আরিফুজ্জামান তুহিন
বৈশ্বিক মন্দাসহ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিমাণ দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি এই চাহিদা মেটাতে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের অংশ হিসেবে সরকারি সংস্থা পেট্রোবাংলা আগামী ৪০ মাসে ৪৬টি কূপ খনন করবে। এর মাধ্যমে দৈনিক উৎপাদন অন্তত ৫০ কোটি ঘনফুট বৃদ্ধি পাবে, আর এলএনজি আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে কূপ খননের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত হচ্ছে, শিগগির তা পাস হবে। বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড, সিলেট গ্যাসফিল্ড ও বাপেক্সের অধীনে থাকা গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে এই কূপ খনন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকারি তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা হচ্ছে, এসব কূপ খনন সরকারি সংস্থা বাপেক্স করলে প্রতিটিতে ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। আর ওয়ার্ক ওভার কূপ অর্থাৎ কূপ সংস্কারে বাপেক্সের ব্যয় হবে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিদেশি কোম্পানি কূপ খনন করলে পরবর্তীতে ব্যয় হবে ১৫০ থেকে ১৭৫ কোটি টাকা। যদিও ভোলায় বিনা দরপত্রে কাজ পাওয়া গাজপ্রম তিনটি কূপ খনন করছে, যার প্রতিটির ব্যয় ২৪০ কোটি টাকা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর আমরা সব সময় জোর দিয়েছি। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর একবার জোর দেয়ায় তখন এক কোটি ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন বেড়েছিল। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪৬টি কূপ খনন ও নতুন করে অনুসন্ধান চালানো হবে। এতে গ্যাসের উৎপাদন বাড়তে পারে দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট।’
তিনি বলেন, ‘সরকার দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সব সময় তৎপর। প্রয়োজনে আমরা ডিপ ড্রিলিং করব। গভীর খনন করে আমাদের আর কি কি সুযোগ আছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করব।’
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা ব্যবহার করতে হবে। বাপেক্সের সক্ষমতা যেখানে নেই, কেবল সেখানে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে মানসম্মত কোম্পানিকে দিয়ে সাশ্রয়ীমূল্যে কূপ খনন করা যেতে পারে। তারা কোনোভাবেই জিটুজির মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসে নিবন্ধিত গাজপ্রমের মতো কোম্পানিকে দিয়ে বিনা দরপত্রে কূপ খনন না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এতে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যাহত হবে, আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ জ্বালানি সহকারী ও বুয়েটের অধ্যাপক ম তামিম বলেন, তিন বছরে ৪৬টি কূপ খনন করার ক্ষমতা বাপেক্সের নেই। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে সবচেয়ে যোগ্য কোম্পানিকে প্রতিযোগিতামূলক দামে কূপ খননের কাজ দিতে হবে। বিশেষজ্ঞ ও রিগ ভাড়া করেও কূপ খনন করা যেতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কূপ খননের কাজ গাজপ্রমকে দেয়া মানে সেটা দুর্নীতিরই নামান্তর। গাজপ্রমের নিজস্ব লোকবল নেই, তারা যে টেকনোলজি দিয়ে কাজ করছে সেটাও বাপেক্সসহ অন্যদের আছে। জিটুজি মানে হলো ওই টাকা সরকার দেবে, কিন্তু গাজপ্রম তো কোনো টাকা দিচ্ছে না, ফলে এটা করা যাবে না।
এর আগে ২০১০ সালে ৫ বছরে ১১২টি কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সেবার ৭ বছরে ২০টির মতো কূপ খনন করা হয়। যার মধ্যে রাশিয়ার গাজপ্রমকে দিয়ে ১৭টি কূপ খনন করা হলেও সেগুলোর পাঁচটি বালি ও পানি উঠে বন্ধ হয়ে যায়। ওই বন্ধ কূপগুলো ফের বাপেক্সকেই সচল করতে হয়।
কী আছে নতুন পরিকল্পনায়
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছেন, ‘আগামী ৪০ মাসে ৪৬টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাপেক্সের অধীনে থাকা ক্ষেত্রগুলোতে ২০টি কূপ খনন করা হবে। এর মধ্যে সংস্কার কূপ বা ওয়ার্কওভার কূপ ২টি, অনুসন্ধান কূপ ৯টি ও উন্নয়ন কূপ ৯টি। চারটি কূপ খনন করা হবে শ্রীকাইলে, ভোলার নর্থে ৪টি, ভোলার শাহবাজপুরে ২টি এবং সেমুংতাং ২টি। বাকিগুলো ফেঞ্চুগঞ্জ, নোয়াখালীর চর জব্বারপুর, শরীয়তপুর ও জকিগঞ্জে। শুধু বাপেক্সের নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ২০টি কূপ খনন করলে ৪ বছরে অন্তত ২৮ কোটি লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়বে।
বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের (বিজেএফসিএল) নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্ষেত্রগুলোতে ৪ বছরে ১২টি কূপ খনন করা হবে। এতে গ্যাসের উৎপাদন বাড়বে ১৭ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্রের তিতাসে ৭টি কূপ খনন করা হবে। বাকি ৫টি খনন করা হবে বাখরাবাদ-১, কামতা-১ ও ২, মেঘনা ও হবিগঞ্জ-৬।
সিলেট গ্যাসফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় থাকা ক্ষেত্রগুলোতে ১৪টি কূপ খনন করা হবে। এর মধ্যে সংস্কার কূপ রয়েছে ৮টি বাকি ৬টি অনুসন্ধান কূপ। কৈলাসটিলা, বিয়ানীবাজার, রশীদপুর ও সিলেট ক্ষেত্রগুলোতেও কূপ খনন করা হবে। এটি দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র। এতে ১৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদনে বাড়বে।
এ ছাড়া রশীদপুর-১৪, কৈলাসটিলা-৯ ও বাতচিয়াতে-১ উত্তোলন কূপ এবং রশীদপুর-৭ ও কৈলাসটিলা ১/৩ দুটি ওয়ার্কওভার কূপ খনন করা গেলে অন্তত ৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাপেক্সের সক্ষমতা কতটুকু?
বাপেক্সের এই মুহূর্তে রিগ আছে ৬টি। এর মধ্যে ৪টি কূপ খননের রিগ ও দুটি ওয়ার্কওভার করার জন্য। এই রিগ দিয়ে এক বছরে অন্তত ১০টি কূপ খনন করা সম্ভব। বাপেক্সের প্রকৌশলীরা বলছেন, রিগের যে শিডিউল করা হয়েছে তাতে রিগ বিজয়-১২ দিয়ে এক বছরে শ্রীকাইল নর্থ-১/এ ও কৈলাসটিলা-৮ কূপ খনন করা সম্ভব।
এ ছাড়া রিগ বিজয় ১০, বিজয় ১২ ও বিজয় ১৮ রিগকে দিয়ে এক বছরে আরও ছয়টি কূপ খনন করা সম্ভব। এ ছাড়া বাপেক্সের আবিষ্কৃত ভোলা ও ভোলা নর্থে রাশিয়ার গাজপ্রমকে দিয়ে ৩টি কূপ খননের কাজ শুরু করা হয়েছে। বাপেক্স বিজিএফসিলের তিতাসে ২টি ও এসজিএফলের ৩টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা নিয়েছে তাদের নিজস্ব রিগ দিয়ে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাপেক্স বছরে অন্তত ৮টি কূপ খনন করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি যদি আরও ২টি রিগ ভাড়া করে আনে তা হলে বছরে আরও ৪-৫টি কূপ খনন করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে বাপেক্সকে পুরোনো অভিজ্ঞ লোকবল দিয়ে কূপ খননের দায়িত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে কূপ খননের জন্য প্রকৌশলীদেরও চুক্তিভিত্তিক ভাড়া করে আনা যেতে পারে।
বাপেক্সের ভূতত্ত্ববিদ ও প্রকৌশলীরা বলছেন, বিজিএফসিএল ও এসজিএফল কত দ্রুত তাদের কূপগুলো খননের উপযোগী করে রাখতে পারে তার ওপর নির্ভর করছে কাজ কত দ্রুত হবে।
গ্যাসের মজুত বাড়াতে আরও জরিপ
দেশীয় গ্যাসের মজুত জানতে দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপের বড় কার্য ক্রম নিয়েছে বাপেক্স। এর মধ্যে প্রায় ৪১০০ লাইন কিলোমিটার ত্রিমাত্রিক জরিপকাজ শেষ করেছে বাপেক্সের ত্রিডি টিম। ত্রিমাত্রিক এই জরিপ করতে বাপেক্সের প্রতি লাইন কিলোমিটারে খরচ হয়েছে ৮ লাখ টাকার মতো। আর দ্বিমাত্রিক জরিপে খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকার মতো। সেখানে চীনের সিনোপ্যাককে দিয়ে ৩ হাজার লাইন কিলোমিটার জরিপ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সিনোপ্যাক ত্রিমাতিক জরিপের জন্য গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিচ্ছে। আর দ্বিমাত্রিক জরিপের জন্য নিচ্ছে ৮ লাখ টাকা।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক জরিপের মাধ্যমেই ভোলা, বরিশালসহ দেশের বড় একটি অংশে নতুন রিজার্ভ চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ভোলার গ্যাস বরিশাল হয়ে খুলনা অঞ্চলে পৌঁছে দিতে চায় সরকার। কারণ কুষ্টিয়া থেকে খুলনা পর্যন্ত ১৩০০ কোটি টাকার একটি পাইপ লাইন প্রকল্প শেষ করেছিল সরকার ২০১৭ সালে। তবে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় ওই পাইপে আর গ্যাস সরবরাহ করা হয়নি। ভোলা থেকে যদি বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত গ্যাস পৌঁছে দেয়া যায় তা হলে এককালের শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত খুলনা আবার প্রাণ ফিরে পাবে।
আছে নানা সমালোচনা
গ্যাসক্ষেত্রে অনুসন্ধান কূপ করার অর্থ হলো- সেখানে গ্যাস আছে কি না তা জানার জন্য কূপ খনন করা। আর উন্নয়ন কূপ হলো- নিশ্চিতভাবে গ্যাস আছে এটা জানার পর কূপ খনন করা। ৪৬টি কূপের মধ্যে ১৭টি কূপ আছে অনুসন্ধান কূপ। সেই ১৭ কূপে গ্যাস পাওয়া যাবে ৩০ কোটি ঘনফুটের মতো বলে হিসাবে দেখানো হয়েছে। এই বিষয়টি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন ভূতত্ত্ববিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম।
কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, প্রতি ৩টি অনুসন্ধান কূপ খনন করলে একটিতে গ্যাস মেলার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। এটি দুনিয়ার মধ্যে অন্যতম ভালো পরিসংখ্যান। এখন ১৭টি কূপ খনন করলে ১৭টিই গ্যাস পাওয়া যাবে না, বড়জোর ৫-৬টিতে গ্যাস মিলবে। কিন্তু পেট্রোবাংলা ১৭টি অনুসন্ধান কূপেই গ্যাস মিলবে বলে প্রাক্কলন করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, এদের হাইডো কার্বন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই। সরকারের উচিত পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের মতো জায়গায় যোগ্য ও দক্ষ লোকগুলোকে বসানো।
কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে তার নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর একই কক্ষে অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে অবস্থিত সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইমাম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরএমও ঈমাম বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার সময় ওই শিক্ষক বেঁচে ছিলেন। তবে ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করামাত্রই তিনি মারা যান। তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। আরেকজন পুরুষকে আনা হয়েছে। তার অবস্থাও গুরুতর। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষক মারা গেছেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কালীগঞ্জ বাইপাস সড়কের বালীগাঁও মোড়লবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা কালীগঞ্জ বাইপাস সড়ক ধরে নরসিংদীর দিকে যাচ্ছিল। বালীগাঁও মোড়লবাড়ি এলাকায় পৌঁছে চালক অন্য একটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়ে বিপরীত লেনে চলে যান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ট্রাকের পেছনে থাকা প্রাণ ফ্রুটোর একটি কাভার্ড ভ্যানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনায় অটোরিকশাযাত্রী নূর আলম (৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার দুতামরুনপুর এলাকার বাসিন্দা এবং গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
আহতরা হলেন— দেওয়ানগঞ্জের রবিন (৩৫), টাঙ্গাইলের মধুপুরের রাশেদ রানা (২৪), সিরাজগঞ্জের ফরহাদ (১৯) এবং নরসিংদীর রায়পুরার মাইন উদ্দিন (৩০)। আহত চালকসহ অন্যদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাকসুদুল কবির নকিব দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক এক মতবিনিময় সভা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে ওই সভা হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার মূল ভিক্তি। এ স্তরের শিক্ষার আধুনিকায়ণ, ঝরে পরা রোধ, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা বিষয় আলোচনায় ওঠে আসে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনাও প্রদাণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী, প্রাথমিক ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাসান আলী ও আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ বলেছেন, ১৭ বছরে অগণতান্ত্রিক সরকার
জাতীকে মেধাশূন্য করে গেছে। সরকারি নির্দেশনায় অযোগ্য শিক্ষার্থীকে পাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার মান তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। অতীত ভুলে শিক্ষার্থীকে পড়ালেখা করেই পাস করতে হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোবাবিলায় দক্ষ, যোগ্য, মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী তৈরিতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে আরও মনোযোগী, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণের অনুরোধ জানান। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারি শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের ওপরে মব সৃষ্টি করে হামলার প্রতিবাদে মানববনন্ধন হয়েছে। বুধরার (৪ মার্চ) তালা উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সকল ইউনিটের সম্মিলিত আয়োজনে এ মানববন্ধন হয়।
তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিমের সভাপতিত্বে ও তালা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসেনের সঞ্চালনায় ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ারদার, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মমিন, অর্থ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংবাদিক শেখ মখফুর রহমান জান্টু, আব্দুল মতিন, উপজেলা প্রেসক্লার সহসভাপতি আবু সাঈদ, তালা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এম এ ফয়সাল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য সানজিদুল হক ইমন নাজমুল হাসান প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, শ্যামনগরে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনিরের সহ পাটকেলঘাটার দুজন সাংবাদিকের ওপর মব সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে ফাঁসানোর তীব্র নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
দৈনিক সমকাল পত্রিকার শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি ও শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির ‘যুবলীগ, যুবদল ও যুব জামাত মিলে বালুমহাল লুট’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করায় সন্ত্রাসী হামলা শিকার হন। তাছাড়া পাটকেলঘাটা জোড়া টাওয়ার রোডে ১/১ খতিয়ানের সরকারি সম্পত্তি ১৮ লাখ টাকায় হস্তান্তরের তথ্য আনতে গেলে সাংবাদিককে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে জখম করে অর্থের বিনিময়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে চাঁদাবাজি মামলায় ঢুকিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তালা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেছেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার কোনো রোগী যেন চিকিৎসা এবং ওষুধ ছাড়া হাসপাতাল থেকে ফেরত না যায়। রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং তাদের পরিপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’ বুধবার (৪ মার্চ) ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে ডা. লিটন আরও বলেন, ‘রোগীরা যেন চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে বলতে পারে- আগের চেয়ে এখনকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখানে সব ধরনের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম জিয়াউল বারীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুঁইয়া, ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মজিব প্রমুখ।
বন্যপ্রাণী সংরণে জনসচেতনতা বাড়াতে ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে সচেতনতা করার লক্ষ্যে প্রচারণা করেছেন পরিবেশকর্মী শফিকুল ইসলাম খোকন। তার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও বন উজাড়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতেই তিনি এ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বিষখালী নদী সংলগ্ন জিনতলা থেকে চরলাঠিমারা, হরিনঘাটা, পদ্মা হয়ে বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে হেঁটে রুহিতা পর্যন্ত এসে শেষ হয়। পথে তিনিসহ অংশগ্রহণকারীরা বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানান। ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে পথসভাও করেন তিনি। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৭ টায় জিনতলা থেকে শুরু করেন এ প্রচারণা।
তিনিয় বিভিন্ন স্লোগানে প্লাকার্ড দিয়ে প্রচারণা চালান। স্লোগানগুলো হলো-পাখি না থাকলে প্রাণ হারাবে প্রকৃতি, প্রকৃতির প্রাণ বন্যপ্রাণী-তাদের আমরা রক্ষা করি, বন ধ্বংস করলে, বন্যপ্রাণী ধ্বংস হবে, বন্যপ্রাণী রক্ষা হলে প্রকৃতি রক্ষা হবে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শুধু দায়িত্ব নয়- একটি মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য, বন্যপ্রাণী রক্ষা করলে পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা হবে, প্রাণের অধিকার সবার- বন্যপ্রাণীও তার অংশীদার, শিকার নয়, সচেতনতা বাড়াই, আজ সংরক্ষণ, আগামীর নিরাপদ বন্যপ্রাণীর জীবন।
তার সহযোগী ছিলেন- মো. সোহাগ আকন, মাইনুল ইসলাম ও শোয়েব তাসিন। শফিকুল ইসলাম খোকন একজন উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রায় আমরার (ধরা) পাথরঘাটা উপজেলা কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও শফিকুল ইসলাম খোকন দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জেলে অধিকার, জীবন ও জীবিকা নিয়ে কাজ করছেন।
সাথে থাকা সহযোগী সোহাগ আকন ও শোয়েব তাসিন বলেন, আমরা শফিকুল ইসলাম খোকনের কাজে অনুপ্রাণিত হই। সবসময়ই তিনি ভিন্ন এবং ব্যতিক্রমধর্মী বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকেন। তার দেখাদেখি আমরা পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করায় উদ্বুদ্ধ হয়েছি।
শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সবাই সচেতন হলে পরিবেশের ভারসাম্য রা করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। তাই বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমন প্রচারণায় এ অঞ্চল বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর কোলঘেঁষা হরিনঘাটা বনসহ বন বিভাগের একাধিক বনায়ন রয়েছে। এছাড়াও বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর পাথরঘাটার অংশে পুরোটাই বনায়ন। যে বনে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। এখানকার বাসিন্দারা যাতে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন বা সোচ্চার হয় সে কারণেই এখানে প্রচারণা করছি। এটা আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে। আমি আশা করছি স্থানীয়রা বন নিধন বা বন্যপ্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকবে পাশাপাশি প্রতিহতও করবে।’
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আ. রশিদ রাঢ়ি বলেন, বাঘ যদি বনে না থাকে তাহলে যেমন বন থাকবে না তেমনি বন না থাকলে বন্যপ্রাণীও টিকবে না। বনের কাছের বাসিন্দাদের আগে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিহত করতে হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সগির আলম, ইউপি সদস্য শাহ আলমসহ সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রায় উদ্বুদ্ধ করবে।
উত্তর জনপদের প্রবেশদ্বার বলা হয় পাবনাকে। পদ্মা আর যমুনার পলিমাটিতে বেড়ে ওঠা এই জনপদ কেবল কৃষিতেই নয়, রাজনীতি, সাহিত্য আর স্থাপত্যের ঐতিহ্যে অনন্য। বাংলার মানচিত্রে পাবনা মানেই এক সমৃদ্ধ জনপদ, যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে কয়েকশ বছরের পুরনো ইতিহাস।
পাবনার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। লোকশ্রুতি আছে, ‘পাবনী’ নামক এক প্রাচীন গঙ্গার শাখা থেকে এই নামের উৎপত্তি। আবার অনেকে মনে করেন, আদিবাসীদের ভাষা থেকে এর সৃষ্টি। তবে ১৮২৮ সালে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই পাবনা তার নিজস্ব মহিমায় বিকশিত হতে শুরু করে।
পাবনার ঐতিহ্যের কথা তুললেই সবার আগে চোখে ভাসে ব্রিটিশ প্রকৌশলবিদ্যার বিস্ময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ১৯১৫ সালে নির্মিত এই রেল সেতুটি আজও পদ্মার ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশেই রয়েছে লালন শাহ সেতু, যা আধুনিক ও প্রাচীন স্থাপত্যের এক দারুণ মেলবন্ধন। এছাড়া ঈশ্বরদীর পাকশীতে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন রেলওয়ে জংশন এবং বিভাগীয় কার্যালয় এই অঞ্চলের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাবনা শহর থেকে সামান্য দূরেই অবস্থিত জোড় বাংলা মন্দির, যা পোড়ামাটির কারুকাজের এক অনন্য উদাহরণ। এছাড়া চাটমোহরের শাহী মসজিদ মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর জানান দেয়। অন্যদিকে, পাবনার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে আছে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রম। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই আশ্রমটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।
পাবনার রয়েছে এক ঈর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পটভূমি। মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক নিবাস এই পাবনাতেই। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের দিকপাল প্রমথ চৌধুরী ও সাংবাদিকতার অগ্রদূত কাঙাল হরিনাথের স্মৃতিধন্য এই জেলা।
অর্থনৈতিকভাবেও পাবনা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ জেলাকে বলা হয় বাংলাদেশের ‘দুগ্ধ ভাণ্ডার’। ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরের ঘি এবং দুগ্ধজাত পণ্য দেশজুড়ে সমাদৃত। এছাড়া পাবনার তাঁতের শাড়ি ও হোসিয়ারি শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখে চলেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে পাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক পরিচিতি দিয়েছে।
পদ্মার ঢেউ আর তাঁতের খটখট শব্দে ঘেরা পাবনা কেবল একটি জেলা নয়, বরং বাঙালির বীরত্ব ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত জাদুঘর। এই জেলার ইতিহাস সংরক্ষণ করা বর্তমান প্রজন্মের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাবনার এই পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিকশিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকহারে নিচে নেমে গেছে। এতে ওই উপজেলার পাঁচটি এলাকার প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৪ জন মানুষ সুপেয় পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, চাষাবাদের জন্য সাব মারসিবল সেচ পাম্প দিয়ে অবৈধভাবে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে হস্তচালিত প্রায় দেড় হাজার নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কৃষকের ভাষায়, পার্শ্ববর্তী খালে পানি থাকায় ভূগর্ভস্থ থেকে সাব মারসিবল সেচ পাম্প দ্বারা উত্তলিত পানি কৃষি জমিতে ব্যবহার করছে।
উপজেলা বিএডিসি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জিন্নাগড়, মাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভায় বেসরকারীভাবে ১০০ সাব মারসিবল সেচ পাম্প রয়েছে। এসব পাম্প থেকে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন ৮ ঘণ্টায় গড়ে ৮ লাখ ৬ হাজার ৪০০ লিটার পানি উত্তোলন করা হয়।
সুপেয় পানির সংকটে পড়া এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, আগে যেখানে হস্তচালিত টিউবওয়েল থেকে সহজেই সুপেয় পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে কয়েক মিনিট চাপ দিলেও পানি উঠছে না। কৃষিকাজ, মাছের ঘের এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অনেকেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছেন। এসব পাম্প ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। গত কয়েক মাস থেকে এ সমস্যা প্রকট হয়েছে। অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্ত থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বাজার এলাকাতেও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে কৃষকরা তাদের বোরো আবাদের জন্য প্রতিনিয়ত সাব মারসিবল পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করছে। এ ছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গভীর নলকূপে শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে অতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছেন। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর প্রভাবে আশপাশের গভীর টিউবওয়েলগুলোতে পানি ওঠছে না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তাদের পক্ষে মোটরচালিত পাম্প ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
চর মাদ্রাজ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমাদের বাড়ির টিউবওয়েলে সারা বছর পানি থাকত। এখন এক ফোটাও পনি ওঠছে না। পাশের বাড়িতে গভীর নলকূপে সাব মারসিবল পাম্প বসানোর পর থেকেই এই সমস্যা শুরু।’
একই অভিযোগ করেছেন জিন্নাগড় এলাকায় বাসবাসকারী গৃহিণী নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘বিলের মধ্যে অবৈধভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপন করে পানি উত্তোলনের ফলে আমাদের নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ভোরে দূরের একটি নলকূপ থেকে পানি আনতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর। এমনকি অনেক সময় পুকুরের পানি পান করতে হচ্ছে এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনকারী জিন্নাগড় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক কেরানি বলেন, ‘খাল শুকিয়ে যাওয়ায় আমরা বিকল্প পদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তলন করতে বাধ্য হয়েছি। বোরোর আবাদ বাঁচাতে সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহার করছি।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্যমতে, একই এলাকায় একাধিক গভীর নলকূপ ও শক্তিশালী সাব মারসিবল পাম্প ব্যবহারের কারণে অগভীর টিউবওয়েলগুলো অচল হয়ে পড়ছে। চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৭৩টি হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল ও ২২২টি অকেজো রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৮টি মেরামত করা হয়েছে। তবে হস্তচালিত নলকূপের সংখ্যা উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য মতে ১০ হাজার ৭৩টি হলেও সরেজমিনে এর পরিমাণ প্রায় চারগুণ। এ উপজেলার ৬০ শতাংশ বাসিন্দা নিজস্ব অর্থায়নে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাসিন্দার নলকূপ অকেজো রয়েছে।
জিন্নাগড় ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি জামাল মোল্লা বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে সাব মারসিবল পাম্প স্থাপনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অনুমতি বা পরিবেশগত যাচাই ছাড়াই সাব মারসিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, ‘নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ পুকুর, খাল বা দূষিত উৎসের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘জানুয়ারির পর যখন সেচকাজের জন্যে পানি উত্তোলন শুরু হয় তখন পানির স্তর দ্রুত হারে নিচে নামতে থাকে। অবৈধভাবে স্থাপন করা সাব মারসিবল পাম্পগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করলে সুপেয় পানির সাম্প্রতিক সংকট থেকে সাধারণ মানুষ রেহায় পেত।’
উপসহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘সুপেয় পানির সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে স্থাপিত সাব মারসিবল পাম্পগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপকূলীয় জনপদ শরণখোলায় শীতের শেষে বনের শুকনো পাতায় এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক, বন-বাদাড় ও খোলা মাঠজুড়ে ঝরে পড়া পাতা এখন যেন প্রকৃতির নিজস্ব কারুকাজ।
বনের গাছপালা থেকে ঝরে পড়া শুষ্ক পাতা মাটির ওপর বিছিয়ে দিয়েছে সোনালি-বাদামি চাদর। সকালে সূর্যের আলো পড়লে সেই পাতার স্তর আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা বলছেন, শুকনো পাতার এই দৃশ্য গ্রামীণ পরিবেশে এক ধরনের নান্দনিক আবহ তৈরি করেছে।
চালরায়েন্দা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছরই এ সময় গাছের পাতা ঝরে পড়ে। তবে এবার যেন একটু বেশি মনে হচ্ছে। দেখতে খুবই ভালো লাগছে।’
পরিবেশবিদরা জানান, এই শুকনো পাতা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। প্রাকৃতিকভাবে পচে তা মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং নতুন গাছ জন্মাতে সহায়তা করে।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ঝরে পড়া এই পাতাগুলোই এখন শরণখোলার সৌন্দর্যের এক নীরব অলংকার হয়ে উঠেছে।
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই নতুন পোশাকের উচ্ছ্বাস। সেই উচ্ছ্বাসের রঙিন কাপড় এখন ছড়িয়ে আছে রূপগঞ্জের দর্জি দোকানগুলোতে।
কিন্তু রঙিন এই প্রস্তুতির ভেতরেই রয়েছে হিসাব-নিকাশের চাপ। আনন্দের উৎসব সামনে রেখে অনেক পরিবারের বাজেটের খাতায় এবার নতুন করে যোগ হয়েছে দ্বিগুণ সেলাই মজুরি।
ঈদকেন্দ্রিক উপজেলার অলিগলি, বাজার আর আবাসিক এলাকার ছোট-বড় দর্জি দোকানগুলোতে এখন যেন উৎসবের আমেজ। দোকানের ভেতরে ঝুলছে রঙিন কাপড়, টেবিলে ছড়িয়ে আছে মাপের খাতা, মেশিনের শব্দে মুখর চারপাশ। সকাল থেকে গভীর রাত, কোথাও কোথাও ভোর পর্যন্ত চলছে সেলাইয়ের কাজ। তবে এ ব্যস্ততার মাঝেই ক্রেতাদের কপালে নতুন ভাঁজ। কারণ নারীদের পোশাকের মজুরি আগের তুলনায় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অনেক দোকানে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
নারীদের সুতি থ্রি-পিস বানাতে যেখানে আগে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা নেওয়া হতো, এখন সেখানে গুণতে হচ্ছে ৬০০ টাকা। জর্জেটের থ্রি-পিসে, যা আগে ৬০০-৬৫০ টাকায় তৈরি হতো, এখন সেই মজুরি চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। উপজেলার মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, গোলাকান্দাইল, ভুলতা, গাউছিয়া, জাঙ্গির, চনপাড়া, নগরপাড়াসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে কথা বলে দর্জি ও ভোক্তাদের কাছ থেকে ওঠে এসেছে এমন চিত্র।
চনপাড়া বাজারের একটি ছোট দর্জি দোকানে ঢোকতেই দেখা গেল, একপাশে তিনজন কর্মচারী মেশিনে ব্যস্ত, সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকজন নারী ক্রেতা মাপ দিচ্ছেন। দোকান মালিক আনিক সরদার বলেন, ‘ঈদের আগে চাপ তো থাকেই; কিন্তু এবার চাপটা বেশি। কর্মচারীদের ওভারটাইম দিতে হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে, সুতা-আনুষঙ্গিক জিনিসের দামও বেড়েছে। তাই মজুরি না বাড়িয়ে উপায় ছিল না।’
নগরপাড়া এলাকার আরেক দর্জি সুমন মিয়া বলেন, ‘আগে ৪০০ টাকায় সুতির থ্রি-পিস বানাতাম। এখন ৬০০ টাকার নিচে সম্ভব নয়। ঈদের পর আবার ৪০০ টাকা করে রাখব। জর্জেটের কাপড়ে কাজ বেশি তাই ১ হাজার ২৫০ টাকা নিচ্ছে। ঈদের পর সাড়ে ৬০০ টাকায় বানিয়ে দেব।’
নিগার সুলতানা অবশ্য বলছেন ভিন্ন কথা। কাপড় কিনতেই অনেক খরচ। তার ওপর সেলাইয়ে যদি ৬০০ টাকা লাগে, তাহলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চাপ হয়ে যায়। তবু ঈদ বলে কথা, বাচ্চাদের জন্য তো বানাতেই হবে।
জাঙ্গির এলাকায় গভীর রাতেও কয়েকটি দর্জি দোকান খোলা দেখা যায়। দোকানের ভেতরে ঝুলছিল ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকা পোশাক। দর্জি রাতুল সরকার বলেন, ‘এখন প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত কাজ করছি। কাজের চাপ এত বেশি যে নতুন অর্ডার নিতে ভয় লাগে। খরচ বাড়ার কারণে মজুরি বাড়াতে হয়েছে।’
বাতেন মিয়া নামে আরেক দর্জি জানান, জর্জেট খুব পিচ্ছিল কাপড়। কাটতে-সেলাই করতে সময় বেশি লাগে। আগে ৬৫০ টাকায় কাজ করতাম। এখন ১ হাজার ৩০০ টাকা নিচ্ছি। না হলে খরচই ওঠবে না। ঈদের পর আগের দাম অর্থাৎ ৬৫০ টাকা করে রাখব।
কলেজছাত্রী আলমিনা রহমান বলেন, ‘একই ডিজাইনের সুতির থ্রি-পিস বানাতে আগে যেখানে ৩৫০-৪০০ টাকা লাগত, এখন সব দোকানেই ৬০০ টাকা চাইছে। বাজেট মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। তবু রেডিমেডে ঠিকমতো ফিটিং পাই না, তাই দর্জির কাছেই আসতে হয়।’
একটি বাসায় ভাড়া থাকেন শাহিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘রোজার আগে সুতির থ্রি-পিস ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে বানিয়েছি। এখন সেই থ্রি-পিসের মজুরি চাচ্ছে ৬০০ টাকা। আগে এক এক দোকানে এক এক মজুরি চাইত, এখন সবাই একই মজুরি চাচ্ছে।’
দর্জি ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘হাতে এত কাজ যে নতুন অর্ডার নিলে সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া কঠিন। এখন কাজ নিলে বাড়তি শ্রমিক লাগবে, বাড়তি টাকা দেওয়া লাগবে। তাই মজুরি বেশি নিতে হচ্ছে। ঈদের পর আসলে আগের মজুরিতেই কাজ করে দেব।’
শেখ রবিউল আলম নামে আরেক দর্জি বলেন, ‘সুতির থ্রি-পিস বানাতে মজুরি লাগবে ৬০০ টাকা। জর্জেট হলে ১ হাজার ৩০০ টাকা দিতে হবে। এখন মজুরি কম নেওয়ার সুযোগ নেই। পছন্দ হলে বানাবেন, না হলে চলে যাবেন। আমাদের কিছু করার নেই।’
বরপা এলাকায় একাধিক দর্জি দোকানে গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র। ভিড়, ব্যস্ততা, আর বাড়তি মজুরি নেওয়ার অভিযোগ। দর্জি নুরালম বলেন, ‘৪০০ টাকায় এখন সুতির থ্রি-পিস বানানো সম্ভব নয়। এখন বানাতে হলে ৬০০ টাকা লাগবে। ঈদের কয়েকদিন পর আসলে ৩৫০ টাকায় বানিয়ে দেব।’
এদিকে সেলাই মজুরির কারণে অনেকেই এখন রেডিমেড পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন। কাজীপাড়ার বাসিন্দা আফরোজা খানম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বাসায় পরার জন্য দুটি থ্রি-পিসের কাপড় কিনেছিলাম। কিন্তু মজুরি চাচ্ছে দ্বিগুণ, তাই তৈরি করিনি। ৮০০ টাকা দিয়ে কাপড় কিনে, মজুরি ৬০০ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ঠিক করেছি ঈদের পর তৈরি করব। এখন ঈদের জন্য ১ হাজার টাকার মধ্যে রেডিমেড একটা থ্রি-পিস কিনে নিব।’
একটি দর্জি দোকানের সামনে থেকে জুঁথি আক্তার বলেন, ‘আমার রেডিমেড থ্রি-পিস ঠিকমতো ফিট হয় না, তাই সব সময় বানানো থ্রি-পিস পরি। মজুরির খোঁজ নিতে এসেছিলাম। এবার ঈদ সামনে রেখে থ্রি-পিসের মজুরি অনেক বেড়ে গেছে। সবাই সুতি থ্রি-পিসের মজুরি চাচ্ছে ৬০০ টাকা। এত মজুরি দিয়ে বানানো সম্ভব নয়। তাই মার্কেট থেকে রেডিমেড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
নীলফামারীতে গ্রাহকদের তেল কম দেওয়া ও অনুমোদনহীনভাবে শিশু খাদ্য তৈরি করায় দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৪ মার্চ) জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রায়হানের নেতৃত্বে এ আদালত পরিচালিত হয়। প্রসিকিউটর ছিলেন বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন।
অভিযানে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে জেলা শহরের বাদিয়ার মোড় এলাকার মুক্তা ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা এবং বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই শিশুখাদ্য ‘আইসললি’ তৈরি করায় অভিজাত গ্রুপকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, মেশিনে কারচুপির মাধ্যমে গ্রাহকদের তেল কম দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, অভিজাত গ্রুপ কোনো ধরনের বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই শিশুখাদ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করছিল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রায়হান বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা নিয়মিত অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তেল পাম্পে মাপে কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেউ এক হাজার টাকার ডিজেল কিনলে প্রায় ১২ টাকা কম পাচ্ছেন। এভাবে প্রতিদিন শুধু ডিজেল বিক্রিতেই এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রাহকদের ক্ষতি হচ্ছিল। অনুমোদনহীনভাবে শিশুখাদ্য উৎপাদনের দায়েও জরিমানা করা হয়েছে।
এসময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মোবারক হোসেন, বিএসটিআই রংপুর কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার জুলকার নাঈম, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আল-আমিন সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি যদি চাঁদাবাজ ও মাদককারীরা যদি তাদের এসব অপকর্ম হতে সরে না আছে তাহলে তাকে কঠিন পরিনতি ভোগ করতে হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। সেইসাথে বন্ধ করতে হবে অবৈধভাবে মাটি ও বালিকাটা।
তিনি বলেন, আমার নিজ দল, পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের মধ্যেও অনেকের মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে আমি জানি। এমনকি যারা আমাকে আজ ফুল দিতে এসেছেন তাদের মধ্যেও কেউ কেউ মাদক কারবারি রয়েছে। আমি আজকে সকলকে সতর্ক করে দিয়ে যাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ী যে হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের অপকর্মের ফল আমি কাঁধে নিয়ে ভবিষ্যতে করুন পরিনতি ভোগ করতে রাজি নই।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুমে উপজেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
সভায় উপজেলার সকল সরকারি দপ্তরের প্রধানগন, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সকলকে সাথে নিয়ে আমি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ,কৃষি, সংস্কৃতি সকল ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন করতে চাই। তাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ঘুষ, দূর্ণীতি সহ সকল ধরনের লোভের উর্ধে থাকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আমি দৌলতদিয়া- পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মান, পদ্মা ব্যারেজসহ রাজবাড়ী জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে ওয়ার্কশপ, দৌলতদিয়ায় আধুনিক নৌ-বন্দর এবং অন্যান্য উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আমরা কয়েকটি সেমিনার করেছি। সেই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে অবহিত করি। সেখানে চারটি মন্ত্রণালয়ে সভা হয়। সেই সভায় প্লানিং হয়ে বিগত সরকারের সময় পদ্মা ব্যারেজের বিষয়টি প্রি-একনেক হিসেবে পাশ হয়ে আছে। আগামী ৮ তারিখ একনেকের সভা আছে। আমি আশা করছি খুব দ্রুতই এটি পাশ হবে। পাশাপাশি যদি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয় তাহলে, এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এই এলাকার প্রত্যেকটি বালিকণা সোনায় পরিণত হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাহিদুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্টের রাজবাড়ী জেলা সহ-সভাপতি অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম দুলাল, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ নিজাম শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা প্রমুখ।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম গোয়ালন্দে এসে পৌছালে জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন, দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ হতে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অদম্য নারী পুরস্কার কার্যক্রমের আওতায়"নির্যাতনের দঃস্বপ্ন মুহে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত অদম্য নারী (জয়িতা) পুরস্কার-২০২৫ নাসরিন বেগম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত হয়েছেন।
নাসরিন বেগম ঝিনাইগাতী উপজেলার রামেরকুড়া গ্রামের মোহসিন আলীর মেয়ে। তিনি অনেক সংগ্রাম করে সফলতা অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার ( ৩রা মার্চ ) মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মমন্ত্রনালয় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আশরাফুল আলম নাসরিন বেগমকে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী ক্যাটাগরিতে সম্মাননা স্মারক প্রদা নকরেন।
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আশরাফুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন,নাসরিন বেগম মেধা,শ্রম,দিয়ে সুন্দর ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আশাকরি সামনে আরও ভালো কিছু করবেন।