সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৮ ভাদ্র ১৪৩৩

চিকিৎসার আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা

ছবি: দৈনিক বাংলা
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৭:৫২

নুরুজ্জামান লাবু

পেশায় চক্ষু চিকিৎসক হলেও বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণীদের নিয়মিতভাবে ইসলামিক সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং বা ইসলামি মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ দিতেন ডা. শাকির বিন ওয়ালী। রিসার্স অ্যাকাডেমি ফর মেডিকেল ফিকাহ অ্যান্ড ইসলামিক ট্রিটমেন্ট (র‌্যামফিট) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাউন্সিলিংয়ের আড়ালে তিনি ওইসব তরুণ-তরুণীকে লক্ষ্যবস্তু করে উদ্বুদ্ধ করতেন জঙ্গিবাদের ভাষায় ‘জিহাদে’।

সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাত তরুণের মধ্যে তিনজন শাকিরের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘর ছেড়েছেন। আরেকজন ঘর ছাড়ার প্রস্তুতি নিলেও তার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিট আটক করে তাকে। এভাবেই অন্তত ১০ থেকে ১২ জনকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য বানিয়েছেন।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে এই নতুন কৌশলে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। তারা প্রকাশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামি আলোচনার নামে তরুণদের জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে র‌্যামফিট অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটি রীতিমতো শুরা বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে দক্ষতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হলেও এর মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত তরুণদের ইসলামিক সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং করানো হয়।

রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের পাশেই ডমইনো ভবনের চতুর্থ তলায় র‌্যামফিটের কার্যালয়। রিসার্স অ্যাকাডেমি ফর মেডিকেল ফিকাহ অ্যান্ড ইসলামিক ট্রিটমেন্ট নামের এই প্রতিষ্ঠান যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে গত বছর নিবন্ধন নিয়েছে। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির বাইরে শরিয়াহ হসপিটাল, মেডিকেল ফিকাহর পাশাপাশি অথেনটিক ইসলামিক নলেজ প্রচারসহ বিভিন্ন ফতোয়া কোলাবরেশন করার বিষয়টি উল্লেখ আছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে। শায়খ আবুল হাসনাত কাশিম নামে একজন এই প্রতিষ্ঠানটির শরিয়াহ বোর্ডের প্রধান। এর শুরা সদস্যদের প্রায় সবাই মুফতি। প্রতিষ্ঠানটি ইসলামি প্রচারণার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে অনুদান সংগ্রহের জন্যও আহ্বান জানিয়ে থাকে।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে জানান, ইতোমধ্যে র‌্যামফিটের বিষয়ে তারা খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছেন। শাকির এবং র‌্যামফিটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক একটি সংগঠনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তারা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে অনুদানের নামে যে অর্থ সংগ্রহ করে তা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অবশ্য গত শনিবার র‌্যামফিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. শরীফুল ইসলাম শিশির এই প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, তারা কোনো রাজনীতি বা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত নন। শাকির বিন ওয়ালী তাদের প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছসেবী হিসেবে কাজ করতেন। শাকিরের মতাদর্শকে তারা বিশ্বাস করেন না বলেও দাবি করেন শরীফুল।

তবে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া ইসলামিক সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং করানোর বিষয়ে র‌্যামফিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এই প্রতিবেদককে বলেন, তাদের একজন মনোরোগ চিকিৎসক আছেন। ওই চিকিৎসক ছাড়াও আরও কয়েকজন এই বিষয়ে লন্ডনের আল-বালাঘ একাডেমি থেকে অনলাইনে ডিপ্লোমা করেছেন।

তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আল-বালাঘ বিশ্বব্যাপী আল-কায়েদার প্রোপাগান্ডা প্রচারের একটি প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের আনসার আল ইসলামের মিডিয়া শাখা নিয়মিত আল-বালাঘ ম্যাগাজিনের বিভিন্ন কন্টেন্ট বাংলায় অনুবাদের পর নিজেদের ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশ করে। আনসার আল ইসলাম (এএআই) মূলত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার অনুসারী। তারা নিজেদের আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট বা একিউআইএস-এর সদস্য হিসেবে মনে করে। এএআই আগে এবিটি বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়েছে। ২০১৫ সালের মে মাসে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও ২০১৭ সালের মার্চে আনসার আল ইসলামকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার।

হঠাৎ হিজরত, আশঙ্কা বাড়ছে

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৩ সালে ব্লগার রাজীবকে হত্যার মাধ্যমে আলোচনায় আসা আনসার আল ইসলাম গত কয়েক বছরে শুধু দাওয়াতি কার্যক্রম বা কর্মী সংগ্রহের দিকে মনোযোগী ছিল। ২০১৭ সালের এপ্রিলের পর তারা আর কোনো হত্যা মিশনে অংশ নেয়া বা হামলায় অংশ নেয়নি। গত কয়েক বছরে তারা সদস্যদের হিজরত করতেও পাঠিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারা আবার নতুন কৌশলে তৎপরতা শুরু করেছে। আগের মতো টার্গেটেড কিলিং বা হামলার জন্য সদস্যদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, হঠাৎ করেই কুমিল্লা থেকে একযোগে সাতজনের কথিত হিজরতের নামে ঘরছাড়ার বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পেরেছে, সাম্প্রাতিক সময়ে আরও অন্তত ২০ জন কথিত হিজরতের নামে ঘর ছাড়ে। এদের মধ্যে কয়েকজন নিজেরাই ফিরে আসার পর তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্কটি জানার চেষ্টা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সিটিটিসির প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আনসার আল ইসলাম একটু মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এটা সত্যি। সাম্প্রতিক সময়ে যারা হিজরত করেছে তারা সবাই অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে র‌্যাডিক্যালাইজড হয়েছে। সাইবার স্পেসে তারা তৎপর আছে। সাম্প্রতিক সময়ে হিজরতের কারণে বড় ধরনের হুমকি আসার আশঙ্কা আছে বলে আমরা মনে করি না, তবে এটি অবশ্যই আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা তাদের খুঁজে বের করা এবং আস্তানাসহ পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি ।’

‘এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা নেই। তবে এই আশঙ্কা আমরা উড়িয়েও দিই না।’- বলেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সম্প্রতি অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলো যেকোনো সময় আমাদের ‘সারপ্রাইজ’ দিতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘হঠাৎ করেই তরুণদের ঘরছাড়ার মানে হলো জঙ্গিরা ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হচ্ছে। এটাকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। তারা কেন এবং কাদের মাধ্যমে ঘর ছেড়েছে তা গভীর তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃতীয় কোনো পক্ষ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে কি না তাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

যেভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে এএআই

জঙ্গিবাদী সংগঠনের কার্যক্রম অনুসরণ করেন এমন বেশ কয়েকজন গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোলি আর্টিজানে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে নব্য জেএমবির প্রায় সব শীর্ষ নেতারা হয় গ্রেপ্তার হয়েছে অথবা অভিযানে মারা গেছে। কিন্তু আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগই এখনো অধরা।

২০১১ সাল থেকে পালিয়ে থাকা সেনাবাহিনীর বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া আনসার আল ইসলামের অন্যতম একজন শুরা সদস্য হিসেবে সামরিক শাখার দায়িত্বে আছেন। তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়া আনসার আল ইসলামের সদস্যদের জন্য একটি নিরাপত্তা কৌশল তৈরি করেছেন। কাট আউট ও সিপ্লার সেল পদ্ধতি অনুসরণ করার কারণে এই সংগঠনের কোনো সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা যায় না।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, বহিষ্কৃত মেজর জিয়ার নিরাপত্তা কৌশল অনুযায়ী সংগঠনের একটি তৈয়ফা বা সেলের সদস্যরা একে অন্যকেও চেনে না। প্রাথমিক প্রশিক্ষণেই তাদের কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন না করা বা জানতে না চাওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। জিয়ার তৈরি করা কৌশলের কারণেই কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়া তরুণদের একজন ফিরে এলেও তার মাধ্যমে অন্যদের অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এমনকি বিচ্ছিন্নভাবে আনসার আল ইসলামের মাশসুল পর্যায়ের কিছু সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও শীর্ষনেতাদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। আনসার আল ইসলামের সদস্যরা প্রত্যেকেই ‘কোড ল্যাঙ্গুয়েজ’ ব্যবহার করে। কাউকে গ্রেপ্তারের পর তার পিটি আইডি বা অ্যাপস আইডিতে ঢুকে যোগাযোগ করলেও প্রথম কথপোকথনেই শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তারের বিষয়টি বুঝে যায়।

সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ও বিইউবিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তিন শিক্ষার্থী সাজিদুল ইসলাম সাজিদ, সাজ্জাদুর রহমান শাওন ও ইফাজ আহমেদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। এই সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার তিনজনই আনসার আল ইসলামের মাসুল পর্যায়ের সদস্য। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সহযোগী বা সংগঠন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যই পাওয়া যায়নি। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

আনসার আল ইসলামের এই তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদকারী সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার আহমেদুল ইসলাম জানান, তারা তাদের মোবাইলে যোগাযোগের অ্যাপসগুলো অন্য নামে রেখেছিল। কারও কারও মোবাইলের সিস্টেম থেকে যোগাযোগের অ্যাপস খুঁজে বের করে কিছু তথ্য বের করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ওইসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আনসার আল ইসলামের সদস্য সংগ্রহে নিয়োজিত আছে সংগঠনটির দাওয়াহ বিভাগ। তারা দুই ভাবে সদস্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ইদরাতুল দাওয়াহ ওয়াল নুসরাহ বা আইডিএনের দায়িত্ব হলো সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করা। আর কিসমাতুল দাওয়াহ নেটওয়ার্কের কাজ হলো মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিজেদের মতাদর্শের দিকে আকৃষ্ট করা।

এখন শীর্ষ নেতৃত্বে কারা?

বাংলাদেশে আল-কায়েদার অনুসারী আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন শায়খ জসিম উদ্দীন রাহমানী। ২০১৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এরপর থেকেই এই জঙ্গি সংগঠনটির শীর্ষ নেতা হিসেবে বহিষ্কৃত মেজর জিয়াকে গণ্য করা হয়।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জসিম উদ্দীন রাহমানীর পর এই সংগঠনের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে গণ্য করা হতো নরসিংদীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ওসমান গণিকে। ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তার আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জনশ্রুতি আছে, তিনি আত্মগোপনে আছেন। গত কয়েক বছর ধরে সংগঠনটির দাওয়াহ শাখার শুরা সদস্য হিসেবে আছেন শাইখ তামিম আল আদনানী, যদিও তার চেহারা সংগঠনের সদস্যরাই দেখেনি। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থা তার সম্পর্কে কিছু তথ্য পেয়েছে।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, এই সংগঠনের শুরা পর্যায়ে আছেন এমন অন্তত তিনজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এরা দেশের নামকরা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়াও আরেকজন গত চার বছর ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী ওয়াজারিস্তানে অবস্থান করছে।

জিয়াকে ধরাটাই চ্যালেঞ্জ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সহজে ধরতে পারলেও বহিষ্কৃত মেজর জিয়াকে ধরাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাকে না ধরা পর্যন্ত আনসার আল ইসলামকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। আত্মগোপনে থাকা জিয়াকে ধরতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও জিয়া নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এতটাই সচেতন যে, তার অবস্থান সম্পর্কেই জানা যাচ্ছে না।

অবশ্য জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা অন্তত তিন বার জিয়ার অবস্থান শনাক্তের পর অভিযান চালিয়েছিলেন। এর মধ্যে রাজধানীর বাড্ডায় ১০ মিনিটের জন্য জিয়া তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। ২০১৮ সালের পর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তবে তাদের ধারণা, জিয়া এখনো দেশেই আছেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় থাকার সম্ভাবনা বেশি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আনসার আল ইসলাম মূলত আল-কায়েদার অনুসারী। আল-কায়েদায় নতুন নেতৃত্ব এসেছে। এজন্য তারা কিছুটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থেকে এসব মোকাবিলা করতে হবে।’


ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় এক পরিবারের ৪ জনকে হত্যা

* লাশ পড়েছিল ছাদে, সিঁড়িতে, ঘরে  * লাশের পাশে বাথরুম, গোসল, খাওয়া-দাওয়া * গ্রেপ্তার দুই যুবক, দায় স্বীকার
ছবি: হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

ইয়াবা সেবনে বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন একই পরিবারের চারজন। রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় ঘটল এই নৃশংস ঘটনা। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী। বাড়ির ছাদে চেনা দুই তরুণকে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলে বাধা দেওয়াই ছিল এই খুনের মূল কারণ। পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে ঘাতকরা পুরো পরিবারটিকে একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা ওই বাড়িতেই পুরো রাত অবস্থান করে, গোসল করে, খাবার খায় এবং পুনরায় ইয়াবা সেবন করে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

রোববার (২৩ আগস্ট) এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ ।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে মাছুয়াপাড়ার নবনির্মিত দোতলা বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০) ও তার পরিবারের সদস্যরা। পাশের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে আসে দুই তরুণ—মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

তারা দুজনেই স্থানীয়—একজন মাছের দোকানের কর্মী, অন্যজন স্বর্ণের কারিগর। তারা দুজনই ইয়াবা সেবনকারী। ছাদের কোণে বসে তারা যখন ইয়াবা সেবন করছিল, তখন শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় গণপতি চক্রবর্তীর।

ছাদে উঠে তিনি দেখতে পান চেনা দুই তরুণকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায়। তিনি এতে বাধা দেন। আর এই বাধাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। নিজেদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে ছাদেই নিঃশব্দে হত্যা করা হয় গণপতি চক্রবর্তীকে।

গণপতি চক্রবর্তীর গোঙানির শব্দ পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০)। ঘাতকরা তাকেও মুহূর্তের মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে সিঁড়িতে ফেলে রাখে। মায়ের আকুতি শুনে ছুটে আসেন সরকারি কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষ করা মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫)।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, আগামীকে হত্যা করতে ঘাতকদের সবচেয়ে বেশি সময় (৪-৫ মিনিট) লেগেছে। রশি ও কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে তার মুখ ও বুকে চাপ দেওয়া হয়, এতে তার চোয়াল ভেঙে যায়।

সবশেষে ঘরের খাটে শুয়ে ছিল ১২ বছরের শিশু আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম। প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের বন্ধু ছিল। ঘাতকদের চিনে ফেলায় শিশুটিকেও খাটের ওপর বালিশচাপা ও কাপড় পেঁচিয়ে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পুরো পরিবারটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়।

সাধারণত অপরাধ করার পর অপরাধী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ সেই বাসাতেই রাত কাটায়। তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাথরুমে গিয়ে ধীরেসুস্থে গোসল করে। ডাইনিং টেবিলে রাখা শসা ও খেজুর খায়। চার লাশের মধ্যেই তারা পুনরায় ইয়াবা সেবন করে।

তদন্ত ভিন্ন খাতে ঘোরাতে ঘরের আলমারি চাবি দিয়ে খুলে ড্রয়ারের কাপড়-চোপড় তছনছ করে ছিটানো হয়, যাতে ঘটনাটিকে ডাকাতি মনে হয়। আঙুলের ছাপ (Fingerprint) ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে দুটি স্মার্টফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে চুবিয়ে রাখা হয়। লুটে নেওয়া স্বর্ণালংকার আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে ঘরের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় রাস্তা ফাঁকা হলে তারা শান্তভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে শনিবার রাতে স্বজনরা পুলিশ নিয়ে গিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখান থেকে পচা ও ঝলসানো অবস্থায় চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভগ্নিপতি খুব ভালো ও শান্ত মানুষ ছিলেন। অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটা বানিয়েছিলেন। তাদের সবাইকে এভাবে মেরে ফেলল! একটা পুরো পরিবারকে এভাবে শেষ করে দিল? আমরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইব?

গণপতি চক্রবর্তীর অসুস্থ বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী আক্ষেপ করে বলেন, আমার ভাইয়ের পুরো পরিবারটাই শেষ। এই বংশে আর কেউ বেঁচে রইল না।

পাশের ভবনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীরা জানান, গণপতি চক্রবর্তী অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ ছিল না। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে মানববন্ধনে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশের তৎপরতা ও আইনগত পদক্ষেপ: ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিআইডি যৌথ অভিযান চালিয়ে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই ইয়াবা সেবনের কথা এবং তার জের ধরে চারজনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকার। কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

পুলিশ আরও জানায়, এই দুই তরুণকে ইয়াবা সরবরাহকারী খুশি ওরফে প্রশান্ত নামে অপর এক মাদক কারবারির নাম পাওয়া গেছে, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রংপুরের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে মারাত্মক কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার: আবাসিক এলাকার ভেতরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে গিয়ে ইয়াবা সেবনের মতো পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রমাণ করে এলাকায় মাদকের বিস্তার কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

মানসিক বিকৃতি ও চরম সহিংসতা: ইয়াবা সেবনের ফলে সেবনকারীর মধ্যে স্বাভাবিক বিবেক-বিবেচনা বা ভয় কাজ করে না। সামান্য পরিচয় গোপন করার ভয়ে একটি অবোধ শিশুসহ চারজনকে হত্যা করা এবং খুনের পর একই বাড়িতে অবস্থান করা চরম মানসিক বিকৃতির পরিচয় দেয়।

নিরাপত্তাহীনতা: নিজ গৃহের অভ্যন্তরেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অভাব ফুটে উঠেছে এই ঘটনায়।

একসময়ের শান্ত ও নিরপরাধ শিক্ষক পরিবারের এই পরিণতি কেবল একটি অপরাধের খবর নয়, এটি ইয়াবার ছোবলে সমাজ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে—তারই এক স্পষ্ট প্রমাণ।


এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদরদপ্তরে নৌবাহিনী প্রধানকে এডমিরাল র‍্যাংক পরিয়ে দেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এডমিরাল পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। রোববার (২৩ আগস্ট) বিমান বাহিনী সদরদপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নৌবাহিনী প্রধানকে এডমিরাল র‍্যাংক পরিয়ে দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। র‍্যাংক ব্যাজ পরিধানকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১লা জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনী হতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে নৌপ্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ১ জুলাই ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। তিনি তার ব্যাচে (৮৭-এ) জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।

এডমিরাল আজীম বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও, তিনি এমফিল ডিগ্রির পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স এবং অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ ও বিদেশ হতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণিসহ তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।


ভবন নয়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করুন: ডেপুটি স্পিকার

সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বৃত্তিপ্রাপ্ত ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে এবতেদায়ি ৫ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই হবে না; শিক্ষার্থীরা যাতে প্রকৃত অর্থে মানসম্মত শিক্ষা পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’

শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে পাঠদান করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাকের আহমেদ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে এবতেদায়ি ৫ম শ্রেণি ও ৮ম শ্রেণি সমমান জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মোট ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সংবর্ধনা দেয়া হয়।

এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


পাঁচ ধাপে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ড. মঈন খান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন ৫ ধাপে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ড. মঈন খান বলেন, বিগত সরকার ঠিকমতো নির্বাচন দেয়নি। বিএনপি সরকার প্রতিটি স্তরে সঠিকভাবে নির্বাচন দেবে। আওয়ামী লীগ সরকার ধনিকশ্রেণির সেবা করেছে, কিন্তু বিএনপি সরকার বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলবে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের আভাস দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং আইনের নীতি ও সুশাসনে বিশ্বাসী। দেশে সত্যিকার অর্থে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বিগত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় দেশের দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে প্রতিমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নিয়ে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে এ কাজে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

এর আগে সকালে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় অংশ নেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী। সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।


সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

* সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে তদন্ত করবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীলসহ ৩ জন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জাহাঙ্গীর আলম, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় থাকা প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে সাচনা বাজার এলাকায় সব ধরনের গাছ কাটা স্থগিত ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

জেলা প্রশাসক বলেন, এই সড়কে গাছ কাটার বিষয়ে এ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকর্মীদের এই বিষয়ে অবহিত করেন। এ ছাড়া গাছ কাটার বিষয়টি কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে, কী ধরনের গাছ কাটা হয়েছে এসব বিষয় যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীলকে আহ্বায়ক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সুনামগঞ্জ- সাচনা বাজার সড়কে গাছ কর্তন নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হলে বন বিভাগ, সওজ এবং পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের নিয়ে রোববার (২৩ আগস্ট) বৈঠক ও ভিডিও কনফারেন্স করা হয়। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এ সময় স্পষ্ট করেছেন, যে সেখানে সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো প্রকল্প বা নির্দেশনা তাদের নেই। ফলে গাছ কাটার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে এবং কেন অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ- সাচনা বাজার সড়কে গাছ কাটা নিয়ে যে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, সে বিষয়ে জানার পর আমরা অবিলম্বে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করি এবং তাদের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসার আহ্বান জানাই।

সকালে আমার কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ), পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি এবং বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিস্তারিত পর্যালোচনা করি এবং সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাই যে সাচনা বাজারের ওই গাছগুলো কর্তনের সাথে সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।

উত্তরে তিনি সকলের সামনে স্পষ্টভাবে জানান, ওই এলাকায় সওজের এই ধরনের কোনো সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বা পরিকল্পনা নেই। যেহেতু সওজের কোনো প্রকল্প নেই, তাই সেখানে সড়ক প্রশস্ত করার অজুহাতে গাছ কাটার কোনো অবকাশই থাকতে পারে না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অবিলম্বে বন কর্মকর্তাকে সাচনা বাজারে সব ধরনের গাছ কাটা স্থগিত ও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জেলা কমিটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি সভা করেছিল এবং সেই সভার কার্যবিবরণীর সূত্র ধরেই গাছ কাটার বিষয়টি সূচিত হয়েছিল। তবে সাচনা বাজারের অংশটি কাটার ব্যাপারে জেলা কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, যা আমরা কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করেই নিশ্চিত হয়েছি। এমনকি সওজ কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো সুপারিশের কথা অস্বীকার করেছে এবং বন বিভাগও কোনো বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

তাই এই অসংগতিপূর্ণ ও অননুমোদিত গাছ কাটার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখার পাশাপাশি-কারা, কোন উদ্দেশে এবং কেন জেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গাছ কাটতে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটি খুব দ্রুত ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করে জেলা প্রশাসনের কাছে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বিকেলে জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদায় মৌখিক বা লিখিত কোনো আদেশ দিলে আমরা সেটি মানতে হবে। তিনি গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা সেটিই প্রতিপালন করব।

২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় এই সড়কে প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়। পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ছায়াবৃক্ষগুলো পরিবেশ ও মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরি। গত শনিবার ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর ব্যানারে বৃক্ষ হত্যা বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালনকালে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।


শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় যৌথ টাস্কফোর্সের এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ শাড়ি ও প্রসাধন সামগ্রী (কসমেটিকস) জব্দ করা হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি), হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্সের একটি দল শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ৪৬ বিজিবির উপঅধিনায়ক মেজর মাহবুবুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম।

অভিযান চলাকালে রেলস্টেশন চত্বরে অবৈধভাবে পরিবহন ও পাচারের উদ্দেশে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব চোরাই পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত মালামালসংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের অর্থনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষায় চোরাচালানবিরোধী এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা ও সচেতনতা কামনা করা হয়েছে।


করিমগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টায় সালিশে জরিমানা, যুবক আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সজল মিয়া (৫০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। পরে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামের একটি জঙ্গলে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন বলে সজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এ সময় কিশোরীর এক স্বজন ঘটনাটি দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সজলকে আটক করেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আধা ঘণ্টা পর সজলের মেয়ের জামাই ঘটনাস্থলে এসে তাকে নিয়ে যান। পরে এলাকার মুরুব্বি ও বাসিন্দাদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সজলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। তবে জরিমানার টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা প্রায় ১০ বছর আগে এবং মা প্রায় তিন বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে তিনি বড় বোনের সঙ্গে বসবাস করেন।

জাফরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুনায়েদ তুর্য বলেন, তিনি সালিশে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসীকে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না, তাকে কেউ বিষয়টি জানাননি। ফেসবুকে ভিডিও দেখে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। বর্তমান ইউপি সদস্য ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে সালিশ করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. সোহেব খান জানান, অভিযুক্ত সজলকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কুমিল্লায় গৃহবধূ হত্যার দায়ে শ্বশুর-শাশুড়ি-দেবরের যাবজ্জীবন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ছুপুয়া গ্রামের গৃহবধূ মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মরিয়মের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম। মামলার অপর আসামি এবং মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন। ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছুপুয়া গ্রামে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রোববার (২৩ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।


টেকসই কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনায় বিএমডিএর নতুন উদ্যোগ

* কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে: বিএমডিএ চেয়ারম্যান
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নাধীন কাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিএমডিএ রাজশাহী প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএর চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন (সচিব পদমর্যাদা)। সভায় সংস্থার বিভিন্ন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে কী ধরনের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, কৃষকদের সেবা দিতে গিয়ে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং এসব সমস্যা কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বিএমডিএর চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি, কৃষক ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিএমডিএও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকই এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। তাই কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএমডিএর প্রতিটি প্রকল্প ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান এবং কৃষকের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি সমৃদ্ধ হলে দেশ এগিয়ে যাবে। তাই বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিকে টেকসই ও সমৃদ্ধ করতে বিএমডিএ তার দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করবে।

সভায় বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পাশাপাশি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। মাঠপর্যায়ে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএমডিএর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। তাই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কৃষকবান্ধব করতে হবে।’ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, সেচ অবকাঠামো, কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রম ও সমস্যাগুলো তুলে ধরেন এবং সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মতামত দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান, বিএমডিএর পরিচালনা বোর্ড সদস্য শফিকুল আলম সমাপ্ত, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম মাহফুজুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিবির আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সমসের আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সচিব এনামুল কাদির, নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ জিল্লুল বারী, নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিএমডিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


কুড়িগ্রামে সার না পেয়ে কৃষকদের ক্ষোভ, গুদাম ভেঙে নিয়ে গেল ১৯৭ বস্তা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার না পেয়ে কৃষকরা জোট বেধে একটি ডিলার পয়েন্টের গুদামের দরজা ভেঙে প্রায় ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মুকুল হাজীর মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের দিতে গড়িমসি করেন। তার বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুত ছিল ৩৪০ বস্তা সার।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে তার ডিলার পয়েন্টে ২ শতাধিক কৃষক সারের জন্য একত্রিত হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ডিলার পয়েন্ট না খোলায় কৃষকরা গুদামের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭টি বস্তার ৯ হাজার ৮৫০ কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাকি সার রক্ষা করে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কায় গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে থামিয়েছে। এরমধ্যে ১৯৭ বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে গেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন ৩৩ বস্তা ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় চলতি আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সেটি আমরা পেয়েছি এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। কৃষক আতঙ্কে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। লুট হওয়া বাকি সারগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘শিংখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গার একটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ সার লুট করে নিয়ে গেছে।’


নাতিকে টাকা ধার না দিতে নরসিংদীতে দাদার মাইকিং

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় নাতিকে টাকা ধার না দিতে এলাকাবাসীকে মাইকিং করে সতর্ক করেছেন দাদা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান ব্যাপারীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। দাদা করম আলী ব্যাপারী ওই এলাকার বাসিন্দা। তার নাতির নাম মো. মাহাবুব মিয়া।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাইকিংয়ে বলা হয়, দাদা করম আলী ব্যাপারীর পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে, এলাকাবাসী লক্ষ্য করে শুনুন- নাতি মো. মাহাবুব মিয়ার সঙ্গে কোনো দোকান বাকি, লেনদেন বা টাকা ধার দেবেন না। নিষেধ করার পরও কেউ লেনদেন করলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাহাবুব বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে পরে সেই টাকা পরিশোধের দায় দাদা করম আলী ব্যাপারীর ওপর দিতেন। এ কারণে অতিষ্ঠ হয়ে দাদা মাইকিং করে নাতির সঙ্গে লেনদেন না করার সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

স্থানীয় বড়চাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন জানান, মাহবুবের মাদকাসক্তির বিষয়ে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য তার জানা নেই।


অতিরিক্ত আইজিপি হলেন পুলিশের ৫ কর্মকর্তা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর গ্রেড-২ অনুযায়ী পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— ঢাকার রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) মো. সায়েদুর রহমান; ঢাকার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মো. মাইনুল হাসান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো. ইসরাইল হাওলাদার; বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি ও বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন এবং পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশের ভিত্তিতে এসব কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ কর্মকর্তাদের যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।


জামালপুরে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে একটি আবাসিক ভবন থেকে ইসরাত জাহান (৩৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে জামালপুর পৌর শহরের পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের পাঁচতলার এক ফ্ল্যাট থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ইসরাত জাহান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গাড়িয়াডাঙ্গা এলাকার কাওসার আহমেদ শাওনের স্ত্রী। তাদের ৬ বছর বয়সি একটি ছেলে ও ১০ বছর বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। নিহত ইসরাত জাহানের বাড়ি জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকায়।

জানা গেছে, ইসরাত জাহান ও কাওসার আহমেদ শাওন দম্পতি প্রায় এক মাস ধরে পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকায় বাবুল মিয়ার ছয়তলা বাসার পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। কাওসার আহমেদ শাওন শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকায় মুদি দোকান করেন। ইসরাত জাহান ও কাওসার আহমেদ শাওন দম্পতির মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহ ছিল।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কাওসার আহমেদ শাওন বাসায় আসার পর ইসরাত জাহানের সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে কাওসার তার দুই সন্তানকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে ইসরাতকে মারধর করে।

পরে রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে কাওসার তার দুই সন্তানকে আটকে রাখা কক্ষের দরজা খুলে দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বের হওয়ায় সময় ফ্ল্যাটের সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায় কাওসার আহমেদ শাওন। পরে ওই দুই শিশু সন্তান তার মাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ফ্ল্যাটের পাঁচতলার জানালা দিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজার তালা ভেঙে দুই শিশুকে উদ্ধার করে। এ সময় পাশের কক্ষ থেকে তাদের মা ইসরাত জাহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাওসার আহমেদ শাওন পলাতক রয়েছে।

জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হতে পারে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’


banner close