রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
১ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিসিদের প্রধানমন্ত্রীর ২৫ নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৮:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১১:৪৮

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, কৃত্রিম সংকট রোধ ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং এ বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারি তহবিল ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনের কথাও বলেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের শাপলা হলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন ২৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিগত ১৪ বছরে বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব রূপান্তর ঘটেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিগত ১৪ বছরে মাথাপিছু আয় ৫৪৩ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জিডিপির আকার মাত্র ৭০ বিলিয়ন থেকে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির আগে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। মহামারি আঘাত হানার পর তা কিছুটা শ্লথ হলেও বর্তমানে তা ক্রমাগতভাবে আগের ধারায় ফিরে আসছে।’

করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশ থেকে আসা অর্থের প্রবাহকে প্রভাবিত করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৬০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার এবং ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে।’

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সফলভাবে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ২০২২ সালে শুরু হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং অবরোধ ও পাল্টা অবরোধ। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসহ দ্রব্যমূল্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। শুধু আমাদের মত দেশ না, উন্নত দেশগুলোও এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় আমদানি পরিহার, ব্যয় সঙ্কোচন, আর্থিক খাতে মনিটরিং জোরদার করে আমরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি, যেন কোনোভাবেই দেশের মানুষের কষ্ট না হয়।’

এ সময় পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ১০০ মহাসড়কের উদ্বোধন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের কাজের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় আপনাদের বেতন-ভাতা হয়। জনগণ ট্যাক্স দেয় সেবা পাওয়ার জন্য। সেবা দেয়া প্রতিটি সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব। সে জন্য সেবার মনোভাব নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকলে আপনাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

মানুষের কল্যাণে সব প্রকার ভয়-ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে আইনানুগ দায়িত্ব পালন করারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ২৫ নির্দেশনা
তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলেন, বহুবিধ কাজের মধ্যে কিছু বিষয়ের প্রতি আমি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

১. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। পতিত জমিতে ফসল ফলাতে হবে। কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
২. নিজেরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জনগণকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৩. সরকারি অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে যথাযথ সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন হয় সরকারি কর্মচারীদের ব্রত।
৪. সরকারি তহবিল ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে।
৫. এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে।
৬. দেশে একজনও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। জমি ও ঘর প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে হবে।
৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।
৮. কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলো যেন কার্যকর থাকেম তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে।
৯. শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীল চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
১০. নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা ও উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
১১. পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।
১২. সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। নিজ নিজ জেলার সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্য ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে হবে।
১৩. জনসাধারণের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে।
১৪. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন কোনোভাবেই অবনতি না হয় সে লক্ষ্যে নজরদারি জোরদার করতে হবে।
১৫. মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
১৬. মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন জঙ্গিবাদে জড়িত না হয় সে জন্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
১৭. বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল, নকলপণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
১৮. বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, কৃত্রিম সংকট রোধ ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
১৯ সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে।
২০. নিয়মিত নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য বৃদ্ধি করতে হবে। স্লুইচ গেট বা অন্য কোনো কারণে যেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার জন্য যেন উৎপাদন ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
২১. বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় তালগাছ রোপণ করতে হবে।
২২. পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে।
২৩. জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যগুলোর প্রচার, বিপণন এবং ব্র্যান্ডিং করতে হবে।
২৪ জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে সেবার মনোভাব নিয়ে যেন সরকারি দপ্তরগুলো পরিচালিত হয়, সেলক্ষ্যে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।
২৫. জেলার সব সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমগুলো যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ তথা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

অনুষ্ঠানে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরুল্লাহ বিভাগীয় কমিশনারদের পক্ষে এবং নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু নাঈম মোহাম্মদ মারুফ খান ও বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভিন তিবরিজি জেলা প্রশাসকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।


১৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সারাদেশে বসছে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:১১
অনলাইন ডেস্ক

দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। সারাদেশের ৬৪টি জেলা, সকল মহানগর এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কেনা হবে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এআই ক্যামেরার বিশেষত্ব হলো এটি সাধারণ সিসি ক্যামেরার মতো শুধু দৃশ্য ধারণ করবে না, বরং রিয়েল টাইমে অপরাধী শনাক্ত, গাড়ির নম্বর প্লেট রিডিং এবং সন্দেহজনক গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে পারবে। জনাকীর্ণ এলাকায় এই ক্যামেরাগুলো নিমিষেই বিপুল সংখ্যক মানুষের মুখ স্ক্যান করে ডেটাবেজে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি বা নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

রাজধানীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইতোমধ্যে ৩৭টি এআই ক্যামেরা পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকার আরও ২০০টি পয়েন্টে এই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো বা হেলমেট না পরার মতো অপরাধগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির মালিকের ফোনে ‘ই-মামলা’র মেসেজ চলে যাবে। এর সাথে বিআরটিএর সার্ভারও সংযুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সাথেও এই ক্যামেরা নেটওয়ার্ককে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলের লাইভ দৃশ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায়। মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তায় এই আগস্টের শেষ থেকেই ঢাকা-মাওয়া রুটে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেটসহ দেশের সকল প্রধান মহাসড়ক এই স্মার্ট নজরদারির অধীনে আসবে। আগামী বুধবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসন আরও নিশ্চিত করেছে যে, প্রযুক্তির এই বিশাল ব্যবহারের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ফায়ারওয়াল ও এনক্রিপশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একইসাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আধুনিক এই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে’—তানজিদকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথমবার ৯ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় টেস্ট জয়ের গৌরব অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) এই স্মরণীয় সাফল্যের পর তিনি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের জন্য শুভকামনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিক পরিবেশে খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের ওয়েলকাম করার জন্য। সবার শরীর ভালো আছে তো? আসেন, আপনারা সবাই সুস্থভাবে আসেন। বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে আপনাদের ওয়েলকাম করার জন্য। আবারও কনগ্রাচুলেশন।’ তাঁর এই বার্তায় খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

কথপোকথনের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল এই টেস্টে অসামান্য বোলিং করা হাসান মাহমুদের নৈপুণ্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, হাসান প্রথম ইনিংসে পাঁচটি ও দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি উইকেট শিকার করেছেন। এই অসাধারণ অর্জনের খবর শুনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, দেখলাম দেখলাম, নিউজে। এক্সিলেন্ট, এক্সিলেন্ট, ওয়ান্ডারফুল।’

পরবর্তীতে বিসিবি সভাপতি ওই ম্যাচের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তাঁর জন্মস্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বগুড়ার ছেলে ভাইয়া, বগুড়ার ছেলে।’ তবে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত গভীর দেশাত্মবোধের সাথে সংশোধন করে দেন। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে। বগুড়ার না, বাংলাদেশের ছেলে। হি রিপ্রেজেন্টস বাংলাদেশ, নট বগুড়া।’


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবেদন বৈধ বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী এই বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং মনোনয়নপত্রটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল। একই দিনে নির্বাচন কমিশন থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কর্নেল অলি আহমদের মনোনয়নপত্রটিও বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ফলে এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলো।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।


অস্ট্রেলিয়ার সাথে ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্যাঙ্গারু বাহিনীকে তাদেরই ডেরায় পরাজিত করে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অজিদের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নেমেই এই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হলো।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ম্যাচ শেষ হওয়ার মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সফরের পথে থাকলেও তিনি ঐতিহাসিক এই জয়ের খবর পাওয়ামাত্রই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিওকলে সংযুক্ত হন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি অধিনায়কসহ সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান এবং ১৬ কোটি বাঙালির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। এই অসামান্য নৈপুণ্যে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বসেরা ও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের নিজস্ব কন্ডিশনে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি সোনালি অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং সুশৃঙ্খল দলগত প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, এই জয় দেশের ক্রিকেটকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে এই সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, সাফল্যের এই ধারা পরবর্তী টেস্টেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ দল সিরিজ জয়ের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়বে।


কিশোরগঞ্জ পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে কিশোরগঞ্জ জেলায় এসে পৌঁছেছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলায় পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পাকুন্দিয়ার প্রতিটি মোড়ে এবং রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভোর থেকেই উৎসুক জনতা প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার প্রত্যাশায় সমবেত হন।

সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে পোনামাছ অবমুক্ত করার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদনে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো জেলা জুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। পোনামাছ অবমুক্ত করার পর তাঁর আরও বেশ কিছু স্থানীয় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ছবি: পিএমও
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আজ রোববার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা ইউনিয়নে জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এসব কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।‘

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিশোরগঞ্জে এটি তারেক রহমানের প্রথম সফর।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি : সকাল সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান, দুপুর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদী কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন, দুপুর ১টায় আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ- ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জাতীয় মৎস্য পদক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগদান, দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ এবং ৪টায় পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত-ভিক্ষু-পাদরিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সূত্র: বাসস


৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা দেখতে চায় প্রিয় মাতৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে।

দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে, তাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও করা হবে। কিন্তু কেবল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপপ্রচার ছড়ালে, জনগণের কাছেই তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা একজন রাজনীতিবিদের কাজ বা দায়িত্ব না। বরং জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানো তার দায়িত্ব।

দেশে বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি স্বৈরাচার সরকার করে গেছে। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে জনমানুষের কল্যাণে পরিকল্পনা উপস্থাপন করুন।

তিনি আরও বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই। জনগণ আর সেই রাজনীতি সমর্থনও করে না।

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে। এসব সহজ কাজ না; কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। তাই যারা সমালোচনায় ব্যস্ত আছেন, তারা এখনই মাঠে নামুন। মানুষ এবং দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন। দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকুন।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথে টিকে আছেন। যারা আজ বড় গলায় কথা বলছে এবং মিথ্যাচার করছে, গত ১৭ বছর মানুষ তাদের রাজপথে দেখতে পায়নি। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যাবে, কিভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ৭১ সালে ভুল করেছে, ৮৬ সালে ভুল করেছে, ৯৬ সালে ভুল করেছে, আবার ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের বলবো, এসব উস্কানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। মানুষের উপকারের পরিকল্পনা থাকলে সংসদে উপস্থাপন করুন। জনগণের সামনে তুলে ধরুন। আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করব।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।


শিক্ষকদের অবসর সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো প্রকার ভোগান্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডে জমানো ফান্ডের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ থেকে এই অর্থ সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জীবনের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার কিছুটা হলেও অবসান ঘটেছে।

শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমাজ, যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন, তাদেরকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় বা অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতাই প্রকাশ পায়। আজ আমরা কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে ব্যাংকে শিক্ষকদের পাওনা টাকা পাঠাতে সক্ষম হয়েছি।

অবসরকালীন সুবিধার টাকা বণ্টনের এই পথটি সহজ ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টরের মতো শিক্ষকদের এই দুটি তহবিল থেকেও লুটপাট চালিয়ে ছিল। জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের উদ্দেশে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে তহবিল দুটিকে দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। যার ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা কোনো অর্থ পাচ্ছিলেন না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দুরবস্থা বিবেচনা করে বিশেষ ব্যবস্থায় আজ তাদের টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এদিন গভীর শ্রদ্ধায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ তার দূরদর্শী উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এই তহবিলের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া প্রবর্তিত 'শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারী শিক্ষার জন্য বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ আজ বিশ্বজুড়ে একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে সমাদৃত।

শিক্ষিত সমাজ গড়তে শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা হলো একমাত্র পেশা, যা অন্য সব পেশার সৃষ্টি করে। আপনারা প্রচলিত নিয়মে অবসরে গেলেও শিক্ষক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। সমাজ ও রাষ্ট্রের ধর্মীয়, সামাজিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আপনাদের ভূমিকা সর্বজনগ্রাহ্য। আপনারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক প্রমুখ।


মহেশখালীর ২ টার্মিনাল থেকে বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। মহেশখালীর সামিট ও অ্যাক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দুটিই একসঙ্গে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে।

সেই সঙ্গে ভাসমান টার্মিনাল দুটি থেকে আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৪টায় সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামিট এলএনজি টার্মিনালের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া ও অধিক বেগে বাতাস প্রবাহের কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যায়। ফলে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।

পরে গত ১৪ আগস্ট নতুন একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে আজ ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।

বর্তমানে এ টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যাক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি আংশিক মেরামতের পর বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে এ টার্মিনালের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং অ্যাক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে ৪৬০ এবং অ্যাক্সিলারেট থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে দুস্থদের সহায়তা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে বিরোধী দল হঠকারী আন্দোলন করছে উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে— ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’; এগুলো হঠকারিতা। তাদের বন্ধুরাই ক্ষমতায় ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার এলএনজি টার্মিনাল বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর চেষ্টা করছে, এজন্য সময় লাগবে। সংকট সমাধানে সরকার চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে কথা বলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে যদি সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা থাকে, তবে তা সরকারের কাছে পেশ করা হোক, সরকার তা সাদরে গ্রহণ করবে। যদি না পারে, তাহলে বিভ্রান্তির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে তাদের। বিভ্রান্তি, হঠকারী রাজনীতি বাদ দেন। জনগণের উপকার হবে সেই রকম পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহি থাকবে, তখনই দেশের উন্নয়ন হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কাজ শুরু হবে। উপজেলার সব ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করবে সরকার।’


ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, আর হারিকেন নিয়ে বলছে—গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ-সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে—গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে; এগুলো হঠকারিতা।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া-মোনাজাত ও দরিদ্রদের মাঝে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এলএনজি টার্মিনাল বসানোর কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চেষ্টা করছে, এ জন্য সময় লাগবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংকট সমাধানে চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছে বলেও জানান তিনি।

বিরোধী দলের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের সমাধান যদি বিরোধী দল দিতে পারে, সেগুলো সরকার গ্রহণ করবে। যদি না পারে, তাহলে বিভ্রান্তির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভ্রান্তি, হঠকারী রাজনীতি বাদ দেন। জনগণের উপকার হবে—এমন পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।’


সবার সহযোগিতায় সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর করতে পারবে: চিফ হুইপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের সরকার সবার সহযোগিতায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় দেশের ৯৮ শতাংশ গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ একটি বিশেষ দেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। স্বৈরাচারী সরকারের এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ও জ্বালানি অব্যবস্থাপনার কারণেই বর্তমানে দেশে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

চিফ হুইপ বলেন, গত সাড়ে পাঁচ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় বর্তমান সরকার দেশের মানুষের দুর্ভোগ ও হাহাকার পূর্বের তুলনায় কমিয়ে এনেছে। সরকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ শনিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এ সব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, অতীতেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় এনেছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশ যখন দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল, তখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে মাত্র তিন বছরের মধ্যে দেশকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হবে। তবে এ জন্য দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

চিফ হুইপ বলেন, বিগত শাসনামলে দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। পাচারকৃত এই বিপুল অর্থ দিয়ে দেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় বাজেট দেওয়া সম্ভব ছিল। দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার যে প্রক্রিয়া চলেছে, তা থেকে দেশকে বের করে আনতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার শুধু মানুষের বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নেয়নি, মানুষের আশা ও স্বপ্নকেও ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রত্যাশা এবং একটি সুন্দর আগামীর যে স্বপ্ন ছিল, তা সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল।

নূরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা গণতন্ত্রকে এখনো সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারিনি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হলে জনগণের খাবারের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারের জন্য সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অভিনেতা বাবুল আহমেদসহ দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজন, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর অর্থ বিতরণ করবেন কাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩৪
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল কিশোরগঞ্জের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য উপাসনালয়ের সেবকদের মধ্যে চলতি অর্থবছরের সম্মানীর অর্থ বিতরণ করবেন।

বিকেল ৪ টায় জেলা সদরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন তিনি।

সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ এবং সুধীজনদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বেলা দুপুর ১২টায় তিনি কটিয়াদি কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন এবং উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন এবং জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রীয় এ সুবিধা পাবেন।

চলতি অর্থবছরে মাসিক সম্মানী প্রদানের জন্য সারাদেশের ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।


banner close