেন।

পডকাস্টের এই আয়োজনে ফারিয়া তাঁর নাম নিয়ে এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে জানান যে, নুসরাত জাহান ফারিয়া তাঁর পরিচিতি হলেও মা ভালোবেসে তাঁর ডাকনাম রেখেছিলেন ‘সেতু’ এবং ঘনিষ্ঠজনদের কাছে তিনি আজও এই নামেই পরিচিত। সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন যে, নিজেকে বিলীন করে কাউকে ভালোবাসার চেয়ে নিজের আত্মসম্মান ও ভালো থাকা নিশ্চিত করা বেশি জরুরি। সঙ্গীকে উপহার হিসেবে কেবল গোলাপ দেওয়ার চেয়ে প্রতিদিনের সম্মান প্রদর্শনই তাঁর কাছে মুখ্য এবং সেই দর্শনে তিনি আজও অবিচল রয়েছেন। প্রেম ও বিয়ে নিয়ে সমসাময়িক নানা ভাবনার পাশাপাশি যাপিত জীবনের কঠোর বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে তাঁর এই আলাপচারিতায়।

জেড আই ফয়সালের প্রযোজনায় ১০০ মিনিট ব্যাপ্তির ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-এর দ্বিতীয় মৌসুমের এই নবম পর্বটি আগামীকাল ৩১ জানুয়ারি, শনিবার রাত ৮টায় মাছরাঙা টেলিভিশন এবং রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএম-এ একযোগে সম্প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে। গ্ল্যামার জগতের বাইরে একজন ব্যক্তি হিসেবে নুসরাত ফারিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাঁর জীবনের গূঢ় অনুভুতিগুলোই মূলত এই অনুষ্ঠানের মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে। জীবনের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে আজ তিনি যেখানে পৌঁছেছেন, সেই লড়াইয়ের পেছনের সত্যগুলোই ভক্তদের জন্য উন্মোচন করেছেন এই চিত্রনায়িকা।


ট্রাম্পের কারণে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের আমেরিকা ত্যাগের পরিকল্পনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কাজের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অস্কার মনোনীত মার্কিন অভিনেত্রী ও নির্মাতা ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অফ লন্ডন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকায় স্বাধীনভাবে সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। নিজের অবস্থান ব্যক্ত করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি না। তবে আমি হাল ছেড়ে দিতে চাই না। আমি ইউরোপে সিনেমা বানাতে চাই এবং সেগুলো আমেরিকানদের দেখাতে চাই।’

ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের মতে, ট্রাম্পের শাসনামলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতা ভিন্ন রূপ নিচ্ছে যা চলচ্চিত্রের মতো সৃজনশীল মাধ্যমের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে নির্মিত সিনেমার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের বিষয়টি তাঁকে আতঙ্কিত করে তুলেছে; তাঁর মতে এটি সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করবে। এই প্রতিকূল পরিবেশের কারণেই তিনি তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘দ্য ক্রনোলজি অব ওয়াটার’-এর চিত্রধারণের জন্য লাটভিয়াকে বেছে নিয়েছেন এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, বর্তমান অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে এই সিনেমার কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

উল্লেখ্য যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের বিরোধ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে, যার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১২ সালে রবার্ট প্যাটিনসনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের এক মন্তব্যের জেরে। ক্রিস্টেন যদি শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ত্যাগ করেন, তবে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিবাদে দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া এলেন ডিজেনারেস, রোজি ও’ডোনেল কিংবা জেমস ক্যামেরনের মতো তারকাদের তালিকায় নতুন নাম হিসেবে যুক্ত হবেন। মূলত শিল্পচর্চার পথে রাজনৈতিক বাধার কথা উল্লেখ করেই তিনি ইউরোপে থিতু হওয়ার এই দৃঢ় ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন।


বলিউডে তিন দশক পূর্ণ করে ‘মর্দানি ৩’ চলচ্চিত্রে রানীর নতুন পদযাত্রা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডে অভিনয়ের দীর্ঘ তিন দশক পূর্ণ করার মাহেন্দ্রক্ষণে ‘মর্দানি ৩’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) শিবানী শিবাজি রায়ের তেজস্বী চরিত্রে প্রায় তিন বছর পর দর্শকদের সামনে হাজির হয়ে তিনি তাঁর সুদীর্ঘ ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবনের গভীর অনুভূতি এবং অগণিত না-বলা অভিজ্ঞতার কথা অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন। এই বিশেষ মুহূর্তটি উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে মুম্বাইয়ের যশ রাজ ফিল্মস স্টুডিওতে পরিচালক করণ জোহরের সঙ্গে এক বিশেষ আড্ডায় অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কেক কেটে তাঁর ৩০ বছরের বর্ণাঢ্য পথচলা উদ্‌যাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেকের স্মৃতি হাতড়ে রানী জানান যে, শুরুর দিকে তিনি অনুধাবন করতে পারেননি এই যাত্রা কতটা দীর্ঘ হবে; মূলত মায়ের ইচ্ছাতেই অভিনয়ে পা রেখে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রচেষ্টাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

ক্যারিয়ারের সাফল্যের নেপথ্যে আদিত্য চোপড়া, করণ জোহর, শাহরুখ খান ও আমির খানের মতো ব্যক্তিত্বদের অবিচল আস্থার কথা রানী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। আলাপচারিতায় করণ জোহর জানান, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে টিনা চরিত্রের জন্য রানীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন আদিত্য চোপড়া নিজেই, যা তাঁর ক্যারিয়ারে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছিল। নিজের উল্লেখযোগ্য কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে রানী ‘ব্ল্যাক’ ছবিকে ‘লাইভ অ্যাক্টিং স্কুল’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে সঞ্জয় লীলা বানসালির পরিচালনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে বলে জানান। পাশাপাশি ‘সাথিয়া’ ছবির বাস্তবসম্মত লোকেশন ও সিঙ্ক সাউন্ড ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও তাঁর অভিনয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণায় স্বামী আদিত্য চোপড়ার বিনয়ী ও সাধারণ জীবনযাপনকে তাঁদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন রানী। আড্ডার এক পর্যায়ে করণ জোহর তাঁদের মাত্র ১৮ জন অতিথির উপস্থিতিতে হওয়া সেই অত্যন্ত গোপন বিয়ের রোমাঞ্চকর ও চাপের স্মৃতিগুলো তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন রানীর কন্যা আদিরার লেখা একটি বিশেষ চিঠি পড়ে শোনানো হয়, যা শুনে এই অভিনেত্রী অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তিন দশকের সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পরও বর্তমান সময়কে এক ধরনের ‘পুনর্জন্ম’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে রানী মুখার্জি মন্তব্য করেন যে, মনে হচ্ছে ‘মর্দানি ৩’-ই তার প্রথম ছবি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সঙ্গে নিয়েও নতুন প্রতিটি কাজকে তিনি সমান গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।


মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে অস্কারজয়ী এআর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হিন্দি সিনেমা জগতে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন প্রখ্যাত সুরকার এআর রহমান। বলিউডে তাঁকে ‘কোণঠাসা’ করা হচ্ছে—এমন দাবি ঘিরে যখন নানা বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বিশেষ আমন্ত্রণ পেলেন এই অস্কারজয়ী সংগীতজ্ঞ। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবন ও ভূমিকা নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের জমকালো প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, জনপ্রিয় র্যাপার ওয়াকা ফ্লকা ফ্লেম এবং জর্ডান বেলফোর্ট—যার জীবন অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘দ্য উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট’—এমন সব বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক সারিতে দেখা যায় এআর রহমানকে।

উচ্চপর্যায়ের এই আয়োজনে রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস, যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স, স্বাস্থ্যসচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ও রাজস্বসচিব স্কট বেসেন্টসহ বিশিষ্টজনদের ভিড়ে এআর রহমানের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ‘মেলানিয়া’ শিরোনামের এই তথ্যচিত্রটি আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে। এই তথ্যচিত্রে ফার্স্টলেডির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাজনের এমজিএম স্টুডিওর সঙ্গে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তির মাধ্যমে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রে মেলানিয়া ট্রাম্পের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক ভূমিকার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।

আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি প্রেক্ষাগৃহে তথ্যচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও এর অগ্রিম টিকিট বিক্রির হার নিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র তিনটি টিকিট বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। টিকিট বিক্রিতে এমন ধীরগতির মধ্যেই বড় পরিসরে প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। তথ্যচিত্রের একটি দৃশ্যে মেলানিয়াকে প্রেসিডেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষীদের বিশেষ নির্দেশনা দিতেও দেখা যায়। বিনোদন ও রাজনীতির এমন এক সন্ধিক্ষণে অস্কারজয়ী সুরকারের এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।


banner close