মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
২৩ চৈত্র ১৪৩২

ইউরোপে বিপজ্জনক যাত্রা, সাগরেই ডুবছে স্বপ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০১:১৪

স্বপ্নের ইউরোপে বিপজ্জনকভাবে অবৈধ পথে যাত্রায় ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। দালালদের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই লিবিয়া থেকে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় গ্রিস বা ইতালির উদ্দেশে পাড়ি জমিয়ে সাগরেই হারাচ্ছে প্রাণ; ডুবছে তিলে তিলে গড়া স্বপ্নও। সবশেষ লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ৭০ জন অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন। ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে, বাংলাদেশিসহ ৩২ জন উদ্ধার করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানায়।
উদ্ধার হওয়া জীবিতদের বরাতে জানা যায়, নৌকাটিতে অন্তত ১০০ জন যাত্রী
ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানায়, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ছোট আকারের ওই নৌকাটি। পথে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।
জার্মানভিত্তিক উদ্ধার সংস্থা সি ওয়াচ জানায়, তাদের একটি বিমান দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্টে যাওয়া নৌকাটি দেখতে পায়। এসময় কয়েকজন যাত্রী নৌকার গায়ে আঁকড়ে ধরে ছিলেন, কেউ পানিতে ভাসছিলেন, আর কিছু মরদেহও দেখা যায়।
উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয় একটি ইতালীয় ও একটি লাইবেরিয়ান বাণিজ্যিক জাহাজ। পরে জীবিতদের ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যা ইউরোপে প্রবেশের একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
উদ্ধার হওয়া ৩২ জনই পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিসরের নাগরিক। তাদের সঙ্গে দুটি মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য নৌকাটি একেবারেই অনুপযুক্ত ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটিতে ১২০ জন পর্যন্ত যাত্রী থাকতে পারে। সংখ্যা নিশ্চিত হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিবাসী ট্র্যাজেডিগুলোর একটি।
এদিকে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৩৩ হাজার ৪৫০ জনের বেশি অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইওএম। শুধু চলতি বছরেই মধ্য ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
অভিবাসী উদ্ধার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপদ ও বৈধ প্রবেশের পথ না থাকায় মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে—যার মাশুল গুনতে হচ্ছে প্রাণ দিয়ে।
এর আগে গত শুক্রবার গ্রিস উপকূলে নৌকা ডুবে প্রাণ গেছে ১৮ থেকে ২০ বাংলাদেশির। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ যুবক রয়েছেন। এরা হলেন- রাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না, আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান, ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া, রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান, বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান ও মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া। জগন্নাথপুরের চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁওয়ের শায়েখ আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুরের মো. নাঈম, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান, ইছগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না।
প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্বজনরা বলেন, দালালরা ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে বড় নৌকা দিয়ে ইতালি কিংবা গ্রিসে পাঠানোর কথা থাকলেও পরে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট প্লাস্টিকের নৌকায় তাদের সাগরপথে ছেড়ে দেয়। ২ দিনের মধ্যে তারা গন্তব্যে পৌঁছে যাবে এমনটি বলা হলেও যাত্রাপথে ভুল রাস্তায় গিয়ে ৬ দিনেরও বেশি সময় সাগরে কাটানোর কারণে তারা খাবারের অভাব ও পানির পিপাসায় কাতর হয়ে মারা যায়।
বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এভাবেই লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে বছরে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যাচ্ছেন। তবে অনেকের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। যদিও সাগরে প্রাণহানি, লিবিয়ায় নিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণের জন্য আটক করে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দালাল ও মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাও হচ্ছে। গত বছর সারা দেশে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলা ছিল ৪ হাজার ৪৮০টি। কিন্তু এই বিপজ্জনক স্বপ্নযাত্রা থামছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটা অঙ্কের নগদ টাকা আয়ের উৎস হওয়ায় এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় গ্রিস উপকূলে ওই নৌকাডুবিতে ১৮-২০ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পর ২৩ জনের অর্ধগলিত মরদেহ ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি লিবিয়ার পূর্ব উপকূলের সৈকতে ভেসে এসেছিল। পরিচয় শনাক্ত না করতে পারায় তাদের লিবিয়ায় দাফন করা হয়। মৃতদের অবয়ব ও পোশাকের ধরনে তাদের সবাইকে বাংলাদেশি মনে হয়েছে।
এদিকে, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া বলেন, আমরা সুনামঞ্জের ৩টি উপজেলায় মোট ১২ জনের প্রাণহানির তথ্য জানতে পেরেছি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জেলার জগন্নাথপুর ও দিরাই থানায় ৯ জন দালালকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দুইটি মামলা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ সোমবার রাতে দিরাই উপজেলার বাসুরি গ্রামের নিহত সুহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান ৪ দালালের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি মামলা করেন। এছাড়া গত মঙ্গলবার জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে ৫ দালালের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
সূত্রমতে, গত বছরের (২০২৫) প্রথম ছয় মাসে সাগরপথে পাচার হওয়া অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৭৩৫ জন। তালিকায় এরপর ছিল ইরিত্রিয়া, মিসর, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, সিরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, গিনি ও আলজেরিয়ার অবস্থান।
ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী সংস্থা ও মাইগ্রেন্ট ইনফোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগর হয়ে ৩ হাজার ৩৯৫ জন অবৈধ অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এ দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৬৬০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ভূমধ্যসাগর রুট দিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী যান ইতালি ও গ্রিসে। অবৈধ পথে ইউরোপে পাঠাতে সক্রিয় দালাল চক্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। বড় কোনো ঘটনার পর দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তৎপরতা দেখা যায়।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশি নিহত হন। ২০২৩ সালের ১৩ মার্চে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়া ৩০ জনের ভাগ্য এখনো অজানা। একই বছরের ৯ আগস্ট রাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ৯ তরুণ। এর আগে ২৪ জুন ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে স্পিডবোট ডুবে নরসিংদীর এক তরুণ নিহত এবং নিখোঁজ হন ১৩ তরুণ। ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালেও একাধিক নৌকাডুবিতে প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালের জুনে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে বাংলাদেশ, মিসরসহ চারটি দেশের অন্তত ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যান। সাগরপথে এই মৃত্যুঝুঁকি নেওয়ার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নৌকাডুবির ঘটনাও বাড়ছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
আর বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বলেছে, প্রতিবছর লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার এই রুটে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যান।
শুক্রবারের নৌকাডুবির পর আইওএম জানায়, ১০ দিনে কয়েকটি নৌকাডুবি হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকশ অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণহানি হয়ে থাকতে পারে বলে সংস্থাটির আশঙ্কা।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে প্রাণ হারানো ১৮৭ জন বাংলাদেশির মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা হয়েছে। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার চেষ্টাকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের সংখ্যা বেশি। এসব এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্র উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ৪ হাজার ৪৪৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিচারাধীন ৩ হাজার ৩৪টি মামলা এবং তদন্ত চলছে ১ হাজার ৪৪৬টির। এসব মামলায় ১৬ হাজার ৬৭৮ আসামি। ২০২৪ সালে মামলা ছিল ৪ হাজার ২৯১টি এবং আসামি ছিল ১৬ হাজার ৪৩২ জন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, দেশের ৮-১০টি জেলা থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে মানবপাচারের ঘটনাগুলো ঘটছে। ঝুঁকি জেনেও এই এলাকার মানুষ এই পথ বেছে নিয়েছে। এ জন্য তাদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সারা বছর তৎপর থাকতে হবে। কিন্তু যখন কোনো ঘটনা ঘটে, তখনই শুধু তারা তৎপর হয়। এ জন্য ঘটনাগুলো কমছে না।
মানবপাচারের বেশিরভাগ মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এ প্রসঙ্গে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. বদরুল আলম মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সিআইডিতে মানবপাচারের ৯১টি মামলার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে লিবিয়ায় নির্যাতন, হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার মামলাও আছে। সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্টোনহেঞ্জ রহস্য : পর্ব ১

স্টোনহঞ্জে সুর্যাস্ত। ছবি : জন নেইল
আপডেটেড ৭ মে, ২০২৩ ১৭:৪৮
    রহস্যের ব্যবচ্ছেদ

স্টোনহেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে উইল্টারশায়ারের এক ঘেসোভূমিতে। যখন মেসোপটেমীয়রা চাকা আবিষ্কার করল, তখনো নাকি পাথরগুলো ওখানেই ছিল। যখন মিসরীয়রা পিরামিড বানাল, তখনো ওগুলো ঠায় দাঁড়িয়েছিল, ভারতীয়রা যখন সংখ্যা আবিষ্কারের পরে শূন্য আবিষ্কার করল, ইংল্যান্ডের বুকে তখনো ওগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। তারপর কত কী তৈরি হলো, কলোসিয়াম হলো, তাজমহল হলো, পিসার মিনার তৈরি হলো, তারও কয়েক হাজার বছর আগে অশোক বিশাল এক স্তম্ভ পুঁতলেন, তখনো ওই আলগা পাথরগুলো দাঁড়িয়েছিল। এরপর সিয়ার্স টাওয়ার হলো, টুইন টাওয়ার হলো, বুর্জখলিফা হলো, তবুও পাথরগুলো দাঁড়িয়ে রইল। সময়ের পালাবদল, বৈরী আবহাওয়ায় ওগুলো মলিন হলো বটে, কিন্তু নুয়ে পড়ল না। কী এমন ক্যারিশমা, হাজার হাজার বছর ধরে বিশাল সব পাথর দুই পায়ে মাথায় স্বগোত্রীয় বোঝা নিয়েও ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। কারা ওদের ওভাবে দাঁড় করিয়েছিল, কীভাবেই বা করিয়েছিল? তবে কি ওগুলো মানুষের তৈরি নয়। ভিনগ্রহী এলিয়েনরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ওগুলো ওভাবে দাঁড় করিয়েছিল? নাকি কোনো জাদুকর?

২.

প্রায় দশ হাজার বছর আগে স্টোনহেঞ্জ তৈরি হয়েছিল বলে মনে করেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। তবে এক দিনে তৈরি হয়নি এই বিশাল স্থাপত্যকর্ম। সেটা আসলে সম্ভবও নয়। একেকটা পিরামিড কিংবা হালের তাজমহল তৈরি করতেও যেখানে কয়েক দশক সময় লেগে যায়, সেখানে অতি প্রাচীন এই পাথুরে স্তম্ভ তৈরি করতেও নিশ্চয়ই অনেক সময় লেগেছিল। আর্কিওলজিস্টরাও সেটাই মনে করেন। তারা হিসাব কষে দেখেছেন, প্রায় দেড় হাজার বছর লেগেছিল এই পাথুরে স্তম্ভ তৈরি করতে। অর্থাৎ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ এই একটা জিনিস তৈরির পেছনে শ্রম দিয়েছিল। তাজমহল বা পিরামিড তৈরির পেছনে যথেষ্ট কারণ ছিল, রাজা-বাদশাহরা গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়ার জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার জন্য। কিন্তু স্টোনহেঞ্জে তো তেমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তা হলে কীসের মোহে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই জিনিস তৈরি করে গেছে প্রাচীনকালের মানুষরা। এর উত্তরে অনেক অনেক তত্ত্ব দিয়েছে- অদ্ভুত আর বৈজ্ঞানিক দুই ধরনেরই। তা নিয়েই আলোচনা করা হবে এ লেখায়।

বিশাল সব পাথর

মোটামুটি ১০০ পাথর দিয়ে তৈরি হয়েছিল এই পাথর। সবচেয়ে বড়গুলোর ওজন প্রায় ৩০ টন। সবচেয়ে ছোটগুলোর ১৫। এত বিশাল সব পাথর কীভাবে স্থাপন করা হলো, কীভাবেই বা সেগুলো বয়ে আনা হলো, সেটা একটা বিস্ময়ই। কারণ চাকা নেই সেই যুগে, গাড়ি নেই, পাথর কাটার যন্ত্র নেই, তারপরও কীভাবে তৈরি হলো? এই স্টোনহেঞ্জ এখনো প্রহেলিকাই হয়ে আছে আর্কিওলজিস্টদের কাছে।

আগে মানুষ স্টোনহেঞ্জ দেখেই শুধু বিস্মিত হতো। কিন্তু এর বাইরেও যে আরও কিছু থাকতে পারে, তা ছিল ধারণার বাইরে। অষ্টাদশ শতকে এক ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ জন অব্রে স্টোনহেঞ্জে খননকাজ চালাতে গিয়েছিলেন দলবল নিয়ে। সে সময় তিনি স্টোনহেঞ্জকে ঘিরে থাকা একটা পরিখা খুঁজে পান। এখানে যে পরিখা থাকতে পারে, অব্রের আগের গবেষকরা সেটা বুঝতেই পারেননি। কারণ, পরিখাটা ভরাট করা ছিল। এই এক পরীক্ষাই স্টোনহেঞ্জের নির্মাণ ইতিহাস অনেকখানিই বদলে দেয়। এসব বড় বড় পরিখা তৈরির কাজে সবচেয়ে বড় কারণ পাথর বহন। মিসরের পিরামিডেও দেখেছিলাম, বড় বড় সব পিরামিডের চারপাশে পরিখা ছিল। চাকার গাড়ি তখন তৈরি হয়নি, তাই দূর থেকে পাথর টেনে আনা কষ্টকর। তারচেয়ে কষ্টকর নির্মাণস্থলে সেগুলো নড়ন-চড়ন করা। পরিখা থাকলে ভালো হয়। পরিখার পানিতে ভাসিয়ে পাথর স্থপনার একপাশ থেকে আরেক পাশে সহজেই সরিয়ে নেয়া যায়।

পানিতে পাথর কীভাবে ভাসে, তার জবাব আমরা পিরামিড চ্যাপ্টারেই দিয়েছি। এখানে সংক্ষেপে বলি, বিশাল বিশাল সব ভেলা তৈরি করে তার ওপর পাথর বসিয়ে দিলেই কাজ হয়ে যেত। সুতরাং অব্রের পরিখা আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে।

কারসার

শুধু পরিখা নয়, এরও আগে এখানে অন্য কিছু তৈরি হয়েছিল। ১৭২৩ সাল। ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ উইলিয়াম স্টাকলি স্টোনহেঞ্জের উত্তর দিকে একটা আয়তাকার ট্রাক আবিষ্কার করেন। তিন কলোমিটার লম্বা আর ৩৩০-৪৫০ ফুট চওড়া সেই ট্রাকটা। স্টাকলি অনুমান করেন, বর্তমান ব্রিটেন তখন রোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। তাই এই ট্রাকগুলো ছিল একটা রোমান রেসিং ট্রাক। ঘোড়া বা অন্য প্রাণীর রেসিং ট্রাক নয়, সেটা ছিল রথের মতো মানুষে টানা একটা গাড়ির ট্রাক। কিন্তু স্টাকলির হিসাবের সঙ্গে সময়ের হিসাব মেলে না। স্টাকলি যখন গবেষণা করেন, তখন কার্বন ডেটিং সিসটেম ছিল না। তেজস্ক্রিয় কার্বনের সাহায্যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের হিসাব একদম দিনক্ষণ মিলিয়ে করা যায়। রোমানরা ব্রিটেনে এসেছিল খ্রিস্টপূর্ব ২০৮-২১১ সালের দিকে। আধুনিক হিসাব বলছে আয়তকার এই ট্রাক তৈরি হয়েছিল এর অন্তত এক হাজার বছর আগে। এই ট্রাক আর যা-ই হোক, সেটা রথ রেসিংয়ের জন্য তৈরি হয়নি।

তাহলে কী জন্য তৈরি হয়েছিল? এ প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি।

রোমান সভ্যতা চাকার ব্যবহার জানত। ঘোড়ার সাহায্যে টানা হতো রোমান রথ। সেই রথ চাকায় ভর দিয়ে চলত, সেটি নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। যদি স্টাকলির অনুমান সত্যিই হতো, তাহলে স্টোনহেঞ্জ তৈরি নিয়ে এখনো এত রহস্য-বিস্ময় থাকত না। চাকার ব্যবহার যারা জানে, অনেক বড় বড় পাথর টানার জন্য অনেক বড় গাড়ি চাইলেই তৈরি করতে পারত তারা। কিন্তু স্টাকলির অনুমান যেহেতু ভুল, স্টোনহেঞ্জ নিয়ে ধোঁয়াশা তাই এখনো রয়েছে।

 ছবি সূত্র: https://cdn.britannica.com/50/62650-050-48297E80/Diagram-Stonehenge-c-1550-bce.jpg
স্টোনহেঞ্জের ডায়াগ্রাম

অব্রে হোল

সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রত্নতত্ত্ববিদ জন অব্রে আবিষ্কার করেন বেশ কিছু গর্ত। একটি দুটি নয়, ৫৬টি গর্ত। গর্তগুলো একটা বৃত্তের মতো করে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি গর্তের ব্যাস ৩ ফুটের মতো। এই গর্তগুলো ব্লুস্টোন আর কাঠের টুকরা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল বলে মনে করতেন অব্রে। এগুলো এখন অব্রেহোল নামে পরিচিত। অব্রেহোলে ব্লুস্টোন আদৌ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না তা নিশ্চিত নন এখনকার বিজ্ঞানীরা। স্টোনহেঞ্জের আশপাশে ব্লুস্টোনের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। তবে ২৫০ কিলোমিটার দূরে প্রেসেলি পাহাড়ে ব্লুস্টোন পাওয়া যায়। ব্লুস্টোনের বিশেষত্ব হলো- এগুলো ভিজে অবস্থায় নীলাভ রং ধারণ করে। তাই এর এমন নাম। তবে অব্রেহোলগুলো আসলেই ব্লুস্টোন দিয়ে ভরাট করা ছিল কি না, এ বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নন। বিজ্ঞানীরা বরং মনে করছেন, এগুলো সাধারণ পাথর দিয়েই ভরাট করা ছিল। এই অব্রেহোলগুলোর চারপাশেই ছিল সেই পরিখা। পরিখাটাকে একটা বৃত্ত হিসেবে ধরলে এর ব্যাস মোটামুটি ৩৬০ ফুট। গভীরতা ছিল ছয় ফুটের মতো। তবে বৃত্তের মতো হলেও একটানা বৃত্ত নয়। পরিখা ডিঙিয়ে ভেতরে যাওয়ার ঝক্কি তো অনেক। তাই দরকার প্রবেশ পথ। উত্তর-পূর্ব কোণে এবং দক্ষিণ দিকে দুটি জায়গায় পরীক্ষা দুটিকে বিচ্ছিন্ন করেছিল দুটি বাঁধ। আসলে এই জায়গা দুটি খোঁড়াই হয়নি। পরিখা আর এর ঢালু কিনারাকে বলা হয় হেঞ্জ। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কেন এর নাম স্টোনহেঞ্জ।

এগুলো তৈরির পর বহুদিন স্টোনহেঞ্জে নতুন করে নির্মাণকাজ চলেনি। এর প্রায় দেড়-দুই শ বছর পর আবার কিছু কাজ শুরু হয়। প্রায় ৩০টি নতুন গর্ত তৈরি করা হয় পরিখার কাছাকাছি। এগুলোতে মৃতদেহ দাহ করা হতো। অর্থাৎ এ সময়টাতে স্টোনহেঞ্জ এলাকা সমাধিক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সে সময় স্টোনহেঞ্জের কেন্দ্রের দিকে কাঠ দিয়ে ছাউনির মতো কিছু একটা বানানো হয়। পরিখার প্রবেশপথেও বসানো হয় খাড়া কাঠের তক্তা। কিন্তু এগুলো কেন বসানো হয়েছিল, তার উত্তর মেলেনি।

চলবে...

দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল


ফ্রান্সে তুষারধসে ৪ পর্বতারোহী নিহত

রোববার তুষারধসের পর আরমানসেট হিমবাহের দৃশ্য। ছবি: টুইটার
আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৩ ১৩:৩৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফ্রান্সে আল্পস পর্বতে তুষারধসে চার পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। রোববার মোঁ ব্লঁ পর্বতের দক্ষিণ-পশ্চিমে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও ৯ জন আহত হন। খবর রয়টার্সের।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে আরমানসেট হিমবাহে এই তুষারধস ঘটে।

হাউট-সাভোয়ের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ইমানুয়েল কোকান্ড বলেছেন, স্কিইং করতে গিয়ে ওই ১৩ জন দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

কোকান্ড বলেন, সাড়ে তিন হাজার মিটার উঁচু থেকে এ ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

হিমবাহটির কাছে লেস কন্টামাইন্স-মন্টজোইয়ের গ্রাম এবং স্কি রিসোর্ট রয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে এখনো উদ্ধারকাজ চলছে।


ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৩৪

ইতালি যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়া নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ মার্চ, ২০২৩ ১৫:৩৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে একের পর এক মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হয়েছেন ৩৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। তারা সবাই সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।

নৌকাটি বৃহস্পতিবার তিউনিসিয়ার বন্দর শহর এসফ্যাক্সের কাছ থেকে যাত্রা করেছিল বলে জানিয়েছেন ফাওজি এল মাসমোওদি নামে শহরটির এক আদালত মুখপাত্র। সর্বশেষ এই নিখোঁজের ঘটনাসহ মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে।

বৃহস্পতিবার ইতালিয়ান কোস্ট গার্ড জানিয়েছিল, দক্ষিণ ইতালি থেকে দুটি অভিযানে তারা ৭৫০ জনের মতো শরণার্থী উদ্ধার করেছে। যার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিউনিসিয়া থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি আসার পথে ৩৩ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

হুসেম জেবাবলি নামে তিউনিসিয়ার এক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কোস্ট গার্ড গত দুই দিনে ইতালি যাচ্ছে এমন ৫৬টি নৌকা থামিয়ে দিয়েছে এবং ৩ হাজারেরও বেশি লোককে আটক করেছে। যাদের বেশিরভাগই সাব-সাহারা অঞ্চলের বাসিন্দা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, এ বছরে তিউনিসিয়া থেকে যাত্রা করে অন্তত ১২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ইতালি পৌঁছেছে। অথচ ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ শ।

উন্নত জীবনের আশায় দারিদ্র্য ও সংঘাতকবলিত আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পাড়ি দেয়া একটি নিয়মিত ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রা শুরুর জন্য তিউনিসিয়ার এসফ্যাক্স উপকূল তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আগে লিবিয়া ছিল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রধান পথ।


ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

খারকিভের একটি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। সাম্প্রতিক ছবি
আপডেটেড ৯ মার্চ, ২০২৩ ১২:৪৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুত দখল চেষ্টার মধ্যে নতুন করে দেশটির বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় শহরগুলোর আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকা। খবর বিবিসির।

ওডেসার গভর্নর ম্যাকসিম মার্শেঙ্কো বলেছেন, বন্দর শহরটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, আবাসিক এলাকা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এ দিকে খারখিভে অন্তত ১৫টি ক্ষেপাণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা (রিজিওনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চিফ) ওলেগ সিনেগুবভ।

দেশটির ভিনিসিয়া, রিভনে, ডিনিপ্রো এবং পোল্টাভায়ও হামলা চালানো হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের এক বছর পূর্তি হলো গত মাসে। বছর পূর্তিতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহল থেকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও আপাতত কোনো সুখবর মিলছে না। সম্প্রতি বাখমুত শহরের পূবাঞ্চল দখল করা হয়েছে বলে দাবি করে রুশ বাহিনী। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনী বলছে, তারা রুশ বাহিনীকে বাখমুত থেকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

এ দিকে মার্কিন গোয়েন্দাদের তথ্য বলছে, আপাতত এ যুদ্ধ থামার কোনো সম্ভাবনা নেই। রুশ প্রেসিডেন্ট কৌশলগত কারণেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন।

মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক এভ্রিল হেইনস গত বুধবার বলেছেন, এ বছর নতুন করে বড় কোনো হামলার সামর্থ্য ছিল না রাশিয়ার। তবে পুতিন নিজের সুবিধামতো সময় খুঁজছেন। সময় যতক্ষণ নিজের পক্ষে না যায়, ততক্ষণ এ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বেলারুশে নোবেলজয়ী বিলিয়াৎস্কির ১০ বছর কারাদণ্ড

আলেস বিলিয়াৎস্কি। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩ মার্চ, ২০২৩ ১৮:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আলেস বিলিয়াৎস্কিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বেলারুশের আদালত। চোরাচালান এবং জনসাধারণের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী কাজে অর্থায়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ৬০ বছর বয়সী এই মানবাধিকার কর্মীকে। খবর বিবিসির।

বিলিয়াৎস্কির সঙ্গে তার দুই সহযোগী ভ্যালেন্টিন স্তেফানোভিচ এবং ভ্লাদিমির ল্যাবকোভিচকেও আদালতে তোলা হয়। স্তেফানোভিচকে নয় বছরের এবং ল্যাবকোভিচকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তিনজনের সাজার বিষয়টি জানিয়েছে ভিয়াসনা মানবাধিকার গ্রুপ। ১৯৯৬ সালে গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করেন বিলিয়াৎস্কি।

২০২২ সালে শান্তিতে নোবেল জয়ী তিনজনের মধ্যে একজন বিলিয়াৎস্কি। ২০২০ সালে বহুল বিতর্কিত নির্বাচনের প্রতিবাদে নামায় ২০২১ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে অর্থায়নের দায়ে বেলারুশে অর্থ চোরাচালানে অভিযুক্ত করা হয় তাকে। সেসময় অন্য বিক্ষোভকারীদেরও পুলিশি বর্বরতার মুখোমুখি হতে হয় এবং বেলারুশিয়ান নেতা আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সমালোচকদেরও গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়।

বিলিয়াৎস্কির সমর্থকরা বলছেন, ‘লুকাশেঙ্কোর কর্তৃত্ববাদী শাসন তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।’ বিষয়টিকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে মন্তব্য করেছেন বেলারুশের নির্বাসিত বিরোধীদলীয় নেতা স্বেতলানা তিখানভস্কায়া। তিনি বলেছেন, ‘এই লজ্জাজনক অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং তাদের মুক্ত করতে আমাদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে হবে।’

পুরস্কার দেয়ার সময় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট রেইস অ্যান্ডারসন বলেছিলেন, ‘বেলারুশের সরকার বছরের পর বছর ধরে বিলিয়াৎস্কিকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে আসছে। তাকে হয়রানি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং তাকে চাকরি থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।’

এর আগে করফাঁকির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ২০১১ সালে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল বিলিয়াৎস্কিকে। যদিও অভিযোগের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছিলেন।

বিষয়:

ইতালি উপকূলে নৌকাডুবি, ৫৯ জনের মৃত্যু

বৈরি আবহাওয়ার কারণে পাথরে ধাক্কা লেগে নৌকাটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:১৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইতালি উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনায় ১২ শিশুসহ অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। খবর বিবিসির।

গত রোববার ইতালির ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলের সমুদ্র উপকূলীয় শহর ক্রোতনে ভেড়ার সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাথরে ধাক্কা লেগে নৌকাটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।

এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বলছেন, নৌকাটিতে অন্তত দেড় শ মানুষ ছিলেন। তবে প্রকৃতপক্ষে মোট কত জন লোক ওই নৌকাটিতে ছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে অভিবাসী পাচারের দায়ে বেঁচে থাকাদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালির কাস্টমস পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, ৩০ জনের মতো লোক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে মাত্র কয়েক মাস বয়সী এক শিশুও রয়েছে। মরদেহগুলো সমুদ্র সৈকত এবং উপকূলীয় একটি রিসোর্টের কাছে ভেসে আসে।

ইতালির কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ৮০ জনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ নৌকাডুবির পর নিজেই কোনোভাবে উপকূলে এসে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

উদ্ধারকারীরা এএফপিকে বলেছেন, নৌকাটি দুই শ’র বেশি মানুষ বহন করছিল।

বেশ কিছু দিন আগে তুরস্ক থেকে ছেড়ে আসা ওই নৌকাটিতে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সোমালিয়া ও ইরানের যাত্রী ছিলেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমুদ্রপথে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টাকারী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ইতালি অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটটি বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পথ হিসেবে পরিচিত।


ইতালি উপকূলে অভিবাসী জাহাজডুবি, ৩৩ জনের মৃত্যু

জাহাজডুবির পর সমুদ্রে উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:২৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইতালির ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলের পূর্ব উপকূলে একদল অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী জাহাজ ডুবে গেছে। এতে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এএনএসএসহ দেশটির একাধিক সংবাদ সংস্থার বরাতে রোববার এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

এএনএসএ জানায়, জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর ক্রোটোন প্রদেশের সমুদ্রতীরের রিসোর্ট স্টেকাতো ডি কুট্রোর তীরে অন্তত ২৭টি মরদেহ ভেসে আসে। এ পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইতালির ন্যাশনাল ফায়ার ফাইটার্স বিভাগ জানায়, এ ঘটনায় ৪০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজটি উপকূলে ভিড়েছে।

সংবাদ সংস্থা অ্যাডনক্রোনোস জানায়, জাহাজাটিতে অন্তত ১০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। ইরান, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের ওই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী জাহাজটি বৈরী সামুদ্রিক আবহাওয়ায় পাথরে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়।

ইতালির একাধিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

সমুদ্রপথে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টাকারী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য ইতালি অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটটি বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পথ হিসেবে পরিচিত।


শান্তি প্রস্তাব: চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে চান জেলেনস্কি

ভলোদিমির জেলেনস্কি
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১০:১৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চীনের ‘শান্তি প্রস্তাব’ নিয়ে আলোচনা করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্তির দিনে এক বক্তব্যে জেলেনস্কি এ কথা জানান। খবর বিবিসির।

জেলেনস্কি বলেন, ‘প্রস্তাবটি এ ইঙ্গিত দেয় যে, চীন শান্তি অনুসন্ধান করছে।’

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, ‘চীন রাশিয়াকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করার কথা ভাবছে।’ তবে চীন এই দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, চীন সরকার মস্কোতে ড্রোন এবং আর্টিলারি শেল পাঠানোর কথা ভাবছে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে চাই যে, চীন রাশিয়ার কাছে অস্ত্র সরবরাহ করবে না।’

চীনের পরিকল্পনায় শান্তি আলোচনা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলা হয়েছে। তবে ১২ দফা প্রস্তাবটির কোথাও সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি যে, রাশিয়াকে ইউক্রেন থেকে তার সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।

এদিকে চীনের শান্তি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিবিসি বলছে, চীনা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য জেলেনস্কির আহ্বানে প্রকাশ্যে সাড়া দেয়নি।

চীনের শান্তি চুক্তির পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত শুক্রবার এবিসি নিউজকে বলেন, ‘পুতিন যেখানে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তাহলে এটি কীভাবে ভালো হতে পারে?’

বাইডেন বলেন, ‘চীনের পরিকল্পনায় আমি এমন কিছুই দেখিনি যাতে মনে হয় যে, এমন কিছু আছে, যা রাশিয়া ছাড়া অন্য কারো জন্য উপকার বয়ে আনবে।’

গত বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই। তারপরই চীনের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের জন্য ১২ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়।

গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। এক বছর পূর্তিতে এসে এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেও (ইউএনজিএ) নতুন একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

কী আছে ১২ দফা প্রস্তাবে
শান্তি প্রস্তাবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটি বলেছে, তারা চায় না রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাক। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটি মনে করে, আলোচনা ও মধ্যস্থতাই এই সংকট সমাধানের দৃশ্যত একমাত্র উপায়।

আল-জাজিরা জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধের বর্ষপূর্তির দিনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১২ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রস্তাব দেয়। এতে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অবসান, পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা, বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে মানবিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এতে শস্য রপ্তানি নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংঘাত ও যুদ্ধে কারও লাভ নেই। উত্তেজনার আগুনে ঘি না ঢেলে সব পক্ষেরই যুক্তিসঙ্গত ও সংযত আচরণ করা উচিত। এই সংকট যেন আরও মারাত্মক অবস্থায় না যায় কিংবা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সেদিকে সবার নজর দেয়া উচিত।

যুক্তরাষ্ট্র চীনের এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালাইভান সিএনএন নেটওয়ার্কে বলেন, ‘রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হামলা বন্ধ করে সেনা প্রত্যাহার করলে আগামীকালই যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। অর্থাৎ ১২ দফা পরিকল্পনার বদলে চীন শুধু একটি বিষয় উল্লেখ করলেই পারত।’

সালাইভানের মতে, সব দেশের সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়ার কথা বলাই যথেষ্ট। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ইউক্রেন, ন্যাটো বা যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর হামলা চালাচ্ছে না।

এদিকে চীন এখন পর্যন্ত তার মিত্র রাশিয়াকে ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য নিন্দা জানায়নি, কিংবা প্রতিবেশী দেশে মস্কোর আক্রমণকে ‘আগ্রাসন’ অ্যাখ্যাও দেয়নি। তারা এমনকি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞারও কড়া সমালোচনা করে আসছে। চীনের এমন অবস্থানকে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘চীনের খুব বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কারণ তারা রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসনকে নিন্দা পর্যন্ত জানায়নি।’


খরার আশঙ্কায় ইতালি

শুকিয়ে যাচ্ছে ইতালির বিখ্যাত শহর ভেনিসের খাল। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২৩:২৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত বছরের গ্রীষ্মে ইতালিতে প্রচণ্ড গরমে জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। দেশজুড়ে ব্যাপক খরার পর দেশটি এ বছরও আবার খরার মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে শুষ্ক শীতকালীন আবহাওয়া ও আল্পস পর্বতে তুষারপাত স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম হওয়ায় এবার তীব্র খরায় পড়তে যাচ্ছে দেশটি। মঙ্গলবার রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো।

ইতালির বিখ্যাত শহর ভেনিসে বন্যা প্রাথমিক উদ্বেগের বিষয় হলেও এখানে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক নিচে নেমে গেছে, ফলে শহরটির বিখ্যাত কিছু খাল দিয়ে গন্ডোলা, ওয়াটার ট্যাক্সি ও অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেনিসের সমস্যাগুলোর জন্য বেশ কয়েকটি বিষয়কে দোষারোপ করা হচ্ছে; এগুলো হলো বৃষ্টির অভাব, বায়ুমণ্ডলীয় উচ্চচাপ, পূর্ণিমা ও সমুদ্র স্রোত। গত সোমবার পরিবেশবাদী গোষ্ঠী লেগামবিয়ান্তে জানিয়েছে, ইতালির নদী ও হ্রদগুলো পানির অভাবে ভুগছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে এমন সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।

আল্পস পর্বত থেকে নেমে আড্রিয়াটিক সাগরে যাওয়া ইতালির দীর্ঘতম নদী পো-তে বছরের এই সময়ে সাধারণত যে পরিমাণ পানি থাকে এখন তার চেয়ে ৬১ শতাংশ কম আছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা।

গেল জুলাইয়ে ইতালি পো নদীর অববাহিকা অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। এই অববাহিকা অঞ্চলে ইতালির কৃষিপণ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উৎপাদিত হয়। ওই সময় ইতালি ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক খরার মুখোমুখি হয়েছিল।

চলতি বছর উত্তর ইতালির গারদা হ্রদের পানির স্তর রেকর্ড নিচে নেমে গেছে। এতে হ্রদটির মধ্যবর্তী ছোট দ্বীপ সান বিয়াজোতে হেটেই পৌঁছে যাওয়া যাচ্ছে। গত ১৫ দিন ধরে পশ্চিম ইউরোপের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বায়ুমণ্ডলীয় একটি উচ্চচাপ। এর কারণে মৃদু তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণত বসন্তের শেষ দিকে দেখা যায়। তবে সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী দিনগুলোতে আল্পসে তুষারপাত ও সংলগ্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।


২০০ ঘণ্টা পরও তুরস্কের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯ জন জীবিত উদ্ধার

তুরস্কের কাহরামানমারাসে নিজ বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে আছেন এক নারী। ছবি: রয়টার্স
আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:৪৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পের এক সপ্তাহের বেশি সময় (২০০ ঘণ্টা) পরও ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষদের জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার তুরস্কের বিধ্বস্ত ভবনের নিচ থেকে অন্তত ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১৭ ও ২১ বছর বয়সী দুই ভাইও রয়েছে। তাদের কাহরামানমারাস প্রদেশের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আন্তাকিয়া থেকে সিরিয়ান এক নারী ও এক পুরুষকেও উদ্ধার করা হয়েছে। একজন উদ্ধারকারী বলেছেন, এরকম আরও কিছু মানুষ বেঁচে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধার পর্ব শেষ করার সময় ঘনিয়ে আসছে। এখন বেঁচে থাকাদের খাদ্য, আশ্রয় (বাসস্থান) এবং শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থার সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।

ইউরোপে নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক হ্যান্স হেনরি পি. ক্লুজ বলেছেন, অনেক কিছুরই সংকট দেখা দিচ্ছে। সময় যতো গড়াচ্ছে বেঁচে থাকাদের জন্য সংকট ততো বাড়ছে।

ক্লুজ আরও বলেছেন, ভূমিকম্প কবলিত দেশ দুটিতে (তুরস্ক ও সিরিয়া) অন্তত দুই কোটি ৬০ লাখ মানুষের এখন মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তীব্র শীতের কারণে দেশ দুটিতে রোগ ব্যধির প্রকোপ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ভূমিকম্পে আহত যাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তাদের অনেকেই শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও, মানসিক ট্রমার মধ্যে আছেন। মানসিক ধকলই এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য বলছে, তুরস্ক ও সিরিয়ায় গত ৬ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তুরস্কে এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৪১৮ এবং সিরিয়ায় পাঁচ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।


তুরস্ক-সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা ৩৪ হাজার ছাড়াল

তুরস্কে ভূমিকম্পে নিহতদের গণকবরের পাশে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১২:১৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশ দুটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ১৭৯ জনে। খবর সিএনএনের।

তুরস্কের জরুরি সমন্বয় কেন্দ্র (এসএকেওএম) জানিয়েছে, রোববার পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ২৯ হাজার ৬০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সিরিয়ার পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে এ পর্যন্ত চার হাজার ৫৭৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, তুরস্ক ও সিরিয়ার ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ায় গত ৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে অন্তত ৫৩ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। তুরস্ক ও সিরিয়ার প্রায় ৯ লাখ মানুষের জরুরি গরম খাবারের সহায়তা প্রয়োজন।

গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়া আগে থেকেই সংকটে ছিল, এর মধ্যে নতুন সংকট ডেকে এনেছে গত সপ্তাহের ভূমিকম্প। ভয়াবহ এ দুর্যোগটির পর তুরস্কে বিভিন্ন দেশ থেকে সহায়তা পাঠানো হলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে সিরিয়ায় সহায়তা পাঠাতে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

ভূমিকম্পে তুরস্কে অন্তত ছয় হাজার বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে ভবনগুলোর নির্মাণকাজ নিয়ম মেনে করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ধসে যাওয়া ভবনগুলোর ঠিকাদারদের শাস্তির আওতায় আনারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কে ভূমিকম্প-কবলিত এলাকাগুলোর ভবন নির্মাণে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা এবং তাদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর কর্মকর্তাদের ‘ভূমিকম্প অপরাধ তদন্ত ইউনিট’ নামে আলাদা কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিমালা না মেনে ভবনগুলো নির্মাণের কারণেই এত ধসের ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে ধসে যাওয়া ভবনগুলোর মধ্যে নতুন নির্মিত অনেক বাড়িও রয়েছে। বাড়িগুলো নির্মাণের সময় অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

এ ঘটনায় গত শনিবার তুরস্কের ১০ প্রদেশ থেকে শতাধিক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

তুরস্কে এর আগে ১৯৯৯ সালেও ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এরপর দেশটিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। গত সপ্তাহের ভূমিম্পের পর থেকে অভিযোগ উঠেছে, দেশটিতে অনেক ভবন নির্মাণেই ওই নীতিমালা মানা হয়নি। দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অনেকেই নীতিমালা না মেনে ভবন নির্মাণ করেছেন।

বিষয়:

তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ২৯ হাজার ছাড়াল

তুরস্কের ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধারের কাজ। ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। রোববার পর্যন্ত তুরস্কে ২৪ হাজার ৬১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং সিরিয়ায় প্রাণহানি হয়েছে সাড়ে চার হাজারের বেশি। খবর আল-জাজিরার।

জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ায় গত ৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে অন্তত ৫৩ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। তুরস্ক ও সিরিয়ার প্রায় ৯ লাখ মানুষের জরুরি গরম খাবারের সহায়তা প্রয়োজন।

গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়া আগে থেকেই সংকটে ছিল, এর মধ্যে নতুন সংকট ডেকে এনেছে গত সপ্তাহের ভূমিকম্প। ভয়াবহ এ দুর্যোগটির পর তুরস্কে বিভিন্ন দেশ থেকে সহায়তা পাঠানো হলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে সিরিয়ায় সহায়তা পাঠাতে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

আল-জাজিরা বলছে, সিরিয়ার সরকার দুর্যোগ-কবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া তুরস্কের সরকারও সিরিয়ায় প্রবেশের জন্য নতুন দুটি রুট খুলে দিতে কাজ শুরু করেছে।

এদিকে তুরস্কের সরকার দেশটিতে উদ্ধার কাজ চালানোর পাশাপাশি ভূমিকম্প অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। গত শনিবার তুরস্কের ১০টি প্রদেশ থেকে শতাধিক ঠিকাদারকে আটক করা হয়েছে।

বিষয়:

banner close