সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

উপকূলে মিলল আড়াই হাজার মৃত সিল

মাখাচকালা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মৃত মাছগুলো পাওয়া যায়। ছবি: ডয়চে ভেলে
আপডেটেড
৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৫২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দাগেস্তান প্রদেশে কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলে প্রায় আড়াই হাজার মৃত সিল পাওয়া গেছে। গত রোববার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রুশ প্রজাতন্ত্রের উপকূলীয় রাজধানী মাখাচকালা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মৃত সিলগুলো পাওয়া যায়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এগুলো কেন এভাবে কূলে ভেসে এলো তা এখনো জানা যায়নি। তবে প্রাকৃতিক কোনো কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাস্পিয়ান এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন সেন্টারের প্রধান জাউর গ্যাপিজভ বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে সিলগুলো মারা গেছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, এগুলোকে কোনোভাবে মেরে ফেলা হয়েছে বা মাছ ধরার জালে ধরা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

প্রাণী অধিকার কর্মীদের মতে, ক্যাস্পিয়ান সিল একটি বিপন্ন প্রজাতি। তাই এগুলো বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে। তারা বলছেন, গত একশ’ বছরে এই প্রজাতিটির বংশবৃদ্ধির হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল নিষ্কাশনের ফলে ক্যাস্পিয়ান সাগরে দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া মাছ শিকারী এবং চোরাচালান কারবারিদের কবলে পড়েও সিলের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।


রাশিয়া আবারও জার্মানির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে: পুতিন

বক্তব্য রাখছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৫০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাশিয়া আবারও জার্মানির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বক্তৃতায় পুতিন এ মন্তব্য করেন। খবর বিবিসির।

ইউক্রেনকে তার ভূখণ্ড রক্ষায় সাহায্যকারী দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি অন্যতম। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউক্রেনকে ট্যাঙ্কও দিতে চেয়েছে জার্মানি। বিষয়টি উল্লেখ করে পুতিন বলেন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, জার্মান লেপার্ড ট্যাঙ্ক দিয়ে আমাদের আবার হুমকি দেয়া হচ্ছে।’

রাশিয়া প্রায় এক বছর আগে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করেছিল। রুশ আক্রমণের মুখে ইউক্রেনকে সহায়তা দেয় পশ্চিমা দেশগুলো। বিষয়টি যে রাশিয়া ভালো চোখে দেখছে না এবং এর প্রতিক্রিয়া জানানোর সম্ভাবনাও বেড়ে যাচ্ছে সেটিই ওই বক্তব্যে ইঙ্গিত করেছেন পুতিন।

রুশ প্রেসিডেন্ট এ সময় ‘রাশিয়া প্রচলিত অস্ত্রের বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করতে পারে’ বলেও ইঙ্গিত করেন। বলেন, ‘যারা যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়াকে পরাজিত করতে চায়, তারা বুঝতে পারছে না যে, রাশিয়ার সঙ্গে একটি আধুনিক যুদ্ধ তাদের জন্য খুব আলাদা হবে।’

৭০ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, ‘আমরা তো তাদের সীমান্তে ট্যাংক পাঠাচ্ছি না। তবে আমাদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানানোর উপায় আছে। আর আমরা প্রতিক্রিয়া জানালে সেটি হয়তো সাঁজোয়া হার্ডওয়্যার ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিষয়টি সবাইকে বুঝতে হবে।’


যুদ্ধের বছর পূর্তিতে বড় হামলা চালাতে পারে রাশিয়া: ইউক্রেনীয় মন্ত্রী

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:১৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে এ মাসেই। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালানো শুরু করে রাশিয়া। এ বছর সেই দিনটিতেই রাশিয়া বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করেছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ।

বৃহস্পতিবার বিবিসি জানায়, ‘রাশিয়ার ডিফেন্ডার অব ফাদারল্যান্ড’ দিবসকে কেন্দ্র করে ২৩ ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে এ হামলা চালানো হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন রেজনিকভ। ২৩ ফেব্রুয়ারিকে বিশেষ দিবস হিসেবে পালন করে রুশ সেনাবাহিনী।

রেজনিকভ বলেছেন, আক্রমণের পরিকল্পনা অনুযায়ী মস্কো প্রায় পাঁচ লাখ সেনা মোতায়েন করেছে।

গত সেপ্টেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রায় তিন লাখ সৈন্য জড়ো করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দেশের ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ নিশ্চিত করার জন্য এটি প্রয়োজন।

রেজনিকভ বলছেন, ‘ইউক্রেনে নিয়োগ ও মোতায়েন করা রুশ সেনার প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।’

এদিকে ইউক্রেনের ক্রামতোর্স্ক শহরে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। প্রাদেশিক গভর্নর বলেছেন, একটি আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দোনেস্ক অঞ্চলের শহরটিতে আরও আটজন আহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ‘রাশিয়ান সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো, তাদের পরাজিত করা। ট্যাঙ্ক, ফাইটার জেট ও দূরপাল্লার মিসাইল দিয়ে তাদের পরাজিত করতে হবে।’


হেলায় পড়ে থাকা চিত্রকর্ম ৩২ কোটি টাকায় বিক্রি

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৩৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গুদামঘরে হেলায় পড়ে ছিল এক তৈলচিত্র। নামমাত্র মূল্যে কিনে নেন এক সংগ্রাহক। চিত্রকর্মটি নিলামে ৩১ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩২ কোটি টাকার বেশি।

লম্বায় তিন ফুটের কাছাকাছি তৈলচিত্রটি বিখ্যাত ফ্লেমিশ শিল্পী অ্যান্থনি ফন ডাইকের আঁকা। সপ্তদশ শতকে নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও ইংল্যান্ডের শিল্পবোদ্ধাদের মাতিয়েছেন তিনি।

সিএনএন জানায়, ফন ডাইকের বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর একটি ‘সেন্ট জেরোম’। সেটির জন্য হাত পাকাতে গিয়ে নিলামে বিক্রি হওয়া ছবিটি এঁকেছিলেন। খসড়া বলা চলে। আর সেন্ট জেরোম নামের চূড়ান্ত ছবিটি বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের রটারডামের বইমানস ফন বনিনেন জাদুঘরে শোভা পাচ্ছে।

ব্রিটিশ নিলামঘর সদেবিজে তৈলচিত্রটি বিক্রি হয়েছে। খসড়া হলেও সেটিকে একদিক থেকে অনন্য বলে উল্লেখ করেছে তারা। ছবিতে টুলে বসা এক নগ্ন বৃদ্ধকে দেখা যাচ্ছে। জলজ্যান্ত মডেল সামনে রেখে ফন ডাইকের আঁকা বড় দুই খসড়ার একটি এটি। ছবিটি ১৬১৫ থেকে ১৬১৮ সালের মধ্যে এঁকেছিলেন বলে ধারণা। ফন ডাইক তখন তরুণ শিল্পী, গুরু পিটার পল রুবেনসের কাছে দীক্ষা নিচ্ছিলেন।

বিংশ শতকের শেষভাগে নিউ ইয়র্কের কিন্ডারহুকের এক গোলাবাড়িতে তৈলচিত্রটি পান প্রয়াত শিল্পসংগ্রাহক আলবার্ট বি রবার্টস। সে সময় মাত্র ৬০০ ডলারে কিনেছিলেন তিনি। শিল্পইতিহাস নিয়ে কাজ করা সুজান বার্নস পরবর্তীকালে সেটিকে ফন ডাইকের কাজ বলে শনাক্ত করেন।

গত বৃহস্পতিবার ৩১ লাখ ডলারে বিক্রি হয় সে ছবি। সেটি বিক্রির জন্য সদেবিজকে দিয়েছে রবার্টসের এস্টেট। বিক্রি থেকে পাওয়া লাভের একটি অংশ দেয়া হবে আলবার্ট বি রবার্টস ফাউন্ডেশনকে, যা আবার শিল্পী ও অন্যান্য দাতব্য কাজে ব্যয় করা হবে।

ফন ডাইকের সঙ্গে বৃহস্পতিবার আনিয়োলো ব্রোঞ্জিনো, তিতিয়ান এবং মেলকিয়র দি অনদেক্যুটারের মতো বিখ্যাত চিত্রকরদের ছবিও নিলামে তুলেছিল সদেবিজ।


জাহাবিকে সরকার থেকে পদচ্যুত করলেন সুনাক

নাদিম জাহাবি। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৫৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ট্যাক্স কাণ্ডে বিতর্ক ওঠায় যুক্তরাজ্য সরকারের মন্ত্রীর পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান নাদিম জাহাবি।

রোববার জাহাবির কর্মকাণ্ডকে মন্ত্রিত্বের আচরণবিধির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে একটি লিখিত বার্তায় সরকার থেকে পদচ্যুত করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।

তবে পত্রে করোনা মহামারির সময় ও বিগত বছরগুলোতে জাহাবির কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন সুনাক।

খোলা বার্তায় সুনাক জাহাবিকে বলেছেন, ‘এটা স্পষ্ট যে মন্ত্রিত্বের আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে সরকারের পদ থেকে আপনাকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত আমি জানিয়ে দিচ্ছি।’

জাহাবির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আগে আয়কর দেননি এ কারণে গত বছর চ্যান্সেলর থাকাকালীন তিনি এইচএমআরসিকে (ব্রিটিশ সরকারের ট্যাক্স বিভাগ) জরিমানা দিয়েছেন। জরিমানাসহ বহু মিলিয়ন ট্যাক্স বিরোধ নিষ্পত্তির এই খবর প্রচারের পরই চাপে ছিলেন তিনি।

বিতর্ক ওঠার পরপরই তাকে সরকার থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল বিরোধী পক্ষ। তবে তৎক্ষণাৎ পদচ্যুত না করে তদন্ত করেই তাকে পদ থেকে সরালেন সুনাক।

জাহাবির বিরুদ্ধে তদন্ত করেন সুনাকের নতুন নিযুক্ত নৈতিকতা উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাস।

যদিও জাহাবি জানিয়েছেন, এইচএমআরসি রাজস্ব দেরিতে দেয়ার ঘটনাটিকে ‘অসচেতনতা ও ইচ্ছাকৃত নয়’ এমন ভুল বলে স্বীকার করেছে।

সুনাক সরকারে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের আগে ইরাকের কুর্দি বংশোদ্ভূত ৫৬ বছর বয়সী জাহাবি বরিস জনসনের সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মন্ত্রী ছিলেন লিজ ট্রাস ও থেরেসা মে সরকারেও।


যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে ১৪টি চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক পাচ্ছে কিয়েভ

চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক
আপডেটেড ১৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:০৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে ইউক্রেনকে ১৪টি চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক সরবরাহ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, যুক্তরাজ্য ১৪টি ট্যাংক পাঠাচ্ছে। অন্য পশ্চিমা দেশও হয়তো শিগগিরই একই পদক্ষেপ নেবে।

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কিয়েভের অন্তত ১০০টি ট্যাংক প্রয়োজন। ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড জার্মানির তৈরি ১৪টি লিওপার্ড২ ট্যাংক পাঠাতে চায়। সেজন্য বার্লিনের অনুমতি চায় তারা। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উৎসব বড়দিনের আগে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে ইউক্রেন অন্তত ৩০০ ট্যাংক এবং ৬০০ সাজোঁয়া যান চায়। রুসি থিংক ট্যাংকের স্থলযুদ্ধ বিশেষজ্ঞ নিক রেনল্ডস বলেছেন, শত্রুর সঙ্গে লড়াইয়ে ট্যাংকের প্রতিরক্ষা, গতিশীলতা এবং ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা আছে।

এদিকে ইউক্রেনের দানিপ্রো শহরে একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। শহরের মেয়র বরিস ফিলাতভ গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানায়। দানিপ্রোসহ ইউক্রেনের একাধিক শহরে গত শনিবার তুমুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস দানিপ্রো শহরে রুশ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।


৩০ বছর ধরে পলাতক মাফিয়াপ্রধান গ্রেপ্তার

তিন দশক ধরে পলাতক ছিলেন মাতেও মেসিনা দেনারো। ছবি: ইতালীয় পুলিশ
আপডেটেড ১৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:২৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইতালির ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাফিয়াচক্রের প্রধান মাতেও মেসিনা দেনারোকে গ্রেপ্তার করেছে ইতালীয় পুলিশ। তিন দশক ধরে পলাতক ছিলেন তিনি।

ইতালির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিসিলির রাজধানী পালেরমো থেকে দেনারো গ্রপ্তার হন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। সিসিলির কোসা নস্ত্রা মাফিয়াদলের প্রধান হিসেবে পরিচিত তিনি।

১৯৯২ সালে মাফিয়াবিরোধী প্রসিকিউটর জিওবানি ফালকোনে এবং পাওলো বোরসেলিনো হত্যায় ভূমিকার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় দেনারোকে। ইতালির ফ্লোরেন্স ও মিলানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহতের ঘটনাতেও তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হন।

ইতালির মাফিয়া-প্রধান বেরনারদো প্রোভেনজানো সালভাতোরে রিনার মৃত্যু হয় যথাক্রমে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে। সে থেকে ‘দিয়াবোলিক’ ছদ্মনামের দেনারো সিসিলির মাফিয়া সর্দারদের সর্দারের হিসেবে স্বীকৃত। ‘গোটা এক গোরস্তান নিজেই পূর্ণ’ করার দাবি করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

২০২১ সালের আগস্টে ইতালীয় টিভি চ্যানেলে দেনারোর ১৯৯৩ সালের মার্চের একটি রেকর্ডিং প্রচার করা হয়। সেখানেই প্রথম তার কণ্ঠ শনাক্ত করা হয়। এর সপ্তাহ কয়েক পর তার পলাতক জীবনের শুরু।

বিষয়:

লিথুনিয়া-লাটভিয়া গ্যাসলাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

১৬০ ফুট উঁচু আগুনের শিখা প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১০:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউরোপের দেশ লিথুনিয়ার পাসভালিস অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করার একটি পাইপলাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে লাটভিয়া সীমান্তের কাছে ওই ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

লিথুনিয়ার জাতীয় সংবাদ মাধ্যম এলআরটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর ১৬০ ফুট উঁচু আগুনের শিখা প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর গ্যাস লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। চার ঘণ্টা পর (স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে) আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিস্ফোরিত পাইপলাইনটি লিথুনিয়ার জাতীয় গ্যাস কোম্পানি অ্যাম্বার গ্রিডের। এই লাইন দিয়ে দেশটির উত্তরাঞ্চল হয়ে প্রতিবেশী দেশ লাটভিয়ায় গ্যাস সরবরাহ করা হতো।

অ্যাম্বার গ্রিডের প্রধান নির্বাহী নেমুনাস বিকনিয়াস বলেন, ‘পাইপলাইনটি ১৯৭৮ সালে স্থাপিত। এখানে সম্প্রতি কিছু সংস্কার কাজ চলছিল। কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন।’

এদিকে লাটভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ ঘটনার তদন্ত করার কথা উল্লেখ করে এক টুইটে বলেছেন, নাশকতার কারণে এ বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে।

যদিও বিস্ফোরণ হওয়া পাইপলাইনটির অপারেটর সেই সন্দেহকে উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না এর পেছনে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে।’

বিকনিয়াস বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা সন্দেহজনক কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।

অ্যাম্বার গ্রিডের প্রধান নির্বাহী আরও জানান, পাইপলাইনটিতে দুটি ‘প্যারালাল সিস্টেম’ ছিল। যার একটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। অন্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো আবাসিক ভবন নেই বলেও জানান তিনি।


ইউক্রেনে অভিযানের কমান্ডার পাল্টাল রাশিয়া

ভ্যালেরি গেরাসিমভ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়া গত কয়েক মাসে একপ্রকার নাস্তানাবুদই হয়েছে। তাদের বেশ কয়েকজন সেনার প্রাণ গেছে। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনে চলমান অভিযানের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছে রাশিয়া।

বিবিসি জানায়, ইউক্রেনে মোতায়েন রুশ বাহিনীর অধিনায়কের পদ থেকে জেনারেল সের্গেই সুরিভিকিনকে সরিয়ে সার্বিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রাশিয়ার চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভকে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শেইগু গত বুধবার ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ দায়িত্ব নিতে গেরাসিমভকে নির্দেশ দেন।

ইউক্রেন অভিযানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই পদাবনতি দেখলেন সুরিভিকিন। তবে তাকে গেরাসিমভের সহকারীর পদে রাখা হয়েছে। জেনারেল গেরাসিমভের আরও দুই সহকারী হলেন ওলেগ সালিইউকোভ ও অ্যালেক্সি কিম।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কাজের পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ায় নেতৃত্বে এই স্তরবিন্যাস করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সংগঠিত করা প্রয়োজন এবং গুণমান উন্নত করা ও কার্যকারিতা বাড়ানো দরকার।

সুরিভিকিন দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ইউক্রেনের বিভিন্ন অবকাঠামোতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। এতে ইউক্রেনের কয়েকটি শহরে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। সবাই সেটিকে কৌশলগত পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখেছিল।

তবে রাশিয়া অধিকৃত অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শহর খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহার করেন সুরিভিকিন। এরপর তার পদাবনতি ইঙ্গিত দেয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সুরিভিকিনের ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন না।


টার্কি নয়, তুর্কিয়ে

আপডেটেড ৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:১২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্ক নামের যে দেশটিকে আমরা চিনি, তার সরকারি নাম তুর্কিয়ে। ইংরেজিতে তাই লিখতে দেশটির সরকার জাতিসংঘ বরাবর আবেদন জানিয়েছে। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের দাবিটি মেনে নিল। মার্কিন কূটনীতিকরা এখন থেকে তুর্কিয়ে নামটিই ব্যবহার করবেন, টার্কি নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বৃহস্পতিবার এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে ইউরেশিয়ার দেশ তুরস্ক ক্রমেই বৈশ্বিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ন্যাটোর সদস্য এই দেশের নেতা কয়েক মাস আগে বিশ্ববাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তারা যেন তুরস্ককে টার্কি না বলে। কারণ, তুর্কি ভাষায় দেশটির নাম তুর্কিয়ে। আর টার্কি হলো উত্তর আমেরিকার একটি পাখির নাম।

এরদোয়ানের প্রতিনিধিরা চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। তার আগেই নাম পরিবর্তনের জন্য আঙ্কারার অনুরোধ মেনে নিল মার্কিন প্রশাসন। এ মাসের শেষদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র্রে গিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ফিনল্যান্ডও সুইডেনকে ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবে।

তুর্কিয়ে নামটি ব্যবহারের জন্য আঙ্কারার অনুরোধ আগেই মেনে নিয়েছে জাতিসংঘ, ন্যাটো, কানাডা, ভারত ও নিউজিল্যান্ড। এরদোয়ান মনে করেন, তুরস্কের মানুষের সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং মূল্যবোধের সবচেয়ে ভালো বহিঃপ্রকাশ এবং প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তুর্কিয়ে নামটি সবচেয়ে ভালো।

জাতিসংঘের নথিপত্রে এতদিন তুরস্কের ইংরেজি নাম হিসেবে টার্কি নামটিই লেখা হয়েছে। কিন্তু আঙ্কারার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নামটি পাল্টে তুর্কিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাম পরিবর্তনের বিষয়টি বিশ্বে মোটেও নতুন নয়। তুরস্ক ছাড়াও কয়েকটি দেশ তাদের নাম পাল্টেছে। রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক কারণে কিংবা শুধু প্রচারের সুবিধা ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আগেও কয়েকটি দেশ তাদের নাম পাল্টেছে। তারই কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যাক।

প্রথমেই আসে দ্য নেদারল্যান্ডসের কথা। মাদক নিয়ে হল্যান্ডের যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল মূলত সেটি পরিবর্তন করাই ছিল ডাচ কর্তৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্য। তাই নতুন নাম হিসেবে তারা দ্য নেদারল্যান্ডস নামটি বেছে নিয়েছে। ২০২০ সালে দেশটির পুরো ব্যবসায়ী সমাজ, পর্যটন কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সব পর্যায়ে দ্য নেদারল্যান্ডস নামটি চালু করা হয়। তবু কোথাও কোথাও পুরোনো হল্যান্ড নামটি রয়ে গেছে এখনো।

নর্থ মেসিডোনিয়া নামটিও একটি পরিবর্তিত রূপ। মেসিডোনিয়া আগে যুগোস্লাভিয়ার অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর দেশটি রিপাবলিক অব মেসিডোনিয়া নাম ধারণ করে। তবে গ্রিসের আপত্তি ছিল এ নাম নিয়ে। কারণ, গ্রিসের একটি অংশের নামও মেসিডোনিয়া। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিপাবলিক অব নর্থ মেসিডোনিয়া নামটি চূড়ান্ত করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভূখণ্ডের ভেতরে পুরো স্থলবেষ্টিত দেশ এসওয়াতিনি। আগে এটির নাম ছিল সোয়াজিল্যান্ড। ২০১৮ সালের এপ্রিলে নামটি পাল্টে এসওয়াতিনি রাখেন দেশটির রাজা তৃতীয় সোয়াতি। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে নিজ দেশের নামের মিল তার অপছন্দ ছিল। তাই তিনি দেশের উপনিবেশ-পূর্ব যুগের নামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এবার চেকিয়া প্রসঙ্গ। নিছক ব্র্যান্ডিংয়ের সুবিধার জন্য চেক প্রজাতন্ত্রের সরকার দেশটির নাম চেকিয়া নির্ধারণ করে। তাদের যুক্তি, ফ্রেঞ্চ রিপাবলিককে যে কারণে ফ্রান্স বলে ডাকা হচ্ছে, সেটা চেকিয়ার ক্ষেত্রেও চলে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চেকিয়া নামটি তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি।

আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ দেশ কেপ ভের্দে। দেশটির সরকার ২০১৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায় তাদের পুরোনো নাম কাবো ভের্দেতে ফিরে যাওয়ার আবেদন করে। এই নামের অর্থ হলো সবুজ অন্তরীপ।

ঔপনিবেশিক যোগসূত্র মুছে দিতে শ্রীলঙ্কাও তাদের নাম পাল্টেছে। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর তার সিলোন নামটি বাদ দিয়ে শ্রীলঙ্কা করেছিল। তবে ২০১১ সাল অবধি নানা সরকারি নথিপত্রে সিলোন নামটি রয়ে গিয়েছিল। পরে সব জায়গায় বদলালোও ‘সিলোন চা’ এখনো পাওয়া যায়।


লিঙ্গ সমতা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে শহরের নাম পরিবর্তন

লিঙ্গ সমতা আনতে ফ্রান্সে শহরের নাম পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৪০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লিঙ্গ সমতা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে নানা পদক্ষেপের কথা আপনি শুনে থাকবেন। তবে গোটা শহরের নামই পরিবর্তন করার কথা শুনেছেন কখনো? এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সে। দেশটির পানতাঁ শহরের নাম পরিবর্তন করে আগামী এক বছরের জন্য (২০২৩ সাল) ‘পান্তিন’ রেখেছেন সেখানকার সমাজতান্ত্রিক মেয়র বার্ট্রান্ড কের্ন।

ফরাসিতে পানতাঁ শব্দটির স্ত্রীবাচক পান্তিন।

নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা নির্দেশ করতে এবং নারীদের প্রতি সহিংসতা দূর করার প্রচেষ্টা হিসেবে এই পরিবর্তন বলে এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন কের্ন। খবর এএফপির।

মেয়র আশা প্রকাশ করেন, নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা আনয়নে এটি প্রাথমিক একটি পদক্ষেপ হতে পারে। যেখানে এখনো নারী-পুরুষে অনেক অসমতা। পুরুষের তুলনায় নারীদের বেতন কম দেয়া হয়। এমনকি তাদের কর্মক্ষেত্রকে সব পুরুষ ভালো চোখে দেখেনও না ।

তবে রাস্তার বিভিন্ন চিহ্ন কিংবা পৌরসভার আনুষ্ঠানিক যোগযোগ কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আসবে না। পৌরসভার টুইটার অ্যাকাউন্টও আছে অপরিবর্তিত। তবে পেছনে একটি ব্যানারে লেখা আছে ‘প্যান্টিনি: সমতা বজায়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসও কম হচ্ছে না। অনেক ব্যবহারকারীই বলছেন, ফ্রান্সের অন্য শহরের নামও পরিবর্তন করতে।

‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’র গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ সূচকে ১৫তম অবস্থানে আছে ফ্রান্স। গত বছরে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন ৬১ বছর বয়সী এলিজাবেথ বর্নি। তিনি দ্বিতীয় নারী যিনি এই পদে আসীন হলেন।

যদিও বিগত কয়েক বছরে ফ্রান্সের রাজনীতিতে যৌন হয়রানির অভিযোগ অনেক। সম্প্রতি স্ত্রীকে চড় মারার কারণে চার মাসের জেল হয়েছে কট্টর বামপন্থী তরুণ নেতা আঁদ্রিয়েন কোয়াতেনেনসের। ২০১৬ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত এমানুয়েল মাখোঁর তিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আছে ধর্ষণের অভিযোগ।


রাশিয়া দীর্ঘ মেয়াদে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা করছে: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্‌লোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১০:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের মনোবল ভেঙে দিতে রাশিয়া ড্রোন হামলা দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে কিয়েভে গত সোমবার রাতের ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, মস্কো ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। খবর বিবিসির।

রুশ আগ্রাসনকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’উল্লেখ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাদের এই পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিতে হবে, এর জন্য যা দরকার সবই করব।’

এ সময় তিনি আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত সবাইকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়ারও আহ্বান জানান।

বছরের প্রথম দিনে রাশিয়ার সেনাদের ওপর হামলা চালায় ইউক্রেন। তারপরেই জেলেনস্কির এই বক্তব্য এল। ইউক্রেনের দাবি, দোনেস্কের অধিকৃত অঞ্চলে তাদের ওই হামলায় অন্তত ৪০০ রুশ সেনা মারা গেছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, মাত্র ৬৩ জন নিহত হয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেছেন, ১ জানুয়ারি ইউক্রেনীয় বাহিনী অন্তত ৮০টি ইরানীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। নববর্ষের দিনে ইউক্রেন মাকিভকা শহরের একটি ভবনে হামলা চালায় যেখানে রুশ বাহিনী অবস্থান করছিল।

সোমবার এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, যে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সৈন্যদের থাকার একটি ভবনে মার্কিন তৈরি হিমারস রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে ছয়টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

রাশিয়া কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা করে চলেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করছে। যার ফলে দেশটির লাখ লাখ মানুষ তীব্র শীতের কবলে পড়েছে এবং অন্ধকারে রয়েছে।

তবে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে ৬৩ জন নিহতের কথা জানানোর ঘটনাটি ‘বিরল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ১০ মাস ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধে এর আগে একসাথে এত সংখ্যক মৃত্যুর কথা জানায়নি রাশিয়া।


যুদ্ধের অবসান চান পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার ইচ্ছা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন এবং শান্তি আলোচনায় বসারও ইঙ্গিত দেন। খবর এএফপির।

পুতিন গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এই সংঘাতের অবসান। এ জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এটি (যুদ্ধ) যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’ এ সময় শান্তি আলোচনায় বসার ব্যাপারে পুতিন বলেন, ‘সব সংঘাতই আলোচনার মাধ্যমে কোনো না কোনো উপায়ে শেষ হয়। আমাদের প্রতিপক্ষ (কিয়েভ) যত দ্রুত এটি বুঝবে, ততই মঙ্গল।’

এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কোর কর্মকর্তারাও বারবার বলেছেন, তারা ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেননি। বরং কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ করার দায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপরেই চাপাচ্ছেন রুশ কর্মকর্তারা। এর আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন, পুতিন ক্ষমতায় থাকলে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনা করবেন না।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে ইউক্রেনে ফিরেছেন জেলেনস্কি। ওই সফরে তিনি মার্কিন কংগ্রেসে বলেছেন, তার দেশ ‘সক্রিয়’ আছে। এ সময় ইউক্রেনকে সমর্থন করার মানে বিশ্বের নিরাপত্তায় একটি বিনিয়োগ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আকস্মিক ওই সফরে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র যান জেলেনস্কি। ওয়াশিংটনে তাকে নায়কোচিতভাবে স্বাগত জানানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথমবারের মতো ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থাসহ প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে বাইডেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থা দেয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েও মুখ খুলেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এটি সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। রাশিয়া এই সুরক্ষাব্যবস্থা মোকাবিলার উপায় খুঁজে নেবে বলেও জানান তিনি। পুতিন বলেন, এই সুরক্ষাব্যবস্থা অনেক পুরোনো। এটি রাশিয়ার এস-৩০০ ব্যবস্থার মতো কাজ করে না।

এর আগে ক্রেমলিন অভিযোগ করেছিল যে বাইডেন ও জেলেনস্কি ‘রাশিয়ার উদ্বেগের’ বিষয়টি কানে তুলছেন না। এ ব্যাপারে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, দোনবাসের শহর ও গ্রামের আবাসিক ভবনগুলোতে ক্রমাগত গোলাবর্ষণের বিরুদ্ধে জেলেনস্কিকে একটি শব্দও বলতে শোনা যায়নি। সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি স্থাপনের ব্যাপারেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে শেষ ইউক্রেনীয় পর্যন্ত একটি পরোক্ষ যুদ্ধে তাদের প্রকৃত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

রুশ বাহিনীর মনোযোগ দোনেস্কে
রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেছেন, রুশ বাহিনী এখন পূর্ব দোনেস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করতে মনোনিবেশ করছে। ওই অঞ্চলে বিধ্বস্ত শহর বাখমুত যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পূর্ব ইউক্রেনীয় এ অঞ্চলটি রাশিয়ায় যুক্ত করা চারটি অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম। অবশ্য রাশিয়া কখনোই দোনেস্কের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পায়নি।

গেরাসিমভ আরও বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তার মধ্যে পুতিনের ‘অজেয়’ কিনজাল ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন গেরাসিমভ।

এদিকে তীব্র শীতে ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বেসামরিক স্থাপনা রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে ইউক্রেন। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনে ড্রোন হামলাও চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এসব ড্রোনের অধিকাংশই ইরান থেকে কিনেছিল মস্কো।


সেনা প্রত্যাহারের পর খেরসনে ফের রুশ হামলা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

আপডেটেড ১৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৯:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনে আবারও হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। নভেম্বরে সেনা প্রত্যাহারের পর আবারও হামলার ঘটনায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শহরটি।

দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, গত বুধবার হামলার দ্বিতীয় দিনে অন্তত দুইজন ইউক্রেনীয় মারা গেছেন।

খেরসনের আঞ্চলিক গভর্নরের মতে, বন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভারী গোলাবর্ষণের ফলে পুরো শহর বিদ্যুৎবিহীন হয়ে গেছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়া একের পর ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।

এখন শীতকাল এবং ইউক্রেনে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেছে। এই অবস্থায় দেশটির লক্ষাধিক বাসিন্দা কোনোরকম তাপ বা বিদ্যুৎ ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন।

খেরসন থেকে রাশিয়ান বাহিনী সরানোকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কোর সবচেয়ে বড় ধাক্কা বলে ধরে নেয়া হয়। সেপ্টেম্বরে ক্রেমলিনে এক অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই অঞ্চলটিকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়া জানায়, খেরসন থেকে ৩০ হাজারের বেশি সেনা তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার সামরিক সরঞ্জামও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।


banner close